দুর্দান্ত জয়ে অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়া কাপ হকি শুরু করেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) চীনে হকিতে বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ম্যাচে চাইনিজ তাইপেকে ৭-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছে। পুরো ম্যাচ জুড়েই ছিল বাংলাদেশি মেয়েদের একচেটিয়া আধিপত্য।ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক হকি খেলে বাংলাদেশ। দলের হয়ে প্রথম গোল করেন কনা আক্তার। কনার পর প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে পরাস্ত করেন ইমা এবং আইরিন আক্তার রিয়া। তারা দুজনেই ম্যাচে দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করে জোড়া গোল করেন।চতুর্থ কোয়ার্টারে আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় বাংলাদেশ। এ সময় দলের পক্ষে হাল ধরেন অধিনায়ক সারিকা রিমন। তিনি চমৎকার দক্ষতায় পরপর আরও দুটি গোল করেন। অধিনায়কের এই জোড়া গোলে বাংলাদেশের বড় জয় নিশ্চিত হয়।কনার প্রথম গোল, এরপর ইমা ও রিয়ার জোড়া গোল এবং শেষ কোয়ার্টারে অধিনায়ক সারিকা রিমনের জোড়া গোলের ওপর ভর করে ৭-০ ব্যবধানের এই বিশাল জয় পায় বাংলাদেশ।টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই এমন দাপুটে জয় বাংলাদেশের মেয়েদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ম্যাচসেরা হয়েছেন আইরিন আক্তার রিয়া। এ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে রোববার পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। হংকং চায়নার বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরে শুরু করেছে পাকিস্তান।
৪ দিন আগে
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বিদেশের মাটিতে প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে ট্রিপল সেঞ্চুরি (৩০০*) হাঁকিয়েছেন তাওহীদ হৃদয়। ৪৫০ বলের এক মহাকাব্যিক ও ধৈর্যশীল ইনিংস খেলে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নিজের নামটি স্বর্ণাক্ষরে খোদাই করে নেন তিনি।বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রুমে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে চোখধাঁধানো ব্যাটিং প্রদর্শনীতে ট্রিপল সেঞ্চুরির মহাকাব্যিক ল্যান্ডমার্ক স্পর্শ করেন এ ব্যাটার।অবশ্য যে মাঠে ত্রিশতক হাঁকিয়েছেন হৃদয়, এই মাঠ বাংলাদেশিদের কাছে এক অনন্য ভেন্যু। ২০২০ সালে এখানেই আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতেছিল বাংলাদেশ। ছয় বছর পর এই ঐতিহাসিক মাঠেই বিদেশের মাটিতে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে ৩০০ রানের অলৌকিক ইতিহাস লিখলেন বগুড়ার এ ব্যাটার।এই অবিস্মরণীয় ইনিংসের পথচলায় তিনি বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ২৩ বছর আগের একটি ঐতিহাসিক রেকর্ডও নিজের নামে করে নিয়েছেন হৃদয়। ২০০৩ সালে করাচিতে ডিফেন্স হাউজিং কমিটি দলের বিপক্ষে শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ ২১৮ রানের একটি স্মরণীয় ইনিংস খেলেছিলেন, যা এত দিন পর্যন্ত বাংলাদেশ ‘এ’ দলের পক্ষে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান ছিল। ম্যাচের প্রথম দিনে ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকানোর পর দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনেই শাহরিয়ার বিদ্যুৎকে টপকে শীর্ষস্থান দখল করেন তিনি।বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ট্রিপল সেঞ্চুরি করার ঘটনা এটি কেবল তৃতীয়। এর আগে ঘরোয়া ক্রিকেটে তামিম ইকবাল জাতীয় ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) ৩৩৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন এবং ২০০৬-০৭ মৌসুমে জাতীয় ক্রিকেট লিগে বরিশাল বিভাগের হয়ে সিলেট বিভাগের বিপক্ষে ৩১৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন রাকিবুল হাসান।তবে তামিম ও রাকিবুল— দুজনের রেকর্ডই ছিল দেশের মাটিতে ঘরোয়া প্রতিপক্ষের বিপক্ষে, যেখানে হৃদয়ের ট্রিপল সেঞ্চুরি বিদেশের মাটিতে।
