সংক্রামক রোগ হাম ও এর উপসর্গে সারাদেশে (শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) গত ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে আরও এক হাজার ২০ জন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাম বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিম হামে একজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর হাম সন্দেহে মারা গেছে চারজন।এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার ৫৩ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মারা গেছে ১০১ জন এবং হাম সন্দেহে ৯৫২ জন।
১৮ ঘন্টা আগে
দেশের দুর্গম উপকূল, দ্বীপ ও চরাঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে ভাসমান হাসপাতাল ‘স্বাস্থ্য তরী’ নির্মাণের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। আজ শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর বাবুবাজার ব্রিজের নিচে ভাসমান হাসপাতাল নির্মাণ পরিকল্পনা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।এ সময় নৌ-পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান তার সঙ্গে ছিলেন। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ও নৌ-পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী এ সময় ভাসমান হাসপাতাল ‘স্বাস্থ্য তরী’ পরিদর্শন করে স্বাস্থ্য সেবার উপযোগিতা ও সেবা কার্যক্রমের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।পরিদর্শনকালে এম এ মুহিত বলেন, ‘সরকারের স্বাস্থ্য পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো পিছিয়ে পড়া ও দুর্গম অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে উপকূল, দ্বীপ ও চরাঞ্চলের মানুষের কাছে মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে ভাসমান হাসপাতাল বা ‘স্বাস্থ্য তরী’ চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, এর মাধ্যমে দক্ষিণবঙ্গের অন্তত চার থেকে পাঁচটি জেলার ৩০ থেকে ৪০টি দুর্গম উপজেলায় জটিল কিন্তু সচরাচর দেখা যায় এমন রোগের আধুনিক চিকিৎসা ও সার্জারির ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে।সরকারি সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত বলেন, অতীতে বেসরকারি উদ্যোগে ক্ষুদ্র পরিসরে ভাসমান হাসপাতালের ভালো কিছু নজির রয়েছে। তবে সরকারি ব্যবস্থাপনায় নৌ-পরিবহণ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান সীমিত সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধার কার্যকর সমন্বয় ঘটিয়ে একটি সমন্বিত নৌ-ভিত্তিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে তা উপকূলবাসীর জন্য যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, গ্রামে-গঞ্জে নারীদের স্বাস্থ্যসেবা, মিডওয়াইফদের মাধ্যমে নিরাপদ প্রসব ও প্রসব-পরবর্তী সেবা, শিশুস্বাস্থ্য, সাধারণ অর্থোপেডিক বা হাড়ের সার্জারি এবং চোখের ছানি অপারেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলোর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে দল গঠন করে এই জাহাজের মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের কাছে এসব সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।এ সময় নৌ-পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান বলেন, ‘বরিশাল, নোয়াখালী, ভোলা, পটুয়াখালী ও বরগুনার দুর্গম চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে বিকল্প উপায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি আমাদের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ছিল। বিশেষ করে যেসব প্রান্তিক মানুষ চিকিৎসার জন্য চাইলেও জেলা সদর হাসপাতাল কিংবা ঢাকায় যেতে পারেন না, তাদের দোরগোড়াতেই সেবা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব ড. এ এন এম বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজীসহ বিআইডব্লিউটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১ দিন আগে
সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে হাম-সংক্রান্ত রোগে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৪৮ জনে। এরমধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ১০০ জনের।শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাম বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টার মধ্যে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু না হলেও সন্দেহজনক হামে দুইজন মারা গেছে। এ নিয়ে গত ১০ এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত হাম-সংক্রান্ত রোগে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৪৮ জনে।এ ছাড়া, নতুন করে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৫২ জনের। একই সঙ্গে নতুন সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে এক হাজার ২৪৫ জন।কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবা বাড়াতে ৩৯৭ কোটি টাকার প্রকল্প উঠছে একনেকেস্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ১০ এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগী পাওয়া গেছে এক লাখ ৭৭ হাজার ৭২৫ জন। অন্যদিকে, একই সময়ে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ২০ হাজার ৩৯৫ জন।বিভাগভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, নিশ্চিত হামে সবচেয়ে বেশি ৬৩ রোগী মারা গেছে ঢাকায়। এ ছাড়া বরিশালে ১৯, চট্টগ্রামে ১০, সিলেট ও রাজশাহীতে তিনজন করে এবং ময়মনসিংহে দুইজন মৃত্যুবরণ করেছে।এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৪২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া সিলেটে ১৬৫, রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৭৭, চট্টগ্রামে ৭৪, বরিশালে ৫৯, খুলনায় ৪০ ও রংপুরে ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছে।
১ দিন আগে
ডেঙ্গু প্রতিরোধে কেবল চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে মানুষের আচরণগত পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে দেশের জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের একযোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি এটিকে নিছক পেশাগত দায়িত্ব হিসেবে না দেখে, একটি জীবন বাঁচানোর আন্তরিক সামাজিক দায়বদ্ধতা ও প্যাশন নিয়ে সৃজনশীল কাজ করার অনুরোধ জানান।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কনফারেন্স রুমে দেশের শীর্ষস্থানীয় কনটেন্ট নির্মাতা ও সোশ্যাল মিডিয়া কমিউনিকেটরদের সঙ্গে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এই আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, এই উদ্যোগটি প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা কর্মসূচিরই অংশ। গত শনিবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় কয়েক হাজার স্বেচ্ছাসেবী তরুণকে সঙ্গে নিয়ে সারাদেশে একযোগে আগামী ৩ মাসব্যাপী এই বিশেষ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।সেই জাতীয় উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রস্তুতি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী ড. মুহিত বলেন, ‘ডেঙ্গু চিকিৎসায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিন হাজার চিকিৎসককে রিফ্রেশার ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে, স্যালাইনের সরবরাহ ও হাসপাতালের বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কিন্তু শুধু চিকিৎসা দিয়ে মৃত্যু ও সংক্রমণ ঠেকানো সম্ভব নয়; দরকার মানুষের আচরণগত পরিবর্তন। মানুষ যাতে সচেতন হয়ে সরাসরি ঘরবাড়ি পরিষ্কারের মতো পদক্ষেপ নেয়, সেই কার্যকর কাজটি করতে পারেন আপনারা—কনটেন্ট নির্মাতারা। মানুষ আপনাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনে।’বৈঠকে জানানো হয়, গতানুগতিক সরকারি প্রচারণার বৃত্ত ভেঙে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে দেশের জনপ্রিয় ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের পাশে চায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড এম এ মুহিত বৈঠকে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আগামী তিন মাসের একটি সমন্বিত রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।বৈঠকে আগামী তিন মাসের একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। অংশগ্রহণকারী ক্রিয়েটর ও এজেন্সিগুলোকে শিগগিরই তাদের প্রাথমিক ধারণা ও রূপরেখা জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।আনুষ্ঠানিকভাবে আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহের এই ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের কনটেন্ট প্রচারের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
২ দিন আগে