নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৬ রাত ০৭:৫৩:৪৬
চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদ সচেতন নাগরিকবৃন্দের
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন “চট্টগ্রাম শহরের লালখান বাজার হতে শাহ্-আমানত বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ” (শহীদ ওয়াসিম আকরাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে) প্রকল্প নিয়ে একটি মহলের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন চট্টগ্রামের সচেতন নাগরিকবৃন্দ। সম্প্রতি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ফেসবুক পোস্ট, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং কিছু গণমাধ্যমে এই মেগা প্রকল্প নিয়ে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, সরকারের এই দৃশ্যমান উন্নয়নমূলক কাজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যেই একপেশে তথ্যের ভিত্তিতে এমন নেতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে, যা সাধারণ নগরবাসীর বাস্তব অভিজ্ঞতার সাথে কোনোভাবেই সংগতিপূর্ণ নয়।
সচেতন নাগরিকবৃন্দের পক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এক্সপ্রেসওয়ের কার্যকারিতা কিংবা নকশা নিয়ে যে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, তা একেবারেই অবাস্তব। এই মেগা প্রকল্পের সুবাদে পতেঙ্গা, বিমানবন্দর এবং বঙ্গবন্ধু টানেলমুখী যাতায়াতের সময় ও ভোগান্তি এখন আশাতীতভাবে কমে এসেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকার চিরচেনা রূপ থেকে নগরবাসী এখন দীর্ঘমেয়াদি স্বস্তি পাচ্ছে। বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়কে সংযুক্ত করার দূরদর্শী পরিকল্পনা থেকেই এই এক্সপ্রেসওয়ের নকশা ও র্যাম্প নির্ধারণ করা হয়েছে। বড় অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে সাময়িক কিছু জনদুর্ভোগ হওয়া স্বাভাবিক হলেও, সেটিকে পুঁজি করে পুরো একটি রাষ্ট্রীয় সফল প্রকল্পকে ব্যর্থ বা ত্রুটিপূর্ণ হিসেবে উপস্থাপন করা অত্যন্ত দুঃখজনক।
বিবৃতিতে প্রকল্পটির টোল ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগকেও সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রকৃত তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের পর সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে এই উড়াল সড়কে টোল আদায় কার্যক্রম শুরু হয়। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সরবরাহকৃত সফটওয়্যারটি চউকের সিস্টেম অ্যানালিস্টের দপ্তর থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে এবং চউকের চেয়ারম্যান ও সচিবের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ব্যাংকিং চ্যানেলের (ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি) মাধ্যমে আদায়কৃত অর্থ সংরক্ষণ করা হচ্ছে। বর্তমানে এই এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে দৈনিক গড়ে ৮ হাজার ৭০০টি যানবাহন চলাচল করছে এবং প্রতিদিন গড়ে ৬ লক্ষ ১৬ হাজার টাকা টোল সংগৃহীত হচ্ছে। এই পুরো প্রক্রিয়ার সাথে প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বা প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোনো আর্থিক সম্পৃক্ততা নেই।
একটি বৃহৎ উন্নয়নমুখী প্রকল্পের বাস্তব সুফলকে আড়াল করে সাধারণ পাঠকদের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়ানোর এই অপচেষ্টা রুখতে গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। সত্য ও নিরপেক্ষতার স্বার্থে এই স্পষ্টীকরণ বক্তব্যটি যথাযথ গুরুত্বের সাথে প্রকাশ করে দেশবাসীকে সঠিক তথ্য জানার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য সচেতন নাগরিক সমাজ সংশ্লিষ্ট সংবাদ মাধ্যমগুলোর প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।