৬ দিন আগে
আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২০ বছরেরও বেশি সময়ের লম্বা পথচলার ইতি টানলেন লিওনেল মেসি। তবে তার এই বিদায় কোনো সাধারণ ঘটনার মতো ছিল না। তিনি যেন এক সুন্দর রূপকথা তৈরি করে বিদায় নিলেন। নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলো নিয়ে বানানো একটি আবেগঘন ভিডিও এবং হাতে লেখা একটি তিন পৃষ্ঠার চিঠিতে ইতি টানলেন এই সোনালী অধ্যায়ের।মেসির অবসরের খবরের চেয়েও মেসির চিঠির সঙ্গে পোস্ট করা ছবিটি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আলোচনা তৈরি করেছে। যেই ছবির প্রতিটি উপাদানের ভেতরেই লুকিয়ে রয়েছে বিশেষ এক অর্থ।একটি নোটপ্যাডের ছেঁড়া তিনটি পাতায় সম্পূর্ণ বড় হাতের অক্ষরে নিজের মন থেকে বের হওয়া প্রতিটি কথা ফুটিয়ে তুলেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। চিঠির প্রথম বাক্য থেকেই বোঝা যাচ্ছিল সিদ্ধান্তটা তার জন্য কতটা কঠিন ছিল। ২০ বছরের লম্বা পথচলার মিষ্টি-মেঠো স্মৃতি তুলে ধরে শেষ লাইনে তিনি লিখেছেন সেই ভালোবাসার কথা—‘আমাকে আর্জেন্টাইন হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ! এগিয়ে যাও আর্জেন্টিনা!’ তবে ভক্তদের নজর সবচেয়ে বেশি কেড়েছে চিঠিটির উপরে রাখা একটি সোনালি রঙের হ্যারি পটার কলম।মেসি যে কলমটি দিয়ে বিদায়ের চিঠি লিখেছেন, সেটি কোনো সাধারণ কলম নয়। কলমটির ওপরের অংশে রয়েছে বিখ্যাত ‘টাইম-টার্নার’—যা জে. কে. রোউলিংয়ের জনপ্রিয় হ্যারি পটার সিরিজের হারমায়োনি গ্রেঞ্জারের একটি অতি পরিচিত জাদুকরী বস্তু। এর ঐতিহ্যবাহী গোলাকার আকৃতি এবং মাঝখানে একটি ছোট বালুঘড়িযুক্ত সোনালি প্রলেপের এই কলমটি ভক্তদের মুগ্ধ করেছে। বিশেষ করে মেসি ও তার পরিবার যে এই জাদুকরী সিরিজের দারুণ ভক্ত, তা কারোরই অজানা নয়।বিষয়টি একটু গভীরভাবে ভাবলে এর ভেতরের মূল অর্থ ধরা পড়ে। হ্যারি পটারের গল্পে যেমন সময় পেছনে নেওয়ার কথা থাকে, মেসিও যেন সেই কলমটি বেছে নিয়ে সংকেত দিলেন নিজের কেটে যাওয়া ২০ বছরের দিকে। ব্যর্থতা, সমালোচনা, একের পর এক ফাইনালে হার, আর তারপর ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা ও ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ জয়—সবকিছু বাদ দিয়ে মেসি যেন মুহূর্তের জন্য সবাইকে অতীতে ঘুরিয়ে নিয়ে গেলেন।একটি খুব সাধারণ নোটপ্যাড থেকে ছিঁড়ে নেওয়া তিনটি পাতায় সাজানো ছিল মেসির আন্তর্জাতিক জীবনের গল্প। পাতার ওপরের তারিখ ও ছোট ছোট ঘরগুলো খালি রেখেই সরু টানের কালো কালিতে মন খুলে লিখেছেন তিনি। মাঝপথে কিছু ভুল কাটাকাটি প্রমাণ করে, এটি তিনি আগে থেকে সাজিয়ে লেখেননি, বরং আবেগ থেকেই এটি সঙ্গে সঙ্গে লেখা।প্রথম পাতা: এই পাতায় মেসি তার ক্লান্তি আর সর্বোচ্চটা দেওয়ার অনুভূতি তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমি আমার সবটুকু দিয়েছি... নিজেকে একদম খালি করে দিয়েছি, আমার মধ্যে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।’দ্বিতীয় পাতা: এই পাতায় তিনি দীর্ঘ ২০ বছরের পথচলায় সতীর্থ, পরিবার, কোচিং স্টাফ ও ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘এই ২০ বছরের সব ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ।’তৃতীয় পাতা: আর শেষ পাতায় এসে ধরা দিয়েছে নিখাদ আর্জেন্টাইন ভালোবাসা। শেষটা তিনি করেছেন ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানিয়ে আর দেশের ফুটবলকে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়ে।