শফিকুজ্জামান সোহেল, গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৮ জুন ২০২৬ বিকাল ০৪:৫৭:৫২
বাজেটে বরাদ্দ না থাকায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে মহিপুরে মশাল মিছিল
বুধবার (১৭ জুন) সন্ধ্যায় রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুরে ‘তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত গণসমাবেশ ও মশাল প্রজ্বলন কর্মসূচিতে এ দাবি জানানো হয়। সমাবেশ শেষে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে একটি মশাল মিছিল বের করা হয়। এতে নদীপাড়ের হাজারো মানুষ অংশ নেন।
গঙ্গাচড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আলহাজ ওয়েদুজ্জামান মাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন ‘তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ’-এর সভাপতি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হক্কানী, সাধারণ সম্পাদক শফিয়ার রহমানসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, তিস্তা এখন উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষার প্রতীক হয়ে উঠেছে। বর্ষা মৌসুমে বন্যা ও নদীভাঙনে প্রতিবছর হাজারো পরিবার ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও সহায়-সম্বল হারায়। অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হয়। এমন বাস্তবতায় দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিস্তা অববাহিকার মানুষ একটি কার্যকর মহাপরিকল্পনার অপেক্ষায় রয়েছে।
তারা অভিযোগ করেন, চলতি অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিষয়টি আলোচনায় এলেও প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট অর্থ বরাদ্দ কিংবা সময়সূচির উল্লেখ নেই। এতে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে নতুন করে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সমাবেশে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা বলেন, এখন আর আশ্বাস নয়, তিস্তার স্থায়ী সমাধানে দৃশ্যমান উদ্যোগ ও সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা দেখতে চান তারা।
সংগঠনের নেতারা বলেন, উত্তরাঞ্চলের প্রায় দুই কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা তিস্তা নদীর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই ইস্যু বারবার রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বিষয় হলেও বাস্তবে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। তাই জাতীয় বাজেটে তিস্তা মহাপরিকল্পনার জন্য পৃথক অর্থ বরাদ্দ, বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময়সূচি এবং সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানান তারা।
দাবি আদায় না হলে রংপুর অঞ্চল থেকে ঢাকায় খাদ্যশস্য সরবরাহ বন্ধসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণারও হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেন, “তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে আর বিলম্বের সুযোগ নেই। উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত প্রকল্পটির কাজ শুরু করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, গত বছর তিস্তাপাড়ের আন্দোলনের সময় সরকারপ্রধান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছিলেন। তিস্তাপাড়ের মানুষ এখন সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখতে চায়। দ্রুত প্রকল্পের কাজ শুরু হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।