ক্যাটাগরি

সামাজিক মাধ্যম

ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির উৎসব পবিত্র ঈদুল আযহা

ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির উৎসব পবিত্র ঈদুল আযহা


মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।

১ সপ্তাহ আগে

‘হেড, হার্ট, হ্যান্ডস’—নারী উন্নয়নে ভিন্ন পথ দেখাচ্ছে হপ লুন

‘হেড, হার্ট, হ্যান্ডস’—নারী উন্নয়নে ভিন্ন পথ দেখাচ্ছে হপ লুন


বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে উঠে সেলাই মেশিনে বসে থাকা হাসিমুখের নারীর ছবি। বর্তমানে এ দেশের প্রায় ৪০ লাখ গার্মেন্টস কর্মীর ৫৩ শতাংশই নারী। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, এই উপস্থিতি বেশিরভাগ সময়ে কেবল কারখানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ। ম্যানেজমেন্ট বা সুপারভাইজার-এর মতোন পদগুলোতে এখনো পুরুষদের সংখ্যাই বেশি। এই দীর্ঘদিনের বাস্তবতা বদলাতে কাজ করছেন হংকংভিত্তিক শীর্ষ অ্যাপারেল প্রতিষ্ঠান হপ লুনের চিফ পিপল অফিসার ড. সাবরিনা টিন। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে তিনি বলেন, “আমাদের মোট কর্মীদের ৮০ শতাংশই নারী। তবে আমাদের লক্ষ্য, কারখানার অন্তত ৭০ শতাংশ সুপারভাইজার পদে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।” এই লক্ষ্য পূরণে গত বছর তিনি চালু করেন #শিক্যান নামে একটি বিশেষ উদ্যোগ। এর আওতায় প্রায় ৩০ হাজার কর্মীর স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং পারিবারিক সহায়তায় নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নিয়মিত বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প এবং কারখানাভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি কারখানাগুলোতে বিদ্যমান ডে-কেয়ার সেন্টার ও ক্লিনিকের সুবিধাদি এবং সেবার মান বাড়ানো হয়েছে, জোর দেওয়া হয়েছে পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধিতেও। এখানেই শেষ নয়। ‘ওয়ার্কার স্কলারশিপ পাথওয়ে’নামে আরেকটি উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে কর্মীরা নিজেদের ও পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের পথ খুঁজে নিতে পারছেন। সাবরিনার মতে, শুধু ‘নারী ক্ষমতায়ন’নিয়ে স্লোগান তুললেই হবে না, দরকার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা। তাই হপ লুনের দক্ষতা উন্নয়ন মডেল কাজ করে ‘হেড, হার্ট অ্যান্ড হ্যান্ডস’—এই তিন স্তরে। তাঁর ভাষায়, “পোশাক খাতের কর্মীরা হাতে-কলমে কাজের দক্ষতায় এগিয়ে। এখন প্রয়োজন তাঁদের চিন্তা ও মানসিকতার বিকাশে বিনিয়োগ।” এই লক্ষ্যেই কর্মীদের ‘গ্রোথ মাইন্ডসেট’ গড়ে তোলা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যাতে তাঁরা কর্মক্ষেত্রে যেকোনো চ্যালেঞ্জের মুখে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারেন। তবে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাবরিনা বলেন, অনেক নারী কর্মী এখনো নিজেদের মত প্রকাশে সংকোচ বোধ করেন। এ সমস্যা কাটাতে হপ লুনে ‘পিপল অ্যান্ড কালচার’(পিএনসি) অভিযোগব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। এখানে এইচআর দল ‘গেটকিপারহিসেবে কাজ করে ফলে কর্মীরা নিঃসংকোচে এবং নির্ভয়ে তাদের অভিযোগগুলো জানাতে পারেন। কারখানায় অশোভন আচরণ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে সরাসরি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ বক্স ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ বাড়ায় নারী কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধও বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এসব উদ্যোগকে অতিরিক্ত ব্যয় হিসেবে দেখলেও সাবরিনা একে মনে করেন কৌশলগত বিনিয়োগ। তাঁর ভাষায়, “কর্মীরা সন্তুষ্ট থাকলে তারা আরও মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন। এতে প্রতিষ্ঠানের দক্ষ কর্মীদের কাজ ছাড়ার প্রবণতাও কমে যায়।” তিনি আরও মনে করেন, নারী সুপারভাইজারের সংখ্যা বাড়লে কর্মপরিবেশ আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়, যা উৎপাদনশীলতা ও প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সাফল্যেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তৈরি পোশাক খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সাবরিনা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ ভাগাভাগি করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু একজন নারী কর্মীকে এগিয়ে দেয় না, বরং একটি পরিবার, এমনকি একটি প্রজন্মের জীবন বদলে দিতে পারে। বৃহত্তর পরিসরে এসব উদ্যোগের সুফল কিংবা কার্যকারিতার উপর আলোকপাত করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আপনি যে শুধু একজন নারীকে কর্মক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে সহায়তা করছেন তা নয়, বরং তাদের একটি সমৃদ্ধ জীবন গড়তে অবদান রাখতে পারছেন,” সবশেষে, আজীবন শেখার উৎসাহ দিয়ে তিনি বলেন, “শেখার কোনো শেষ নেই, যেকোন জায়গাতেই আপনি নতুন কিছু শিখতে পারেন। কেউ আপনাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। শুধুমাত্র নিজের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে। এই অদম্য এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা থাকলে যেকোনো নারী কারখানার ফ্লোর থেকে শুরু করে একদিন নেতৃত্বের শীর্ষ আসনে পৌঁছাতে পারবে-যা প্রমাণ করবে নিজের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতাকে আরও শাণিত করলে, পরিশ্রম একদিন ঠিকই আপনাকে আরও উন্নত ভবিষ্যতের পথে নিয়ে যাবে।

