ইরানের সঙ্গে চলমান যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধাবস্থার মধ্যে ফের বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়েছে। ৪ আগস্ট মঙ্গলবার স্বর্ণের দাম সামান্য বেড়েছে। রয়টার্স বলছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং চলতি সপ্তাহে প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার প্রতিবেদনের অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। ওই কারণে বেড়েছে স্বর্ণের দাম।এদিন সকাল ৯টার দিকে স্পট গোল্ডের দাম ০.২ শতাংশ বেড়েছে। এতে প্রতি আউন্স ৪,০৫৯.৮১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজার দুর্বল হলে ডলারের ওপর চাপ বাড়তে পারে, যা স্বর্ণের দাম আরও বাড়াতে সহায়ক হবে।এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং তেহরানের জন্য এটি একটি শেষ সুযোগ। তবে ইরান এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে।যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম ও মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বেড়েছে। এ অবস্থায় বাজারে সেপ্টেম্বরে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন সম্ভাবনাও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।নিউইয়র্ক ফেডের প্রেসিডেন্ট জন উইলিয়ামস বলেছেন, মূল্যস্ফীতি কমবে বলে তিনি আশাবাদী। তবে প্রয়োজন হলে সুদের হার বাড়াতে ফেড পিছপা হবে না।বিনিয়োগ ব্যাংক সিটি পূর্বাভাস দিয়েছে, স্বল্পমেয়াদে স্বর্ণের দাম স্থির থাকতে পারে বা কিছুটা কমতে পারে। তবে চলতি বছরের শেষ নাগাদ তা ৪,৫০০ ডলার এবং আগামী বছরের প্রথমার্ধে ৫,০০০ ডলার প্রতি আউন্সে পৌঁছাতে পারে।স্বর্ণের পাশাপাশি মঙ্গলবার স্পট সিলভারের দাম ১ শতাংশ বেড়ে ৫৮.৭৪ ডলার, প্লাটিনাম ১.২ শতাংশ বেড়ে ১,৬৪৬.৫৯ ডলার এবং প্যালাডিয়াম ১.২ শতাংশ বেড়ে ১,২৭৯.৫৫ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
২২ ঘন্টা আগে
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে। আলোচিত মাসে পোশাক রপ্তানি গত বছরের একই মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৯২ শতাংশ কমে ৩ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হয়েছে। গত বছরের জুলাই মাসে যা ছিল ৩ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার।সোমবার (৩ আগস্ট) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ তথ্যে বিষয়টি উঠে এসেছে। তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে নিট পোশাকের তুলনায় ওভেন পোশাক রপ্তানি বেশি কমেছে। গত বছরের একই মাসের তুলনায় সদ্য সমাপ্ত জুলাই মাসে ওভেন পোশাক রপ্তানি কমেছে ৩ দশমিক ১৬ শতাংশ। আর নিট পোশাক রপ্তানি কমেছে মাত্র দশমিক ৯০ শতাংশ।খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পোশাক রপ্তানি হয়েছিল (প্রবৃদ্ধি ছিল ২৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ)। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই উচ্চ রপ্তানির তুলনায় প্রবৃদ্ধি অর্জন অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। সেই উচ্চ রপ্তানির তুলনায় বর্তমান ৩ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলার অর্জনকে নেতিবাচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।এ বিষয়ে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, পোশাক শিল্প এখন নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি, যার মধ্যে রয়েছে তীব্র গ্যাস সংকট এবং চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা। এই সময়ে একক মাসে ৩ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলার অর্জন একটি ভালো শুরু বলা যায়।বিজিএমইএ সভাপতি আরও বলেন, ২০২৬ মাসে বিজিএমইএ কর্তৃক সম্পাদিত ইউডি পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে (জুলাই ২০২৫-এর তুলনায়)। অর্থাৎ রপ্তানিতে চলমান স্থবিরতা দীর্ঘায়িত হওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে। কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা, বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তা বিষয়ক প্রতিবন্ধকতা দূর করতে পারলে এবং প্রয়োজনীয় নীতি-সহায়তা পেলে আগামী মাসগুলোতে প্রবৃদ্ধির ধারা ফিরে আসবে বলে আমরা আত্মবিশ্বাসী।
১ দিন আগে
সদ্য সমাপ্ত জুলাই মাসে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে এসেছে ২৮৬ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৩৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ৮৩ পয়সা ধরে)।রোববার (২ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছে ২৮৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার। আগের বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার। সে হিসাবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের জুলাইয়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ।এর আগে গত অর্থবছরের শেষ মাস জুনে দেশে এসেছিল ২৮২ কোটি মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয়।এদিকে গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (জুলাই-জুন) ১২ মাসে দেশে বৈধ চ্যানেলে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি মার্কিন ডলার। তার আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৩২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৫২৬ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে এত বেশি রেমিট্যান্স আগে কখনো আসেনি।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ, প্রবাসীদের জন্য নগদ প্রণোদনা, ব্যাংকিং সেবার সহজলভ্যতা এবং বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর সুযোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় রেমিট্যান্স প্রবাহ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
২ দিন আগে
দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ আরও উন্নত করা এবং বেসরকারি খাতের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে শীর্ষ ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে বিনিয়োগ, শিল্প, জ্বালানি, করনীতি ও রপ্তানি খাতের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।বৈঠকে ব্যবসায়ী নেতারা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ, করব্যবস্থার সংস্কার, নিয়ন্ত্রক সংস্থার জটিলতা দূরীকরণ, লজিস্টিক সহায়তা, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং শতভাগ বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।এ ছাড়া দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যবসা সহজীকরণ (ইজ অব ডুয়িং বিজনেস), করনীতি ও শুল্কসংক্রান্ত জটিলতা নিরসন, রপ্তানি সম্প্রসারণ, নতুন বাজার সৃষ্টি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ব্যাংকিং ও অর্থায়ন-সংক্রান্ত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি বেসরকারি খাতের সার্বিক উন্নয়নে সরকারের নীতিগত সহায়তার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেসরকারি খাতের সঙ্গে সরকারের এ ধরনের নিয়মিত সংলাপ অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে দেশে একটি সত্যিকারের ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে বর্তমান সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
৩ দিন আগে