নারায়ণগঞ্জে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: প্রধান দুই আসামি গ্রেফতার
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে টিকটকের সূত্র ধরে প্রেমের ফাঁদে ফেলে এক কিশোরীকে (১৫) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় প্রধান দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১। গ্রেফতারকৃতরা হলো— বন্দর থানার নবীগঞ্জ রসুলবাগ এলাকার গাজী মিয়ার ছেলে রিফাত (২১) এবং তার সহযোগী রোমান।ভুক্তভোগী কিশোরী স্থানীয় একটি স্কুল থেকে অষ্টম শ্রেণি পাস করে বর্তমানে বাড়িতেই অবস্থান করছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে রিফাতের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। নিয়মিত কথা বলার এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।গত ২৯ মার্চ (রোববার), রিফাত ওই কিশোরীকে দেখা করার জন্য বন্দর খেয়াঘাটে আসতে বলে। কিশোরীর কাছে যাতায়াত ভাড়া না থাকায় রিফাত তাকে বিকাশে ৫০০ টাকা পাঠায়। টাকা পাওয়ার পর ওই দিন সকাল ৬টায় কিশোরী পরিবারের কাউকে না জানিয়ে চাঁদপুর লঞ্চঘাট থেকে নারায়ণগঞ্জ লঞ্চঘাটে এসে পৌঁছায়। পরে রিফাতের কথামতো সে বন্দর খেয়াঘাটে গেলে রিফাত তাকে নিয়ে মিশুকযোগে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করে।বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে রিফাত কিশোরীকে নিয়ে বন্দর থানার নবীগঞ্জ কদম রসুল এলাকার একটি নির্জন স্থানে চার ফুট দেয়াল ঘেরা খালি জমিতে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই রিফাতের বন্ধু রোমান উপস্থিত ছিল। তারা দুজন কিশোরীকে অনৈতিক প্রস্তাব দেয়। কিশোরী এতে রাজি না হওয়ায় রিফাত ও রোমান তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ঘটনার সময় একজন ধর্ষণ করলে অন্যজন পাহারায় লিপ্ত ছিল বলে জানা যায়।ধর্ষণের পর অভিযুক্তরা পালিয়ে গেলে কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে বন্দর থানায় একটি গণধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলার পর গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে র্যাব-১১ এর একটি আভিযানিক দল ঘটনার প্রধান দুই হোতাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। আসামিদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে।
৩ এপ্রিল ২০২৬ রাত ১০:২৪:১১
আওয়ামী লীগ নেতাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব: ইউএনওকে আদালতের শোকজ
ভোলার মনপুরায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতাকে বিতর্কিতভাবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু মুছাকে শোকজ করেছেন আদালত। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আদেশ স্থগিত করে বিবাদীদের পাঁচ দিনের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।মনপুরা সিভিল জজ আদালতে দায়ের করা মামলা নং-১৫/২০২৬-এর নথি সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ মার্চ এক অফিস আদেশের মাধ্যমে মো. মাইনউদ্দিনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে পরিচিত।মামলার নথিতে মাইনউদ্দিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বিধিবহির্ভূতভাবে নিয়োগ নেওয়া, ফলাফল শিটে কাটাছেঁড়া করা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা নষ্ট করার মতো কর্মকাণ্ডে তিনি জড়িত ছিলেন। তার নিয়োগ ও কর্মকাণ্ড নিয়ে বর্তমানে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের তদন্তও চলমান রয়েছে।নথি অনুযায়ী, ২০১৫ সালে পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠানের তথ্য গোপন করে ছমেদপুর বাংলাবাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান মাইনউদ্দিন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তিনি এ নিয়োগ পান বলে অভিযোগ রয়েছে।বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ মার্চ ইউএনও আবু মুছা হঠাৎ বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে কমিটির অন্য সদস্যদের অবহিত না করে এবং কোনো রেজুলেশন ছাড়াই এককভাবে সাময়িক বরখাস্ত থাকা মাইনউদ্দিনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেন। এতে কমিটির সদস্যদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলে তারা আদালতের শরণাপন্ন হন।এদিকে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আবদুল্লাহ আল নোমান মাইনউদ্দিনের নিয়োগ প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে আবেদন করেছেন। বিষয়টি বর্তমানে ভোলা জেলা শিক্ষা অফিসারের তদন্তাধীন রয়েছে।আরও জানা যায়, ২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল বিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার ঘটনায় মাইনউদ্দিনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। তদন্ত প্রতিবেদনে তার সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত পাওয়া গেলে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে।ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, অবৈধ প্রভাব বা লেনদেনের মাধ্যমে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তারা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন।তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করেও ইউএনও আবু মুছার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
