নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৬ সকাল ১০:৩২:১৪
বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় পতন
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে পতন ঘটেছে সোনার দামে। সোনা ১ শতাংশের বেশি কমে ১১ সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, বুধবার (১০ জুন) সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৮৭ দশমিক ৫৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। যা গত ২৩ মার্চের পর সর্বনিম্ন। একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২১৩ দশমিক ৪০ ডলারে নেমে আসে।
ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ বাড়ায় মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে বাজারে ধারণা জোরদার হয়েছে, সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়েই থাকতে পারে।
বৈশ্বিক আর্থিক বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান টেস্টিলাইভের গ্লোবাল ম্যাক্রো বিভাগের প্রধান ইলিয়া স্পিভাক বলেন, স্বর্ণের ওপর সবচেয়ে বেশি চাপ তৈরি করছে ফেডারেল রিজার্ভের নীতিগত প্রত্যাশার পরিবর্তন, বন্ডের ফলন বৃদ্ধি এবং ডলারের শক্তিশালী অবস্থান।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা চালায়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, তেহরান হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে। এতে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে এবং নাজুক যুদ্ধবিরতিও চাপের মুখে পড়েছে।
বর্তমানে সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরের মধ্যে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন সম্ভাবনা ৭০ শতাংশেরও বেশি ধরে নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
যদিও স্বর্ণকে সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হয়, তবে উচ্চ সুদের হার সুদবিহীন এই ধাতুর চাহিদা কমিয়ে দেয়।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্য মূল্যবান ধাতুগুলোর মধ্যেও দরপতন দেখা গেছে। স্পট সিলভারের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৪ দশমিক ৪৩ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনাম ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৭৮ দশমিক ১০ ডলার এবং প্যালাডিয়াম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১ হাজার ২১২ দশমিক ৩১ ডলারে লেনদেন হয়েছে।