বগুড়ার কাহালুতে ১৫ বছর বয়সী শ্যালিকাকে অপহরণ ও ধর্ষণের মামলায় দুলাভাই মো. আল মোহাইমিনু মেহেদী হাসানকে (২৮) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলার অপর দুই আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বগুড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মারুফ হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত মেহেদী হাসান আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি কাহালু উপজেলার পাইকপাড়া এলাকার মো. নুরুল ইসলামের ছেলে।মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৫ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কাহালু উপজেলার শিতলাইগ্রামে নিজ বাড়ি থেকে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয় ওই কিশোরী। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, পূর্বপরিকল্পিতভাবে মেহেদী হাসান, তাঁর ভাই মো. মামুন মন্ডল (৩৮), ভাগনে মো. রকি (২৬) এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজন একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তাকে তুলে নিয়ে যান। পরে একটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।এ ঘটনায় কিশোরীর মা লাবনী আক্তার বাদী হয়ে ২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল কাহালু থানায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন।মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত মেহেদী হাসানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও দুই বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। অপর দুই আসামি মো. মামুন মন্ডল ও মো. রকির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁদের খালাস দেওয়া হয়েছে।রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুল মান্নান বলেন, এ রায়ে বাদীপক্ষের পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেছে। সমাজে এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে রায়টি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
২ ঘন্টা আগে
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে নিজ বাসের চাপায় পিষ্ট হয়ে এনায়েত শেখ (৬০) নামে এক বাস মালিক নিহত হয়েছে। রোববার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে কাশিয়ানীর মাঝিগাতী বাসস্টান্ড এলাকায় এ দূর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা এনায়েত শেখের মালিকানাধীন জিএমএস পরিবহনের বাসটি মাঝিগাতী বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছে ব্রেক করলে পেছন থেকে নড়াইল এক্সপ্রেসের একটি বাস ধাক্কা দেয়। এ সময় দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাকা এনায়েত শেখ ছিটকে সড়কে পড়ে নিজ বাসের চাপায় পিষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন।পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।ভাটিয়াপাড়া হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট নৃপেন দাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।তিনি আরও জানান, পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে ।
২ ঘন্টা আগে
বাবার মৃত্যুর পর জীবিকার সন্ধানে চাকরি খুঁজেছেন নারায়ণগঞ্জের মাইনুল ইসলাম খান। একপর্যায়ে মাসে ৯ হাজার টাকা বেতনের চাকরির প্রস্তাব পেলেও অসুস্থ মাকে রাতে একা রেখে যেতে হবে বলে তাতে যোগ দেননি। পরে মায়ের জোগাড় করে দেওয়া ৪০ হাজার টাকায় কম্পিউটার কিনে শুরু করেন ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের কাজ। নানা বাধা পেরিয়ে এখন তিনি কাজ করছেন মিডিয়া বায়ার ও গ্রোথ স্ট্র্যাটেজিস্ট হিসেবে। মাইনুল জানান, বর্তমানে তাঁর মাসিক আয় প্রায় তিন থেকে চার হাজার মার্কিন ডলার।২০১২ সাল থেকে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা ছিল মাইনুলের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমস্যায় পড়া ব্যক্তিদের সহযোগিতার পাশাপাশি গণমাধ্যম ও বিনোদনজগতের মানুষের সঙ্গেও কাজ করেছেন তিনি। তবে নিয়মিত উপার্জনের পথ তৈরি হয় বাবার মৃত্যুর পর।২০২৩ সালের ৭ এপ্রিল বাবাকে হারানোর পর সংসারের দায়িত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েন মাইনুল। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি খুঁজেও সুবিধা করতে পারেননি। তখন আগে থেকে জানা প্রযুক্তির কাজকে পেশা হিসেবে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর পরিকল্পনায় সংশয় থাকলেও মা ৪০ হাজার টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেন। মায়ের কথাটি এখনো মনে রেখেছেন তিনি—‘তুই পারবি বাবা।’সেই টাকা দিয়ে কেনা ল্যাপটপটি এক মাসের মাথায় নষ্ট হয়ে যায়। পরে মায়ের সহযোগিতায় পুরোনো ডেস্কটপ কম্পিউটার কিনে আবার কাজ শুরু করেন। ক্রিয়েটিভ আইটি ইনস্টিটিউটে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের প্রশিক্ষণ নিয়ে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও), গুগল অ্যাডস, মেটা অ্যাডস ও ওয়েব অ্যানালিটিক্সে দক্ষতা বাড়ান। ফাইভার ও আপওয়ার্কে কাজের অভিজ্ঞতাও অর্জন করেন।