কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাশিনগর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুরে দুই শতাধিক অসহায় ও দরিদ্র রোগীর জন্য বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে। রামচন্দ্রপুর সাফিয়া আনা মিয়া স্মৃতি ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এবং স্পৃহা বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন প্রকল্পের আওতায় ভার্ড কামাল চক্ষু হাসপাতালের সহযোগিতায় এ সেবা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।মঙ্গলবার (৯ জুন) স্থানীয় আল-মদিনা নূরানী হাফেজিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ ক্যাম্পে ১৭০ জন রোগীকে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা প্রদান করা হয়। এছাড়া ৩৫ জনের চশমার পাওয়ার পরীক্ষা এবং ২৩ জন ছানি রোগীকে অপারেশনের জন্য বাছাই করা হয়।অনুষ্ঠানে রামচন্দ্রপুর সাফিয়া আনা মিয়া স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সভাপতি মাস্টার মো. আবদুল ওয়াদুদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাস্টার মো. আবদুল কাদেরের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভার্ড কামাল চক্ষু হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মুহিব আসিফ, আবদুল জলিল মেম্বার, রামচন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌরী রানী পাল, মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি একেএম শহিদুল আলম, মুহতামিম হাফেজ ফরিদ উদ্দিন, সমাজসেবক আবদুল হাকিম, ইতালি প্রবাসী মোহন মিয়া, শিক্ষক শহীদুল ইসলাম, ফাউন্ডেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহজালাল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান মাসুদ, ফ্রান্স প্রবাসী নাঈমুল হাসান মামুন, ভার্ড কামাল চক্ষু হাসপাতালের সিনিয়র প্রোগ্রাম অর্গানাইজার মো. লালন উদ্দিন, প্রোগ্রাম অর্গানাইজার বকুল নমঃ, রিসেপশনিস্ট আওয়াল আলী ও ডাক্তার সহকারী রবিউল করিমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতা করেন রামচন্দ্রপুর গ্রামের তরুণ সমাজের সদস্যরা।ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মাস্টার মো. আবদুল কাদের বলেন, “সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও প্রবাসীদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে।”ফাউন্ডেশনের সভাপতি মাস্টার মো. আবদুল ওয়াদুদ বলেন, “বিনামূল্যের এই চক্ষু চিকিৎসা কার্যক্রম সফল করতে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত অনেক মানবিক ব্যক্তি আর্থিক সহযোগিতা করেছেন। ফাউন্ডেশন ও গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শুভকামনা জানাচ্ছি।”উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল প্রতিষ্ঠার পর থেকে রামচন্দ্রপুর সাফিয়া আনা মিয়া স্মৃতি ফাউন্ডেশন বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, ওষুধ বিতরণ এবং ঈদ উপলক্ষে অসহায় পরিবারের মধ্যে প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণসহ বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
৭ ঘন্টা আগে
নাটোরের লালপুর উপজেলায় ক্লোন অ্যাপস ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে একটি চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৯৯ পিস ইয়াবা ও প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত চারটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।লালপুর থানা পুলিশের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে সোমবার (৮ জুন) বিকেলে উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া ভাঙ্গাপাড়া এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মো. অহিদ মোল্লার বাড়ির একটি সেমিপাকা টিনশেড ঘর থেকে তিনজনকে আটক করা হয়।গ্রেফতাররা হলেন— মোহাম্মদ সোহেল রানা ওরফে রানা সরদার (২৪), মো. মোতাকাব্বির (২০) এবং মো. টুটুল প্রামানিক (৫০)। তাদের সবার বাড়ি মোহরকয়া ভাঙ্গাপাড়া এলাকায়।পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতরা বিভিন্ন ক্লোন অ্যাপস ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক করতেন। পরে সেই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে দেশ ও বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তিদের সঙ্গে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাৎ করতেন। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে ৯৯ পিস ইয়াবা এবং প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত চারটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।এ ঘটনায় গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন এবং সাইবার সংশ্লিষ্ট আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।লালপুর থানা পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (৯ জুন) গ্রেফতার তিন আসামিকে আদালতের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। প্রতারণা চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।
