নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ জুন ২০২৬ রাত ০৬:০৫:০১
‘মাইক্রোওভেন উনার কাছে কে চেয়েছে’, পার্থকে উদ্দেশ করে বিরোধী দলীয় নেতা
বিজেপির চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ জামায়াতের এক সংসদ সদস্যকে ব্যক্তিগতভাবে মাইক্রোওভেন দিতে চাওয়ার যে মন্তব্য করেছেন, তার প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা মো. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘মাইক্রোওভেন উনার কাছে কে চেয়েছে?’
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ত্রয়োদশ ‘জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের দশম দিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তার এ নিয়ে বিতর্কে জড়ান। এ বিষয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, ‘আর বাড়াবাড়ি তো কোনও দরকার নাই।’
পার্থের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে সংসদে মো. শফিকুর রহমান বলেন, ‘মাননীয় সদস্য (পার্থ) পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে যে কথাগুলো বলেছেন, আপনি (স্পিকার) তো প্রথমেই নাকচ করেছেন যে, এটা পয়েন্ট অব অর্ডারের বিষয় না। দুই নম্বর, একজন সদস্য (জামায়াত নেতা মজিবুর রহমান) সবার জন্য একটা বিষয় (মাইক্রোওভেন) চেয়েছে। আপনি (স্পিকার) রাইটলি বলেছেন, হাউজে না বলে এটার জন্য কমিটি আছে, ওখানে বললেই হতো। কিন্তু তিনি (পার্থ) এটাকে সূত্র ধরে আবার গাড়ি-বাড়ি সব নিয়ে আসলেন। উনি তো আমি মনে করি একজন বিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান। আবার নিজের থেকে অফারও দিয়ে দিলেন যে আমি সব দিয়ে দেব। উনার কাছে চাইছে নাকি কেউ, যে উনি দেবেন? আমার মনে হয়, আমাদের মানসিকতাগুলো এমন হওয়া উচিত, যেটা এখানে দাঁড়িয়ে অন্তত কেউ কারও সম্মানে আমরা আঘাত করব না।’
বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘আমরা আশা করব যে আমিসহ আমরা সবাই আগামীতে এগুলোর প্রতি আরও যত্নশীল হব। ধন্যবাদ মাননীয় স্পিকার।’
এর আগে বিরোধী দলীয় নেতার উদ্দেশে স্পিকার বলেন, ‘মাননীয় বিরোধী দলের নেতা, এটা নিয়ে কোনও বিতর্ক হোক, এটা আমি চাই না। আপনি অন্য কোনও বিষয়ে বললে বলেন। এটা সম্পর্কে আর শুনতে চাই না।’
এসময় তিনি আন্দালিব রহমান পার্থকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘যেভাবে আপনি একজন সদস্যকে অফার করেছেন, তাকে দেবেন—এটাও তার জন্য একটি ডিসরেসপেক্টফুল মনে হতে পারে। উনি নিজের জন্য চান নাই। সব সংসদ সদস্য, যারা সংসদের সরকারি বাড়িতে বসবাস করেন, তাদের জন্য বলেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটা নিয়ে আর বিতর্ক না হোক, এটা আমি চাই। মাননীয় নেতা, এর পরে আর বাড়াবাড়ি তো কোনও দরকার নাই। বিরোধী দলের নেতা, আপনি এই সম্পর্কেই বলবেন তো?’
আন্দালিব রহমান পার্থের বক্তব্যের পর এবং বিরোধী দলীয় নেতার বক্তব্য দেওয়ার আগে স্পিকার এ বিষয়ে রুলিং দেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘একজন সদস্য তার সুবিধা-অসুবিধার কথা বলেছেন। আমি মনে করি, এটা সংসদে না বললেও ভালো হতো। কিন্তু এটা বলে তিনি এমন কোনও গর্হিত অপরাধও করেন নাই। আমাদের হাউস কমিটি আছে। সেখানে আমরা সংসদ সদস্যদের আসবাবপত্র ইত্যাদি দিয়ে থাকি। সেই হিসাবে তিনি যদি সব সদস্য—তিনি তার নিজের জন্য চান নাই; যারা সংসদের দেওয়া ভবনে বসবাস করেন, তাদের সবার জন্যই বলেছেন। সুতরাং এটা এমন কোনও গর্হিত অপরাধ হয়নি। তবে আমি মনে করি, না বললেই ভালো হতো। এতে জনমনে অন্য ধরনের ধারণা হতে পারে। তবে এটি তো তাদের প্রাপ্য হতে পারে। এটা এমন কিছু বড় জিনিস না। এই সামান্য জিনিস নিয়ে আর তর্ক-বিতর্ক করতে চাই না। কারণ এটি নিয়ে বিতর্ক করলে বাইরে খারাপ বার্তা যাবে। ভবিষ্যতে বক্তব্য দেওয়ার সময় আমরা সবাই সতর্ক থাকব। যেসব বিষয় ব্যক্তিগতভাবে বলার, হাউস কমিটির চেয়ারম্যান আছেন, সদস্যরা তাকে জানালে তারাই এর সমাধান করতে পারবেন।’