২ সপ্তাহ আগে

মমতা ও ত্যাগের প্রতীক মা

মমতা ও ত্যাগের প্রতীক মা


‘মা’-ছোট্ট এই শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা, নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও সীমাহীন মমতার গল্প। একজন মানুষের জীবনের প্রথম আশ্রয়, প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু এবং সবচেয়ে নিরাপদ স্থান তার মা। পৃথিবীর প্রতিটি সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ধর্মে মায়ের মর্যাদা সর্বোচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত। আর সেই মায়ের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিনই হলো বিশ্ব মা দিবস।আজ মা দিবস। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় এই দিবস। এই দিনটি কেবল আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের নয়; বরং এটি আমাদের আত্মসমালোচনারও দিন—আমরা আমাদের মায়ের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি, তাঁর ত্যাগের প্রতিদান আদৌ দিতে পেরেছি কি না, সেই প্রশ্ন ভাবার দিন।পৃথিবীর সবচেয়ে নির্মল অনুভূতি মায়ের ভালোবাসা। মা তার সন্তান জন্মের আগ থেকেই স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন। সন্তানের সুখের জন্য তিনি নিজের ইচ্ছা, স্বপ্ন ও আরাম বিসর্জন দেন। একটি শিশুর মুখে প্রথম ভাষা, প্রথম হাঁটা, প্রথম শিক্ষা—সবকিছুর পেছনেই থাকে মায়ের অবিরাম শ্রম ও স্নেহ। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তিও একজন মা। কারণ একজন শিক্ষিত, সচেতন ও মানবিক মা-ই একটি সুন্দর প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারেন।বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় নানাভাবে সংগ্রাম করেন মায়েরা । গ্রামীণ জনপদের কৃষকের স্ত্রী থেকে শুরু করে শহরের কর্মজীবী নারী—প্রতিটি মা পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে নীরবে অসংখ্য ত্যাগ স্বীকার করেন। অনেক মা নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়েন। আবার অসংখ্য মা সন্তানকে মানুষ করতে দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য কিংবা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান। অথচ তাঁদের এই অবদান অনেক সময় যথাযথ স্বীকৃতি পায় না।আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনে পরিবারে দূরত্ব বাড়ছে। বৃদ্ধাশ্রমে মায়ের আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা আমাদের সমাজের জন্য এক বেদনাদায়ক বাস্তবতা। মা দিবসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন ছবি বা স্ট্যাটাস দেওয়ার চেয়ে বেশি প্রয়োজন জীবিত অবস্থায় মায়ের পাশে থাকা, তাঁর অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাঁর প্রতি দায়িত্ব পালন করা। কারণ একজন মা সন্তানের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি যা চান, তা হলো ভালোবাসা ও সম্মান।ইসলামেও মায়ের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত।” এই বাণী শুধু ধর্মীয় শিক্ষা নয়, মানবিক মূল্যবোধেরও এক অনন্য উদাহরণ। অন্যান্য ধর্ম ও সংস্কৃতিতেও মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও সেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।মা কেবল ব্যক্তি নন, একটি অনুভূতি। মা একটি আশ্রয়, একটি অবিচ্ছেদ্য বন্ধনের নাম, পৃথিবীর সব সম্পর্কের ঊর্ধ্বে। তাই শুধু নির্দিষ্ট একটি দিনে নয়, প্রতিদিনই হোক মায়ের প্রতি ভালোবাসার দিন, সম্মানের দিন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিবস।

