নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ মে ২০২৬ সকাল ১১:৪২:৩১
শোলাকিয়ায় তুমুল বৃষ্টিতে ঈদের জামাত
গত কয়েকদিন ধরে কিশোরগঞ্জের আকাশজুড়ে ছিল কালো মেঘে ঢাকা। ছিল টানা বৃষ্টি। তবে বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ঈদের দিন ভোরে আকাশে ছিল না কোনো মেঘ। কিন্তু শোলাকিয়া ঈদগাহে মুসল্লিরা জামাতে দাঁড়ানোর পরপরই আকাশ মেঘে কালো হয়ে নামে মুষলধারে বৃষ্টি। তুমুল সে বৃষ্টিতেই চলে ঈদের নামাজ। বৃষ্টির মধ্যেই শেষ হয় জামাত।
ভেজা কাদাময় মাঠেই ঐতিহ্যবাহী এ ঈদগাহ সাক্ষী হয় ১৯৯তম ঈদ জামাতের।
এর আগে রেওয়াজ অনুযায়ী, জামাত শুরুর ৫ মিনিট আগে তিনটি, ২ মিনিট আগে দুটি এবং ১ মিনিট আগে একটি শর্টগানের গুলি ফুটিয়ে নামাজের সংকেত দেওয়া হয়।
সকাল ৯টায় শুরু হয় জামাত। এতে ইমামতি করেন মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, ঐক্য ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
২০১৬ সালের জঙ্গি হামলার বিষয়টি মাথায় রেখে এবারও ঈদগাহ ময়দানে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ভেজা মাঠ ও আশপাশে মোতায়েন ছিল দুই প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি); শত শত পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), আর্মড পুলিশ ও আনসার সদস্যরা। বৃষ্টির মধ্যেই কাজ করেন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট পুরো মাঠ পরীক্ষা করে নিশ্চিত করা হয় নিরাপত্তা। মাঠজুড়ে ছিল সিসিটিভি ক্যামেরা ও ওয়াচ টাওয়ার।
বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধায় দুটি বিশেষ ট্রেন চলাচল করে। একটি ভৈরব থেকে এবং অন্যটি ময়মনসিংহ থেকে। ভেজা সড়ক ও বৃষ্টির মধ্যেও হাজারো মানুষ শোলাকিয়া অভিমুখে রওনা হন। কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম এবং প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলের নেতারা জামাতে অংশ নেন।
ময়মনসিংহের নান্দাইলের মো. আলাউদ্দিন ১২ বছর ধরে শোলাকিয়ায় নামাজ পড়েন। এবার বৃষ্টিতে ভিজেই সেখানে এসেছেন।
তিনি বলেন, ‘বৃষ্টি থাকলেও শোলাকিয়ার নামাজ মিস করি না। এই অনুভূতি অন্যরকম।’ সাইকেলে চড়ে ভিজতে ভিজতে আসেন কুলিয়ারচরের আলী আকবর। তিনি বলেন, ‘বৃষ্টি হোক বা রোদ-এখানে নামাজ পড়ার শান্তিটাই আলাদা।’
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজাবে রহমত বলেন, বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও আমরা সব প্রস্তুতি সম্পন্ন রেখেছিলাম। মুসল্লিদের সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণভাবে জামাত সম্পন্ন হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, বৃষ্টি ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল অটুট। এটি আমাদের জন্য সফল আয়োজন।
কিশোরগঞ্জ শহরের পূর্ব প্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীর ঘেঁষে অবস্থিত শোলাকিয়া ঈদগাহ ১৭৫০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
জনশ্রুতি অনুযায়ী, ১৮২৮ সালে এখানে সোয়া লাখ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করেছিলেন। সেখান থেকেই এর নাম শোলাকিয়া।