ক্যাটাগরি

সামাজিক মাধ্যম

পদ্মার কান্না ফারাক্কা: প্রয়োজন পানির ন্যায্য হিস্যা

পদ্মার কান্না ফারাক্কা: প্রয়োজন পানির ন্যায্য হিস্যা


পদ্মা-মেঘনা-যমুনা বাংলার মানুষের কৃষি, মৎস্য ও জীবিকার ভিত্তি গড়েছে। কিন্তু সেই ভিত্তিমূলে আঘাত হেনেছে ফারাক্কা বাঁধ দশকের পর দশক। ষাটের দশকের শুরু থেকে পচাত্তর অবধি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় গঙ্গা নদীর উপর নির্মিত এই বাঁধ বাংলাদেশের কোটি মানুষের জীবনে যে ক্ষত তৈরি করেছে তা শুকায়নি আজও। সোভিয়েত ইউনিয়নের সহায়তায় প্রায় এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে ২ হাজার ২৪০ মিটার দীর্ঘ এই বাঁধ নির্মিত হয়। ভারতের ঘোষিত উদ্দেশ্য ছিল-গঙ্গার পানি ভাগীরথী-হুগলি নদীতে প্রবাহিত করে কলকাতা বন্দরের নাব্যতা ফেরানো। তবে এর ফলে একতরফাভাবে গঙ্গা বা পদ্মার পানি প্রত্যাহার করে নেওয়ায় বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী পরিবেশগত বিপর্যয় ও পানিসংকট সৃষ্টি হয়। এটি পদ্মা ও পদ্মাপাড়ের মানুষের কান্না। এই সংকট মোকাবিলায় এবং পদ্মার স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা সময়ের প্রধান দাবি। এটি ভাটির দেশ বাংলাদেশের জন্য এটি অস্তিত্বগত সংকটের কারণ। বাঁধ চালুর আগে থেকেই বাংলাদেশের আপত্তি ছিলো। ১৯৭২-৭৪ সালের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ হয়েছে। তবে ভারত একতরফাভাবে এই বাঁধ চালু করে। এই বাস্তবতায় ১৯৭৬ সালের ১৬ মে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে রাজশাহী থেকে কানসাটের পদ্মাতীর পর্যন্ত ঐতিহাসিক লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ৬৪ কিলোমিটারের সেই পদযাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন লক্ষাধিক মানুষ। সেই সময় ভাসানীর বয়স ছিল নব্বই বছরের বেশি এবং তিনি সদ্য হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছিলেন। তবুও মুষলধারে বৃষ্টি উপেক্ষা করে তিনি লক্ষ মানুষের সামনে এগিয়ে হেঁটেছেন। মিছিলের শেষে কানসাট প্রান্তরে বিশাল জনসভায় তিনি ঘোষণা দিয়েছেন-ভারত যদি ফারাক্কা সমস্যার সমাধান না করে, তাহলে ভারতীয় পণ্য বর্জনের আন্দোলন শুরু হবে।ভাসানী বুঝেছিলেন- দুর্বল রাষ্ট্রের কণ্ঠস্বর কূটনৈতিক টেবিলে ততক্ষণই শোনা যায় যতক্ষণ জনগণ পথে নেমে সেই কণ্ঠে জোর দেয়। লংমার্চ রাষ্ট্রীয় দাবিকে গণদাবিতে রূপান্তরিত করেছিলো। এটি আন্তর্জাতিক মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। এটি ভারতের উপর কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে এবং আধিপত্যবাদী আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের একটি ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। ফারাক্কা বাঁধ চালুর পর বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গঙ্গার প্রবাহ শুকনো মৌসুমে নাটকীয়ভাবে কমে যাওয়ায় গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের ১,২১,৪১০ হেক্টর জমির সেচব্যবস্থা হুমকিতের পড়ে। এতে বরেন্দ্র অঞ্চলের মাঠ শুকিয়ে গেছে, পদ্মার বুকে জেগেছে অগণিত চর। শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে যে পরিমাণ ফসল নষ্ট হয়, তা বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য দীর্ঘমেয়াদি হুমকি। ফারাক্কা-পরবর্তী সময়কালে ভূগর্ভস্থ পানির গতিপথ ধীরে ধীরে দক্ষিণ থেকে উত্তর দিকে পরিবর্তিত হচ্ছে। গঙ্গা নদী বর্তমানে বছরের প্রায় নয় মাস আশপাশের ভূগর্ভস্থ জলস্তর থেকে পানি সংগ্রহ করছে। ফলে গোটা দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নামছে। নদী ও জলাভূমিতে মিনারেল ও নিউট্রিয়েন্ট কমে যাওয়ায় ফাইটোপ্লাকটন উৎপাদন কমেছে প্রায় ৩০%। ফাইটোপ্লাকটন খাদ্যশৃঙ্খলের প্রথম ধাপ হওয়ায় এর ক্ষতি মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর উৎপাদনেও প্রভাব ফেলছে।