৪ সপ্তাহ আগে

নদীর চরে নারীদের ম্যানগ্রোভ নার্সারি, বাড়ছে কর্মসংস্থান

নদীর চরে নারীদের ম্যানগ্রোভ নার্সারি, বাড়ছে কর্মসংস্থান


সুন্দরবনঘেঁষা গ্রাম টেপাখালী। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে শাকবাড়িয়া নদী। নদীর ওপারেই গহীন অরণ্য। ভৌগলিক অবস্থানে গ্রামটি খুলনা জেলার কয়রা উপজেলায়। তাই এখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে সুন্দরবনের সম্পর্কটা অনেকটা আত্মিক। কেউ মৌসুমে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহের কাজ করেন। কেউ বা মাছ ধরে কিংবা কাঁকড়া শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এভাবেই চলছে দিনের পর দিন। তবে এবার শাকবাড়িয়া নদীর বেড়িবাঁধ ধরে হাঁটতে গিয়ে চোখে পড়লো ভিন্ন কিছু। নদীর জেগে ওঠা চরে সারিবদ্ধভাবে লাগানো ছোট ছোট গাছ। ব্যতিক্রম এই অর্থে যে সাধারণত লোনাপানির চরে সুন্দরবনের গাছ ছাড়া অন্য কোনো গাছ-গুল্ম জন্মায় না। তবে এভাবে সুন্দরবনে পরিকল্পিত চারা লাগানোর দৃশ্য স্থানীয়ভাবে বেশ সাড়া জাগিয়েছে। সম্প্রতি সুন্দরবন ভ্রমণে সরেজমিনে দেখা গেছে, চরের একটি অংশ বাঁশ ও জাল দিয়ে ঘেরা। ভেতরে পলিব্যাগে সারি সারি সুন্দরবনের বিভিন্ন গাছের চারা। ছোট্ট পরিসরের একটি নার্সারি। নদীতে জোয়ার ওঠা শুরু করেছে। চারাগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ার আগে ছবি তুলতে গিয়ে নজর কাড়েন এক নারী, যিনি জালের ঘেরের ভেতরে ঢুকে চারাগাছের পরিচর্যা করছেন। তার নাম বাসন্তি মুন্ডা (৫০)। নিজের নার্সারির পাশে দাঁড়িয়ে নতুন বাস্তবতার কথা এই প্রতিবেদককে বলছিলেন তিনি। ‘নিজেরাই কয়জন মিলে (নারী) এই গাছ লাগাইছি,’ বলছিলেন বাসন্তি। তিনি জানালেন, এই চরে কেওড়া, খলিশা, কাঁকড়া ও বাইন—চার ধরনের সুন্দরবনের গাছের চারা তৈরি হয়। গোলপাতার চারা তৈরি করার পরিকল্পনা ছিল, তবে বীজ না পাওয়ায় সম্ভব হয়নি। ‘তবে কয়েক দিনের মধ্যে গোল ফল সংগ্রহ করে সেই চেষ্টাও করা হবে,’ যোগ করেন বাসন্তির সঙ্গে কাজ করা আরেক নারী মনিকা মুন্ডা। বাসন্তী ছাড়াও নতুন এই উদ্যোগে আরও কয়েকজন নারী যুক্ত আছেন। তারা সবাই একে অপরের প্রতিবেশী। এরা হলেন- মনিকা, রিতা, কমলা মণ্ডল ও সমলা। প্রথম দিকে অনেকেই সন্দেহ করেছিলেন, এভাবে চারা হবে কী না? তবে বাসন্তীর বিশ্বাস ছিল, হবে। তার ভাষায়, ‘বাড়ির পাশে নদীর চরে পইড়ে থাকা বীজ থেইকে তো চারা গজায় দেখি। সেই ভরসাতেই চেষ্টা করিছি, ফলও হয়েছে।’চারা তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে এক প্রশ্নের উত্তরে বাসন্তী জানালেন, প্রথমে বাঁশ দিয়ে চারপাশ ঘিরে জাল টাঙানো হয়, যাতে ছাগল বা অন্য পশু ঢুকতে না পারে। এরপর ছোট ছোট জায়গা ভাগ করে প্রতিটি লাইনে ২০ থেকে ২৫টি পলিব্যাগ সাজিয়ে তাতে চরের মাটি ভরা হয়। তারপর নদীতে ভেসে আসা সুন্দরবনের ফল সংগ্রহ করে পলিব্যাগে বসানো হয়। সেখান থেকে বের হয়েছে নতুন চারা।তবে এই উদ্যোগের বিষয়টি বাসন্তির মাথায় ধরিয়ে দেয় স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও)। আত্মবিশ্বাসী বাসন্তি বলেন, একদিন সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিলাম। এ সময় হঠাৎ কয়েকজন এনজিওকর্মীর সঙ্গে দেখা হয়। তারা আমায় গ্রামের কয়েকজন নারীর সঙ্গে মিলে নদীর চরে সুন্দরবনের গাছের চারা উৎপাদনের প্রস্তাব দেন এবং বলেন তাদের কথা অনুযায়ী কাজ করতে। বদৌলতে সংস্থাটি প্রয়োজনীয় উপকরণ এবং চারা বড় হলে প্রতিটি চারা ১০ টাকা দরে কিনে নেওয়ার কথাও বলে।‘বিষয়টি আমার কাছে ভালো লাগলো। আমি প্রাথমিকভাবে বাড়ি এসে প্রতিবেশী কয়েকজন নারীর সঙ্গে কথা বলি। তারা আমার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ দেখায়। আর সেখান থেকেই শুরু।’