৩ এপ্রিল ২০২৬ রাত ১০:১৮:৫৮
নবীনগরের উরখুলিয়া গ্রামে শান্তি সমাবেশ অনুষ্ঠিত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকুট ইউনিয়নের উরখুলিয়া গ্রামে গ্রাম্য আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পূর্ব শত্রুতার জেরে মরহুম লাল মিয়া মাস্টারের পরিবারের বিরুদ্ধে গ্রামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে।শুক্রবার (৩ এপ্রিল) গ্রামে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার লক্ষ্যে একটি শান্তি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।মতি মেম্বারের সভাপতিত্বে এবং আব্দুল আউয়ালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে রফিকুল ইসলাম মনা (মেম্বার), ফিরোজ মিয়া, বাছির মিয়া, শামসুল হক, সিদ্দিক মিয়াসহ একাধিক বক্তা বক্তব্য রাখেন।বক্তারা বলেন, “গ্রামবাসী নিজেদের জমি ও শ্রম দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করেছেন। কিন্তু প্রবাসী জাহাঙ্গীর আলম ও তার ভাইয়েরা রাস্তা নির্মাণে বাধা দিচ্ছেন। এতে গ্রামে নতুন করে সংঘাত সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।”তারা আরও বলেন, “গ্রামের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও উন্নয়নের জন্য আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছি। অতীতের মতো আর কোনো বিশৃঙ্খলা গ্রামে হতে দেওয়া হবে না।” এ বিষয়ে মাননীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন বক্তারা।উপস্থিত বক্তারা আরও বলেন করেন, “মরহুম লাল মিয়া মাস্টারের ছেলে হারুনুর রশিদ, প্রবাসী জাহাঙ্গীর আলম, কবির হোসেন, কামরুল হোসেন ও জামাল হোসেন বিভিন্ন সময়ে গ্রামে এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। আমরা কোনো বিশৃঙ্খলা চাই না, আমরা গ্রামের শান্তি চাই।”আব্দুল আউয়াল বলেন, “১৯৮১ সাল থেকে এই গ্রামে দুটি গ্রুপ ছিল। তখন মানুষ ঘরে নয়, কবরস্থানে ঘুমাতে বাধ্য হতো। এই গ্রুপিংয়ের কারণে গ্রামে ১১টি খুনের ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ খুনটি হয় ২০০৯ সালে। এরপর থেকে আমরা গ্রামকে ঐক্যবদ্ধ করে উন্নয়ন ও দাঙ্গামুক্ত রাখতে কাজ করে যাচ্ছি। কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইলে গ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিরোধ করা হবে।”
৩ এপ্রিল ২০২৬ রাত ০৭:৪৭:১৭
ভিজিডির চাল কম দেওয়া ও টাকা আদায়ে অনিয়মের অভিযোগ
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নে ভিজিডি (ভালনারেবল গ্রুপ ডেভেলপমেন্ট) কর্মসূচির চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপকারভোগীদের দাবি, নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম চাল দেওয়া হচ্ছে এবং ব্যাংকে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্টরা সরাসরি নগদ টাকা সংগ্রহ করছেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।অভিযোগ রয়েছে, গত প্রায় নয় মাস ধরে দুই বছর মেয়াদি এ কর্মসূচির আওতায় সুবিধাভোগী নারীদের কাছ থেকে ইউনিয়নের গ্রামপুলিশরা সরাসরি নগদ টাকা সংগ্রহ করছেন। এতে দরিদ্র নারীদের সঞ্চয়ের অর্থ আত্মসাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অসহায় ও দরিদ্র নারীদের খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করা এবং দারিদ্র্য কমাতে সরকার সারা দেশে ২২০ টাকা সঞ্চয় জমা নিয়ে দুই বছর মেয়াদে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করে আসছে। রাজনগর উপজেলায় বর্তমানে ১ হাজার ৪৩৫ জন নারী এই সুবিধা পাচ্ছেন। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে তাদের নিয়মিত চাল পাওয়ার কথা।সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, উপকারভোগীদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা দিয়ে রসিদ দেখিয়ে চাল নেওয়ার কথা। তবে টেংরা ইউনিয়নে গ্রামপুলিশদের মাধ্যমে সরাসরি নগদ টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।এদিকে, প্রতিজনের জন্য ৩০ কেজি চাল বরাদ্দ থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে ২ থেকে ৩ কেজি কম দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। দীর্ঘদিন ধরে এ অনিয়ম চলায় তাদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।