পদ্মা-ব্রহ্মপুত্রের সংগমস্থল আরিচাঘাটে করা জরিপ অনুযায়ী বর্তমান মৎস্য উৎপাদন ৩৫ বছর আগের তুলনায় মাত্র ২৫%-এ নেমে এসেছে। ১৯৮৩ সালেই লবণাক্ততার রেখা কামারখালির প্রায় ১৩ কিলোমিটার উত্তরে এবং পসুর নদীর মোহনা থেকে ২৪০ কিলোমিটার ভেতরে পৌঁছে গিয়েছিল। সুন্দরবনে মিষ্টি পানির অভাবে লবণাক্ততা ক্রমেই বাড়ছে, যা বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনের অস্তিত্বকে হুমকিতে ফেলছে।দীর্ঘ দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পর ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারত ৩০ বছরমেয়াদি গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের জন্য একটি নির্দিষ্ট পানির হিস্যা নির্ধারিত হয়। তবে চুক্তি বাস্তবায়নে দুর্বলতা ও চুক্তির গ্যারান্টি নিয়ে প্রশ্ন শুরু থেকেই ছিল। এই চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। অথচ নতুন চুক্তি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এখনো কোনো দৃশ্যমান আলোচনা শুরু হয়নি। এই নিষ্ক্রিয়তা অব্যাহত থাকলে ২০২৭ সাল থেকে আবারও একতরফা পানি ব্যবস্থাপনার শিকার হতে পারে বাংলাদেশ। সম্প্রতি সরকারের তৃতীয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প। যার প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা। মূলত ফারাক্কা বাঁধের কারণে শুষ্ক মৌসুমে পানির যে সংকট দেখা দেয়, তা থেকে কিছুটা রেহাই পেতেই প্রকল্পটির অনুমোদন করা হয়েছে। কয়েক দশকের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে পদ্মা ব্যারেজ নামে প্রকল্পটি অবশেষে চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। ব্যারেজ নির্মাণের মাধ্যমে পদ্মা নদীতে প্রায় দুই হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা হবে বলে জানা যায়। সংরক্ষিত পানি দিয়ে পাঁচটি নদীর পানিপ্রবাহ পুনরুজ্জীবিত করা হবে। এর আগে ২০২৫ সালের ২০ জুন বাংলাদেশ জাতিসংঘের Transboundary Watercourses and International Lakes কনভেনশনে যোগ দেয়। এটি বিশ্বের একমাত্র বৈশ্বিক ও আইনিভাবে বাধ্যতামূলক পানি-বিধিমালা। দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশ আগে এই কনভেনশনে ছিল না। আন্তর্জাতিক জলপথ আইনের ভিত্তিতে বাংলাদেশের অবস্থান এখন আইনগতভাবে অনেক শক্তিশালী হয়েছে।আন্তর্জাতিক সম্পর্কের 'Hydro-hegemony' তত্ত্ব অনুযায়ী, শক্তিশালী উজানের রাষ্ট্র প্রায়ই প্রযুক্তিগত, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সুবিধা ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক নদীতে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে। ফারাক্কা বাঁধ এই তত্ত্বের একটি পাঠ্যপুস্তকের উদাহরণ। ভারত উজানের সুবিধাজনক অবস্থান ব্যবহার করে একতরফাভাবে আন্তর্জাতিক নদীর পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করছে।আন্তর্জাতিক নদী আইনের 'equitable and reasonable use' নীতি অনুযায়ী, আন্তসীমান্ত নদীতে প্রতিটি রাষ্ট্রের ন্যায্য ও যুক্তিসংগত ব্যবহারের অধিকার আছে। ভাটির দেশের কৃষি, জনজীবন ও পরিবেশের উপর ক্ষতিকর প্রভাব না ফেলে উজানের দেশ পানি ব্যবহার করতে পারে — এটাই আন্তর্জাতিক আইনের ভাষ্য। ফারাক্কার বাস্তবতা এই নীতির সরাসরি লঙ্ঘন।