দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিম হামে মারা গেছে ২ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৫ জন। একইসময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৬৫৪ জন।বুধবার (৬ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।এতে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬৮ জনে।১৫ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ছয় হাজার ৯৯ জন। হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ২৬৮ জন। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৪ হাজার ২৬০ জন।এখন পর্যন্ত হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩০ হাজার ৮৮৫ জন এবং সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ২৭ হাজার ২২৩ জন।
২১ ঘন্টা আগে
প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, স্বাস্থ্যসেবা কোনো সুবিধা নয় বরং এটি প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার।তিনি বলেন, ‘দেশের স্বাস্থ্যখাত দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার হয়েছে। তবে সরকার এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে, যাতে কোনো নাগরিক প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন।’আজ মঙ্গলবার রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী অঙ্গীকারের আলোকে সাধারণ জনগণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ‘স্বাস্থ্যসেবার সমতা প্রতিষ্ঠায় ঢাকা-১৭ এর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন’ শীর্ষক এই মতনিবিময় সভার আয়োজন করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল।ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, আজকে আমরা এখানে একত্রিত হয়েছি কড়াইল, ভাসানটেক ও সাততলা বস্তিবাসীর জন্য সাধ্যমতো সর্বাত্মক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করার জন্য। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত দীর্ঘদিনের অবহেলার শিকার।তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলো অতিরিক্ত চাপের মুখে। স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরুৎসাহিত ও অসমভাবে বঞ্চিত। মানসম্মত সেবায় প্রবেশাধিকার পেতে প্রতিদিন লাখো মানুষ লড়াই করছে। স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৭২ শতাংশ সরাসরি জনগণ বহন করে। ফলে অসুস্থতা এখন দারিদ্র্যের অন্যতম প্রধান কারণ।প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য, আর কোনদিন কড়াইল-ভাসানটেক ও সাততলার জনগণ চিকিৎসাসেবা থেকে যেন বঞ্চিত না হয়। নবজাতক শিশু থেকে শুরু করে বয়োজেষ্ঠ্য সবাই যেন সুচিকিৎসা পায়। অন্তঃসত্ত্বা মা-বোনেরা জটিল সমস্যার সমাধান এবং চিকিৎসা যেন সহজে ও দ্রুত পায়।তিনি বলেন, এই এলাকায় মূলত তাদের বসবাস, যারা এই শহরের জীবনযাত্রা চলমান রেখেছে। পোশাক শিল্পকে উজ্জ্বল করেছে। তাদের অসাধারণ শ্রম প্রতিটি কর্মক্ষেত্রকে সচল রেখেছে। কিন্তু শতকরা ৪২.৬ শতাংশ এলাকাবাসী প্রতিদিন স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান খোঁজে স্থানীয় ফার্মেসিতে। তারা যে কোনো মূল্যে সুস্থ হতে চায়। যেন অসুস্থার জন্য ছুটি নিতে না হয়, যা সত্যিই অভাবনীয়।ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, আমাদের এই এলাকাবাসীর মধ্যে কয়েকজন নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবী প্রয়োজন, যারা সবাইকে অবহিত করবেন এই চিকিৎসা সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের নাম। সেই নাম কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল। আমি আশাবাদী, ঢাকা-১৭ আসনের অন্তর্গত স্বেচ্ছাসেবী ও কুর্মিটোলার সদস্যরা একত্রিত হয়ে বহু প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হবে। এখানকার স্বাস্থ্যসেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, স্বাস্থ্য সেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার।এর আগে ডা. জুবাইদা রহমান কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের প্যাথলজি প্যাভিলিয়ন, গ্যাস্ট্রোলিভার সেন্টার ও ৫০ শয্যা আইসিইউ’র উদ্বোধন করেন।উদ্বোধনের পর ডা. জুবাইদা রহমান আইসিইউতে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন এবং চিকিৎসা সেবার মান সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিতে চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, বিএনপি’র ঢাকা-১৭ নির্বাচনী পরিচালনা কমিটি’র যুগ্ম সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন বক্তব্য রাখেন।অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য (ডা. জুবাইদা) যিনি আজকে আপনাদের সামনে এসেছেন। এটা দায়বদ্ধতার প্রতিফলন।সবার জন্য সুস্বাস্থ্য, এটা আমাদের প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই আসাটা জনগণের মধ্যে আশার আলো সৃষ্টি করবে। বুঝতে হবে, আমাদের প্রধানমন্ত্রী দেশে একটা দায়বদ্ধতার রাজনীতির মেরুকরণ নতুনভাবে সৃষ্টি করতে চান।