ব্রিকস সম্মেলনের সাইডলাইনে মোদি-শি বৈঠক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ০৯:১৬:৫৯
কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিকোণ থেকে ভারত-চীন সম্পর্ক উন্নয়নের আহ্বান
ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলোচনাকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, উভয় দেশই একে অপরের শক্তি থেকে পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা নিতে পারে এবং একে অপরকে সমর্থন যোগাতে পারে। করেছে। চীন সব সময় কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিকোণ থেকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বিবেচনা ও তা উন্নত করে এসেছে।
সাত বছরের মধ্যে নিজের প্রথম ভারত সফরে আজ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে পৌঁছান প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং সীমান্ত সমস্যা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন। খবর এনডিটিভির।
চীনের প্রেসিডেন্টের দুই দিনব্যাপী এই সফরটি এমন সময়ে হচ্ছে যখন ভারত রাজধানী নয়াদিদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করছে। শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকেই শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন।
বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘আপনাকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে আপনার ইতিবাচক মন্তব্যের জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বকালে চীনের কাছ থেকে প্রাপ্ত সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এখন আমাদের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ রয়েছে। ভারতে আপনাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা।’
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উল্লেখ করেন, তিনি তাঁর জন্মদিনে—১৫ জুন—ভারত সফরের আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন এবং যোগ করেন, গত কয়েক বছরে তাঁদের ২১টি বৈঠকে তিনি ও প্রধানমন্ত্রী মোদি ভারত-চীন সম্পর্ককে একটি ধারাবাহিক ও স্থিতিশীল উন্নয়নের পথে পরিচালিত করেছেন।
প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, ‘আমার জন্মদিনে আমি আপনার নিজ শহর সফরের আমন্ত্রণ পাই। আমরা ২১ বার সাক্ষাৎ করেছি এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্যে পৌঁছেছি, যা চীন-ভারত সম্পর্ককে একটি স্থিতিশীল উন্নয়নের পথে পরিচালিত করেছে। চীন সব সময় কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিকোণ থেকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বিবেচনা ও তা উন্নত করে এসেছে। যদিও আমাদের দুটি দেশের জাতীয় পরিস্থিতি ভিন্ন, তবুও আমরা একে অপরের শক্তি থেকে সম্পূর্ণ শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি, পরস্পরকে সমর্থন করতে পারি, যৌথভাবে সাফল্য অর্জন করতে পারি এবং অভিন্ন উন্নয়ন সাধন করতে পারি।’
শি জিনপিং আরও বলেন, ‘এক শতাব্দীতে না দেখা গভীর পরিবর্তন এবং নজিরবিহীন মহামারীর মুখে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দুটি দেশ এবং গ্লোবাল সাউথের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে চীন ও ভারতের কাঁধে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। উভয় পক্ষেরই মানবজাতির ভবিষ্যৎ মনে রাখা উচিত এবং নিজেদের জনগণের কল্যাণের দিকে খেয়াল রাখা উচিত, যাতে প্রধান দেশ হিসেবে ভূমিকা রাখতে একসাথে কাজ করা যায়। আমাদের একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল বহুমুখী বিশ্বকে সমর্থন করা উচিত, নিজস্ব স্বার্থকে ব্যক্তিগতকরণ বা প্রাধান্য দেওয়া উচিত নয় এবং বিশ্ব শান্তি, স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে আরও ইতিবাচক ভূমিকা রাখা উচিত।’
দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক সামগ্রিক পর্যালোচনা করবেন এবং পারস্পরিক সংশ্লিষ্টতা বৃদ্ধির জন্য নতুন পদক্ষেপ বিবেচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে পারে ‘প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বা এলএসি’র বিষয়টি, যা দুই দেশের মধ্যকার বিরোধপূর্ণ সীমান্ত এলাকা।
ভারত বারবার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও প্রশান্তি বজায় রাখা অন্যান্য সম্পর্কের প্রসার ঘটানোর জন্য অপরিহার্য। এর বিপরীতে চীন ঐতিহাসিকভাবে দাবি করে এসেছে যে, সীমানা সংক্রান্ত বিরোধকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্যান্য দিক থেকে আলাদা রেখে সমাধান করা উচিত।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের এই বৈঠকটি দুই সরকারের মধ্যে বেশ কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময়ের পর অনুষ্ঠিত হলো। গত মাসের শেষের দিকে বেইজিংয়ে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সাথে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ে বৈঠক করেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। ওই আলোচনায় সীমানা নির্ধারণ, সীমান্ত পারাপার সহযোগিতা এবং এলএসি বরারবর শান্তি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা অন্তর্ভুক্ত ছিল।