টেংরা ইউনিয়নের পূর্ব ইলাশপুর গ্রামের উপকারভোগী রুনা বেগম বলেন, “আমাদের সব সময় এভাবেই চাল দেওয়া হয়। গত নয় মাস ধরে চাল পাচ্ছি। টাকা জমা দিয়ে চাল নিতে হয়, আবার চালও কম দেওয়া হচ্ছে।”এ বিষয়ে গ্রামপুলিশ সজল মালাকার বলেন, “আমরা যেভাবে নির্দেশনা পেয়েছি, সেভাবেই চাল বিতরণ করছি।”টেংরা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রামদুলারী জানান, অনেক উপকারভোগীর ব্যাংক হিসাব না থাকায় প্রতিনিধির মাধ্যমে ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়া হচ্ছে। চাল কম দেওয়ার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল সিকদারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।তবে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মধুছন্দা দাস বলেন, “ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। অনেক সময় গ্রামের নারীরা ব্যাংকে যেতে পারেন না, তাই নগদ টাকা নিয়ে ব্যাংকে জমা করা হয়। চাল কম দেওয়ার বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।”
৩ এপ্রিল ২০২৬ বিকাল ০৫:৩৬:৪০
নিখোঁজের কয়েক ঘণ্টা পর বিএনপি নেতার লাশ মিলল খালে
মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর শাহিন মিয়া (৫৫) নামে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।শুক্রবার (৩ এপ্রিল) এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মৌলভীবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম।তিনি বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে সদর উপজেলার গয়ঘর এলাকায় একটি খাল থেকে শাহিন মিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে শরীরের কোথায় কোনো আঘাত বা জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ইতোমধ্যে তার পোস্টমর্টেম সম্পন্ন হয়েছে।এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান ওসি।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে থেকে শাহিন মিয়ার কোনো সন্ধান পাচ্ছিলেন না পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করা হয়। রাতের দিকে উপজেলার গয়ঘর এলাকায় একটি খালে তার লাশ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা।খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সেটি উদ্ধার করে।শাহিন মিয়া রায়পুর গ্রামের বাসিন্দা ও মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ছিলেন।ওসি সাইফুল ইসলাম আরো বলেন, হাসপাতালের ডাক্তারের সঙ্গে আমার এ বিষয়ে কথা হয়েছে। ডাক্তার বলেছেন, হার্ট অ্যাটাক বা অন্য কোনো শরীরিক অসুস্থতায় তার এ দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট মায়ার্স শহরে নিলুফার ইয়াসমিন পারভীন (৪৮) নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশি নারীকে হাতুড়িপেটা করে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে নিজ কর্মস্থল একটি গ্যাস স্টেশনে দায়িত্ব পালনকালে এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয় প্রবাসী সূত্র ও সিসিটিভি ফুটেজের তথ্য অনুযায়ী, ইয়াসমিন ফোর্ট মায়ার্সের ড. মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র বুলেভার্ড ও হাইল্যান্ড অ্যাভিনিউয়ের একটি শেভরন গ্যাস স্টেশনে ক্লার্ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রতিদিনের মতো সেদিন ভোরে তিনি স্টোর খুলে ভেতরে নামাজ আদায় করছিলেন।সকাল আনুমানিক ৭টা ১৪ মিনিটে এক যুবক স্টোরে প্রবেশের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরে সে বাইরে থাকা ইয়াসমিনের ব্যক্তিগত গাড়িতে হাতুড়ি দিয়ে ভাঙচুর শুরু করে। শব্দ পেয়ে ইয়াসমিন বাইরে এসে এর কারণ জানতে চাইলে হামলাকারী তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হামলাকারী তাঁর হাতে থাকা বড় হাতুড়ি দিয়ে ইয়াসমিনকে লক্ষ্য করে উপর্যুপরি আঘাত করে। মাথায় একাধিক আঘাতে তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। পরে হামলাকারী ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।ফোর্ট মায়ার্স পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন হামলাকারী রোলবার্ট জোয়াকিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সময় তাকে একটি বাস্কেটবল দলের জার্সি পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়। এই হামলার পেছনে ব্যক্তিগত শত্রুতা নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।নিহত ইয়াসমিন পারভীন দুই মেয়েকে নিয়ে ফ্লোরিডায় বসবাস করতেন। তাঁর স্বামী বর্তমানে বাংলাদেশে রয়েছেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার কুশাখালী ইউনিয়নে। তিনি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন মানিকের ছোট বোন।স্বজনদের ভাষ্য, ইয়াসমিন ছিলেন পরোপকারী ও ধর্মপ্রাণ। প্রবাসে থেকে সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়তে তিনি নিরলস পরিশ্রম করতেন। তাঁর মৃত্যুতে লক্ষ্মীপুরের নিজ এলাকা এবং ফ্লোরিডার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশি কনস্যুলেট এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিতের উদ্যোগ নিয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দেশে আনার প্রস্তুতি চলছে বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে।
