রাকিবুল ইসলাম, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৭ মে ২০২৬ সকাল ১১:৫১:০৩
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে লক্ষ্মীপুরের ১১ গ্রামে আগাম ঈদুল আজহা উদযাপন
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর, রামগঞ্জ ও সদর উপজেলার ১১টি গ্রামে আগাম পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করা হয়েছে। বুধবার (২৭ মে) সকাল ৭টায় জেলার বিভিন্ন ঈদগাহ ও খোলা মাঠে পৃথক পৃথক ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
জানা যায়, রামগঞ্জ উপজেলার পার্ক এভিনিউ জাহাঙ্গীর টাওয়ার এলাকা, নোয়াগাঁও, জয়পুরা, বিঘা, বড়া ঘরিয়া, হাটাটিয়া, শরশাই, কাঞ্চনপুর, রায়পুর উপজেলার কলাকাপাসহ সদর উপজেলার বশিকপুর এলাকায় মুসল্লিরা ঈদের নামাজ আদায় করেন।
স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, মাওলানা ইসহাক (রহ.)–এর অনুসারীরা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পবিত্র মক্কা ও মদিনার সময় অনুযায়ী ঈদসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করে আসছেন। এসব গ্রামের মুসল্লিরা গত ৪৯ বছর ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করে আসছেন।
ঈদের নামাজ শেষে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করেন মুসল্লিরা। এছাড়া ঈদকে ঘিরে বিভিন্ন ঈদগাহ এলাকায় বসে ছোট ছোট মেলা। সেখানে শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সী মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। মেলায় বিভিন্ন ধরনের পণ্য কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করেন স্থানীয়রা।
রামগঞ্জ উপজেলার খানকায়ে মাদানিয়া কাসেমিয়া ঈদগাহের ইমাম মাওলানা রুহুল আমিন বলেন, একসময় বিজ্ঞানের এত উন্নতি না থাকায় দ্রুত সংবাদ আদান-প্রদান সম্ভব ছিল না। কিন্তু বর্তমান যুগে পৃথিবীর এক প্রান্তে চাঁদ দেখা গেলে অন্য প্রান্তেও তা অনুসরণ করা যায়। চার মাজহাবের মতানুযায়ী আমরা সেই আলোকে ধর্মীয় কার্যক্রম পালন করে আসছি। ভবিষ্যতেও আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এ ধারা অব্যাহত থাকবে, ইনশাল্লাহ।
রায়পুর উপজেলার কলাকপা গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল কাদের বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করে আসছি। প্রতি বছরের মতো এবারও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেছি। ঈদকে ঘিরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
তবে একই এলাকার অনেক মুসল্লি দেশের চাঁদ দেখার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরদিন ঈদ উদযাপন করবেন বলে জানান। স্থানীয় বাসিন্দা মো. হাবিবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ সরকারের ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা ঈদ পালন করি। তাই সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আগাম ঈদ উদযাপনে আমরা অংশ নিইনি।