নার্সারীতে কাজ করে স্বাবলম্বী বাসন্তিরা। তার স্বামী দীপঙ্কর মুন্ডা কাজের খোঁজে ইটভাটায় গেছেন এলাকার বাইরে। বাসন্তি তিন বছরের মেয়ে তনুশ্রীকে নিয়ে নদীর চরের পাশে একটি ছোট্ট ঝুপড়িতে থাকেন। নদীর চরের নার্সারি পরিচর্যার পাশাপাশি কখনও সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরেন, কখনও দিনমজুরি করেন। মজুরি কত পান- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘পুরুষেরা এক বেলা কাজ করলি ৪০০ টাকা পায়। আমরা একই কাজ করে পাই ৩০০ টাকা। যেদিন কাজ না পাই, সেদিন সুন্দরবনে যাই কাঁকড়া ধরতি। আগে বাঘের ভয় লাগত, এখন ভয় করে ডাকাইতের। বনে ডাকাইত না থাকলি শান্তিতে থাকতি পারতাম।’জানা যায়, বাসন্তিদের এই নার্সারী উদ্যোগে সহযোগিতা করছে স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা সিএনআরএস। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সংস্থাটির কয়রা উপজেলা কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান জানালেন, নদীর চরে বনায়নের একটি প্রকল্পের জন্য বিপুলসংখ্যক চারা প্রয়োজন। কিন্তু বাণিজ্যিক নার্সারিগুলো এসব ম্যানগ্রোভ গাছের চারা উৎপাদন করে না। তাই স্থানীয় নারীদের সম্পৃক্ত করে সুন্দরবনের ভেসে আসা ফল থেকে চারা উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।‘সুন্দরবন থেকে ভেসে আসা ফল স্থানীয় লোকজন শুকিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করেন। আবার অনেক সময় চারা গবাদিপশু খেয়ে ফেলে। তাই নদীর চর ও বেড়িবাঁধের পাশে ম্যানগ্রোভ বনায়ন সংরক্ষণ জরুরি,’ যোগ করেন তিনি। নুরুজ্জামানের ভাষ্য, মূলত এই লক্ষ্যে কয়রা উপজেলার কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদীতীরবর্তী প্রায় ৭৪ হেক্টর জমিতে বনায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে স্থানীয় নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।মনিকা মুন্ডা বলেন, আগে দিনভর কাঁকড়া ধরতাম। এখন কাঁকড়া ধরি আবার চারা লাগানোর কাজও করি। ফলে রোজগার আগের থেকে বেড়েছে। এদিকে সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় লোকালয়ে প্রতিদিন নদীর পানির সঙ্গে বনের ভেতর থেকে ভেসে আসে বিভিন্ন গাছের ফল। খুলনার সুন্দরবন ঘেঁষে গড়ে ওঠা কয়রা উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের কয়েক হাজার পরিবারের সদস্যরা এসব ফল সংগ্রহ করেন। তারা এসব ফল রোদে শুকিয়ে জ্বালানির চাহিদা মেটাতেন। এ কাজের ফলে বনভূমির বিস্তৃতি বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি উপকূলবর্তী এলাকায় ভাঙনের আশঙ্কা ছিলো। তবে নার্সারি হওয়ার ফলে সেই আশঙ্কা অনেকটা কমে গেছে। কয়রা উপজেলায় অবস্থিত কপোতাক্ষ মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক বিদেশ রঞ্জন মৃধা এই প্রতিবেদককে বলেন, সুন্দরবনের বিভিন্ন বৃক্ষের ফল নদীর পানিতে ভেসে লোকালয়ে এলে এলাকায় সাধারণ মানুষ না বুঝে তা সংগ্রহ করে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করেন। তিনি আরও বলেন, ফলগুলো সংরক্ষণ করে নার্সারি করার ফলে চরগুলোতে সবুজ বেষ্টনী তৈরি হবে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, নদীভাঙন রোধ ও প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। সুন্দরবন থেকে ভেসে আসা ফল সংগ্রহের ওপর সুস্পষ্ট কোনো বিধিনিষেধ নেই জানিয়ে সুন্দরবনের কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা শ্যামা প্রসাদ রায় বলেন, প্রাকৃতিকভাবে সুন্দরবনের গাছ থেকে বিভিন্ন ফল নিচে পড়ে বনের মধ্যে কিছু চারা গজায় এবং অধিকাংশ ফল জোয়ারের পানিতে ভেসে গিয়ে লোকালয়ে নদীর কিনারে জমা হয়। এসব ফল দিয়ে উপকূলীয় মানুষের সাময়িক জ্বালানি সমস্যার সমাধান হলেও পরিবেশের জন্য এর ক্ষতির পরিমাণ বেশি। তবে এসব ভেসে আসা ফল ও বীজ দিয়ে নার্সারি করায় প্রাকৃতিকভাবে বিশাল এলাকায় বনায়ন হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে।সূত্র: বাসস