শুধু ফারাক্কা নয়, তিস্তা, মনু, মহানন্দাসহ ৫৪টি অভিন্ন নদীকে একটি সামগ্রিক নদী অববাহিকা ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে হবে। ইউরোপের দানিউব কমিশন, আফ্রিকার নাইল বেসিন উদ্যোগ বা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মেকং রিভার কমিশন দেখিয়ে দিয়েছে — পানিবণ্টনকে শুধু রাজনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত নিরাপত্তার অংশ হিসেবে দেখলে সমাধান সম্ভব। নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশকে একত্রিত করে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকার বহুপক্ষীয় ব্যবস্থাপনার প্রস্তাব বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক ফোরামে জোরালোভাবে উত্থাপন করা উচিত।১৯৭৬ সালের ১৬ মে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে যে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তা কেবল একটি রাজনৈতিক মিছিল না, ছিল একটি জাতির আত্মসম্মানের ঘোষণা। রাজশাহী থেকে কানসাটের পদ্মাতীর পর্যন্ত লক্ষাধিক মানুষের সেই পদযাত্রা প্রমাণ করেছিল একটি সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্রও তার ন্যায্য অধিকারের প্রশ্নে মাথা নত করতে প্রস্তুত নয়। ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের মধ্য দিয়ে ভারত একতরফাভাবে পদ্মার পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করলে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, মৎস্য ও জীবন-জীবিকা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বরেন্দ্র অঞ্চলের মাঠ শুকিয়ে যায়, পদ্মার বুকে জেগে ওঠে চর, মৎস্যজীবীদের জালে মাছ ওঠা বন্ধ হয়। এই সংকট শুধু পরিবেশগত না এটা সার্বভৌমত্বেরও সংকট। প্রতিবেশী রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক নদীর উপর একতরফা আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশের কোটি মানুষের জীবনকে জিম্মি করে রেখেছে।ভাসানীর লংমার্চ আন্তর্জাতিক দৃষ্টিতে নিয়ে আসার একটি সাহসী প্রয়াস ছিল। কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে দুর্বল রাষ্ট্রের কণ্ঠস্বর ততক্ষণই শোনা যায়, যতক্ষণ জনগণ পথে নেমে সেই কণ্ঠে জোর দেয়। লংমার্চ ছিল গণ-কূটনীতির এক নজির। রাষ্ট্রীয় দাবিকে গণদাবিতে রূপান্তরের এক বিপ্লবী পদ্ধতি। ভাসানীর পায়ে হাঁটা শুধু প্রতীকী ছিল না; ছিল আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ঘোষণা।ফারাক্কা লংমার্চের চেতনা আজও প্রাসঙ্গিক, বরং আরও বেশি। পানি-বণ্টন চুক্তি হয়েছে, তবু তিস্তার বুক শুকনো। আন্তর্জাতিক নদীগুলোর ন্যায্য হিস্যা এখনও অনিশ্চিত। বন্দর, ট্রানজিট ও সীমান্ত-বাণিজ্যের প্রশ্নে অসম সম্পর্কের ছায়া এখনও দীর্ঘ। এই প্রেক্ষাপটে ফারাক্কার শিক্ষা হলো- জাতীয় অধিকার আদায়ে কেবল সরকারি পর্যায়ের দরকষাকষি যথেষ্ট নয়; দরকার গণ-জাগরণ, সংগঠিত গণচাপ।ফারাক্কা লংমার্চ এই সত্যও প্রতিষ্ঠা করেছিল জাতীয় অধিকারের প্রশ্নটি কেবল ভূখণ্ড বা সম্পদের প্রশ্ন নয় এটি মর্যাদার প্রশ্ন। সেই চেতনাকে লালন করা মানে কেবল ইতিহাস স্মরণ করা নয়-মানে বর্তমানের অসাম্যের বিরুদ্ধেও সমান সাহসে দাঁড়ানো।যতদিন আন্তর্জাতিক নদীতে ন্যায্য পানির হিস্যা নিশ্চিত না হবে, যতদিন ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় ছোট রাষ্ট্রগুলো চাপের মুখে তাদের সার্বভৌম অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে-ততদিন মওলানা ভাসানীর সেই পদচিহ্নগুলো পথ দেখাবে।লেখক: নির্মাতা ও সংস্কৃতিকর্মী

