ক্যাটাগরি

সামাজিক মাধ্যম

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির গুঞ্জন: শেখ হাসিনা সত্য বলেছিলো?

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির গুঞ্জন: শেখ হাসিনা সত্য বলেছিলো?


২০২৪ সালে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, বাংলাদেশের সেন্টমার্টিন দ্বীপ কারো কাছে ইজারা দিলে তার ক্ষমতায় থাকা সমস্যা হবে না। তবে দেশের সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিয়ে তিনি ক্ষমতায় যেতে চান না। অবশ্য সে সময় শেখ হাসিনার এই বক্তব্য ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেয় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। তবে ৫ আগস্ট গণঅভ্যূত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এক বার্তায় শেখ হাসিনা আবারো একই দাবি করেন। বলেন, সেন্টমার্টিনের সার্বভৌমত্ব হস্তান্তর না করায় যুক্তরাষ্ট্র তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়েছেন।সম্প্রতি ভারতের একটি ইংরেজি দৈনিক মেরিন ইনসাইট-এ US Plans To Deploy Warships In Bangladesh, Closer To India & China ``ভারত ও চীনের কাছাকাছি বাংলাদেশে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র “ এই শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি সামনে আনেন সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল। তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ কথা’তে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বিষয়ে দুটি চুক্তির প্রস্তুতির বিষয়ে তুলে ধরেন। বলেন, এই চুক্তি দুটির নাম যতটুকু আমরা জেনেছি সেটি হলো, সামরিক তথ্যের সাধারণ নিরাপত্তা চুক্তি যেটিকে সংক্ষেপে ইংরেজিতে বলা হচ্ছে GSOMIA- General Security of Military Information Agreement । আরেকটি হলো অধিগ্রহণ এবং পারস্পরিক সেবা চুক্তি যেটি ACSA- The Acquisition and Cross-Servicing Agreement । এই দুটি চুক্তি স্বাক্ষরের একদম শেষ পর্যায়ে আছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। মাসুদ কামালের প্রশ্ন, এই চুক্তিটি হলে কী প্রতিক্রিয়া হতে পারে? কী ঝামেলায় বাংলাদেশ পড়তে পারে? সে সম্পর্কে একটি ইঙ্গিত কিন্তু মেরিন ইনসাইটের নিউজের মধ্যে দেওয়া আছে। চীন এবং ভারত এটিকে সহজভাবে নাও নিতে পারে। এখন প্রশ্ন হলো চুক্তিতে কি আছে? তিনি বলেন, আমরা চুক্তির বিষয়টি যদি বোঝার চেষ্টা করি, এই চুক্তিতে যে কথাটা বেসিক্যালি, অনেক কথার ফাঁক দিয়ে যা বলা হয়েছে, মার্কিন যুদ্ধ জাহাজ এবং সামরিক বিমানগুলো বাংলাদেশের বন্দর এবং বিমানঘাঁটিগুলো জ্বালানি সংগ্রহ রক্ষণাবেক্ষণ এবং লজিস্টিক সহায়তার জন্য ব্যবহার করতে পারবে। আমাদের নৌবন্দর, আমাদের বিমানবন্দর যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারবে।অন্তর্বর্তী সরকারের করা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে সাংবাদিক ও রাজনৈতিক এই বিশ্লেষক বলেন, এই চুক্তি নিয়ে যখন সকল মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে, তখন সরকার ও বিরোধী দলের পক্ষ থেকে কোন উচ্চবাচ্য দেখা যাচ্ছেনা। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ছাড়া এ বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে কোন আলোচনা করেনি সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। সবাই চুপ, তারা যেন কেমন একটা ভয় পাচ্ছে। তারা মনে করছে এটা নিয়ে প্রতিবাদ করার কিছু নেই। এরপর নতুন এ দুটি প্রতিরক্ষা চুক্তি (GSOMIA–ACSA) যদি সই করা হয়, তাহলে কি শেখ হাসিনা সত্যি হলেন, এমন প্রশ্ন তুলেছেন? অর্থাৎ ২০২৪ এর নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্য কি সত্য হলো?