১ মাস আগে

মৌলভীবাজার কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো জমিদার বাড়ি

মৌলভীবাজার কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো জমিদার বাড়ি

১৪ এপ্রিল ২০২৬ দুপুর ০১:৪৩:৩৩

আজ চৈত্র সংক্রান্তি

আজ চৈত্র সংক্রান্তি

১৩ এপ্রিল ২০২৬ সকাল ১০:৩৬:৪৩

পৃথিবীর সঙ্গে ৪০ মিনিটের যোগাযোগহীনতা!

পৃথিবীর সঙ্গে ৪০ মিনিটের যোগাযোগহীনতা!

৬ এপ্রিল ২০২৬ বিকাল ০৩:৫১:৩২

ঢাকায় ইরানি কার্পেটের বাজার কেমন?

ঢাকায় ইরানি কার্পেটের বাজার কেমন?

৩ এপ্রিল ২০২৬ দুপুর ০২:৩১:৪৪

আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট-চেকিং দিবস ২ এপ্রিল

আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট-চেকিং দিবস ২ এপ্রিল

২ এপ্রিল ২০২৬ দুপুর ০২:৪৬:৫৩

ঈদের ছুটিতে মেঘনার তীরে মানুষের ঢল, প্রাণের মেলায় পরিণত প্রশান্তি পার্ক

ঈদের ছুটিতে মেঘনার তীরে মানুষের ঢল, প্রাণের মেলায় পরিণত প্রশান্তি পার্ক

২৫ মার্চ ২০২৬ দুপুর ০১:৩৫:১৭

টানা ছুটিতে মুখর মৌলভীবাজারের পর্যটন স্পট

টানা ছুটিতে মুখর মৌলভীবাজারের পর্যটন স্পট

২৪ মার্চ ২০২৬ সকাল ১১:৩৭:৪৫

চাঁদপুর ৩ নদীর মোহনায় দর্শনার্থীদের ঈদ আয়োজন

চাঁদপুর ৩ নদীর মোহনায় দর্শনার্থীদের ঈদ আয়োজন

২৩ মার্চ ২০২৬ বিকাল ০৩:২৮:৫১

কেমন ছিলো একাত্তরের সেই ভয়াল দিনের ঈদ

কেমন ছিলো একাত্তরের সেই ভয়াল দিনের ঈদ

২২ মার্চ ২০২৬ দুপুর ০২:৪১:০২

পাহাড় ও সমুদ্রঘেরা পেরুর ইফতারে সম্প্রীতির বার্তা

পাহাড় ও সমুদ্রঘেরা পেরুর ইফতারে সম্প্রীতির বার্তা

১৭ মার্চ ২০২৬ দুপুর ১২:৩১:৪৮

ঈদের ছুটিতে যেতে পারেন দক্ষিণের স্বর্গভূমি চর হেয়ারে

ঈদের ছুটিতে যেতে পারেন দক্ষিণের স্বর্গভূমি চর হেয়ারে

১১ মার্চ ২০২৬ সকাল ১০:৪৭:৩৬

1–15 / মোট 24টি সংবাদ | পৃষ্ঠা 1 / 2
শিরোনাম
চৌদ্দগ্রামে দুই শতাধিক অসহায় মানুষের ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা নাটোরে ক্লোন অ্যাপস ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগে ৩ জন গ্রেফতার এক ব্যানারে শেখ মুজিব, জিয়াউর রহমান ও তারেক রহমানের ছবি; নেট দুনিয়ায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় মানিকগঞ্জে মেয়ের হাতে বৃদ্ধ মা খুন, আটক ১ উচ্ছেদে ভাঙল ৬১ দোকান, বাড়ল ব্যবসায়ীদের দুশ্চিন্তা হার্টের রিংয়ের নতুন দাম বাস্তবায়নে হাসপাতালগুলোকে ঔষধ প্রশাসনের চিঠি ‘ইসলামী ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশের অর্থনীতি মাটির সঙ্গে মিশে যাবে’ ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুল ইসলামও ইসলাম নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অস্ট্রেলিয়াকে গুঁড়িয়ে ২১ বছরের অপেক্ষা ঘোচাল বাংলাদেশ বিশ্বশান্তিতে শান্তিরক্ষীদের অবদান অনন্য: প্রধানমন্ত্রী আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা ও দাফনের সময় জানাল ইরান স্থানীয় নির্বাচনে আ. লীগের অংশগ্রহণের বিষয়ে যা বললেন আসিফ মাহমুদ ৫০০ কোটি টাকার ফান্ড, তরুণ উদ্যোক্তাদের সুখবর দিলেন অর্থমন্ত্রী অর্থবছরকে ক্যালেন্ডার ইয়ারের সঙ্গে মেলানোর উদ্যোগ চান জামায়াত আমির হামের উপসর্গে ফের প্রাণহানি, মোট মৃত্যু ৬৩১ চৌদ্দগ্রামে দুই শতাধিক অসহায় মানুষের ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা নাটোরে ক্লোন অ্যাপস ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগে ৩ জন গ্রেফতার এক ব্যানারে শেখ মুজিব, জিয়াউর রহমান ও তারেক রহমানের ছবি; নেট দুনিয়ায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় মানিকগঞ্জে মেয়ের হাতে বৃদ্ধ মা খুন, আটক ১ উচ্ছেদে ভাঙল ৬১ দোকান, বাড়ল ব্যবসায়ীদের দুশ্চিন্তা হার্টের রিংয়ের নতুন দাম বাস্তবায়নে হাসপাতালগুলোকে ঔষধ প্রশাসনের চিঠি ‘ইসলামী ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশের অর্থনীতি মাটির সঙ্গে মিশে যাবে’ ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুল ইসলামও ইসলাম নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অস্ট্রেলিয়াকে গুঁড়িয়ে ২১ বছরের অপেক্ষা ঘোচাল বাংলাদেশ বিশ্বশান্তিতে শান্তিরক্ষীদের অবদান অনন্য: প্রধানমন্ত্রী আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা ও দাফনের সময় জানাল ইরান স্থানীয় নির্বাচনে আ. লীগের অংশগ্রহণের বিষয়ে যা বললেন আসিফ মাহমুদ ৫০০ কোটি টাকার ফান্ড, তরুণ উদ্যোক্তাদের সুখবর দিলেন অর্থমন্ত্রী অর্থবছরকে ক্যালেন্ডার ইয়ারের সঙ্গে মেলানোর উদ্যোগ চান জামায়াত আমির হামের উপসর্গে ফের প্রাণহানি, মোট মৃত্যু ৬৩১