২ সপ্তাহ আগে

মধ্যপাড়ায় লেড এসিড ব্যাটারি রিসাইক্লিং ফ্যাক্টরি: প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ বাঁচাতে পদক্ষেপ জরুরি

মধ্যপাড়ায় লেড এসিড ব্যাটারি রিসাইক্লিং ফ্যাক্টরি: প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ বাঁচাতে পদক্ষেপ জরুরি


আমাদের সবুজ শ্যামল অঞ্চল আজ এক ভয়াবহ পরিবেশগত সংকটের মুখোমুখি। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি উপজেলার মধ্যপাড়া গ্রামে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় স্থাপিত কে.জি এন্টারপ্রাইজ নামের লেড এসিড ব্যাটারি রিসাইক্লিং ফ্যাক্টরি স্থানীয় মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য, কৃষি, পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্রামের মানুষ আজ আতঙ্কিত, উদ্বিগ্ন এবং ক্ষুব্ধ। কারণ তারা বুঝতে পারছেন, এই কারখানা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়া এক নীরব বিষের গজব উৎপাদন কারখানা।লেড এসিড ব্যাটারি রিসাইক্লিং শিল্প পরিবেশগত ঝুঁকির কারণে “রেড ক্যাটাগরি”ভুক্ত শিল্প হিসেবে বিবেচিত। এ ধরনের কারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে কঠোর আইনগত ও পরিবেশগত বিধিনিষেধ মানা বাধ্যতামূলক। পরিবেশ অধিদপ্তরের নীতিমালা অনুযায়ী, কারখানা স্থাপনের পূর্বে অবস্থানগত ছাড়পত্র (Site Clearance), পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ সমীক্ষা (EIA Report), স্থানীয় জনগণের মতামত গ্রহণ, পরিবেশ দূষণের সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ, স্বাস্থ্য নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনাপত্তিপত্র (NOC) সংগ্রহ করা আবশ্যক।কিন্তু অত্যন্ত উদ্বেগজনক বিষয় হলো, মধ্যপাড়ায় স্থাপিত এই কারখানার ক্ষেত্রে এসব গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কিছুই যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপস্থিতিতে কোনো জনমত যাচাই হয়নি, এলাকাবাসীকে প্রকল্পের ঝুঁকি সম্পর্কে অবহিত করা হয়নি এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রকৃত মতামতও গ্রহণ করা হয়নি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, কীভাবে এমন একটি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ কারখানা জনবসতির এত কাছে স্থাপনের অনুমতি পেল?লেড দূষণ পৃথিবীর অন্যতম ভয়াবহ বিষাক্ত দূষণের একটি। ব্যাটারি রিসাইক্লিং প্রক্রিয়ায় বাতাসে সীসার কণা ছড়িয়ে পড়ে, যা মানুষের শরীরে প্রবেশ করে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। বিশেষ করে শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ ব্যাহত হওয়া, কিডনি ও লিভারের জটিলতা, শ্বাসকষ্ট, স্নায়বিক সমস্যা এবং গর্ভবতী নারীদের জন্য ভয়াবহ ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। একইসাথে মাটি ও পানিদূষণের কারণে কৃষিজমি, মাছ, গবাদিপশু এবং পুরো জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ে।স্থানীয় ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে স্পষ্ট হয়েছে, মানুষের মধ্যে এখন একটাই দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে: এই কারখানা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। কারণ মানুষ আর প্রতিশ্রুতি নয়, বাঁচার নিশ্চয়তা চায়।এই প্রেক্ষাপটে পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ও আইনজ্ঞদের পরামর্শে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজন ব্যক্তিকে নিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের ধারা ৮(১)-এর আওতায় প্রতিকার চেয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক বরাবরও অনুলিপি প্রদান করা হয়েছে। অর্থাৎ আন্দোলন এখন আবেগের জায়গা থেকে বেরিয়ে আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পথে প্রবেশ করেছে।এখন প্রশ্ন হচ্ছে, প্রশাসন কী করবে?আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরও যদি কোনো কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হয়, তবে তা হবে জনগণের জীবন ও পরিবেশের প্রতি চরম অবহেলা। বাস্তবতা হলো, এ ধরনের অনেক পরিবেশবিধ্বংসী কারখানা ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক নীরবতা কিংবা স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় বছরের পর বছর টিকে থাকে। আইনের ফাঁক-ফোকর দেখিয়ে কিংবা দীর্ঘসূত্রতার অজুহাতে জনগণকে “হাইকোর্ট দেখানো” কোনো দায়িত্বশীল রাষ্ট্রের কাজ হতে পারে না।সরকারকে মনে রাখতে হবে, উন্নয়ন কখনো মানুষের জীবন ও প্রকৃতিকে ধ্বংস করে হতে পারে না। একটি গ্রামের বাতাস, পানি, মাটি এবং মানুষের স্বাস্থ্যকে বিষাক্ত করে তোলা কোনো শিল্পায়ন নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিরুদ্ধে অপরাধ।প্রাণ বাঁচাতে, প্রকৃতি বাঁচাতে, এই বিষাক্ত লেড এসিড ব্যাটারি রিসাইক্লিং ফ্যাক্টরি বন্ধ করুন। একইসাথে ইতোমধ্যে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের যে ক্ষতি হয়েছে, তার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণও জরুরি। লেখক: কবি ও রাজনীতিবিদ

