ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে ঘিরে আবারও দখলদার চক্র সক্রিয় হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ব্যাংকটি আবারও ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশের অর্থনীতি মাটির সঙ্গে মিশে যাবে।মঙ্গলবার (৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের বাজেট অধিবেশনের তৃতীয় দিনে ৬৮ বিধিতে দেওয়া নোটিশ উত্থাপনকালে তিনি এ কথা বলেন।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের সর্ববৃহৎ বেসরকারি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্সের একটি বড় অংশ আসে। অতীতে নানা অপপ্রচার ও রাজনৈতিক হয়রানির মধ্যেও ব্যাংকটি ২০১৬ সালে ৪৪৭ কোটি টাকার বেশি মুনাফা অর্জন করেছিল এবং খেলাপি বিনিয়োগ ছিল মাত্র ৪ শতাংশ। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ দখল ও অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটি ও দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে তিনি দাবি করেন।তিনি আরও বলেন, সেই সময়ের পর ব্যাংকের মুনাফা ও কার্যকারিতায় বড় ধরনের পতন ঘটে এবং ২০২৪ সালে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ প্রদান করা সম্ভব হয়নি। খেলাপি বিনিয়োগও মোট বিনিয়োগের প্রায় ৫১ শতাংশে পৌঁছেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকটি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল এবং গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছিল। এ অবস্থায় নতুন করে আবারও ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।তিনি দাবি করেন, পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান পদে বিতর্কিত ব্যক্তিকে নিয়োগ এবং ব্যবস্থাপনায় অযৌক্তিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে।সংসদে দেওয়া বক্তব্যে স্পিকার পরে বিষয়টি নিয়ে সময় স্বল্পতার কারণে পুরো নোটিশ পড়ার সুযোগ সীমিত করেন বলে জানা যায়। পরে লিখিত নোটিশে বলা হয়, এমডিকে পদত্যাগে বাধা দেওয়া এবং ব্যবস্থাপনায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ রয়েছে।শফিকুর রহমান বলেন, ইসলামী ব্যাংককে অতীতে “জামায়াতের প্রতিষ্ঠান” হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হলেও বাস্তবে এটি গ্রাহক ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার ওপর দাঁড়িয়ে সফলভাবে পরিচালিত হয়েছে।তিনি আরও দাবি করেন, অতীতে ব্যাংকটি দখলের ফলে লুটপাট ও অনিয়ম হয়েছে, যার প্রভাব এখনো অর্থনীতিতে পড়ছে। বর্তমানে আবারও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে তার ফল ভালো হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।তিনি উল্লেখ করেন, একদিনেই গ্রাহকেরা প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন, যা আস্থার সংকটের প্রতিফলন।শেষে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দেশের অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষায় ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং ব্যবস্থাপনায় যেকোনো অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ বন্ধ করা জরুরি।
ইসলামী ব্যাংকের বৈধ গ্রাহকদের কোনো সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।মঙ্গলবার (৯ জুন) সংসদে ইসলামী ব্যাংকে বিতর্কিত লোক বসিয়ে সরকার লুটপাটের ব্যবস্থা করেছে বলে অভিযোগ করেন সংসদ সদস্য ও জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয়ে কথা বলেন।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুল ইসলামও ইসলাম নয়, জামায়াতে ইসলামও ইসলাম নয়। সব কিছুতে ইসলামের দোহাই দেয়া ঠিক নয়। বৈধ গ্রাহকদের বিষয়ে তিনি বলেন, দাবি অনুযায়ী বৈধ গ্রাহকদের ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা দেয়া হবে। তবে ব্যাংকটিতে বিশৃঙ্খলা তৈরির উদ্দেশ্যে পর্দার আড়ালে থেকে গ্রাহক বলে আন্দোলন করা হচ্ছে। পর্দার আড়ালে বা পর্দার বাইরে আন্দোলন করে বেশি এগোনো যাবে না বলেও হুঁশিয়ার করেন তিনি। ইসলামী ব্যাংকের নিয়োগ এবং টাকা নিয়ে ফেরত না দেয়া প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকটির চেয়ারম্যান থেকে বোর্ড অব ডিরেক্টর, সবাইকে ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক অব্যাহতি দিতে পারে। এ বিষয়ে প্রশ্ন করতে হলে আইন পরিবর্তন করে আসতে হবে। তিনি আরও বলেন, নাবিল গ্রুপসহ যারা টাকা নিয়ে ফেরত দেয়নি তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত হবে। ৯ হাজার কর্মীকে নিয়ম না মেনে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এরআগে, সংসদ সদস্য ও জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের অভিযোগ করেন, ২৬টি ভুয়া কোম্পানি গঠন করে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা ইসলামী ব্যাংক থেকে সরিয়ে নিয়েছিল এস আলম। আবারও ইসলামী ব্যাংকে বিতর্কিত কিছু লোকজনকে বসিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে জনগণের টাকা লুটপাট হবে। এটা অত্যন্ত পরিষ্কার। গত ২৪ মে চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। এরপর থেকেই তার নিয়োগের বিরোধিতা করে বিভিন্ন ব্যানারে কর্মসূচি পালন করছেন গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডাররা।
ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই দুর্দান্ত এক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করে মোসাদ্দেক হোসেনের ৮৬ রানের অপরাজিত ইনিংসের সুবাদে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৮৪ রানের সংগ্রহ গড়েছিল টাইগাররা। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে লাল-সবুজের দলের বোলারদের সামনে সুবিধা করে ওঠতে পারেননি অজি ব্যাটাররা। ৪৭ রান করে অ্যালেক্স ক্যারি কিছুটা আশা দেখালেও নাহিদ রানা-মোসাদ্দেকদের বোলিং নৈপুণ্যে শেষ পর্যন্ত অল আউটের দিকেই ঝুঁকছিল অস্ট্রেলিয়া। স্বাগতিকরা যখন জয় থেকে মাত্র ১ উইকেট দূরে তখনই বাগড়া দেয় বৃষ্টি। এরপর খেলা এক ঘন্টারও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর ডিএলএস মেথডে বাংলাদেশকে ৮৬ রানে জয়ী ঘোষণা করা হয়।এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ সর্বশেষ ওয়ানডে জিতেছে ২০০৫ সালে। ২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একদিনের ক্রিকেটে প্রথম জয় পায় বাংলাদেশ।স ২০০৫ সালের সেই জয়টি এসেছিল কার্ডিফে।সেরপর এবারই প্রথম আবার এই সংস্করণে জয়ের মুখ দেখল টাইগাররা। তাই দেশের মাটিতেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটিই বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে জয়। ২৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে অজিরা। তাসকিন আহমেদের ফুল লেন্থে করা বল বুঝে ওঠতে পারেনি অজি ওপেনার শর্ট। বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরেন। উইকেট হারানোর ধারা অব্যাহত থাকে দ্বিতীয় ওভারেও। এবার নায়ক মুস্তাফিজুর রহমান। অজিদের অভিজ্ঞ ব্যাটার মার্নাস লাবুশেনকে সাজঘরের পথ দেখান তিনি। কাটার মাস্টারের বলে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে পড়ে আউট হন তিনি। দ্বিতীয় ওভারেই ২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে অজিরা। এরপর দলের হাল ধরেন কুপার কনোলি ও অধিনায়ক জশ ইংলিশ। দুজনে মিলে টাইগার বোলারদের বিপক্ষে দেখেশুনে খেলে দলকে এগিয়ে নেন সামনের দিকে। এ জুটিতে ৪৯ রান তুলে আশার আলো দেখছিল অজিরা। তবে জুটি ভেঙে বাংলাদেশকে আবার ব্রেক থ্রু এনে দেন নাহিদ রানা। তরুণ এই পেসারের বলে কট বিহাইন্ড হয়ে সাজঘরের পথ ধরেন অজি অধিনায়ক ইংলিস। ফেরার আগে তিনি করেন ২৫ বলে ১৯ রান। এদিকে ইংলিস ফেরার পর অ্যালেক্স ক্যারিকে নিয়ে দলের হাল ধরেন কনোলি। এ জুটিতেও স্কোরবোর্ডে ওঠে ৪০ রান। তবে ৫০ বলে ৩৫ রান করে কনোলি মোসাদ্দেকের বলে বোল্ড হলে ভাঙে জুটি। এরপর ক্যারি জুটি গড়েন ক্যামেরনের গ্রিনের সঙ্গে। দুজনের ৩৭ রানের জুটিতে ম্যাচের ফেরার চেষ্টায় ছিল অজিরা। কিন্তু নাহিদ রানার বলে ক্যারি ফিরলে ফের উইকেট হারায় অজিরা। ১২৮ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে তখন ম্যাচ থেকে অনেকটাই ছিটকে যায় সফরকারীরা। এরপর আর কেউই দলের হাল ধরতে পারেননি। গ্রিন একপ্রান্তে টিকলেও অপরপ্রান্তে মোসাদ্দেক ম্যাট রেনশো এবং পরে রানা জাভিয়ের বার্টলেট ও লিয়াম স্কটকে সাজঘরের পথ দেখান। এদিকে অজিদের শেষ ভরসা হয়ে ক্রিজে টিকে ছিলেন ক্যামেরন গ্রিন। ৬৬ বলে ৫২ রান করে ক্রিজে ছিলেন তিনি, এমন সময়ই বজ্রপাতের কারণে বন্ধ হয় খেলা। এরপর মিরপুরে বৃষ্টি নামলে এক ঘন্টা পর ডিএলএস মেথডে বাংলাদেশ ম্যাচ জিতে ৮৬ রানে।
হৃদরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হার্টের রিং বা করোনারি স্টেন্টের (স্টেন্ট) পুনঃনির্ধারিত মূল্য বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়ে দেশের হাসপাতালগুলোকে চিঠি পাঠিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর (ডিজিডিএ)।মঙ্গলবার (৯ জুন) অধিদফতর থেকে এই চিঠি পাঠানো হয়। এতে সই করেন মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. আলমগীর হোসেন।চিঠিতে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের নির্দেশনা এবং বিশেষজ্ঞ পরামর্শক কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে আমদানিকৃত বিভিন্ন ধরনের করোনারি স্টেন্টের মূল্য পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের স্মারক অনুযায়ী, ট্যাক্স, ভ্যাট, বিভিন্ন চার্জ-কমিশন এবং আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের যৌক্তিক মুনাফা বিবেচনায় নিয়ে স্টেন্টগুলোর নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য এর আগে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। পরে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মূল্য পুনর্বিবেচনার আবেদন বিশেষজ্ঞ কমিটির সপ্তম সভায় পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের গঠিত বিশেষজ্ঞ পরামর্শক কমিটির পঞ্চম ও ষষ্ঠ সভার সুপারিশের আলোকে স্টেন্টের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়। এরপর গত ১৩ মে অনুষ্ঠিত কমিটির সপ্তম সভায় মূল্য সংক্রান্ত আপত্তি ও আবেদনগুলো পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। চিঠিতে হাসপাতালগুলোর জন্য চারটি জরুরি নির্দেশনা দেয়া হয়। এগুলো হলো- হার্টের রিংয়ের নতুন মূল্য তালিকা সংশ্লিষ্ট সকল হাসপাতালের নোটিশ বোর্ডে সর্বসাধারণের অবগতির জন্য প্রদর্শন করতে হবে। রিংয়ের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য বা এমআরপি অনুসরণ করে ক্রয়-বিক্রয় নিশ্চিত করতে হবে এবং এটিকে কোনোভাবেই চিকিৎসা প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না । দামের বিষয়ে চিঠিতে জানানো হয়, আমদানিকারকরা বিভিন্ন মডেলের হার্টের রিংয়ের দাম সর্বনিম্ন ১ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৪৭ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। সিলিন কাভার্ড স্টেন্ট বা রিংয়ে দাম ১ লাখ ৯ হাজার ৮০০ টাকা থেকে কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৬২ হাজার টাকা। এছাড়া ম্যাগমা র্যাপামাইসিন রিংয়ের দাম ৩৭ হাজার থেকে কমিয়ে ৩০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফনের সময় জানিয়েছে ইরান।খামেনির স্মরণসভা আয়োজনে গঠিত কমিটি জানিয়েছে, মহররমের প্রথম ১০ দিন শেষ হওয়ার পর তাঁর জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠিত হবে।ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ মঙ্গলবার জানিয়েছে, কমিটির সদর দফতর এদিন খামেনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের জানাজা এবং স্মরণসভা নিয়ে দ্বিতীয় বিবৃতি দিয়েছে।বিবৃতিতে বলা হয়, সাবেক সর্বোচ্চ নেতার স্মরণ, জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান মর্যাদাপূর্ণভাবে আয়োজনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে।এতে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে এ আয়োজনের সময় ও বিবরণ নিয়ে জল্পনা এবং যাচাইবিহীন প্রতিবেদন প্রচারের বিরুদ্ধে সতর্ক করা হয়েছে।বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের অসত্য তথ্য ঐতিহাসিক এই সমাবেশে যোগ দিতে আগ্রহীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। এসব তথ্যের কোনো ভিত্তি নেই।আরও বলা হয়, ইমাম হুসাইনের শোকানুষ্ঠান পালনের বিষয়ে শহীদ নেতার দীর্ঘদিনের অঙ্গীকারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে আশুরার পর, অর্থাৎ মহররম মাসের প্রথম ১০ দিন শেষে জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।কমিটি জানিয়েছে, শোকাহত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জনপ্রিয় সংগঠনগুলো চূড়ান্ত সময়সূচি ও লজিস্টিক ব্যবস্থাপনার সমন্বয় করছে। অনুষ্ঠানসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।উল্লেখ্য, ইরানের ওপর ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার শুরুর দিকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নিজ কার্যালয়ে নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ওই হামলায় তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারান।এর আগে তেহরানের ইসলামি প্রচার সমন্বয় পরিষদের প্রধান মহসেন মাহমুদ বলেছিলেন, খামেনির জানাজা এমন একটি বৈশ্বিক আয়োজন হবে, যা ইরান ও সমগ্র ইসলামি বিশ্বের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ইতিমধ্যে ইরাকসহ বিভিন্ন দেশ থেকে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য নিবন্ধন ও প্রস্তুতির খবর পাওয়া যাচ্ছে।আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইরানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেন। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি টানা ৩৬ বছর ৬ মাস এ পদে ছিলেন।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল হিসেবে আওয়ামী লীগ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনোভাবেই অংশ নিতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে রাজধানীর নাখালপাড়া হোসেন আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে বৃক্ষ বিতরণ কর্মসূচিতে এ মন্তব্য করেন তিনি।আসিফ মাহমুদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশ নেয়া নিয়ে সরকারের একটি পক্ষ বিরোধিতা করছে, আরেক উপদেষ্টা বলছেন, শর্ত মেনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারবে। আমি মনে করি, সরকার নিজেই আওয়ামী লীগকে নিয়ে ধোঁয়াশায় রয়েছে। আওয়ামী লীগের একটি পক্ষ সরকারে আছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দল কোনোভাবেই নির্বাচনে অংশ নিতে পারে না। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এনসিপি ৫ দফা দাবি দিয়েছে জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, এরমধ্যে বলেছি, প্রশাসক পদে বসে তারা মেয়র নির্বাচন করতে পারবেন না। তবুও তারা ভোট চাচ্ছেন। সরকারি লোগো ব্যবহার করে পোস্টারিং করছেন। তিনি বলেন, সরকারি লোগো ব্যবহার করে রাজধানীতে মেয়র পদে প্রচারণা চালাচ্ছেন দুই সিটি প্রশাসক। দুই সিটির প্রশাসককে পদত্যাগ করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। এছাড়া ঈদুল আজহায় কোরবানির হাটের ইজারা দেয়া নিয়েও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন আসিফ মাহমুদ।
অর্থবছরকে ক্যালেন্ডার ইয়ারের সঙ্গে মিলিয়ে করার প্রস্তাব দেবেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।তিনি বলেন, আমাদের ফিসকাল ইয়ার (অর্থবছর) হচ্ছে জুলাই টু জুন। জুন মাস বর্ষা, খরা, দুর্যোগ, সাইক্লোন—এগুলাতে সাধারণত আমাদের দেশ আক্রান্ত হয়। আমরা লক্ষ্য করি, এডিপির একটা বিশাল অংশ শেষের দুই মাসে তাড়াহুড়া করে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়। এটি বাস্তবায়ন নয়। এটি হচ্ছে গণলুটপাট। এর সুফল জনগণ পায় না। কিছু অসৎ সুবিধাভোগীদের পকেটে সুফল চলে যায়।আজ মঙ্গলবার (৯ জুলাই) দুপুরে ‘জনমুখী বাজেট ২০২৬-২৭ প্রস্তাবনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন। রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয় সংলগ্ন আল ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াত এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা সংসদে প্রস্তাব দেব, আমাদের ফিসকাল ইয়ারটি ক্যালেন্ডার ইয়ারের সঙ্গে মিলিয়ে করতে। তাহলে বর্ষার পানিতে আমাদের টাকাগুলো ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যাবে না। এই টাকাগুলোর খবর পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ।জামায়াত আমির বলেন, জামায়াতের আশঙ্কা এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আর্থিক, রাজনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক, সাংবিধানিক সব জায়গায় নির্লজ্জ রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ একেবারেই স্পষ্ট। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যাংক, বিমা করপোরেশন—সবগুলোতে আজ সেই থাবা বিস্তৃত হচ্ছে। সমাজের অপরাধী লোকদের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যাদের বিরুদ্ধে অপরাধ বিভিন্নভাবে প্রমাণিত। এভাবে যদি দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ওপর রাজনৈতিক অন্যায্য হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকে, তাহলে জাতির গন্তব্য কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, সেটি নিশ্চিত নয়।বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, বাজেট বাস্তবায়নের জন্য সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা লাগবে। যদি এগুলো না থাকে, তাহলে যে বাজেটই সরকার দিক, ওই বাজেট কার্যকর হবে না।শফিকুর রহমান বলেন, সম্পূরক বাজেট বছর শেষ হওয়ার ন্যূনতম তিন মাস আগে সংসদে পেশ করতে হবে। কিন্তু সম্পূরক বাজেট পাওয়া যায় শেষ মাসে। এর মাঝে বৈধ, অবৈধ, ন্যায্য, অন্যায্য সব খরচ হয়ে যায়। কালো-সাদা একাকার হয়ে যায়। তারপরে সম্পূরক বাজেট সংসদের সামনে আসলে জনগণের লাভ হয় না।