বর্তমান সরকারের আমলে বাংলাদেশে চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রে গুণগত পরিবর্তন আসবে এমন আশা প্রকাশ করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমাদের এই আমলে চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রে দ্রুত একটা গুণগত পরিবর্তন আসবে। সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে তা প্রমাণ করেছেন।তিনি বলেন, ইতিহাস থেকে জানি, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সরকারের সময়ে কৃষি ও সেচ ব্যবস্থার উন্নতির ফলে খাদ্য উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছিল। এখন আমরা চিকিৎসা এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে যদি এরকম দ্রুত সময়ের মধ্যে একটা পরিবর্তন আনতে পারি সেটাই হবে বড় সফলতা।হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুর রহমান জানান, নতুন আইসিইউ ইউনিটে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষিত জনবল এবং সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলে গুরুতর অসুস্থ রোগীরা দ্রুত ও মানসম্মত চিকিৎসা পাবেন।সূত্র: বাসস।
১ দিন আগে
গত ২৪ ঘণ্টায় হাম-সংক্রান্ত রোগে ছয়জন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে দুজন হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বাকি চারজনের মৃত্যু হয়েছে রোগটির উপসর্গ নিয়ে।আজ মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ২৬৩ জন।১৫ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন পাঁচ হাজার ৭২৬ জন। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৪২ হাজার ৯৭৯ জন।এ পর্যন্ত হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৯ হাজার ৮৩১ জন ও সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ২৬ হাজার ৩৬৮ জন।
১ দিন আগে
দেশে হাম পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে দুইজন এবং উপসর্গ নিয়ে মারা যায় ১৫ জন। মারা যাওয়া সবাই শিশু। এর আগে একদিনে এতসংখ্যক শিশুর মৃত্যু হয়নি।সোমবার (৪ মে) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো হাম সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, হাম নিয়ে গত একদিনে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ১৪৫৬ জন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোলরুম থেকে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা এক হাজার ৩০২ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৪১ হাজার ৭৯৩ জন।গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৫৪ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ মে পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা পাঁচ হাজার ৪৬৭ জন।১৫ মার্চ থেকে ৪ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৮ হাজার ৮৪২ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২৫ হাজার ১৫১ জন।গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ৪ মে পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরও ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ৪ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ২৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। যা হাঁচি-কাশির মাধ্যমে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে আশপাশের অনেকেই সহজেই সংক্রমিত হতে পারে। প্রথম দিকে জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, এসব উপসর্গ দেখা দেয়। সাধারণত তিন থেকে চার দিন পর শরীরে লালচে ফুসকুড়ি বা র্যাশ ওঠে, যা হামের প্রধান লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত।টিকার আওতায় আসার কারণে বাংলাদেশে হাম পরিস্থিতি অনেক বছর ধরেই নিয়ন্ত্রণেই ছিল। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের বিদায় এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময় টিকাদানে ঘাটতির কারণে রোগটি ভয়াবহ আকার ধারণ করে।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, ৯৫ শতাংশ মানুষ টিকা পেলে সংক্রমণ ছড়ায় না। কিন্তু আমাদের দেশে গত দেড়-দুই বছরে এই হার নেমে এসেছে প্রায় ৫৭ শতাংশে। হামের টিকা দুই ধাপে দেওয়া হয়, প্রথমটি ৯ মাসে এবং দ্বিতীয়টি ১৫ মাসে। কিন্তু অনেক শিশু দ্বিতীয় ডোজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে পূর্ণ সুরক্ষা পাচ্ছে না তারা। বিশ্বে প্রথম ডোজের কভারেজ প্রায় ৮৬ শতাংশ হলেও দ্বিতীয় ডোজ ৭৪-৭৫ শতাংশে নেমে যায়। দেশে দুই ডোজ মিলিয়ে গড় হার আরও কম।জানা গেছে, আক্রান্ত শিশুদের বড় অংশই ৬ মাস থেকে এক বছরের মধ্যে। এ কারণে সরকার সম্প্রতি টিকার প্রথম ডোজ ৬ মাসে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই অনুযায়ী সারাদেশে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে।
২ দিন আগে