৩ সপ্তাহ আগে

ডুবন্ত ধান, ডুবন্ত জীবন: হাওরের কৃষকের টিকে থাকার লড়াই

ডুবন্ত ধান, ডুবন্ত জীবন: হাওরের কৃষকের টিকে থাকার লড়াই


হাওর বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তার এক নীরব ভরসা। এই অঞ্চলের বোরো ধান দেশের মোট চাল উৎপাদনের বড় অংশ জোগান দেয়। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে দেখা যাচ্ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অব্যবস্থাপনা, বাজার সিন্ডিকেট এবং নীতিগত ঘাটতির কারণে হাওরের কৃষক এক ধরনের স্থায়ী অনিশ্চয়তার মধ্যে বসবাস করছে। সাম্প্রতিক সময়েও অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে হাজার হাজার হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে, যা জাতীয় উৎপাদনেও ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি করেছে। হাওরের কৃষি প্রকৃতিনির্ভর। বছরে একটি মাত্র ফসল বোরো ধান। ফলে এই এক ফসলের ওপর নির্ভর করে কৃষকের পুরো জীবিকা। কিন্তু অকাল বন্যা, দুর্বল বাঁধ, অপরিকল্পিত অবকাঠামো এবং জলপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় প্রায়ই পাকা ধান পানিতে ডুবে যায়। গবেষণা ও প্রতিবেদনগুলো বলছে, অপরিকল্পিত ও অদক্ষ বাঁধ নির্মাণ এবং ভাঙনই অনেক সময় ক্ষতির মাত্রা বাড়িয়ে দেয় । প্রতি কয়েক বছর পরপর এই চিত্র পুনরাবৃত্তি হলেও কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।ফসল রক্ষা করতে না পারার পাশাপাশি আরেকটি বড় সংকট হলো ফসল সংগ্রহ ও সংরক্ষণ। বৃষ্টির সময় ধান শুকানোর জায়গা থাকে না, আধুনিক গুদামের অভাবে কাটা ধান নষ্ট হয়ে যায়। এমনকি সাম্প্রতিক সময়েও দেখা গেছে, সংগ্রহ করা ধান পর্যাপ্ত শুকানো ও সংরক্ষণের অভাবে পচে যাচ্ছে । ফলে কৃষক বাধ্য হয়ে কম দামে ধান বিক্রি করে দেয়, আর এই সুযোগে বাজারে সক্রিয় মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেট লাভবান হয়।এই কারণে ধান সংগ্রহের মৌসুমে মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়া সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের ব্যবস্থা চালু করা অত্যন্ত জরুরি। সরকারি গুদামের ধারণক্ষমতা বাড়িয়ে প্রান্তিক কৃষকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কৃষক ন্যায্যমূল্যে তার ফসল বিক্রি করতে পারে। একইসঙ্গে ডিজিটাল ও স্বচ্ছ বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া সম্ভব।হাওরের কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়ে আসছেন। এর মধ্যে রয়েছে দুর্বল বাঁধের স্থায়ী সংস্কার ও টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, আগাম বন্যা সতর্কীকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন, এবং একটি সমন্বিত হাওর ব্যবস্থাপনা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন । এছাড়া কৃষিযান্ত্রিকীকরণ বাড়ানো, পর্যাপ্ত হারভেস্টার সরবরাহ, এবং জরুরি সময়ে প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর সহায়তায় দ্রুত ধান কাটার ব্যবস্থাও বারবার দাবি করা হয়েছে।অর্থনৈতিক নিরাপত্তার প্রশ্নটিও এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষকরা সহজ শর্তে ঋণ না পেয়ে অনেক সময় চড়া সুদে ধার নেয়, যা তাদের আরও বিপদে ফেলে। তাই ‘শস্য বন্ধকি ঋণ’ চালু করা, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ঋণ মওকুফ বা পুনঃতফসিল করা এবং ফসল বীমা চালুর দাবি বহুদিনের । এতে কৃষক অন্তত প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি থেকে কিছুটা সুরক্ষা পাবে।এছাড়া জরুরি পরিস্থিতিতে নগদ সহায়তা, খাদ্য সহায়তা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা তৈরি করে দ্রুত পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বিভিন্ন সময় উঠে এসেছে । কিন্তু এগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাময়িক উদ্যোগ হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকে; দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত পরিবর্তন খুব কমই দেখা যায়।সবচেয়ে বড় বিষয় হলো হাওরের উন্নয়নকে শুধু রাস্তা বা বড় প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। এই অঞ্চলের প্রকৃতি, পানি প্রবাহ, কৃষি এবং মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিকল্পনা করতে হবে। কারণ হাওর শুধু একটি ভৌগোলিক এলাকা নয়; এটি একটি সংবেদনশীল পরিবেশ-নির্ভর অর্থনীতি, যেখানে সামান্য নীতিগত ভুলও হাজার হাজার কৃষকের জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।কৃষক তার জমিকে শুধু উৎপাদনের ক্ষেত্র হিসেবে দেখে না; এটি তার অস্তিত্ব, তার বেঁচে থাকার ভিত্তি। সেই ভিত্তি যখন বারবার ভেঙে পড়ে, তখন শুধু কৃষক নয় ঝুঁকিতে পড়ে পুরো দেশের খাদ্যব্যবস্থা। তাই হাওরের কৃষি ও কৃষককে বাঁচাতে হলে বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপ নয়, প্রয়োজন সমন্বিত, বাস্তবভিত্তিক এবং কৃষককেন্দ্রিক নীতি ও কার্যকর বাস্তবায়ন।লেখক: কেন্দ্রীয় যুগ্ম সমন্বয়কারী, কৃষক উইং এনসিপি