৩ এপ্রিল ২০২৬ বিকাল ০৪:১২:৩৫
গরু চুরি চক্রের সর্দারসহ ৫ জন গ্রেপ্তার, ট্রাক উদ্ধার
বগুড়ায় র্যাব-১২-এর পৃথক অভিযানে আন্তঃজেলা গরু চুরি চক্রের সর্দারসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় চুরি কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক উদ্ধার করা হয়।র্যাব-১২-এর সিপিএসসি, বগুড়া সূত্রে জানা যায়, গত ৭ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর ইউনিয়নের কালুপুর পাইকড়তলা এলাকায় একটি গরুর খামারে চুরির ঘটনা ঘটে। ওই খামার থেকে পাঁচটি ষাঁড় গরু চুরি করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৬ লাখ টাকা।এ ঘটনায় ৩ মার্চ শিবগঞ্জ থানায় মামলা করা হয়। পরে তদন্তের স্বার্থে র্যাব-১২ চক্রটিকে ধরতে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।র্যাব জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, চক্রটির সদস্যরা বগুড়া থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে জড়ো হতেন। পরে চক্রের মূল হোতা জসিম উদ্দিন জুয়েল ট্রাক নিয়ে যোগ দিতেন। তাঁরা নওগাঁ, জয়পুরহাট ও চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় গরু চুরি করে বিক্রি করতেন।এর পরিপ্রেক্ষিতে বগুড়ার শিবগঞ্জ এলাকায় পৃথক অভিযানে তারাজুল ইসলাম ও সজল মণ্ডলকে আটক করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও অভিযানে সজিব মিয়া ওরফে টাইগার এবং শরিফুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।পরবর্তী সময়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় র্যাব-১২, বগুড়া ও র্যাব-৫, রাজশাহীর যৌথ অভিযানে রাজশাহীর তানোর এলাকা থেকে চক্রের সর্দার জসিম উদ্দিন জুয়েলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ঢাকা মেট্রো-ন ১৮-৪৪১০ নম্বরের একটি ট্রাক উদ্ধার করা হয়।র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে চক্রের সর্দারকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থানায় এবং অন্য চারজনকে বগুড়া সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
৩ এপ্রিল ২০২৬ বিকাল ০৪:১০:৫০
সিলেট বিভাগের সাংবাদিকদের মাঝে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট-এর উদ্যোগে সিলেট বিভাগের সাংবাদিকদের মধ্যে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ২য় ও ৩য় কিস্তির অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়েছে।শুক্রবার (০৩ এপ্রিল) মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসের হলরুমে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মোহাম্মদ আবদুল বাছির।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক জনাব মিজানুর রহমান, উপপরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব এ.বি.এম রফিকুল ইসলাম, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক জনাব মোঃ হাবিবুর রহমান এবং জেলা তথ্য অফিসার জনাব মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন।অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জনাব শেখ মাহমুদুর রহমান এবং মৌলভীবাজার জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন (রেজিঃ নং: মৌল-০৩৮)-এর সভাপতি জনাব মো. জাফর ইকবাল।বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সরকার সাংবাদিকদের কল্যাণে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পেশাগত ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা সাংবাদিকদের আর্থিক সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।তারা আরও বলেন, এই ধরনের অনুদান সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে উৎসাহ জোগাবে এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে। অনুষ্ঠানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন এবং তাদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।
৩ এপ্রিল ২০২৬ বিকাল ০৪:০৪:৩৬
সিরাজগঞ্জে যাত্রাবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চালকসহ নিহত ৩
যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের সিরাজগঞ্জের নলকায় বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হোড়গাঁতি ব্রিজের রেলিংয়ের সঙ্গে ধাক্কা লেগে চালকসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছে অন্তত ১০ জন।আহতদের উদ্ধার করে শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে মহাসড়কের রায়গঞ্জ উপজেলার নলকা গ্যাস অফিসের সামনে হোড়গাঁতী ব্রিজের ওপরে এ ঘটনা ঘটে। তাত্ক্ষণিকভাবে হতাহতদের নাম ও পরিচয় পাওয়া যায়নি।যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ওসি মো. আমিরুল ইসলাম জানান, শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে রংপুর থেকে ময়মনসিংহগামী বুশরা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস হোড়গাঁতি ব্রিজের ওপরে এসে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এ সময় বাসটি ব্রিজের রেলিংয়ের সঙ্গে লেগে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই চালকসহ ২ জন মারা যায়।খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও একজন মারা যায়।
বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বগুড়ার শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম শিরু (৬০)-কে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে জামিন নিতে হাজির হলে বিচারক তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।বগুড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক তাসকিন আহমেদ এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আল আমিন রাসেল।গ্রেপ্তার শফিকুল ইসলাম শিরু বগুড়ার শেরপুর উপজেলার শিনু এগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রির মালিক হিসেবে পরিচিত।মামলার বিবরণে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী আফরুজা আক্তার লিপির সঙ্গে ২০১০ সালে শিরুর বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি পুত্রসন্তান জন্ম নেয়, যার বর্তমান বয়স ১৪ বছর। তবে সন্তানের জন্মের পর থেকেই শিরু তাকে অস্বীকার করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।এ ঘটনায় সন্তানের পিতৃত্বের স্বীকৃতি চেয়ে ২০১৯ সালে শেরপুর সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন ওই নারী, যা বর্তমানে সোনাতলা সহকারী জজ আদালতে বিচারাধীন। একই বছরের ২৭ আগস্ট শিরু তাকে তালাক দেন।পরবর্তীতে দেনমোহর, খোরপোষ ও সন্তানের ভরণপোষণের দাবিতে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, এসব মামলা প্রত্যাহারের শর্তে শিরু পুনরায় তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। পরে সন্তানের পিতৃত্ব সংক্রান্ত মামলা রেখে অন্য মামলা প্রত্যাহার করলেও শিরু তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি।বরং ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ২৬ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সময় বিয়ের প্রলোভনে তাকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তাকে কাবিননামার মাধ্যমে বিয়ের কথা বললেও শিরু তা প্রত্যাখ্যান করেন।এরপর গত ১০ নভেম্বর শেরপুর থানায় বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী নারী। ওই মামলায় বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বগুড়া চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন শুনানির দিন ধার্য ছিল। শুনানিতে হাজির হলে বিচারক তার জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।মামলার বাদী আফরুজা আক্তার লিপি বলেন, “শিরু আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। তিনি আমার সন্তানের পিতৃত্ব স্বীকার করছেন না। বিয়ের পর তালাক দেন, এরপর মামলা তুলে নিতে বিয়ের প্রলোভন দেখান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিয়ে না করে আমার সঙ্গে জঘন্য অপরাধ করেছেন। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আল আমিন রাসেল জানান, এর আগে আসামি উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নিয়েছিলেন। তবে বৃহস্পতিবার নিম্ন আদালতে হাজির হলে বিচারক তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
২ এপ্রিল ২০২৬ রাত ১০:১৬:২৮
বগুড়ায় ৩ হাজার কৃষক পাচ্ছেন কৃষি কার্ড, শেষ তথ্য সংগ্রহ