এদিকে চ্যানেল এস টেলিভিশনের সংলাপ অনুষ্ঠানে মাসুদ কামালের এমন বক্তব্যের সাথে সহমত পোষন করেন সিনিয়র সাংবাদিক মনজুরুল আলম পান্না। বলেন, শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্র কেন্দ্রিক যা যা বলেছিলেন তা অক্ষরে অক্ষরে সত্যি হচ্ছে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ২৪ এর নির্বাচনের আগে দুই তিনবার বলেছিলেন, চট্টগ্রামে একটি অংশে খ্রীষ্টান রাজ্য গড়তে চায় একটি রাষ্ট্র। সেন্টমার্টিন দ্বীপে ঘাঁটি গাড়তে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া জিসোমিয়া ও আকসা চুক্তি নিয়ে যা যা বলেছিলেন তা আজ সত্যি হতে চলেছে। কিন্তু সে সময় আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, এমপি ও শীর্ষ নেতাদের দুর্নীতি, নির্বাচন ব্যবস্থার অবনতির কারণে শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা ছিলো তলানিতে। তাই শেখ হাসিনার এই বক্তব্যকে নিয়ে জনগণ হাসাহাসি করেছে। তার বক্তব্যকে অবিশ্বাস্য মনে হতো। কিন্তু শেখ হাসিনার সে সময়কার বক্তব্য যে, বাস্তবসম্মত তা এখন প্রমানিত হচ্ছে।যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত জিসোমিয়া ও আকসা চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোন চূড়ান্ত মন্তব্য কিংবা সুস্পষ্ট আনুষ্ঠানিক কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। যদিও এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউনুস সরকারের করা বাণিজ্য চুক্তিটি যাচাই বাছাই করার কথা বলেছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির। পরবর্তীতে তিনিই বলেন রাষ্ট্রের সম্পাদিত চুক্তি ইচ্ছামতো বাতিল করা যায় না। এ চুক্তি নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য চুক্তিকে পারস্পরিক স্বার্থে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা সমালোচনার মধ্যেই আবার সরকার যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৪টি বোয়িং কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। বোয়িং কেনার বিষয়ে ১ মে মার্কিন কোম্পানী বোয়িং এর সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। ১৪টি বোয়িং বিমান কিনতে খরচ পড়বে ৪৫ হাজার কোটি টাকা। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির এক নম্বরে ছিলো এসব বোয়িং কেনার শর্ত। আর সেটাই সরকার পূরণ করে প্রমান করেছে এ বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সরকারের বক্তব্য পরিষ্কার। জিসোমিয়া ও আকসা চুক্তি নিয়ে বর্তমান সরকার কতটা অগ্রসর হয়েছে তা জানা যায়নি। তবে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এ দুটি চুক্তি নিয়ে বেশ আলোচনা হয়েছিলো। ২৪ এর নির্বাচনের আগে চুক্তি দুটি সই করার ব্যাপারে সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রস্তাবও দেয়া হয়েছিলো বলে তখন জানিয়েছিলেন তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন। যদিও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই চুক্তিকে বিলাসিতা উল্লেখ করে নির্বাচনের আগে চুক্তি করার ইচ্ছা তার সরকারের নেই বলে জানান তিনি। এখন বর্তমান বিএনপি সরকার সেই দুটি চুক্তি সম্পন্ন করবে কিনা তা হয়তো সময় বলে দেবে। আর যদি করতেই হয়, চুক্তিগুলো স্বাক্ষর করার আগে দেশীয় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