দেশের কর আদায়ের পদ্ধতি ত্রুটিপূর্ণ উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, জনগণ তিনটা কর দেয়। একটা ট্রেজারিতে জমা হয়; একটা যায় কিছু ব্যক্তির পকেটে, যারা কর আদায় করে, আরেকটা যায় চাঁদাবাজদের পকেটে।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ, যার কারণে ট্রেজারির ট্যাক্সটা তার টার্নওভার ভলিউমের দিক থেকে ছোট হয়ে আসে। এখানে যদি সততা এবং স্বচ্ছতা মেনটেইন করা যায়, অটোমেটিক্যালি ব্যবসায়ীরা বিপুল উৎসাহ নিয়ে আরও বেশি ট্যাক্স দেবেন।জামায়াতের আমির আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের অপমানজনকভাবে বিদায়ের পর জন-অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে একটি সরকার গঠিত হয়েছিল। তারাও জাতির সঙ্গে ইনসাফ করতে পারেনি। বিভিন্ন কথা এখন অনেকে স্বীকারোক্তি দিচ্ছেন, তবে সে সময় যারা সরকারে ছিলেন, অনেকে চুপ করে আছেন। তারা যদি ইনসাফ করতেন আজকের বাংলাদেশের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন হতো। নির্বাচনে জনগণ বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে ভোট দিয়েছে। ভোট সুষ্ঠু হয়েছে, তবে ফলাফল সুষ্ঠু হয়নি। ইতোমধ্যে আত্মস্বীকৃত বিভিন্ন সাক্ষীও পাওয়া গেছে।শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার গণভোটকে অস্বীকার করে দুটি শপথের জায়গায় একটা শপথ নিয়েছে। তারা আরেকটা শপথ কেন নিল না তার ব্যাখ্যায় বলেছে, নির্বাচন হওয়ার স্বার্থে তারা জনগণকে অনেক কিছু বলেছেন, আসলে এটা তাদের মনের কথা নয়। যদি রাজনীতিবিদরা এরকমই জনগণকে ধোঁকা দেয়, তাহলে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর জনগণের আস্থা তৈরি হবে কীভাবে?অনুষ্ঠানে জামায়াতের বাজেট প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন দলীয় সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান (মিলন)। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।এতে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির আহমাদ আলী কাসেমী, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জাগপার সভাপতি তাসমিয়া প্রধানসহ অন্যান্যরা।জামায়াতের দলীয় নেতাদের মধ্যে ছিলেন সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম, নায়েবে আমির মজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদসহ অন্যান্যরা।
রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে ১৪৪৮ মামলা করেছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ।সোমবার (৮ জুন) ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ কর্তৃক রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এসব মামলা করা হয়।ডিএমপি মিডিয়া বিভাগ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ট্রাফিক-রমনা বিভাগে সাতটি বাস, পাঁচটি ট্রাক, একটি কাভার্ডভ্যান, তিনটি সিএনজি ও ১৫টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৬৮টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগে সাতটি বাস, তিনটি ট্রাক, একটি কাভার্ডভ্যান, ১৭টি সিএনজি ও ৬৯টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৪৬ মামলা হয়।ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগে ২৬ বাস, তিনটি ট্রাক, ২৩ কাভার্ডভ্যান, ৭৬ সিএনজি ও ১৩১ মোটরসাইকেলসহ মোট ২৯৭ মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগে ৩০ বাস, ১০ ট্রাক, ১৫ কাভার্ডভ্যান, ১৩ সিএনজি ও ৬৮ মোটরসাইকেলসহ মোট ১৭৪ মামলা হয়েছে।অন্যদিকে ট্রাফিক-তেজগাঁও বিভাগে ১০টি বাস, তিনটি ট্রাক, আটটি কাভার্ডভ্যান, ১৮ সিএনজি ও ৪১ মোটরসাইকেলসহ মোট ১১৪ মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগে ৯ বাস, আট ট্রাক, ১৯ কাভার্ডভ্যান, ৬১ সিএনজি, ১৮৫ মোটরসাইকেলসহ মোট ৩৪৮ মামলা হয়।ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগে ২২ বাস, একটি ট্রাক, দুই কাভার্ডভ্যান, ১৩ সিএনজি ও ১২ মোটরসাইকেলসহ মোট ৮০ মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-গুলশান বিভাগে ৩৪ বাস, আট কাভার্ডভ্যান, ৩১ সিএনজি ও ৮৯ মোটরসাইকেলসহ মোট ২২১ মামলা হয়েছে।এছাড়াও অভিযানে মোট ৪২৫ গাড়ি ডাম্পিং ও ২৩৭ গাড়ি রেকার করা হয়।ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, ঢাকা মহানগর এলাকায় ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষায় ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
শুরুর ধাক্কা সামলে তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তর দৃঢ় ব্যাটিং, আর শেষদিকে মোসাদ্দেক হোসেনের দুর্দান্ত অপরাজিত ইনিংসে বড় সংগ্রহ পেয়েছে বাংলাদেশ। মিরপুরে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৮ উইকেটে ২৮৪ রান তুলেছে টাইগাররা। ফলে জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়াকে করতে হবে ২৮৫ রান।শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করতে নেমে দ্রুতই প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে মাত্র ৫ রান করে ফিরে যান সাইফ হাসান। তবে এরপর দলের হাল ধরেন তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত।দুই ব্যাটার ধীরে ধীরে ইনিংস গড়ে তুলে দ্বিতীয় উইকেটে ৯৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি উপহার দেন। পাওয়ার প্লের ১০ ওভারে বাংলাদেশ তোলে ৬২ রান। এরপর আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ব্যক্তিগত অর্ধশতক পূর্ণ করেন তামিম। ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৫৬ রান করে নাথান এলিসের বলে আউট হন তিনি।তামিমের বিদায়ের পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি লিটন দাস। তবে অন্য প্রান্তে রান তোলার গতি ধরে রাখেন শান্ত। ক্যারিয়ারের ১২তম ওয়ানডে ফিফটি তুলে নেওয়া এই বাঁহাতি ব্যাটার ৯ চার ও ১ ছক্কায় ৬৭ রান করে ফেরেন।১৪০ রানে চার উইকেট হারানোর পর কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশ। সেই পরিস্থিতিতে তৌহিদ হৃদয় ও মোসাদ্দেক হোসেন ইনিংস মেরামতের কাজ শুরু করেন। হৃদয় ৩১ রান করে ফিরলেও নিজের দায়িত্ব ঠিকই পালন করেন মোসাদ্দেক।মধ্য ও শেষের ওভারে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারালেও একপ্রান্ত আগলে রেখে রান তোলেন এই অলরাউন্ডার। তাসকিন আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে অষ্টম উইকেটে ৪৫ রানের কার্যকর জুটি গড়ে দলের সংগ্রহ আরও সমৃদ্ধ করেন তিনি।চার বছর পর জাতীয় দলে ফিরে পাওয়া সুযোগকে স্মরণীয় করে রাখেন মোসাদ্দেক। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ অর্ধশতক তুলে নিয়ে ৭ চার ও ৩ ছক্কায় ৮৬ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তার ব্যাটেই শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৮৪ রানের লড়াকু পুঁজি পায় বাংলাদেশ।অস্ট্রেলিয়ার হয়ে নাথান এলিস ৩টি উইকেট শিকার করেন। এছাড়া ম্যাট রেনশ নেন ২টি উইকেট। জেভিয়ার বার্টলেট ও স্কট একটি করে উইকেট তুলে নেন।
দেশের চারটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকার নতুন উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগ দিয়েছে। ৮ জুন সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ও লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে।পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন কৃষি অনুষদের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক এস এম হেমায়েত জাহান। এর আগে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বর্তমান উপাচার্য কাজী রফিকুল ইসলামকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে নিজ মূল পদে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে।পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ছবিরুল ইসলাম হাওলাদার। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদায়ী উপাচার্য মো. শহিদুল ইসলামকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে নিজ মূল কর্মস্থলে যোগদানের অনুমতি দেয়া হয়েছে।রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক তাহমিনা আখতার। একইসঙ্গে বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক এস এম হাসান তালুকদারকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে নিজ মূল পদে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে।অন্যদিকে লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মোহাম্মদ হানিফ। তিনি নবপ্রতিষ্ঠিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এর আগে তিনি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিত বিভাগের অধ্যাপক এবং কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই চার উপাচার্যের মেয়াদ যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
