রাজবাড়ী প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৮ জুন ২০২৬ রাত ০৬:৩৭:২৯
দেড় বছর পর জামিন, তবুও মিলল না মুক্তি
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজবাড়ীর ১ নম্বর আমলি আদালতে শুনানি শেষে জিআর নং-৩৬৫/২৪ মামলায় তাকে শোন অ্যারেস্ট দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে আবারও কারাগারে পাঠানো হয়।
আইনজীবীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩০ আগস্ট দায়ের করা জিআর নং-৩৩২/২৪ মামলার ২ নম্বর আসামি হিসেবে ২০২৫ সালের ৭ এপ্রিল রাজধানী ঢাকা থেকে কাজী কেরামত আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে একই বছরের ২ সেপ্টেম্বর দায়ের হওয়া জিআর নং-৩৩৪/২৪ মামলাতেও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
তার আইনজীবীরা জানান, জিআর নং-৩৩৪/২৪ মামলায় ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর এবং জিআর নং-৩৩২/২৪ মামলায় চলতি বছরের ৪ জুন হাইকোর্ট থেকে জামিন পান কাজী কেরামত আলী। সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর গত ৯ জুন তার কারামুক্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওই দিনই পুলিশ জিআর নং-৩৬৫/২৪ মামলায় তাকে শোন অ্যারেস্ট দেখানোর আবেদন করে।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করলে জামিন পাওয়ার পরও তার মুক্তি মিলেনি।
এদিকে রাজবাড়ী জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের আইনজীবী ও সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) উজির আলী শেখ, সাবেক জিপি মো. আনোয়ার হোসেন, সাবেক এপিপি মো. রফিকুল ইসলাম এবং সাবেক জিপি শফিকুল আজম মামুনসহ তার আইনজীবীরা দাবি করেন, কাজী কেরামত আলী একজন সাদামাটা ও বিনয়ী রাজনৈতিক ব্যক্তি। তিনি ছয়বার জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী লালন-পালনের অভিযোগ নেই।
আইনজীবীদের দাবি, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো জামিনযোগ্য এবং অভিযোগের ঘটনাগুলোর সঙ্গে তার সরাসরি সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ নেই।
তারা আরও জানান, ৭৫ বছর বয়সী কাজী কেরামত আলী বর্তমানে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। তার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে। এ অবস্থায় তার চিকিৎসার বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনার দাবি জানান তারা।
তবে মামলার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী চলবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।