চিঠির পাশাপাশি একটি হৃদয়ছোঁয়া ভিডিও শেয়ার করেছেন মেসি। সেখানে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে নিজের প্রথম পা রাখা থেকে শুরু করে বড় সব টুর্নামেন্ট, ট্র্যাজিক মুহূর্তগুলো এবং ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ জয়ের ছবিগুলো ভেসে উঠেছে। চিঠির পাতার লেখাগুলোর সঙ্গে ভিডিওটি যেন মেসির সেই কথাগুলোর জীবন্ত প্রমাণ হিসেবে কাজ করেছে।ফুটবলপ্রেমীরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন সেই পুরোনো কথা, কীভাবে একদিন বার্সেলোনার সঙ্গে একটি সাধারণ ন্যাপকিন পেপারে চুক্তি করেছিলেন মেসি। সেই ন্যাপকিন পেপার যেমন ফুটবলের ইতিহাসের অংশ হয়ে গিয়েছিল, ঠিক তেমনি মেসির এই তিনটি সাধারণ পাতা আর বিশেষ হ্যারি পটার কলমটিও ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে।
১ সপ্তাহ আগে
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন আর্জেন্টাইন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে মেসি নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।অবসরের ঘোষণা দিয়ে আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই তারকা ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘ফাইনালের পর কিছুটা সময় পার হয়েছে, অনেক ভাবনা-চিন্তার পর আমি সবাইকে জানাতে চাই যে, আমি জাতীয় দল থেকে অবসর নিচ্ছি।’তিনি আরও লেখেন, ‘সিদ্ধান্তটি নিতে আমার আত্মা কেঁদেছিল এবং এখনও কাঁদছে, তবে আমি বুঝি যে এটাই সঠিক সময়। আমি আপনাদের শপথ করে বলছি, আমি সর্বদাই নিজের সেরাটা দিয়েছি। শুধু শেষ কয়েক বছরই নয় যখন আমরা সবকিছু জিতলাম, তার আগেও। সর্বদা আমি এই জার্সির জন্য লড়াই করেছি এবং সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছি, যাতে ফুটবলের মাধ্যমে আপনাদের আনন্দ দিতে পারি এবং একজন আর্জেন্টাইন হিসেবে গর্বিত করতে পারি।’‘সময় খুব কম বাকি আর প্রতিটি অধ্যায় ধীরে ধীরে শেষ হচ্ছে; এটি তেমনই একটি অধ্যায় যা আমাকে ভীষণ কষ্ট দিচ্ছে। আমি ভালোবাসতাম, ভালোবাসি এবং সারাজীবন জাতীয় দলে থাকাকে ভালোবাসব। আমি নিজেকে শূন্য করে দিয়েছি, আমার আর দেওয়ার মতো কিছুই নেই। তাছাড়া পেছনে অনেক তরুণ ও প্রতিভাবান খেলোয়াড় আসছে, যাদের এখানে থাকার যোগ্যতা রয়েছে।’ক্যারিয়ারের দীর্ঘ এই সময়ে ভক্তদের কাছ নিঃস্বার্থ ভালোবাসা পেয়েছেন লিওনেল মেসি। ভক্তদের উদ্দেশ্যে মেসি লেখেন, ‘বিগত ২০ বছরের এই সমস্ত ভালোবাসার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। ভেতর থেকে (মাঠ থেকে) আপনাদের সমবেত কণ্ঠ শোনা আমি খুব মিস করব। এখন থেকে আমি হব আপনাদেরই একজন। এখন বাহির থেকে সবসময় সমর্থন ও উৎসাহ জুগিয়ে যাব।’ফুটবল ক্যারিয়ারে অনেক উত্থান-পতন ছিল বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা ফুটবলারের। এই সময়ে পরিবারের মানুষদের সর্বদা পাশে পেয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে পাশে ছিলেন কোচ এবং সতীর্থরাও। ‘সব সময় পাশে থাকার জন্য এবং এই এত সুন্দর কিন্তু কঠিন সফরে আমার সঙ্গী হওয়ার জন্য আমার পরিবারকে ধন্যবাদ। আমি যাদের সাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। সেই প্রতিটি কোচ, সতীর্থ এবং কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ। চমৎকার সব স্মৃতি ও অবিস্মরণীয় মুহূর্তগুলো আমি সাথে নিয়ে যাচ্ছি।’‘আমি এই শান্তি ও গর্ব নিয়ে যাচ্ছি যে, আমার সতীর্থদের সাথে মিলে আপনাদের স্বপ্নের সব মুহূর্ত উপহার দিতে পেরেছি। আপনাদের সাথে এই জীবনটা কাটানো সত্যিই এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা ছিল। আপনাদের আমি ভালোবাসি!’‘আমাকে আর্জেন্টাইন হিসেবে সৃষ্টি করার জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। আর্জেন্টিনা এগিয়ে চলো।’
১ সপ্তাহ আগে