কালকিনি মাদারীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ০৬:০১:২০
সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের পাথর ও অনিয়মের অভিযোগ: সরেজমিনে মাদারীপুরের এমপি জাহান্দার আলী
মাদারীপুর সদর উপজেলা থেকে মোস্তফাপুর পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ আঞ্চলিক মহাসড়কের পুনর্নির্মাণ ও সংস্কারকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষানিরীক্ষা ছাড়াই নিম্নমানের পাথর ও নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের সত্যতা পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কাজ সাময়িক স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য।
শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর দুপুরে মাদারীপুর-শরীয়তপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের খাগদি এলাকায় চলমান সংস্কারকাজ সরেজমিনে পরিদর্শনে যান মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী জাহান।
পরিদর্শনকালে তিনি সড়ক নির্মাণে ব্যবহৃত পাথরের মেটেরিয়ালসহ বিভিন্ন সামগ্রী নিজে পরীক্ষা করে একাধিক অসঙ্গতি হাতেনাতে ধরে ফেলেন। এ সময় এমপি নির্দেশ দেন, ল্যাবরেটরিতে নির্মাণসামগ্রীর গুণগত মান পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে শতভাগ মান নিশ্চিত করার পরই কেবল কাজ এগিয়ে নেওয়া যাবে।
পরিদর্শনের সময় স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা অভিযোগ করেন, ল্যাব পরীক্ষার তোয়াক্কা না করেই তড়িঘড়ি করে সংস্কারকাজ চালানো হচ্ছিল। সরকারি বিপুল অর্থে নির্মিত এ সড়কের মান যাচাই ও প্রকৌশলগত তদারকিতে এমন ঢিলেঢালা ভাব থাকলে সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন থেকে যায়। মানহীন সামগ্রী ব্যবহারের কারণে হস্তান্তরের অল্প দিনের মধ্যেই সড়কটিতে পুনরায় ভাঙন ও ফাটল দেখা দেওয়ার আশঙ্কা ব্যক্ত করে নিয়মিত প্রকৌশল তদারকি নিশ্চিতের দাবি জানান সংশ্লিষ্টরা।
সড়কের কাজ ও মেটেরিয়ালের মান নিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকরা মাদারীপুর সড়ক বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো সন্তোষজনক ও সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। দায়িত্বশীল কর্মকর্তার এমন গাফিলতিতেও উপস্থিত স্থানীয়দের মাঝে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ২৫ কোটি ১০ লাখ ৮২ হাজার টাকা ব্যয়ে মাদারীপুর সদর থেকে মোস্তফাপুর পর্যন্ত সড়কটির পূর্ণ পুনর্নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন পায়। জেলা সড়ক বিভাগের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়নাধীন কাজটি করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘অরিয়েন্ট ট্রেডিং অ্যান্ড বিল্ডার্স লিমিটেড’ (টেন্ডার আইডি: ১১৭৬২৯১)।
এদিকে চলতি বছরের মার্চ মাসে সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু হলেও কাজ চলাকালেই বিভিন্ন স্থানে বিপজ্জনক গর্ত, ফাটল ও সড়ক দেবে যাওয়ার চিত্র দেখা গেছে।