ইসলামী ব্যাংকের বৈধ গ্রাহকদের কোনো সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।মঙ্গলবার (৯ জুন) সংসদে ইসলামী ব্যাংকে বিতর্কিত লোক বসিয়ে সরকার লুটপাটের ব্যবস্থা করেছে বলে অভিযোগ করেন সংসদ সদস্য ও জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয়ে কথা বলেন।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুল ইসলামও ইসলাম নয়, জামায়াতে ইসলামও ইসলাম নয়। সব কিছুতে ইসলামের দোহাই দেয়া ঠিক নয়। বৈধ গ্রাহকদের বিষয়ে তিনি বলেন, দাবি অনুযায়ী বৈধ গ্রাহকদের ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা দেয়া হবে। তবে ব্যাংকটিতে বিশৃঙ্খলা তৈরির উদ্দেশ্যে পর্দার আড়ালে থেকে গ্রাহক বলে আন্দোলন করা হচ্ছে। পর্দার আড়ালে বা পর্দার বাইরে আন্দোলন করে বেশি এগোনো যাবে না বলেও হুঁশিয়ার করেন তিনি। ইসলামী ব্যাংকের নিয়োগ এবং টাকা নিয়ে ফেরত না দেয়া প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকটির চেয়ারম্যান থেকে বোর্ড অব ডিরেক্টর, সবাইকে ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক অব্যাহতি দিতে পারে। এ বিষয়ে প্রশ্ন করতে হলে আইন পরিবর্তন করে আসতে হবে। তিনি আরও বলেন, নাবিল গ্রুপসহ যারা টাকা নিয়ে ফেরত দেয়নি তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত হবে। ৯ হাজার কর্মীকে নিয়ম না মেনে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এরআগে, সংসদ সদস্য ও জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের অভিযোগ করেন, ২৬টি ভুয়া কোম্পানি গঠন করে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা ইসলামী ব্যাংক থেকে সরিয়ে নিয়েছিল এস আলম। আবারও ইসলামী ব্যাংকে বিতর্কিত কিছু লোকজনকে বসিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে জনগণের টাকা লুটপাট হবে। এটা অত্যন্ত পরিষ্কার। গত ২৪ মে চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। এরপর থেকেই তার নিয়োগের বিরোধিতা করে বিভিন্ন ব্যানারে কর্মসূচি পালন করছেন গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডাররা।
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে ঘিরে আবারও দখলদার চক্র সক্রিয় হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ব্যাংকটি আবারও ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশের অর্থনীতি মাটির সঙ্গে মিশে যাবে।মঙ্গলবার (৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের বাজেট অধিবেশনের তৃতীয় দিনে ৬৮ বিধিতে দেওয়া নোটিশ উত্থাপনকালে তিনি এ কথা বলেন।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের সর্ববৃহৎ বেসরকারি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্সের একটি বড় অংশ আসে। অতীতে নানা অপপ্রচার ও রাজনৈতিক হয়রানির মধ্যেও ব্যাংকটি ২০১৬ সালে ৪৪৭ কোটি টাকার বেশি মুনাফা অর্জন করেছিল এবং খেলাপি বিনিয়োগ ছিল মাত্র ৪ শতাংশ। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ দখল ও অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটি ও দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে তিনি দাবি করেন।তিনি আরও বলেন, সেই সময়ের পর ব্যাংকের মুনাফা ও কার্যকারিতায় বড় ধরনের পতন ঘটে এবং ২০২৪ সালে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ প্রদান করা সম্ভব হয়নি। খেলাপি বিনিয়োগও মোট বিনিয়োগের প্রায় ৫১ শতাংশে পৌঁছেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকটি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল এবং গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছিল। এ অবস্থায় নতুন করে আবারও ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।তিনি দাবি করেন, পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান পদে বিতর্কিত ব্যক্তিকে নিয়োগ এবং ব্যবস্থাপনায় অযৌক্তিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে।সংসদে দেওয়া বক্তব্যে স্পিকার পরে বিষয়টি নিয়ে সময় স্বল্পতার কারণে পুরো নোটিশ পড়ার সুযোগ সীমিত করেন বলে জানা যায়। পরে লিখিত নোটিশে বলা হয়, এমডিকে পদত্যাগে বাধা দেওয়া এবং ব্যবস্থাপনায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ রয়েছে।শফিকুর রহমান বলেন, ইসলামী ব্যাংককে অতীতে “জামায়াতের প্রতিষ্ঠান” হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হলেও বাস্তবে এটি গ্রাহক ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার ওপর দাঁড়িয়ে সফলভাবে পরিচালিত হয়েছে।তিনি আরও দাবি করেন, অতীতে ব্যাংকটি দখলের ফলে লুটপাট ও অনিয়ম হয়েছে, যার প্রভাব এখনো অর্থনীতিতে পড়ছে। বর্তমানে আবারও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে তার ফল ভালো হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।তিনি উল্লেখ করেন, একদিনেই গ্রাহকেরা প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন, যা আস্থার সংকটের প্রতিফলন।শেষে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দেশের অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষায় ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং ব্যবস্থাপনায় যেকোনো অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ বন্ধ করা জরুরি।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাশিনগর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুরে দুই শতাধিক অসহায় ও দরিদ্র রোগীর জন্য বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে। রামচন্দ্রপুর সাফিয়া আনা মিয়া স্মৃতি ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এবং স্পৃহা বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন প্রকল্পের আওতায় ভার্ড কামাল চক্ষু হাসপাতালের সহযোগিতায় এ সেবা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।মঙ্গলবার (৯ জুন) স্থানীয় আল-মদিনা নূরানী হাফেজিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ ক্যাম্পে ১৭০ জন রোগীকে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা প্রদান করা হয়। এছাড়া ৩৫ জনের চশমার পাওয়ার পরীক্ষা এবং ২৩ জন ছানি রোগীকে অপারেশনের জন্য বাছাই করা হয়।অনুষ্ঠানে রামচন্দ্রপুর সাফিয়া আনা মিয়া স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সভাপতি মাস্টার মো. আবদুল ওয়াদুদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাস্টার মো. আবদুল কাদেরের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভার্ড কামাল চক্ষু হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মুহিব আসিফ, আবদুল জলিল মেম্বার, রামচন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌরী রানী পাল, মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি একেএম শহিদুল আলম, মুহতামিম হাফেজ ফরিদ উদ্দিন, সমাজসেবক আবদুল হাকিম, ইতালি প্রবাসী মোহন মিয়া, শিক্ষক শহীদুল ইসলাম, ফাউন্ডেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহজালাল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান মাসুদ, ফ্রান্স প্রবাসী নাঈমুল হাসান মামুন, ভার্ড কামাল চক্ষু হাসপাতালের সিনিয়র প্রোগ্রাম অর্গানাইজার মো. লালন উদ্দিন, প্রোগ্রাম অর্গানাইজার বকুল নমঃ, রিসেপশনিস্ট আওয়াল আলী ও ডাক্তার সহকারী রবিউল করিমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতা করেন রামচন্দ্রপুর গ্রামের তরুণ সমাজের সদস্যরা।ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মাস্টার মো. আবদুল কাদের বলেন, “সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও প্রবাসীদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে।”ফাউন্ডেশনের সভাপতি মাস্টার মো. আবদুল ওয়াদুদ বলেন, “বিনামূল্যের এই চক্ষু চিকিৎসা কার্যক্রম সফল করতে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত অনেক মানবিক ব্যক্তি আর্থিক সহযোগিতা করেছেন। ফাউন্ডেশন ও গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শুভকামনা জানাচ্ছি।”উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল প্রতিষ্ঠার পর থেকে রামচন্দ্রপুর সাফিয়া আনা মিয়া স্মৃতি ফাউন্ডেশন বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, ওষুধ বিতরণ এবং ঈদ উপলক্ষে অসহায় পরিবারের মধ্যে প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণসহ বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই দুর্দান্ত এক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করে মোসাদ্দেক হোসেনের ৮৬ রানের অপরাজিত ইনিংসের সুবাদে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৮৪ রানের সংগ্রহ গড়েছিল টাইগাররা। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে লাল-সবুজের দলের বোলারদের সামনে সুবিধা করে ওঠতে পারেননি অজি ব্যাটাররা। ৪৭ রান করে অ্যালেক্স ক্যারি কিছুটা আশা দেখালেও নাহিদ রানা-মোসাদ্দেকদের বোলিং নৈপুণ্যে শেষ পর্যন্ত অল আউটের দিকেই ঝুঁকছিল অস্ট্রেলিয়া। স্বাগতিকরা যখন জয় থেকে মাত্র ১ উইকেট দূরে তখনই বাগড়া দেয় বৃষ্টি। এরপর খেলা এক ঘন্টারও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর ডিএলএস মেথডে বাংলাদেশকে ৮৬ রানে জয়ী ঘোষণা করা হয়।এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ সর্বশেষ ওয়ানডে জিতেছে ২০০৫ সালে। ২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একদিনের ক্রিকেটে প্রথম জয় পায় বাংলাদেশ।স ২০০৫ সালের সেই জয়টি এসেছিল কার্ডিফে।সেরপর এবারই প্রথম আবার এই সংস্করণে জয়ের মুখ দেখল টাইগাররা। তাই দেশের মাটিতেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটিই বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে জয়। ২৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে অজিরা। তাসকিন আহমেদের ফুল লেন্থে করা বল বুঝে ওঠতে পারেনি অজি ওপেনার শর্ট। বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরেন। উইকেট হারানোর ধারা অব্যাহত থাকে দ্বিতীয় ওভারেও। এবার নায়ক মুস্তাফিজুর রহমান। অজিদের অভিজ্ঞ ব্যাটার মার্নাস লাবুশেনকে সাজঘরের পথ দেখান তিনি। কাটার মাস্টারের বলে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে পড়ে আউট হন তিনি। দ্বিতীয় ওভারেই ২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে অজিরা। এরপর দলের হাল ধরেন কুপার কনোলি ও অধিনায়ক জশ ইংলিশ। দুজনে মিলে টাইগার বোলারদের বিপক্ষে দেখেশুনে খেলে দলকে এগিয়ে নেন সামনের দিকে। এ জুটিতে ৪৯ রান তুলে আশার আলো দেখছিল অজিরা। তবে জুটি ভেঙে বাংলাদেশকে আবার ব্রেক থ্রু এনে দেন নাহিদ রানা। তরুণ এই পেসারের বলে কট বিহাইন্ড হয়ে সাজঘরের পথ ধরেন অজি অধিনায়ক ইংলিস। ফেরার আগে তিনি করেন ২৫ বলে ১৯ রান। এদিকে ইংলিস ফেরার পর অ্যালেক্স ক্যারিকে নিয়ে দলের হাল ধরেন কনোলি। এ জুটিতেও স্কোরবোর্ডে ওঠে ৪০ রান। তবে ৫০ বলে ৩৫ রান করে কনোলি মোসাদ্দেকের বলে বোল্ড হলে ভাঙে জুটি। এরপর ক্যারি জুটি গড়েন ক্যামেরনের গ্রিনের সঙ্গে। দুজনের ৩৭ রানের জুটিতে ম্যাচের ফেরার চেষ্টায় ছিল অজিরা। কিন্তু নাহিদ রানার বলে ক্যারি ফিরলে ফের উইকেট হারায় অজিরা। ১২৮ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে তখন ম্যাচ থেকে অনেকটাই ছিটকে যায় সফরকারীরা। এরপর আর কেউই দলের হাল ধরতে পারেননি। গ্রিন একপ্রান্তে টিকলেও অপরপ্রান্তে মোসাদ্দেক ম্যাট রেনশো এবং পরে রানা জাভিয়ের বার্টলেট ও লিয়াম স্কটকে সাজঘরের পথ দেখান। এদিকে অজিদের শেষ ভরসা হয়ে ক্রিজে টিকে ছিলেন ক্যামেরন গ্রিন। ৬৬ বলে ৫২ রান করে ক্রিজে ছিলেন তিনি, এমন সময়ই বজ্রপাতের কারণে বন্ধ হয় খেলা। এরপর মিরপুরে বৃষ্টি নামলে এক ঘন্টা পর ডিএলএস মেথডে বাংলাদেশ ম্যাচ জিতে ৮৬ রানে।
স্যোশাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন চলছে অস্ট্রেলিয়া সফরে থাকা নির্মাতা ও সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীকে ঘিরে। অনেকে বলছেন তিনি আর দেশে ফিরবেন। স্যোশাল মিডিয়ায় এ সব আলোচনার উত্তর দিয়ে ফারুকী বললেন, আমাদেরকে নিয়া এমনসব মানুষজন কথা বলতেছে, এদের উত্তর দিলেও আমাদের ইজ্জত থাকেনা।তিনি বলেন, উইথ অল রেসপেক্ট টু দেম, এই মানুষগুলা জীবনে কোনোদিন আমাদের সিলেবাসে ছিলো না। এদের নিয়া কথা বলা তো দুরের কথা, এদের নামও আমাদের আড্ডায় কেউ কোনোদিন একবারও উচ্চারণ করে নাই। এরা এতোটাই অপ্রাসঙ্গিক ছিল। আর এখন সাংবাদিক ভাই-বোনরা ফোন করে জিজ্ঞেস করে, ভাই, অমুক আপনার সম্পর্কে এই কথা বলছে, আপনার প্রতিক্রিয়া কী? ৭ জুন রোববার সকালে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছেন তিনি। পোস্টে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী জানান, তাদের নিয়ে যারা কথা বলছেন তারা কখনোই সিলেবাসে ছিলো না। ফারুকীর ভাষায়, ‘প্রত্যেকটা ভালো কাজের একটা কাফফারা দিতে হয় এটা জেনেই সরকারে ঢোকার ঝুঁকি নিই। কিন্তু সেটা যে এইরকম ভয়াবহ হবে এটা ভাবি নাই। বুঝেন অবস্থা! এখন এদের কথার উত্তর দিতে হইবো আমার? এটাই কাফফারা। যাই হোক, এদের মিথ্যাচার এবং সম্মিলিত প্রোপাগান্ডা বলে দেয় আমি আমার কাজটা ঠিকমত করতে পারছি। মুক্তিযুদ্ধের সময় থাকলে আমি মানুষের পক্ষে থাকতাম। জুলাইতেও আমি মানুষের পক্ষেই ছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ।’
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কন্যাসন্তানের মা হওয়ার খবরটি নিজেই নিশ্চিত করলেন চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী। ঢালিউড মেগাস্টার শাকিব খান ও বুবলীর ঘর আলো করে এলো নতুন অতিথি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাকিব খানকে সঙ্গে নিয়ে এক যৌথ পোস্টে এই সুখবরটি শেয়ার করেছেন বুবলী। তাদের কন্যা সন্তানের নাম রেখেছেন শারলিন খান। পোস্টে একটি কার্ড প্রকাশ করেন বুবলী, তা থেকে বোঝা যায়, গত ১১ মে তাদের এই কন্যাসন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। কার্ডে অত্যন্ত আনন্দিত বাবা-মা হিসেবে শাকিব খান ও বুবলীর নাম স্পষ্ট করা হয়েছে।পোস্টে বুবলী লেখেন, আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আমাদের পরিবারে একটি কন্যাসন্তানের আগমন হয়েছে। এই আনন্দের মুহূর্তে যারা আমাদের জন্য দোয়া করেছেন এবং শুভকামনা জানিয়েছেন, তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আমাদের মেয়ের জন্য সবার দোয়া কামনা করছি।উল্লেখ্য, বুবলী-শাকিবের ঘরে রয়েছে আরও এক সন্তান- শেহজাদ খান বীর। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র সফরে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে সময় কাটিয়েছিলেন নায়ক। এর মাস ছয়েক পর গুঞ্জন ওঠে, সন্তানের মা হতে যাচ্ছেন বুবলী। তাদের ভক্তরাও কার্যত দিনক্ষণ গুনছেন- কবে ভূমিষ্ঠ হবে তাদের সন্তান। অবশেষে কন্যা সন্তান আসার খবরের মাঝে এলো এই সুসংবাদ।
বাংলা সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র নির্মাণ, গণমাধ্যম এবং মানবিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাতা ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব হাসিবুর রেজা কল্লোল সম্মানসূচক ডক্টরেট লাভ করেছেন।ভারতের দিল্লি শহরে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তাঁকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলা সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র, গণমাধ্যম এবং মানবিক কর্মকাণ্ডে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মানসূচক ডিগ্রি প্রদান করা হয়েছে।দীর্ঘদিন ধরে দেশের চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও গণমাধ্যম অঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত হাসিবুর রেজা কল্লোল নির্মাতা, সংগঠক এবং গণমাধ্যম ব্যবস্থাপক হিসেবে বিশেষ পরিচিতি অর্জন করেছেন। চলচ্চিত্র নির্মাণের পাশাপাশি তিনি নাটক, তথ্যচিত্র এবং বিভিন্ন সৃজনশীল প্রযোজনায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।পরিচালক হিসেবে তাঁর নির্মিত সত্তা চলচ্চিত্রটি ব্যাপক আলোচিত হয় এবং দর্শক-সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ায়। বর্তমানে তিনি চ্যানেল নাইন টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে সংস্কৃতি ও গণমাধ্যম অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, তাঁর এই অর্জন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের আন্তর্জাতিক পরিচিতি আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।প্রতিক্রিয়ায় হাসিবুর রেজা কল্লোল বলেন, সংস্কৃতি, মানবিক মূল্যবোধ ও সৃজনশীলতার বিকাশে তিনি ভবিষ্যতেও কাজ করে যেতে চান। পাশাপাশি তিনি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠন এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধের প্রতিবাদ জানিয়েছে জেলার ১০টি সাংস্কৃতিক সংগঠন। এক যৌথ বিবৃতিতে সোমবার (১ জুন) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়।বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটির উদ্যোগে গত ৩০ মে অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অনুমতি নিয়ে তানিম নূর পরিচালিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’চলচ্চিত্রের একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু একটি মহল ধর্মীয় আবেগের ভুল ব্যাখ্যা তৈরি করে চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালায়। এর প্রেক্ষিতে ভেন্যু কর্তৃপক্ষ পূর্বানুমতি প্রত্যাহার করায় প্রদর্শনীটি স্থগিত করা হয়।একই দিন কসবা উপজেলার তালতলা গ্রামে স্থানীয় তরুণরা চলচ্চিত্রটি প্রদর্শনের উদ্যোগ নিলে স্থানীয় প্রশাসনের অযাচিত হস্তক্ষেপে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই দুটি ঘটনায় আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।