২ সপ্তাহ আগে

মাথা উঁচু করে ফিরতে চান শেখ হাসিনা, মেনে নেবে জনগণ?

মাথা উঁচু করে ফিরতে চান শেখ হাসিনা, মেনে নেবে জনগণ?


পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বৈধ মন্ত্রী। একদিন বীরের বেশে শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরন করবেন। জনগণ তাকে স্যালুট দিয়ে বরণ করে নেবে। তার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের তৎকালীন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ জানিয়েছিলেন, শুভেন্দু অধিকারীর যদি সত্যিই সাহস থাকে, তাহলে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের বিমানবন্দরে পাঠিয়ে দিতে পারেন। অবশ্য বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে শুভেন্দুর এই বক্তব্যকে অযাচিত বলে আখ্যা দেন। এবার শেখ হাসিনা নিজেই বললেন, মাথা উঁচু করে বাংলাদেশ ফিরবেন তিনি। ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকাকে দেয়া সাক্ষাতকারে দেশে ফিরে আসার ইঙ্গিত, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেন। দাবি করেন, অতীতে একাধিকবার তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে, আওয়ামী লীগকে বারবার ধ্বংস করে দেয়ার চেষ্টা হয়েছে কিন্তু শেষ করা যায়নি। ৫ আগস্ট রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে তাকে দেশ ত্যাগ করতে হয়েছে। তবে দ্রুতই দেশে ফিরে গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠায় কাজ করবেন বলে আশা তার। শেখ হাসিনার দেড় দশকের শাসনামলে, ক্ষমতার অপব্যবহার, দমন-পীড়ন এবং মানুষের বাকস্বাধীনতা ও ভোটের অধিকার হরণের জন্য পাহাড় সম ক্ষোভ জন্ম হয় জনগণের মাঝে। বিন্দু বিন্দু সেই ক্ষোভ জমে একসময় গন বিস্ফোরণে রূপ নেয়। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নিতে হয়। রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতাকে আঁকড়ে ধরতে যে পথে হাঁটছিলেন, তার ফল পেয়েছেন শেখ হাসিনা, অনেকটা বাংলা প্রবাদ লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু হওয়ার মতো ঘটনা। তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে চড়া উত্তাপ ও পটপরিবর্তন নতুন কোন ঘটনা নয়। গণ অভ্যুত্থানের দুই বছরের মধ্যে আবারো সগৌরবে দেশে ফিরতে চান শেখ হাসিনা। যদিও তার বিরুদ্ধে গণ অভূত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অসংখ্য মামলা রয়েছে। কয়েকটি মামলায় মৃত্যুদন্ডের রায়ও হয়েছে। এ অবস্থায় মাথা উঁচু করে তার ফেরাটা কতটা সহজ হবে? সেই পরিবেশও কি বাংলাদেশে তৈরি হয়েছে? বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দীন আহমদ বলেছেন, আইনী প্রক্রিয়ায় শেখ হাসিনাকে ফেরানোর চেষ্টা চলছে। তাই যদি হয়, শেখ হাসিনার মাথা উঁচু করে ফেরার আকাঙ্ক্ষা কতটা বাস্তবসম্মত?একটি দেশের জনগণ যখন রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থা বিদায় করেন, তখন তাদের মনস্তত্ত্বে এক ধরনের 'প্রত্যাবর্তন-প্রতিরোধ' দেওয়াল তৈরি হয়। জুলাই আন্দোলনে যে সহিংসতা, প্রাণহানির ঘটনা ঘটে তা দেশের মানুষের স্মৃতিতে এখনো দগদগে ক্ষত হিসেবে রয়ে গেছে। তাই শেখ হাসিনার "মাথা উঁচু করে" ফেরার কথা তো দূরে থাক, বিচারের মুখোমুখি না হয়ে তাঁর স্বাভাবিক প্রত্যাবর্তনও বর্তমান সময়টাতে এক প্রকার অসম্ভব বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ।আওয়ামী লীগের সমর্থক, নেতা কর্মীরা শেখ হাসিনার ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছে, কিন্তু নিরপেক্ষ ও সাধারণ জনগণের বড় একটি অংশের মনোভাব সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের মতে, রাজনীতিতে অপরাধের শাস্তি না হলে জবাবদিহিতা তৈরি হয় না। তবে সুশীল সমাজের অনেকে মনে করেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আবারো ফিরবে। দলের হাইকমান্ড থেকেও বারবার সেই আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। তাদের দাবি, আওয়ামী লীগ দেশের গণমানুষের দল। একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তাদের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হলেও, হাজার হাজার নেতাকর্মী দেশে এখনও সক্রিয় রয়েছেন। দেশের ও জনগণের স্বার্থে দলটির আবার সংগঠিত হয়ে ফিরে আসা কেবল সময়ের ব্যাপার। সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের ‘ফিরে আসা’ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়। তাঁর মতে, দেশে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা ও বিতর্কিত পদক্ষেপের সুযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগের আদর্শিক জায়গাটি আবার রাজনীতিতে দৃশ্যমান হচ্ছে। অন্যদিকে, আরেক সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের দাবি, রাজনৈতিকভাবে নয়, বরং মানুষের মধ্যে তাদের স্বৈরাচারী মনোভাব ও বিভ্রান্তির চর্চাই নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে আওয়ামী লীগ। বিশ্লেষকদের কারো কারো মতে, শেখ হাসিনা যদি ভবিষ্যতে দেশে ফেরেনও, তবে তা "মাথা উঁচু করে" বীরের বেশে হওয়ার সুযোগ বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় ক্ষীণ। বরং আইনি প্রক্রিয়া এবং আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর সম্ভাবনাই বেশি। তাদের মতে, শেখ হাসিনার ফেরার ইচ্ছা থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু দেশের আমজনতা তাঁকে "ক্ষমা" বা "স্বাগত" জানানোর মুডে আছে কিনা সেই প্রশ্নটা সামনে আছে। গণ-আকাঙ্ক্ষাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মাথা উঁচু করে ফেরার চেষ্টা উল্টো আরও বড় গণ-বিক্ষোভের জন্ম দিতে পারে, এমন শঙ্কাও রয়েছে।