১ মাস আগে

আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর নতুন ধারার সিদ্ধান্ত, প্রশংসায় ভাসছেন তারেক রহমান

আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর নতুন ধারার সিদ্ধান্ত, প্রশংসায় ভাসছেন তারেক রহমান


দেশের রাজনীতি ও প্রশাসনে নতুন ধারার সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগের কারণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এখন দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। দায়িত্ব গ্রহণের পর ধারাবাহিক ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ ও প্রশাসনিক সংস্কারের বার্তার কারণে তিনি একের পর এক প্রশংসায় ভাসছেন।প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পর মন্ত্রীদের জন্য ১৮০ দিনের একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করেছেন। এর অর্থ দাঁড়ায়—এই নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রত্যেক মন্ত্রীর কাজ, দক্ষতা, বাস্তবায়ন ক্ষমতা এবং জনমুখী উদ্যোগ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। ১৮০ দিন আসলে একটি পারফরম্যান্স উইন্ডো—যার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে কে কতটা সফল, কে আংশিক সফল এবং কে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ। সেই মূল্যায়নের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন, দায়িত্ব পুনর্বণ্টন কিংবা কঠোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে। রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যে লক্ষ করা যাচ্ছে—অনেক মন্ত্রী আগের তুলনায় বেশি সক্রিয়। কেউ কেউ অতিরিক্ত মন্তব্য থেকে বিরত থাকছেন। অনেকে অত্যন্ত সতর্ক ভাষায় কথা বলছেন। মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। কারণ সবাই বুঝতে পারছেন—প্রধানমন্ত্রীর একটি অনানুষ্ঠানিক “গুড বুক” ও “ব্যাড বুক” তৈরি হচ্ছে। এই গুড বুক ও ব্যাড বুক আসলে এক ধরনের রাজনৈতিক আমলনামা—যেখানে মন্ত্রীদের কার্যক্রম, শৃঙ্খলা, আনুগত্য, দক্ষতা এবং জনগ্রহণযোগ্যতার হিসাব সংরক্ষিত হচ্ছে।ঘোষিত ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা, মন্ত্রীদের জন্য পারফরম্যান্স উইন্ডোএই ১৮০দিন পর সেই পারফরম্যান্সের আলোকে নির্ধারিত হবে কার অবস্থান শক্ত হবে, আর কার অবস্থান নড়বড়ে হয়ে পড়বে। ১৮০ দিনের মধ্যে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কর্মসূচি নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে ‑ অর্থাৎ প্রত্যেক মন্ত্রীর সামনে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা, যাতে তার দায়িত্ব পালন, শ্রদ্ধাশীল শৃঙ্খলা, আনুগত্য ও জনগ্রহণযোগ্যতা যাচাই করা হবে। এই সময়টা শুধু সময় নয়—এটা একটি কঠিন পারফরম্যান্স টেস্টের সময়ও বটে ।সবাইকে প্রতিদিন, প্রতিটি কাজ, প্রতিটি উদ্যোগ এবং জবাবদিহিতায় নিজেকে প্রতিপন্ন করতে হবে।প্রধানমন্ত্রী ইন্ডিভিজুয়াল পলিসি এবং কর্মসম্পাদনায় পারফরম্যান্স‑স্পিরিট দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন—বলছেন এটি শুধু একটি সময়সীমা নয়, বরং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরকারের কার্যকর বাস্তবায়নের সুযোগ। সরকারের নতুন ১৮০‑দিনের কর্মপরিকল্পনা‑তে তিনটি প্রধান অগ্রাধিক্য নির্ধারণ করা হয়েছে- দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন ও গ্যাস‑বিদ্যুত সহ জরুরি পরিষেবা নিশ্চিত করা। সরকার পরিচালনায় উদাহরণ স্থাপন মানুষের হৃদয়কে নাড়া দিচ্ছেপ্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবালয়ে আসার পর অর্ধেক লাইট বন্ধ করে এসির মাত্রা কমিয়ে দপ্তরের বিদ্যুৎ সাশ্রয় শুরু করেছেন। তিনি সচিবালয় থেকে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে হেঁটে যাওয়া ও অনুষ্ঠান শেষে হেঁটে ফিরে আসার মাধ্যমে প্রথাগত ভিআইপি চলাচলের পরিবর্তন দেখিয়েছেন। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে অফিস করার প্রথা পুনঃপ্রবর্তন, গাড়িবহর কমানো এবং দীর্ঘ সময় সড়ক বন্ধ রাখার ভিআইপি প্রথা বাতিল, ব্যক্তিকেন্দ্রিকতার পরিবর্তে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো জোরদার করতে প্রশাসনিক বৈঠক করা, সরকারি ব্যয় সংকোচন, দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারের লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ—এসব উদ্যোগের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী সরকার পরিচালনায় নতুন উদাহরণ স্থাপন করেছেন।