৭ ঘন্টা আগে
দেখতে সাধারণ একটি নির্বাচনী ব্যানার। তবে একটু ভালো করে তাকালেই বিস্মিত হচ্ছেন অনেকেই। ব্যানারের এক পাশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি, অন্য পাশে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবি এবং আরেক পাশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি স্থান পেয়েছে। মাঝখানে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নিজের প্রচারণা চালিয়েছেন রনি মাঝি নামের এক যুবক।ব্যানারটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। কেউ বিস্ময় প্রকাশ করছেন, আবার কেউ হাস্যরসাত্মক মন্তব্য করে বিষয়টিকে ট্রলের উপকরণ বানিয়েছেন।জানা গেছে, রনি মাঝি শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার ঘড়িষার ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে ঘড়িষার বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন। সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে নিজের প্রচারণার অংশ হিসেবে ব্যানার ও ফেস্টুন তৈরি করেন তিনি। তবে ভিন্ন রাজনৈতিক ধারার নেতাদের ছবি একই ব্যানারে ব্যবহার করায় বিষয়টি দ্রুত মানুষের নজরে আসে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই ব্যানারটির ছবি শেয়ার করে বিভিন্ন মন্তব্য করছেন। একজন লিখেছেন, “যখন দুই ভিন্ন রাজনৈতিক ধারার নেতাদের ছবি একসঙ্গে দেওয়া হয়েছে, তখন সব দলের নেতাদের ছবিই দেওয়া যেত।” আবার কেউ ব্যানারটিকে ‘সর্বদলীয় নির্বাচনী প্রচারণা’ বলেও অভিহিত করেছেন।রাজনৈতিক সচেতন মহলের কেউ কেউ বিষয়টিকে ব্যতিক্রমী প্রচারণা কৌশল হিসেবে দেখলেও অধিকাংশ নেটিজেন এটিকে হাস্যরসের চোখে দেখছেন। তাদের মতে, আলোচনায় আসার উদ্দেশ্যেই এমন ব্যতিক্রমী ব্যানার ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে।এদিকে ব্যানারটি নিয়ে আলোচনা যত বাড়ছে, ততই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাড়ছে মন্তব্য, ট্রল ও নানা প্রতিক্রিয়া। ফলে স্থানীয় পর্যায়ের একটি নির্বাচনী প্রচারণা এখন নেট দুনিয়ার আলোচিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
৭ ঘন্টা আগে
মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার গালা ইউনিয়নের মধ্যধুসুরিয়া গ্রামে মানসিক ভারসাম্যহীন এক মেয়ের হাতে তার বৃদ্ধ মা নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।নিহত রিজিয়া বেগম (৯৮) মধ্যধুসুরিয়া গ্রামের মৃত সোবহানের স্ত্রী। অভিযুক্ত রোকেয়া বেগম (৬০) নিহতের মেয়ে এবং মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার হাটিপাড়া এলাকার মৃত মালেকের স্ত্রী।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে ঘরের ভেতরে থাকা একটি বটি দিয়ে রোকেয়া বেগম তার মা রিজিয়া বেগমকে কুপিয়ে হত্যা করেন। ঘটনার পর তিনি তার বড় ভাই মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে রাসেলকে ডেকে জানান যে তার দাদি মারা গেছেন। খবর পেয়ে স্বজন ও প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে খাটের ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় রিজিয়া বেগমের মরদেহ দেখতে পান।স্থানীয়রা জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই রোকেয়া বেগম মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন এবং বিভিন্ন সময় অস্বাভাবিক আচরণ করতেন।নিহতের নাতি রাসেল বলেন, “আমার ফুপু দাদিকে কুপিয়ে হত্যা করে আমাদের ডেকে বলেন, ‘তোর দাদি মারা গেছে। আমি মাইরা ফালাইছি, এখন পুলিশ ডাইকা আন।’”খবর পেয়ে হরিরামপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আফজাল হোসেন বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত রোকেয়া বেগমকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”
৭ ঘন্টা আগে