২ সপ্তাহ আগে

ভঙ্গুর সময়ের পুলিশ পুনর্গঠনে মানবিক নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত গোলাম রসুল

ভঙ্গুর সময়ের পুলিশ পুনর্গঠনে মানবিক নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত গোলাম রসুল


৫ আগস্ট পরবর্তী সময়টি ছিল বাংলাদেশ পুলিশের জন্য সবচেয়ে সংকটময় অধ্যায়গুলোর একটি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, জনআস্থার ঘাটতি এবং দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতায় তখন পুলিশ বাহিনীর মনোবল ও ভাবমূর্তি ছিল ভঙ্গুর। ঠিক সেই প্রেক্ষাপটে পুলিশের অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠন, হারানো মনোবল উদ্ধারে এবং জনমুখী ইমেজ ফিরিয়ে আনতে নীরবে কিন্তু কার্যকর ভূমিকা রাখেন স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রধান মো. গোলাম রসুল।সংশ্লিষ্টদের মতে, ৫ আগস্টের পরপরই পুলিশের যে আস্থাহীনতা ও মনস্তাত্ত্বিক বিপর্যয় তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে প্রশাসনিক দৃঢ়তা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয় জরুরি ছিল। গোলাম রসুল সেই শূন্যস্থান পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে গোয়েন্দা কাঠামো -সবখানেই পেশাদারিত্ব, সংযম ও দায়িত্বশীলতার বার্তা পৌঁছে দেওয়াকে তিনি অগ্রাধিকার দেন।পুলিশ সংস্কারে নীতিনির্ধারণী ভূমিকা৫ আগস্ট–পরবর্তী পুলিশ সংস্কার কমিশনের কাজেও গোলাম রসুলের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। কমিশনে পুলিশের কাঠামো, জবাবদিহি, জনসম্পৃক্ততা এবং গোয়েন্দা কার্যক্রমের নৈতিক সীমা নিয়ে যে আলোচনা হয়েছে, তাতে তার অভিজ্ঞতা ও প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়।বিশেষ করে পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে পেশাদার ও নাগরিকবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের প্রশ্নে তার মতামত ও প্রস্তাব সংস্কার কমিশনের কাজকে সমৃদ্ধ করেছে। কমিশনের আলোচনায় ‘আইনের প্রয়োগকারী বাহিনী’ হিসেবে পুলিশের পাশাপাশি ‘সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে পুলিশের ভূমিকা নতুন করে গুরুত্ব পায়।মানবিক পুলিশের দর্শনদীর্ঘদিন ধরেই মানুষের প্রত্যাশা -একটি মানবিক পুলিশ বাহিনী। সহকর্মী ও সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, গোলাম রসুল তার পুরো চাকরি জীবনেই সেই ধারণাকে ধারণ করে দায়িত্ব পালন করেছেন। কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানবিক আচরণ, পরিস্থিতি বিবেচনায় সংযম এবং নাগরিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা -এই তিনটি বিষয় তার পেশাগত দর্শনের অংশ।৫ আগস্টের পর থেকে আজ পর্যন্ত পুলিশকে আরও মানবিক ও জনবান্ধব করতে তার ভূমিকা অব্যাহত রয়েছে। সংকটকালে তিনি প্রতিশোধপরায়ণতা বা কঠোরতার পথে না গিয়ে দায়িত্বশীলতা ও পেশাদার আচরণকে সামনে রেখেছেন -যা পুলিশের ইমেজ পুনরুদ্ধারে সহায়ক হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।বঞ্চনা পেছনে ফেলে রাষ্ট্রসেবায় নিবেদনকর্মজীবনে সময়মতো পদোন্নতি না পাওয়া এবং দীর্ঘদিন প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক দায়িত্বে সীমাবদ্ধ থাকার অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও তিনি তা কখনোই দায়িত্ব পালনের অন্তরায় হতে দেননি। বরং ব্যক্তিগত বঞ্চনা ভুলে গিয়ে তিনি রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।সহকর্মীদের ভাষ্য, এই মানসিক দৃঢ়তা ও পেশাগত নিষ্ঠাই তাকে সংকটকালে আলাদা করে চিহ্নিত করেছে। পুলিশ বাহিনী পুনর্গঠন, মনোবল ফেরানো এবং একটি মানবিক, পেশাদার ও নিবেদিত পুলিশ বাহিনী গঠনে তার ভূমিকা তাই শুধু প্রশাসনিক নয় -নৈতিক নেতৃত্বের উদাহরণ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।সংকটকালের নেতৃত্ববর্তমান বাংলাদেশে পুলিশের মতো সংবেদনশীল বাহিনীতে অভিজ্ঞ, স্থিরচিত্ত ও মানবিক নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা নতুন করে সামনে এসেছে। সেই বাস্তবতায় গোলাম রসুলকে অনেকেই দেখছেন সংকটকালের একজন নীরব কিন্তু কার্যকর নেতা হিসেবে- যিনি উচ্চকণ্ঠ না হয়ে কাজের মাধ্যমেই আস্থা ফেরানোর চেষ্টা করছেন।রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, জনআস্থা এবং মানবিক পুলিশ প্রতিষ্ঠার ধারাবাহিকতায় তার এই ভূমিকা ভবিষ্যতে বাংলাদেশ পুলিশের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