রাস্তায় সাধারণ মানুষের মতো চলাচল করে তিনি দেখিয়েছেন, যে কোনো বিশেষ সুবিধার চাপে বা ভিআইপি প্রথার বোঝায় নয়। সাধারণ মানুষ সরাসরি তাঁকে দেখে হাত নেড়ে সালাম দিচ্ছেন, স্বাগত জানাচ্ছেন এবং এই বাস্তবমুখী নেতৃত্বে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন। এই সরল, জনগণের সঙ্গে মিশে কাজ করার উদাহরণ মানুষের হৃদয়কে গভীরভাবে নাড়া দিচ্ছে এবং নতুন বার্তা দিচ্ছে—সরকারের কাজ কেবল কাগজে নয়, মানুষের জীবনে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।প্রশংসায় ভাসছেন রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমান, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতেত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দেশের রাজনীতি ও প্রশাসনে নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন তারেক রহমান। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পথচলা, সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করা এবং দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা তাকে ধীরে ধীরে একজন রাষ্ট্রনায়কের পর্যায়ে নিয়ে গেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। রাষ্ট্র পরিচালনার নানা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নিজেকে ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছেন—এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের একটি বড় অংশের। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসনিক ব্যয় কমানো, সরকারি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনা এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি বাড়ানোর মতো কিছু উদ্যোগ ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে।দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় তারেক রহমানের উত্থানও ছিল ধাপে ধাপে। বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে তিনি প্রথমে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হন। পরে দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে করতে নেতৃত্ব ধরে রাখার মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন। পরবর্তীতে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম ও দল পরিচালনার অভিজ্ঞতা তাকে আরও পরিণত রাজনৈতিক নেতৃত্বে রূপ দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, রাজনৈতিক নেতা থেকে রাষ্ট্রনায়ক হয়ে যাওয়া তারেক রহমান এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে রয়েছেন।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে তার নানা সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা চলছে। সমর্থকদের মতে, দায়িত্বশীল নেতৃত্ব ও বাস্তবমুখী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তিনি দেশের রাজনীতিতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তার প্রকৃত মূল্যায়ন নির্ভর করবে দীর্ঘমেয়াদে নেওয়া সিদ্ধান্ত ও সেগুলোর বাস্তব ফলাফলের ওপর। তবুও বর্তমানে দেশের রাজনীতিতে তিনি যে অন্যতম আলোচিত ও প্রভাবশালী নেতা—সে বিষয়ে দ্বিমত খুব কমই রয়েছে।বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল সংক্ষিপ্ত, ইতিবাচক দৃষ্টান্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিদেশ সফরকে ঘিরে বিমানবন্দরের প্রটোকল সীমিত করে মাত্র চারজন কর্মকর্তার উপস্থিতি নির্ধারণের সিদ্ধান্তকে অনেকেই ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। আগে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ যাত্রা বা দেশে ফেরার সময় বিমানবন্দরে বহু মন্ত্রী, উপদেষ্টা, সচিব, বাহিনীর প্রধানসহ বড় একটি সরকারি প্রতিনিধিদল উপস্থিত থাকত। এতে প্রটোকল আয়োজনটি অনেক সময় জটিল ও বড় পরিসরের হয়ে যেত। নতুন সিদ্ধান্তে সেই দীর্ঘ তালিকা কমিয়ে মাত্র চারজন কর্মকর্তাকে রাখার মাধ্যমে প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা কমানো এবং প্রটোকলকে আরও সংক্ষিপ্ত ও বাস্তবসম্মত করার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি এক ধরনের সরলতা ও ব্যয়সংকোচনের বার্তাও বহন করে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তারেক রহমান একটি ভিন্নধর্মী নেতৃত্বের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছেন—যেখানে অপ্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা কমিয়ে কার্যকর প্রশাসনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা দেখা গেছে। সাধারণ মানুষ ইতিবাচকভাবে দেখছেন এবং বলছেন, রাষ্ট্রীয় প্রটোকলকে সংক্ষিপ্ত করার এই উদ্যোগ সরকারের ব্যয় কমানো ও বাস্তবমুখী প্রশাসনের একটি উদাহরণ হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন উদ্যোগের প্রকৃত মূল্যায়ন নির্ভর করবে ভবিষ্যতে প্রশাসনের অন্যান্য ক্ষেত্রেও একই ধরনের বাস্তবমুখী সংস্কার কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হয় তার ওপর।লেখক: মিডিয়া অ্যানালিস্ট ও ব্যবস্থাপনা সম্পাদকসিটি নিউজ ঢাকা

