নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬ দুপুর ১২:৩৯:১৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হাসপাতালের নারী কর্মচারীকে মারধর ও শ্লীলতাহানি,থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নারী কর্মচারীকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় উভয় পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। এরই মধ্যে ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ভিডিও ঘিরে সামনে এসেছে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগও।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কুমারশীল মোড়ে অবস্থিত যমুনা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গত শনিবার(১৬ মে)সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তবে সোমবার বিকেল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে।
হাসপাতালের রিসেপশনিস্ট তাসলিমা আক্তারের অভিযোগ, কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ঘিরে ধরে মারধর ও শ্লীলতাহানি করেন। প্রাণনাশের আশঙ্কায় তিনি একটি কক্ষে আশ্রয় নেন এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় তিনি সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে লিপি বেগম, জামাল মিয়া, আতিক, কাউছার, জাকির ও খায়েরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
তাসলিমা আক্তারের দাবি, হাসপাতালের বাইরে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়কে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানোয় অভিযুক্তরা ক্ষুব্ধ হয়ে তার ওপর হামলা চালায়। এমনকি ঘটনার সময় হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় ফার্মেসি মালিক জামাল মিয়া। তার দাবি, প্রথমে তার ভাগিনাকে মারধর করেন তাসলিমা আক্তার এবং পরে তাকেও আঘাত করা হয়। এ ঘটনায় তিনিও থানায় পৃথক অভিযোগ দিয়েছেন।
হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাউসার মিয়া দাবি করেন, ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে। সম্পাদিত ভিডিও ব্যবহার করে হাসপাতালের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, সিসিটিভি ফুটেজে তাসলিমা আক্তারকে ফার্মেসি মালিককে মারধর করতে দেখা গেছে।
এদিকে হাসপাতালের চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী অভিযোগ করেছেন, ঘটনার সময় হাসপাতালে ভাঙচুর চালানো হয়। সিসিটিভি ক্যামেরা ও ডিভিআর যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত এবং সরিয়ে নেওয়ায় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
জুলফিকার আলীর দাবি, ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে শোনা যায়। এ ঘটনার পর তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ওসি শহীদুল ইসলাম বলেন, উভয় পক্ষ থানায় অভিযোগ দিয়েছে। তাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ ব্যবসায়িক বিরোধ রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, ভাইরাল ভিডিও এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ ঘিরে পুরো ঘটনা তদন্ত করছে পুলিশ। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।