ব্রাহ্মণবাড়িয়া ওস্তাদ আলাউদ্দীন খাঁ, আল মাহমুদসহ অসংখ্য গুণীজনের স্মৃতিধন্য পুণ্যভূমি। বছরের পর বছর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে সাংস্কৃতিক চর্চায় অনবদ্য অবদান রেখে আসছেন এ জেলার কৃতিসন্তানরা। সাংস্কৃতিক রাজধানীখ্যাত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী স্থগিতের ঘটনা আমাদের গভীরভাবে মর্মাহত করেছে।চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশ ফিল্ম সার্টিফিকেশন আইন, ২০২৩ অনুযায়ী সরকার কর্তৃক প্রদর্শনের অনুমতিপ্রাপ্ত। ইতোমধ্যে দেশ-বিদেশে এর প্রদর্শনী প্রশংসিত হয়েছে। এই চলচ্চিত্রের নির্মাতা তানিম নূরও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃতিসন্তান। নিজ জন্মভূমিতে তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শন করতে না পারা অত্যন্ত দুঃখজনক।আমরা চলচ্চিত্রকে একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্পমাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করি, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। আমরা সুস্থ, সুন্দর ও সৃজনশীল চলচ্চিত্রধারার পক্ষে। চলচ্চিত্র দেশ, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমস্যা, দেশপ্রেম, বাস্তবতা এবং মানবিক মূল্যবোধ জনগণের কাছে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সরকারের চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগের অনুমতি নিয়েই ‘বনলতা এক্সপ্রেস’চলচ্চিত্রটি জনসমক্ষে প্রদর্শিত হচ্ছে।সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তাঁর কন্যাসহ প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে একটি চলচ্চিত্র উপভোগ করেছেন, যা চলচ্চিত্রের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগের বহিঃপ্রকাশ। এমন বাস্তবতায় চলচ্চিত্রের প্রতি কারও বৈরি দৃষ্টিভঙ্গি অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত।আমরা সকলের মতপ্রকাশের অধিকার এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে কোনো মহলবিশেষের অগণতান্ত্রিক আচরণ, অসহনশীলতা ও উগ্রতাকে আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।”বিবৃতিদাতারা হলেন--১. সাংবাদিক আবদুন নূর, আহ্বায়ক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া অনুশীলন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র; অ্যাডভোকেট নাসির মিয়া, সদস্যসচিব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া অনুশীলন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।২. নীহাররঞ্জন সরকার, সাধারণ সম্পাদক, খেলাঘর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা।৩. জহিরুল ইসলাম, সভাপতি, উদীচী জেলা সংসদ; ফেরদৌস রহমান, সাধারণ সম্পাদক, উদীচী জেলা সংসদ।৪. অধ্যাপক মানবর্দ্ধন পাল, সভাপতি, জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটি; অধ্যাপক মাসুদ-উর-রহমান, সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটি।৫. শোভা সেন, সভাপতি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা; সাথী চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা।৬. হাবিবুর রহমান পারভেজ, জেলা পরিচালক, আবরণী; শারমিন সুলতানা, সহকারী পরিচালক, আবরণী।৭. হুমায়ুন কবির, সভাপতি, কবির কলম; আব্দুল মতিন শিপন, সাধারণ সম্পাদক, কবির কলম।৮. ডা. প্রেমানন্দ দাস, সংগঠক, চারণ।৯. ফাহিম মুনতাসির, সভাপতি, সোনালি সকাল; সানিউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক, সোনালি সকাল।১০. মুস্তাফা জাফরি হামিম, জেলা সভাপতি, আজকের সংস্কৃতি সংগঠন; সর্পা মিত্র ভৌমিক, সাধারণ সম্পাদক, আজকের সংস্কৃতি সংগঠন।
স্টার সিনেপ্লেক্স ও ব্লকবাস্টার সিনেমাসহ দেশজুড়ে ১০৩ প্রেক্ষাগৃহে একযোগে চলছে মেগাস্টার শাকিব খান অভিনীত সিনেমা‘রকস্টার’। আসন্ন ঈদুল আজহায় মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত মেগাস্টার শাকিব খানের ‘রকস্টার’। ঈদের দিন থেকেই দেশজুড়ে ১০৩টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে এই সিনেমা। মাল্টিপ্লেক্স থেকে শুরু করে জেলা শহরের সিংগেল স্ক্রিন- সব মিলিয়ে বড় পরিসরেই দর্শকের সামনে আসছে ছবিটি। আজমান রুশো পরিচালিত ‘রকস্টার’-এ এক রকস্টারের উত্থান, খ্যাতি, ব্যক্তিগত টানাপোড়েন ও পতনের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। সিনেমাটিতে শাকিব খানের সঙ্গে অভিনয় করেছেন সাবিলা নূর, তানজিয়া জামান মিথিলা ও সুনিধি নায়েক। মুক্তির আগে গান, পোস্টার ও প্রচারণায় আলোচনায় আসে সিনেমাটি। ঈদের হাফ ডজন ছবির ভিড়েও ‘রকস্টার’ নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।দেশজুড়ে সিনেমাটির হল বণ্টনের তালিকায় চোখে পড়ছে বড় পরিসরের উপস্থিতি। রাজধানী ঢাকায় ‘রকস্টার’ চলছে স্টার সিনেপ্লেক্সের সবকটি শাখায়— বসুন্ধরা সিটি, এসকেএস টাওয়ার (মহাখালী), সীমান্ত সম্ভার, সনি স্কয়ার (মিরপুর), মিলিটারি মিউজিয়াম ও উত্তরা সেন্টার পয়েন্টে। এছাড়া যমুনা ফিউচার পার্কের ব্লকবাস্টার সিনেমাস, কেরানীগঞ্জের লায়ন সিনেমাস, টঙ্গীর সাবা সোহানা সিনেপ্লেক্স এবং নারায়ণগঞ্জের সিনেস্কোপেও মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি।
এবার ঈদে বেশ কয়েকটি চমক নিয়ে হাজির হচ্ছেন নন্দিত মডেল, অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী সাদিয়া ইসলাম মৌ। ওয়েব ফিল্ম সারার সংসারে অভিনয় এবং ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ঈদ আনন্দমেলার নাচ পরিবেশনের পর এবার নতুন খবর,মিউজিক ভিডিওতেও দেখা মিলবে তার। ‘পেনসিল হিল’ শিরোনামের এই গানচিত্রটি পরিচালনা করেছেন শোয়েব আহমেদ। গানটি গেয়েছেন সংগীতশিল্পী আসিফ আলতাফ। একই সঙ্গে তিনি গানটির কথা লিখেছেন এবং সুরও করেছেন। মিউজিক ভিডিওতে মৌয়ের সঙ্গে মডেল হিসেবে দেখা যাবে গায়ককেও। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপদ আশ্রয়ের দিন শেষ: খামেনিমধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপদ আশ্রয়ের দিন শেষ: খামেনিনতুন কাজটি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে মৌ বলেন, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে একটি ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে ‘আমার গরুর গাড়িতে’ গানের মিউজিক ভিডিওতে জাহিদ হাসানের সঙ্গে অংশ নিয়েছিলাম। এখন মিউজিক ভিডিওর ধরন পাল্টেছে। প্রচুর মিউজিক ভিডিও হচ্ছে। অনেক প্রস্তাব পাই; কিন্তু করা হয়ে ওঠে না। আসিফ আলতাফ যখন জানালেন ‘পেনসিল হিল’ শিরোনামের একটি গানের মিউজিক ভিডিওতে আমাকেই লাগবে। নাম শুনে বেশ আগ্রহ হলো। গানটা শুনলাম। খুব ব্যতিক্রমী একটা গান। আধুনিক জীবনের বিষাদ ফুটে উঠেছে গানে। রাজি হয়ে গেলাম। স্বজনদের টানে ঈদের ছুটিতে শহর ছাড়ার হিড়িকস্বজনদের টানে ঈদের ছুটিতে শহর ছাড়ার হিড়িকজানা গেছে, আগামীকাল বুধবার (২৭ মে) সন্ধ্যায় গানচিত্রটি আসিফের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হবে।
দেশে তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকার ৫০০ কোটি টাকার ফান্ড গঠন করেছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।মঙ্গলবার (৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের তৃতীয় দিন প্রশ্নোত্তর পর্বে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, যুবসমাজকে আত্মনির্ভরশীল করতে ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে যুব ও ক্রিড়া মন্ত্রণালয় এবং কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে সহজ শর্তে যুব ঋণ বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কম সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আগামী ২৬-২৭ অর্থবছরে স্টার্টআপ তহবিল, নারী উদ্যোক্তা তৈরি, নারী উন্নয়ন, ও তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতে প্রস্তাবিত বরাদ্দ মোট ৪০০ কোটি টাকা। এছাড়া স্টার্টআপ ফান্ড নামে ৫০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হয়েছে। এখান থেকে ৪ শতাংশ সুদে তরুণরা লোন পাবেন। অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির আওতায় সরকার সারাদেশে সুবিধাভোগীর সংখ্যা ও ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে। এখন পর্যন্ত সরকার ১৩ লাখ ১৭ হাজার কৃষককে ঋণ মওকুফের আওতায় এনেছে। এ বিষয়ে সরকার এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৫৭০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করেছে। কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আগ্রহ আছে জানিয়ে তিনি বলেন, আসছে বাজেটে বিষয়টি ভালো প্রাধান্য পাবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের প্রধান কর্মসূচির মধ্যে অন্যতম কর্মসংস্থান তৈরি। এটা দূর করতে অন্যতম উপায় হচ্ছে দক্ষতা উন্নয়ন। কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করবে সরকার। কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ভোকেশনাল স্কুলগুলোর পাশাপাশি তরুণদের স্কিল ডেভেলপমেন্টের ব্যবস্থা করবে বর্তমান সরকার। তরুণদের ঋণদানের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে সহজ সর্তে ও স্বল্প সুদে (৭ শতাংশ সুদে) ৭ থেকে ৩৫ লাখ টাকা তরুণদের লোনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ সময় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু আরও বলেন, দেশের ক্যাপিটাল মার্কেট অত্যন্ত খারাপ অবস্থানে আছে, ক্যাপিটাল মার্কেটকে গতিশীল করতে সব ধরনের সংস্কার করবে সরকার।
কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। কুয়েতের সামরিক বাহিনী এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এ হামলায় অন্তত ৪ বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। এ সময় নিহত হয়েছে ভারতীয় এক নাগরিক।বুধবার রাতে কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এতে বলা হয়েছে, আহত বাংলাদেশিদের ফারওয়ানিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দূতাবাস কর্তৃপক্ষ নিয়মিত তাদের খোঁজ নিচ্ছে।বিবৃতিতে কুয়েতে বসবাসরত সব বাংলাদেশিকে দুর্ঘটনাস্থলের ছবি বা ভিডিও ধারণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রকেট বা ড্রোন হামলা এবং সেগুলো প্রতিহত করার দৃশ্য ধারণ করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।একইসঙ্গে ওইসব ভিডিও বা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট না করতেও বলা হয়েছে। কুয়েতের আইন অনুযায়ী, এটি দণ্ডনীয় অপরাধ।এ পরিস্থিতিতে কুয়েতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে যারা রক্তদানে সক্ষম, তাদের জরুরি ভিত্তিতে সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাংকে গিয়ে রক্ত দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। অন্যদেরও রক্তদানে উৎসাহিত করার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে উঠে সেলাই মেশিনে বসে থাকা হাসিমুখের নারীর ছবি। বর্তমানে এ দেশের প্রায় ৪০ লাখ গার্মেন্টস কর্মীর ৫৩ শতাংশই নারী। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, এই উপস্থিতি বেশিরভাগ সময়ে কেবল কারখানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ। ম্যানেজমেন্ট বা সুপারভাইজার-এর মতোন পদগুলোতে এখনো পুরুষদের সংখ্যাই বেশি। এই দীর্ঘদিনের বাস্তবতা বদলাতে কাজ করছেন হংকংভিত্তিক শীর্ষ অ্যাপারেল প্রতিষ্ঠান হপ লুনের চিফ পিপল অফিসার ড. সাবরিনা টিন। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে তিনি বলেন, “আমাদের মোট কর্মীদের ৮০ শতাংশই নারী। তবে আমাদের লক্ষ্য, কারখানার অন্তত ৭০ শতাংশ সুপারভাইজার পদে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।” এই লক্ষ্য পূরণে গত বছর তিনি চালু করেন #শিক্যান নামে একটি বিশেষ উদ্যোগ। এর আওতায় প্রায় ৩০ হাজার কর্মীর স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং পারিবারিক সহায়তায় নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নিয়মিত বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প এবং কারখানাভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি কারখানাগুলোতে বিদ্যমান ডে-কেয়ার সেন্টার ও ক্লিনিকের সুবিধাদি এবং সেবার মান বাড়ানো হয়েছে, জোর দেওয়া হয়েছে পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধিতেও। এখানেই শেষ নয়। ‘ওয়ার্কার স্কলারশিপ পাথওয়ে’নামে আরেকটি উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে কর্মীরা নিজেদের ও পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের পথ খুঁজে নিতে পারছেন। সাবরিনার মতে, শুধু ‘নারী ক্ষমতায়ন’নিয়ে স্লোগান তুললেই হবে না, দরকার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা। তাই হপ লুনের দক্ষতা উন্নয়ন মডেল কাজ করে ‘হেড, হার্ট অ্যান্ড হ্যান্ডস’—এই তিন স্তরে। তাঁর ভাষায়, “পোশাক খাতের কর্মীরা হাতে-কলমে কাজের দক্ষতায় এগিয়ে। এখন প্রয়োজন তাঁদের চিন্তা ও মানসিকতার বিকাশে বিনিয়োগ।” এই লক্ষ্যেই কর্মীদের ‘গ্রোথ মাইন্ডসেট’ গড়ে তোলা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যাতে তাঁরা কর্মক্ষেত্রে যেকোনো চ্যালেঞ্জের মুখে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারেন। তবে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাবরিনা বলেন, অনেক নারী কর্মী এখনো নিজেদের মত প্রকাশে সংকোচ বোধ করেন। এ সমস্যা কাটাতে হপ লুনে ‘পিপল অ্যান্ড কালচার’(পিএনসি) অভিযোগব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। এখানে এইচআর দল ‘গেটকিপারহিসেবে কাজ করে ফলে কর্মীরা নিঃসংকোচে এবং নির্ভয়ে তাদের অভিযোগগুলো জানাতে পারেন। কারখানায় অশোভন আচরণ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে সরাসরি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ বক্স ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ বাড়ায় নারী কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধও বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এসব উদ্যোগকে অতিরিক্ত ব্যয় হিসেবে দেখলেও সাবরিনা একে মনে করেন কৌশলগত বিনিয়োগ। তাঁর ভাষায়, “কর্মীরা সন্তুষ্ট থাকলে তারা আরও মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন। এতে প্রতিষ্ঠানের দক্ষ কর্মীদের কাজ ছাড়ার প্রবণতাও কমে যায়।” তিনি আরও মনে করেন, নারী সুপারভাইজারের সংখ্যা বাড়লে কর্মপরিবেশ আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়, যা উৎপাদনশীলতা ও প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সাফল্যেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তৈরি পোশাক খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সাবরিনা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ ভাগাভাগি করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু একজন নারী কর্মীকে এগিয়ে দেয় না, বরং একটি পরিবার, এমনকি একটি প্রজন্মের জীবন বদলে দিতে পারে। বৃহত্তর পরিসরে এসব উদ্যোগের সুফল কিংবা কার্যকারিতার উপর আলোকপাত করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আপনি যে শুধু একজন নারীকে কর্মক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে সহায়তা করছেন তা নয়, বরং তাদের একটি সমৃদ্ধ জীবন গড়তে অবদান রাখতে পারছেন,” সবশেষে, আজীবন শেখার উৎসাহ দিয়ে তিনি বলেন, “শেখার কোনো শেষ নেই, যেকোন জায়গাতেই আপনি নতুন কিছু শিখতে পারেন। কেউ আপনাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। শুধুমাত্র নিজের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে। এই অদম্য এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা থাকলে যেকোনো নারী কারখানার ফ্লোর থেকে শুরু করে একদিন নেতৃত্বের শীর্ষ আসনে পৌঁছাতে পারবে-যা প্রমাণ করবে নিজের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতাকে আরও শাণিত করলে, পরিশ্রম একদিন ঠিকই আপনাকে আরও উন্নত ভবিষ্যতের পথে নিয়ে যাবে।
‘মা’-ছোট্ট এই শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা, নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও সীমাহীন মমতার গল্প। একজন মানুষের জীবনের প্রথম আশ্রয়, প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু এবং সবচেয়ে নিরাপদ স্থান তার মা। পৃথিবীর প্রতিটি সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ধর্মে মায়ের মর্যাদা সর্বোচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত। আর সেই মায়ের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিনই হলো বিশ্ব মা দিবস।আজ মা দিবস। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় এই দিবস। এই দিনটি কেবল আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের নয়; বরং এটি আমাদের আত্মসমালোচনারও দিন—আমরা আমাদের মায়ের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি, তাঁর ত্যাগের প্রতিদান আদৌ দিতে পেরেছি কি না, সেই প্রশ্ন ভাবার দিন।পৃথিবীর সবচেয়ে নির্মল অনুভূতি মায়ের ভালোবাসা। মা তার সন্তান জন্মের আগ থেকেই স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন। সন্তানের সুখের জন্য তিনি নিজের ইচ্ছা, স্বপ্ন ও আরাম বিসর্জন দেন। একটি শিশুর মুখে প্রথম ভাষা, প্রথম হাঁটা, প্রথম শিক্ষা—সবকিছুর পেছনেই থাকে মায়ের অবিরাম শ্রম ও স্নেহ। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তিও একজন মা। কারণ একজন শিক্ষিত, সচেতন ও মানবিক মা-ই একটি সুন্দর প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারেন।বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় নানাভাবে সংগ্রাম করেন মায়েরা । গ্রামীণ জনপদের কৃষকের স্ত্রী থেকে শুরু করে শহরের কর্মজীবী নারী—প্রতিটি মা পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে নীরবে অসংখ্য ত্যাগ স্বীকার করেন। অনেক মা নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়েন। আবার অসংখ্য মা সন্তানকে মানুষ করতে দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য কিংবা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান। অথচ তাঁদের এই অবদান অনেক সময় যথাযথ স্বীকৃতি পায় না।আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনে পরিবারে দূরত্ব বাড়ছে। বৃদ্ধাশ্রমে মায়ের আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা আমাদের সমাজের জন্য এক বেদনাদায়ক বাস্তবতা। মা দিবসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন ছবি বা স্ট্যাটাস দেওয়ার চেয়ে বেশি প্রয়োজন জীবিত অবস্থায় মায়ের পাশে থাকা, তাঁর অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাঁর প্রতি দায়িত্ব পালন করা। কারণ একজন মা সন্তানের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি যা চান, তা হলো ভালোবাসা ও সম্মান।ইসলামেও মায়ের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত।” এই বাণী শুধু ধর্মীয় শিক্ষা নয়, মানবিক মূল্যবোধেরও এক অনন্য উদাহরণ। অন্যান্য ধর্ম ও সংস্কৃতিতেও মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও সেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।মা কেবল ব্যক্তি নন, একটি অনুভূতি। মা একটি আশ্রয়, একটি অবিচ্ছেদ্য বন্ধনের নাম, পৃথিবীর সব সম্পর্কের ঊর্ধ্বে। তাই শুধু নির্দিষ্ট একটি দিনে নয়, প্রতিদিনই হোক মায়ের প্রতি ভালোবাসার দিন, সম্মানের দিন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিবস।
