একদিকে নদীর তীব্র স্রোত, অন্যদিকে ভাঙনের আতঙ্ক। চোখের সামনে বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার শঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটছে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের চর নোহালীর কাচাড়ীপাড়ার মানুষের।তিস্তার ভাঙন থামছেই না। দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে প্রায় ২ হাজার ঘরবাড়ি, স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বাঁধ, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাদ্রাসা ও একটি ক্লিনিকসহ বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।ভাঙন ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে নদীর তীরে ২০০ থেকে ৩০০ মিটার এলাকায় জিওব্যাগ ফেলার দাবিতে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তিস্তার তীরে মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী।স্থানীয়দের ভাষ্য, চরাঞ্চলের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ভাঙনপ্রবণ পয়েন্টের মধ্যে কাচাড়ীপাড়া সবচেয়ে উজানে। ফলে তিস্তার স্রোতের প্রথম আঘাত আসে এই পয়েন্টেই। কাচাড়ীপাড়া রক্ষা করা না গেলে ভাটির অন্য দুটি এলাকাতেও ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।মানববন্ধনে স্থানীয় মনিরুজ্জামানসহ কয়েকজন বলেন, এখনই ব্যবস্থা না নিলে একের পর এক বসতভিটা নদীর পেটে চলে যাবে। কাচাড়ীপাড়া রক্ষা করা গেলে ভাটির দুটি ভাঙনপ্রবণ এলাকাও অনেকটা নিরাপদ রাখা সম্ভব। কিন্তু সময় চলে গেলে তখন আর ঘর সরানোর সুযোগও থাকবে না।এলাকাবাসী জানান, এবার তিস্তার পানি প্রথম বাড়ার সময়ই কাচাড়ীপাড়ায় ভাঙন শুরু হয়। তাদের দাবি, এরই মধ্যে প্রায় ১৫টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের আতঙ্কে ৫০টির বেশি বাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।স্থানীয়দের আশঙ্কা, নদীর স্রোত যেভাবে তীরের দিকে ধেয়ে আসছে, তাতে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। বিশেষ করে বসতবাড়ির পাশাপাশি শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার প্রতিষ্ঠানগুলোও পড়তে পারে ভাঙনের মুখে।এ অবস্থায় কাচাড়ীপাড়া পয়েন্টে দ্রুত ২০০ থেকে ৩০০ মিটার এলাকায় পর্যাপ্ত জিওব্যাগ ফেলে নদীতীর সংরক্ষণকাজ শুরুর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে ভাঙনকবলিত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করে স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।এদিকে চর নোহালীর ভাঙন পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় পর্যায় থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।তবে আশ্বাসে থামছে না নদীর ভাঙন। এলাকাবাসীর শঙ্কা, সময় যত গড়াবে, ততই বাড়বে তিস্তার গ্রাস। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে কয়েক হাজার মানুষ হারাতে পারেন শেষ আশ্রয়টুকুও।তাই ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে দ্রুত জিওব্যাগ সরবরাহ, নদীতীর সংরক্ষণ এবং স্থায়ী ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন কাচাড়ীপাড়ার মানুষ।
২৩ ঘন্টা আগে
পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নে আদম আলী নামে এক বিএনপি নেতাকে গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে একদন্ত ইউনিয়নের চণ্ডীপাশা এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।নিহত আদম আলী (৬০) আটঘরিয়া উপজেলার ষাটগাছা গ্রামের বাসিন্দা এবং আলহাজ নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি একদন্ত ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে আদম আলী একদন্ত হাট থেকে বাজার করে মোটরসাইকেলে করে বাড়ির দিকে ফিরছিলেন। পথে চণ্ডীপাশা এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে।এ সময় দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিতে তিনি আহত হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে আটঘরিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন আলামত সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে।আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে।নিহত আদম আলী তমা হত্যা ও ধর্ষণ সহ একাধিক মামলার প্রধান আসামি ছিলেন।
২৩ ঘন্টা আগে
ঢাকার ধামরাই উপজেলায় স্থাপিত শিল্প-কারখানার মালিক ও প্রতিনিধিদের সাথে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) উপজেলা অডিটোরিয়াম হল রুমে ধামরাই উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ধামরাইয়ের কৃষি ও পরিবেশ সুরক্ষায় শিল্প-কারখানার বর্জ্য নিষ্কাশন, পয়োনিষ্কাশন এবং পানি নিষ্কাশনের যথাযথ ব্যবস্থাকরণ এবং শিশুশ্রম নিষিদ্ধকরণ বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।এসময় ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আল মামুনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ঢাকা-২০ ধামরাই আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব তমিজ উদ্দিন। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদ। এসময় ধামরাই উপজেলার প্রায় ৫২টি শিল্প-কারখানার মালিক ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগন উপস্থিত ছিলেন।অভিযোগ রয়েছে, ধামরাই এলাকায় স্থাপিত বেশ কিছু শিল্প-কারখানার নির্গত বিষাক্ত পানি ও বর্জ্য পরিশোধিত না করে সরাসরি গাজীখালী নদীতে ফেলা হচ্ছে। ফলে গাজীখালী নদীর পানি এতটাই দূষিত যে, পানি ব্যবহার তো দূরের কথা, মাছের বংশ পর্যন্ত ধ্বংস হচ্ছে। অপরদিকে নদীর পাশের মানুষগুলো পচা পানির দুর্গন্ধক্ষেপে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এ ছাড়াও মশার উপদ্রবেও অতিষ্ঠ নদী পাড়ের মানুষগুলো। মতবিনিময় সভা শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আল মামুন সাংবাদিকদের বলেন, এ উপজেলায় স্থাপিত ৫২টি শিল্প-কারখানার মালিক ও প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় সভা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রত্যেক কারখানার মালিককে ইটিপি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। ইটিপি ব্যবহার না করলে তাঁদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১ দিন আগে
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় মাছ ধরার সময় ট্রলারে বজ্রপাতে দুই জেলের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও তিন জেলে আহত হয়েছেন।রোববার (৬সেপ্টেম্বর) বিকেল তিনটায় উপজেলার তুফানিয়া ও চরহেয়ারের মাঝামাঝি বুড়ো গৌরাঙ্গ নদীতে এ ঘটনা ঘটে। নিহতারা হলেন- রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়নের যুগির হাওলা গ্রামের হাবিব খাঁর ছেলে ইমন খাঁ (২২) এবং একই গ্রামের শহিদুল শিকদারের ছেলে মো. শাকিব শিকদার (২৩)।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ট্রলারটির মালিক মো. সুমন খান। ট্রলারটিতে মোট পাঁচজন জেলে মাছ ধরতে যান বিকেল তিনটার দিকে। জাল ফেলা হলে ওই ট্রলারটিতে বজ্রপাতের ঘটনায় পাঁচজনই আহত হন । পরে কাছাকাছি মাছ ধরতে থাকা অন্য একটি ট্রলারের জেলেরা তাদের উদ্ধার করে রাঙ্গাবালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক ইমন খান ও সাকিব শিকদারকে মৃত ঘোষণা করেন।
১ দিন আগে