২০২৩ সালের আগস্টে একটি জাতীয় দৈনিকে সিনিয়র ডিজিটাল মার্কেটিং অ্যান্ড কনটেন্ট ডেভেলপার হিসেবে যোগ দেন। মাসিক বেতন ছিল ৩০ হাজার টাকা। পরে এক সহপাঠীকে নিয়ে ঢাকার মোহাম্মদপুরে মার্কেটিং এজেন্সি চালু করেন। সেখানে একপর্যায়ে প্রায় ১৫ জন কাজ করতেন। তবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন ক্লায়েন্ট কাজ বন্ধ করে দেন। একপর্যায়ে এজেন্সির কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে হয়।এরপর দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যান মাইনুল। ২০২৪ সালের শেষ দিকে একটি বহুজাতিক প্রসাধনী প্রতিষ্ঠানে মিডিয়া বায়ার হিসেবে কাজের সুযোগ পান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে মাসে ১০ থেকে ১৫ হাজার মার্কিন ডলারের বিজ্ঞাপন বাজেট পরিচালনা করতেন।বর্তমানে দেশি-বিদেশি ক্লায়েন্টদের জন্য মাসে প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ হাজার মার্কিন ডলারের বিজ্ঞাপন বাজেট পরিচালনা করেন তিনি। পাশাপাশি ব্যবসার প্রবৃদ্ধির কৌশল নির্ধারণ ও ওয়েব ডেভেলপমেন্টের কাজ করছেন। এসব কাজ থেকে তাঁর মাসিক আয় তিন থেকে চার হাজার মার্কিন ডলার বলে জানান তিনি।প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহারও শিখেছেন মাইনুল। এখন নেক্সট জেএস, ওয়ার্ডপ্রেস ও শপিফাই ব্যবহার করে ওয়েবসাইট তৈরির কাজেও এআইকে সহায়ক হিসেবে কাজে লাগাচ্ছেন।মাইনুল জানান, প্রযুক্তিনির্ভর পেশায় টিকে থাকতে হলে নিয়মিত শিখতে হবে এবং নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। এআই আমার শত্রু নয়, এআই এখন আমার পরম বন্ধু।’
৩ ঘন্টা আগে
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বিএনপি শেখ হাসিনার তিনটি সংসদকে অবৈধ বলে আসছে। আমরাও মনে করি অবৈধ। কিন্তু আইনগতভাবে এটা বলার সুযোগ নেই। কারণ বিএনপি সরকার ওই তিনটি সংসদকে অবৈধ বলে ঘোষণা করেনি।রবিবার (২৫ অক্টোবর) বিকালে রাজধানীর মিরপুরে-১০ নম্বর গোল চত্বরে সংক্ষিপ্ত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে আগামী ৩০ অক্টোবরের বিক্ষোভ মিছিল সফল করতে এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা এই সংক্ষিপ্ত পথসভা ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি আয়োজন করে৷নাহিদ ইসলাম বিগত তিনটি সংসদ অবৈধ ঘোষণার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘এখনও সুযোগ রয়েছে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে—সেই অবৈধ সংসদের ধারাবাহিকতা এবং সংবিধানের ধারাবাহিকতা থেকে বের হয়ে আমরা নতুনভাবে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার এবং নতুনভাবে বাংলাদেশকে গঠন করার।’’তিনি বলেন, ‘‘পুরোনো ধারাবাহিকতা রক্ষা হলে একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি যদি সবচেয়ে ভালো সংশোধনীটাও আনে, ভবিষ্যতে এমন হতে পারে—সে সংশোধনী বাতিল করে বর্তমান সরকার এবং অন্তর্বর্তী সময়টাকে অবৈধ হিসেবে ঘোষণা করা হবে। আমরা দেখেছি কীভাবে পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করে জিয়াউর রহমানকে একজন অবৈধ ক্ষমতা দখলদার হিসেবে আওয়ামী লীগ ইতিহাসে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছিল। তাই এটা যে তারেক রহমানের সঙ্গে হবে না, তার কিন্তু কোনও নিশ্চয়তা নেই। ফলে নিশ্চয়তা হবে এবং তারেক রহমানের ভালোর জন্যই আমরা বলছি, অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে পুরোনো সংসদ, পুরোনো অবৈধ সরকার এবং যে পুরোনো ফ্যাসিস্ট সংবিধান—সেই সাংবিধানিক কাঠামো ধারাবাহিকতা থেকে বের হয়ে বাংলাদেশের নতুনভাবে গণতান্ত্রিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠা করুন।’’সমতল থেকে পাহাড়—সর্বত্রই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আশান্ত বলে জানান নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন সমতল থেকে পাহাড়ে গিয়ে পৌঁছেছে। পাহাড় অশান্ত কেন এটার সুস্পষ্ট বক্তব্য দিতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে আমরা কোনও সুস্পষ্ট বক্তব্য পাচ্ছি না। আমরা দেখতে পাচ্ছি সরকার পাহাড়কে শান্ত রাখতে, স্থিতিশীল রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। পাহাড়ে কারা অস্থিতিশীলতা করছে, বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কীভাবে তৎপরতা এবং ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করছে—এটা জনগণের সামনে সুস্পষ্টভাবে বলতে হবে। কারণ এটা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন।’’সরকার ভারতের সঙ্গে গোপন আঁতাত করেছে বলে অভিযোগ করেন এনসিপি আহ্বায়ক। তিনি বলেন, ‘‘এই গোপন আঁতাতের ফলেই পাহাড়কে অশান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে নানাভাবে। আমরা জানি, পাহাড়ে কারা অস্ত্র দেয়, পাহাড়ে কারা অশান্তি তৈরি করে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ কথিত বন্ধুরাষ্ট্র বাংলাদেশকে যখনই চাপ দেওয়ার প্রয়োজন হয়, তখন তারা পাহাড়ে অশান্তি তৈরি করে।’’
৪ ঘন্টা আগে