৩ মাস আগে

উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারে বাংলাদেশে মশা দমনের আধুনিক পথ

উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারে বাংলাদেশে মশা দমনের আধুনিক পথ

৪ মার্চ ২০২৬ দুপুর ০২:১৩:১৪

ধর্মীয় ছাত্র থেকে ইরানের সর্বোচ্চ ক্ষমতার কেন্দ্রে

ধর্মীয় ছাত্র থেকে ইরানের সর্বোচ্চ ক্ষমতার কেন্দ্রে

১ মার্চ ২০২৬ রাত ১০:৫৪:১৭

শিরোনাম
চৌদ্দগ্রামে দুই শতাধিক অসহায় মানুষের ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা নাটোরে ক্লোন অ্যাপস ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগে ৩ জন গ্রেফতার এক ব্যানারে শেখ মুজিব, জিয়াউর রহমান ও তারেক রহমানের ছবি; নেট দুনিয়ায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় মানিকগঞ্জে মেয়ের হাতে বৃদ্ধ মা খুন, আটক ১ উচ্ছেদে ভাঙল ৬১ দোকান, বাড়ল ব্যবসায়ীদের দুশ্চিন্তা হার্টের রিংয়ের নতুন দাম বাস্তবায়নে হাসপাতালগুলোকে ঔষধ প্রশাসনের চিঠি ‘ইসলামী ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশের অর্থনীতি মাটির সঙ্গে মিশে যাবে’ ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুল ইসলামও ইসলাম নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অস্ট্রেলিয়াকে গুঁড়িয়ে ২১ বছরের অপেক্ষা ঘোচাল বাংলাদেশ বিশ্বশান্তিতে শান্তিরক্ষীদের অবদান অনন্য: প্রধানমন্ত্রী আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা ও দাফনের সময় জানাল ইরান স্থানীয় নির্বাচনে আ. লীগের অংশগ্রহণের বিষয়ে যা বললেন আসিফ মাহমুদ ৫০০ কোটি টাকার ফান্ড, তরুণ উদ্যোক্তাদের সুখবর দিলেন অর্থমন্ত্রী অর্থবছরকে ক্যালেন্ডার ইয়ারের সঙ্গে মেলানোর উদ্যোগ চান জামায়াত আমির হামের উপসর্গে ফের প্রাণহানি, মোট মৃত্যু ৬৩১ চৌদ্দগ্রামে দুই শতাধিক অসহায় মানুষের ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা নাটোরে ক্লোন অ্যাপস ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগে ৩ জন গ্রেফতার এক ব্যানারে শেখ মুজিব, জিয়াউর রহমান ও তারেক রহমানের ছবি; নেট দুনিয়ায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় মানিকগঞ্জে মেয়ের হাতে বৃদ্ধ মা খুন, আটক ১ উচ্ছেদে ভাঙল ৬১ দোকান, বাড়ল ব্যবসায়ীদের দুশ্চিন্তা হার্টের রিংয়ের নতুন দাম বাস্তবায়নে হাসপাতালগুলোকে ঔষধ প্রশাসনের চিঠি ‘ইসলামী ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশের অর্থনীতি মাটির সঙ্গে মিশে যাবে’ ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুল ইসলামও ইসলাম নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অস্ট্রেলিয়াকে গুঁড়িয়ে ২১ বছরের অপেক্ষা ঘোচাল বাংলাদেশ বিশ্বশান্তিতে শান্তিরক্ষীদের অবদান অনন্য: প্রধানমন্ত্রী আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা ও দাফনের সময় জানাল ইরান স্থানীয় নির্বাচনে আ. লীগের অংশগ্রহণের বিষয়ে যা বললেন আসিফ মাহমুদ ৫০০ কোটি টাকার ফান্ড, তরুণ উদ্যোক্তাদের সুখবর দিলেন অর্থমন্ত্রী অর্থবছরকে ক্যালেন্ডার ইয়ারের সঙ্গে মেলানোর উদ্যোগ চান জামায়াত আমির হামের উপসর্গে ফের প্রাণহানি, মোট মৃত্যু ৬৩১