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় প্রথম ধাপে তিন হাজারের বেশি কৃষক পাচ্ছেন কৃষি কার্ড। এ লক্ষ্যে কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম ইতোমধ্যে শেষ করেছে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে কৃষকদের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে যাচাই-বাছাইয়ের কাজ প্রায় সম্পন্ন করেছেন।জানা গেছে, আগামী পহেলা বৈশাখ (১৪ এপ্রিল) কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। প্রথম পর্যায়ে শিবগঞ্জ উপজেলার নির্বাচিত কৃষকদের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়া হবে।পাইলট প্রকল্পের অংশ হিসেবে দেশের ৮টি বিভাগের ১০টি উপজেলার ১০টি ব্লকে কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এর আওতায় বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার তিনটি ব্লকে কৃষকদের তথ্য যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়েছে।পিপিআইডিসির আওতায় প্রাথমিকভাবে রাজশাহী বিভাগের বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার কৃষকদের জন্য এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর আগে গত ১৬ মার্চ মোকামতলা বাজার এলাকায় নিয়মিত খাদ্য উৎপাদন কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শফিকুল ইসলাম কৃষকদের কৃষি কার্ড দেওয়ার বিষয়টি ঘোষণা করেন।কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ৮ মার্চ থেকে শিবগঞ্জ উপজেলায় কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়, যা এখন শেষ হয়েছে। পহেলা বৈশাখ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্ড বিতরণ শুরু হবে এবং প্রথম ধাপে তিন হাজারের বেশি কৃষক এই সুবিধার আওতায় আসবেন।এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা নামমাত্র মূল্যে কৃষি উপকরণ, সরকারি ভর্তুকি এবং উৎপাদনসংক্রান্ত বিভিন্ন পরামর্শ পাবেন। পাশাপাশি সহজ শর্তে কৃষিঋণ, কৃষি বীমা সুবিধা, কৃষিপণ্যের বিপণন সহায়তা, কৃষি প্রশিক্ষণ এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবহাওয়া ও বাজার সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যাবে। এছাড়াও ফসলের রোগবালাই দমনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হবে।এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ জানান, প্রাথমিকভাবে শিবগঞ্জ সদর ইউনিয়নের আওতাধীন ৬টি ব্লকে প্রায় এক হাজার হেক্টর জমির কৃষকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পুরো উপজেলায় কৃষক কার্ড বিতরণের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে এবং সব কৃষককে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে।
২ এপ্রিল ২০২৬ রাত ০৯:৫৩:১৬
শেরপুরে পৃথক অভিযানে ৬ জন গ্রেপ্তার
বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় পৃথক অভিযানে বিভিন্ন মামলায় মোট ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে নিয়মিত মামলায় ১ জন এবং ওয়ারেন্টভুক্ত ৩ জন রয়েছে। এছাড়া মাদক মামলায় ১ জনকে আটক করা হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় (যৌতুকের কারণে মারপিটের অভিযোগে) আরও ১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১ জনকে আটক করা হয়েছে।পুলিশ আরও জানায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
দারিদ্র্যের কষাঘাতে পিষ্ট হয়েও অদম্য মেধা ও কঠোর পরিশ্রমের জোরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন কুষ্টিয়ার মেধাবী ছাত্র ওমর। তবে মেধা থাকলেও ছিল না বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির নূন্যতম আর্থিক সামর্থ্য। ওমরের এই জীবনসংগ্রাম ও উচ্চশিক্ষার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে এগিয়ে এসেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় রিটেইল চেইন শপ ‘স্বপ্ন’ (Shwapno)। প্রতিষ্ঠানটি ওমরের উচ্চশিক্ষার যাবতীয় খরচ বহনের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।ওমর ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় সারাদেশে ৯০তম স্থান অর্জন করার পাশাপাশি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৫১তম এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৪৩তম স্থান পেয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। অভাবের তাড়নায় পড়াশোনার খরচ জোগাতে তাকে শ্রমিকের কাজও করতে হয়েছে।ওমরের পারিবারিক পটভূমি অত্যন্ত সংঘাতময়। দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় তার বাবা কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর থেকে তার মা অন্যের বাসাবাড়িতে কাজ করে কোনোমতে সংসার চালিয়ে নিচ্ছেন। এমন প্রতিকূলতার মাঝেও ওমর জিডি শামছুদ্দিন আহমেদ কলেজিয়েট স্কুল থেকে ২০২৩ সালে বাণিজ্য বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি এবং ২০২৫ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় ৪.৯২ পয়েন্ট পেয়ে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে কুষ্টিয়ার একটি কোচিং সেন্টারের শিক্ষকের সহায়তায় বিনা মূল্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তুতি নিয়ে তিনি এই ঈর্ষণীয় সাফল্য পান।নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ওমর বলেন, “স্কুল, কলেজ ও কোচিংয়ের শিক্ষকদের সহযোগিতায় আজ পর্যন্ত আমার লেখাপড়া হয়েছে। আমার পরিবারের সামর্থ্য নাই যে আমাকে একটা বই বা খাতা কিনে দেবে। স্বপ্ন (Shwapno) আজ যেভাবে আমার পাশে দাঁড়ালো, তা আমার এবং আমার মায়ের দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা দূর করে দিয়েছে। আমি এখন নিশ্চিন্তে পড়াশোনা করতে পারব।”সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ‘স্বপ্ন’ দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়। ওমরের পাশে দাঁড়ানো প্রসঙ্গে স্বপ্নের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বাস করে—ছোট কিন্তু নিয়মিত সহায়তাই একজন মেধাবী মানুষের জীবনে স্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারে। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মেধাবীদের সঠিক মূল্যায়ন ও তাদের জীবনমান উন্নয়নে স্বপ্নের এই ধরনের সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।ওমরের এই সাফল্য কেবল তার নিজের নয়, বরং বাংলাদেশের হাজারো সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীর জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। আর স্বপ্নের এই উদ্যোগ সেই অনুপ্রেরণাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা।
২ এপ্রিল ২০২৬ রাত ০৭:০৮:১৯
চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা ৩৮.৫ ডিগ্রি, গলে যাচ্ছে রাস্তার পিচ
তাপমাত্রার ঊর্ধ্বগতি চুয়াডাঙ্গার জনজীবনকে অস্থির করে তুলেছে। এক লাফে তাপমাত্রা বেড়ে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ শুরু হওয়ায় জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৩৪ শতাংশ, যা গরমের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।এর আগে গতকাল বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।হঠাৎ এই তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ ও মোটরসাইকেল চালকরা। বিশেষ করে জেলার বিভিন্ন তেল পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা চালকদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।এদিকে তীব্র গরমে সড়কের পিচ গলে উঠে যেতে দেখা গেছে। শহরে পৌরসভার সামনে এই চিত্র দেখা গেছে।চুয়াডাঙ্গা শহরের মোটরসাইকেল চালক রবিউল ইসলাম বলেন, এই গরমে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা খুব কষ্টকর। মাথা ঘুরে যায়। তেল নিতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে, এর মধ্যে গরমে শরীর একেবারে ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছে।আরেক চালক সুমন হোসেন বলেন, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে শরীর খারাপ হয়ে যাচ্ছে। তেলের জন্য যেমন কষ্ট, তার ওপর এই গরম— দুটো মিলে অবস্থা খুব খারাপ।শুধু চালকরাই নয়, দিনমজুরদের অবস্থাও করুণ হয়ে উঠেছে। তীব্র রোদে কাজ করতে গিয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।দিনমজুর আব্দুল মালেক বলেন, রোদ এত বেশি যে কাজ করতে পারি না ঠিকমতো। তবুও পেটের দায়ে কাজ করতে হচ্ছে। দুপুরের রোদে শরীর জ্বলতে থাকে।আরেক দিনমজুর হাবিবুর রহমান বলেন, এই গরমে কাজ করা খুব কষ্ট। একটু পরপরই বিশ্রাম নিতে হয়। কিন্তু বেশি বিশ্রাম নিলে আয় কমে যায়, তাই বাধ্য হয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান বলেন, চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো তাপমাত্রা ৩৮.৫ ডিগ্রি অতিক্রম করেছে। জেলার ওপর দিয়ে বর্তমানে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার পৌরসভার কলেজপাড়া এলাকায় অসুস্থ গরু জবাই করে মাংস বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করেছে।বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ৯টার দিকে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অসুস্থ একটি গরু অন্য স্থান থেকে এনে জবাই করা হয় এবং সেই মাংস বিক্রির উদ্দেশ্যে কলেজপাড়া এলাকায় নিয়ে আসা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালায় এবং জড়িত দুইজনকে আটক করে।আটককৃতরা হলেন—মো. শামসুজ্জামান (৩৯), পিতা: মৃত মো. ফজলুর রহমান, কলেজপাড়া এলাকামো. ছালাম মিয়া (৬৫), পিতা: মৃত আ. রহিম মিয়া, আনোয়ারপুর গ্রাম, উত্তর ইউনিয়নপরে ভ্রাম্যমাণ আদালত মো. ছালাম মিয়াকে ১০ হাজার টাকা এবং মো. শামসুজ্জামানকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে। একই সঙ্গে জব্দকৃত সকল মাংস জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়।অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. কফিলউদ্দিন মাহমুদ। তিনি জানান, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।