৪ মাস আগে

শিরোনাম
চৌদ্দগ্রামে দুই শতাধিক অসহায় মানুষের ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা নাটোরে ক্লোন অ্যাপস ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগে ৩ জন গ্রেফতার এক ব্যানারে শেখ মুজিব, জিয়াউর রহমান ও তারেক রহমানের ছবি; নেট দুনিয়ায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় মানিকগঞ্জে মেয়ের হাতে বৃদ্ধ মা খুন, আটক ১ উচ্ছেদে ভাঙল ৬১ দোকান, বাড়ল ব্যবসায়ীদের দুশ্চিন্তা হার্টের রিংয়ের নতুন দাম বাস্তবায়নে হাসপাতালগুলোকে ঔষধ প্রশাসনের চিঠি ‘ইসলামী ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশের অর্থনীতি মাটির সঙ্গে মিশে যাবে’ ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুল ইসলামও ইসলাম নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অস্ট্রেলিয়াকে গুঁড়িয়ে ২১ বছরের অপেক্ষা ঘোচাল বাংলাদেশ বিশ্বশান্তিতে শান্তিরক্ষীদের অবদান অনন্য: প্রধানমন্ত্রী আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা ও দাফনের সময় জানাল ইরান স্থানীয় নির্বাচনে আ. লীগের অংশগ্রহণের বিষয়ে যা বললেন আসিফ মাহমুদ ৫০০ কোটি টাকার ফান্ড, তরুণ উদ্যোক্তাদের সুখবর দিলেন অর্থমন্ত্রী অর্থবছরকে ক্যালেন্ডার ইয়ারের সঙ্গে মেলানোর উদ্যোগ চান জামায়াত আমির হামের উপসর্গে ফের প্রাণহানি, মোট মৃত্যু ৬৩১ চৌদ্দগ্রামে দুই শতাধিক অসহায় মানুষের ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা নাটোরে ক্লোন অ্যাপস ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগে ৩ জন গ্রেফতার এক ব্যানারে শেখ মুজিব, জিয়াউর রহমান ও তারেক রহমানের ছবি; নেট দুনিয়ায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় মানিকগঞ্জে মেয়ের হাতে বৃদ্ধ মা খুন, আটক ১ উচ্ছেদে ভাঙল ৬১ দোকান, বাড়ল ব্যবসায়ীদের দুশ্চিন্তা হার্টের রিংয়ের নতুন দাম বাস্তবায়নে হাসপাতালগুলোকে ঔষধ প্রশাসনের চিঠি ‘ইসলামী ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশের অর্থনীতি মাটির সঙ্গে মিশে যাবে’ ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুল ইসলামও ইসলাম নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অস্ট্রেলিয়াকে গুঁড়িয়ে ২১ বছরের অপেক্ষা ঘোচাল বাংলাদেশ বিশ্বশান্তিতে শান্তিরক্ষীদের অবদান অনন্য: প্রধানমন্ত্রী আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা ও দাফনের সময় জানাল ইরান স্থানীয় নির্বাচনে আ. লীগের অংশগ্রহণের বিষয়ে যা বললেন আসিফ মাহমুদ ৫০০ কোটি টাকার ফান্ড, তরুণ উদ্যোক্তাদের সুখবর দিলেন অর্থমন্ত্রী অর্থবছরকে ক্যালেন্ডার ইয়ারের সঙ্গে মেলানোর উদ্যোগ চান জামায়াত আমির হামের উপসর্গে ফের প্রাণহানি, মোট মৃত্যু ৬৩১