দেশের দ্রুত বিকাশমান এফোর্টেবল রিটেইল ক্লথিং ব্র্যান্ড লাইভ শপিং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের আইএসও ৯০০১: কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (কিউএমএস) সনদ অর্জন করেছে। এই স্বীকৃতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম, গ্রাহকসেবা এবং পরিচালন ব্যবস্থাপনাকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা আশিক খান এ অর্জনের বিষয়ে বলেন, “আমরা এখন একটি আইএসও সার্টিফাইড কোম্পানি। যখন অনেকেই শুধু ব্যবসা পরিচালনা করে, তখন আমরা ব্যবসাকে একটি সুসংগঠিত সিস্টেমে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করি। আমাদের বিশ্বাস, দীর্ঘমেয়াদি সফলতার জন্য মানসম্পন্ন প্রক্রিয়া, জবাবদিহিতা এবং গ্রাহক সন্তুষ্টির কোনো বিকল্প নেই।”আইএসও ৯০০১ হলো বিশ্বের সবচেয়ে স্বীকৃত কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (কিউএমএস) মানদণ্ড, যা কোনো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রাহককেন্দ্রিক করে তুলতে সহায়তা করে। এই সনদ অর্জনের জন্য প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুযায়ী পরিচালন কাঠামো, নীতিমালা, প্রক্রিয়া ব্যবস্থাপনা এবং ক্রমাগত উন্নয়নের সক্ষমতা প্রমাণ করতে হয়।লাইভ শপিং কর্তৃপক্ষ জানায়, আইএসও ৯০০১ সনদ অর্জনের ফলে প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত হবে এবং গ্রাহকদের জন্য সেবার মান আরও উন্নত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি অংশীদার, বিনিয়োগকারী এবং গ্রাহকদের কাছে প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি পাবে।প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসায়িক পরিবেশে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। সেই প্রেক্ষাপটে লাইভ শপিংয়ের এই অর্জন প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ, নতুন বাজারে প্রবেশ এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতেও গ্রাহক সন্তুষ্টি, সেবার উৎকর্ষতা এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ব্যবসায়িক চর্চা নিশ্চিত করতে তারা ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাবে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার বোন মাসুমা হাদি। ৫ জুন সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে সেই সময়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন তিনি।মাসুমা হাদি লিখেছেন, ‘আমি আমার ভাইয়ের মামলার বাদি নিয়ে কিছুই বলতে চাচ্ছিলাম না। কারণ এর চেয়েও অনেক ভয়ংকর ষড়যন্ত্র চালিয়েছে আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে। সেই বিষয়েও এখন অব্দি আমি মুখ খুলিনি। শুধুমাত্র আমার ভাইয়ের জন্য। আমি মুখ খুললে সবার একটাই প্রশ্ন সামনে আসবে যে, আমার ভাইয়ের আশেপাশে যারা থাকে, তার পরিবারকে নিয়ে এই ভয়ংকর ষড়যন্ত্রে কীভাবে লিপ্ত হতে পারে। কিন্তু দুই দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার ভাইয়ের মামলার বাদি হওয়া নিয়ে যে পরিমাণ নোংরামি হচ্ছে। বাধ্য হয়ে আজকে সম্পূর্ণ বিষয়টা পরিষ্কার করলাম।আমার ভাই যেদিন গুলিবিদ্ধ হলো, সেই সংবাদ শোনামাত্র আমি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই এবং সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চলে যাই। হাসপাতালে যাওয়ার পর থেকে এক মিনিটের জন্য আমি হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় যাওয়া তো দূরের কথা, ওসমান গণিকে ছেড়ে ১ মিনিটের জন্য আমি নিচতলায় পর্যন্ত যাইনি।এখন আমার প্রশ্ন, প্রশাসনের লোক এভারকেয়ারে এসে জাবেরের কাছ থেকে সাইন নিলো কেন? আর আমি উপস্থিত থাকাকালীন জাবের সাইন দিবে কেন? এ নিয়ে আমি বহুবার প্রশ্ন করেছি। আমাকে বোঝানো হয়, যে ওমরের কাছে নাকি গিয়েছিল, ওমর বলছে এখন আমরা চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত। চিকিৎসা সম্পন্ন হলে এই বিষয়গুলো দেখা যাবে। চিকিৎসা ব্যতীত এই মুহূর্তে আর কিছু ভাবতে পারছি না।উল্লেখ্য যে, এ ধরনের অতি গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারী মামলায় বাদির ঘরে স্বাক্ষর আগে-পরে করা নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা নেই। এমনকি বাদিপক্ষ থানায় মামলা না করলেও পুলিশ উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকল প্রকার আইনি কার্যক্রম চালাতে পারে। আমি জানতে চাই, ওই মুহূর্তে ওমরের মানসিক অবস্থা যে কী, সেটা সবারই অনুভব করার কথা। ওসমান গণির রক্তে ওমর ফারুক রক্তাক্ত ছিল। কারণ একই রিকশায় দুই ভাই। বুলেট যদি আর একটা বের হতো ওমর হাদিও ওখানেই আমার ওসমান গণির মতো হয়ে যেতো।ওমরের গায়ে পোশাকে এমনকি ওর হাতে যে ঘড়িটা ছিল সেটিতেও ওসমান গণির রক্তের দাগ শুকিয়ে ছিল। ওসমান গণিরে যেদিন সিঙ্গাপুর নেবে; সেইদিন সকালে ওমর এভারকেয়ারে বসে গোসল করে এবং ঘড়িতে যে রক্তের দাগ ছিল তা পরিষ্কার করে।মামলার বাদির ব্যাপারে কার কাছে বলেছে, কে বলছে যে, আমরা নিরাপত্তার জন্য বাদি হতে চাই না। এটা পরিষ্কার করতে হবে। জাবের যদি আমার নলছিটির ছেলে না হতো, তা হলে কোনো প্রশ্ন ছিল না। কারণ আমার ওসমান গণির সাথে যারা দীর্ঘদিন চলাফেরা করেছে, এমন কোনো লোক নাই যারা জানে না ওসমান গণির জীবনে তার ছোট আপু কতটা জড়িয়ে। এবং তার ছোট আপু ওসমান গণির জন্য জীবন দিতে এক সেকেন্ড চিন্তা করে না। সেই ছোট আপুর কাছে না এসে কার অনুমতি নিয়ে জাবের মামলার বাদি হলো, এটা পরিষ্কার করতে হবে।আর একটা প্রসঙ্গ খুব পরিষ্কার করা দরকার। ওমর হাতে যেই ঘড়িটা পরে, ওটা আরও ৫ বছর আগে কেনা। যার দাম তখন ছিল বাংলাদেশি ১৭ হাজার টাকা, ২০১৬ সালে সে যেই ব্লেজার পরতো ১৬ সালে যার মূল্য ৩০ হাজার টাকা। ১৬ সালে যে মোবাইলটা ব্যবহার করতো, তখন ওটার মূল্য ছিল ৭০ হাজার টাকা। শুধু এই তিনটা জিনিসের হিসাব দিতে বাধ্য হলাম। এই জন্য যে, না বুঝে কেউ নোংরামি করার চেষ্টা করবেন না।এখন আসি চিকিৎসার ব্যাপারে কিছু বলতে। আমার ভাই যখন এভারকেয়ারে; তখন অনেকেই আমার ভাইয়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে চেয়েছেন। আমরা পারিবারিকভাবে কেউ তাতে সম্মতি জানাইনি। আমার ওসমান গণিকে দেশের বাহিরে নেওয়ার জন্য সর্বপ্রথম ওমর ফারুক ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেয়। এবং ওসমান হাদির সকল মেডিকেলের ডকুমেন্ট প্রথমে সিঙ্গাপুর পাঠায়, সিঙ্গাপুর থেকে তারা রিজেক্ট করে দেয়। এরপর ওমর থাইল্যান্ডে মেডিকেলের ডকুমেন্ট পাঠালে তারা গ্রহণ করে।ওমর একান্ত ব্যক্তিগত অর্থায়নে থাইল্যান্ডের জন্য ৫২ লক্ষ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে আনে এবং আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে টিকিট দেখিয়ে বলে, আর কাঁদিস না, চিকিৎসার অভাবে ওসমান গণিরে আমারা হারাইতে দিব না। আল্লাহ যদি হায়াত রাখে ওসমান গণি ফিরে আসবে। চিকিৎসার কোনো ত্রুটি রাখবো না। ওমরের এই সিদ্ধান্ত সরকার জানার পরে সরকার ওসমান গণির চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। এবং সরকার দ্বিতীয় দফায় ওসমান গণির মেডিকেলের কাগজপত্র সিঙ্গাপুর পাঠালে তারা গ্রহণ করে। এবং ওসমান গণিকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। আর আমি ওসমান গণির সাথে এভারকেয়ার থেকে এই প্রথম বের হই।আমি এগুলো কিছুই কাউকে জানাতে চাইনি। কারণ আমার জন্য ওসমান গণিকে হারিয়ে বেঁচে থাকা কত কঠিন হয়ে যাচ্ছে; সেটা আল্লাহ ছাড়া দুনিয়ার বুকে কারো বোঝা সহজ নয়। কিন্তু বাধ্য হলাম এই জন্য যে, একজন বিপ্লবীকে সম্মান করতে হলে তার পরিবারকে নিয়ে কীভাবে এত মিথ্যাচার করা যায়। সম্মান করতে না-ই পারেন, কিন্তু কিছু না জেনে অসম্মান করার অধিকার কোথায় পেলেন?’