রাজধানীর খিলক্ষেতে সরকারি জমি, রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাটকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা মশিউর রহমান মসির সহযোগী হিসেবে পরিচিত মামুন বর্তমানে ওই চক্রের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।অভিযোগ রয়েছে, নিজেকে প্রভাবশালী হিসেবে উপস্থাপন করতে মামুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে নিজের ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করে প্রচার করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাবের ধারণা সৃষ্টি করে বিভিন্ন স্থানে চাঁদা আদায়ে এই ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি চাঁদাবাজির একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর মামুনের কয়েকজন সহযোগীকে খিলক্ষেত বাজারের প্রধান সড়কে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করা হয়। এ সময় মামুন পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত ছাড়াই মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, দল থেকে বহিষ্কারের পর মশিউর রহমান মসি প্রকাশ্যে সক্রিয় না থাকলেও তাঁর অনুসারীদের মাধ্যমে চাঁদাবাজির কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তাঁদের দাবি, অবৈধভাবে আদায় করা অর্থের একটি অংশ এখনও মসির কাছে পৌঁছে যায়।স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর খিলক্ষেত এলাকায় সরকারি জমি দখল, অস্থায়ী দোকান স্থাপন এবং বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়ের ঘটনা বেড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বাজার, ফুটপাত, পরিবহন ও অন্যান্য খাত থেকেও নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে মশিউর রহমান মসির আর্থিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন হয়েছে। তাঁদের দাবি, উত্তরপাড়া বটতলা এলাকায় তাঁর পূর্বের টিনশেড ঘরের জায়গায় বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। এ ছাড়া একটি মাদ্রাসার সাইনবোর্ড পরিবর্তন করে এলাকার নাম পরিবর্তনের অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা।এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামুন বলেন, “ছবিটি এআই প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে। আমি ভুল করেছি।” তিনি আরও জানান, তাঁর বাড়ি নারায়ণগঞ্জ। তবে চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেননি।এ বিষয়ে খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোহরাব আল হোসাইনের কাছে তারেক রহমানের এআই প্রযুক্তিতে তৈরি ছবির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এআই ব্যবহার করে কারও ছবি অপব্যবহারের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (কমপ্লেইন) করতে হবে। তিনি অভিযোগ না করলে পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই।এ ছাড়া খিলক্ষেত এলাকায় রেলওয়ের জমিতে অবৈধ দোকান স্থাপনের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ওসি বলেন, বিষয়টি তাঁর এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না এবং এ বিষয়ে তাঁর কোনো করণীয় নেই।অন্যদিকে, বিমানবন্দর রেলস্টেশনের ম্যানেজার শাহাদাত হোসেন বলেন, “রেললাইনের ৩০০ গজের মধ্যে কোনো দোকানপাট থাকার সুযোগ নেই। রেলওয়ের মালিকানাধীন সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”এ বিষয়ে খিলক্ষেত থানা বিএনপির আহ্বায়ক ফজলুল হকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।স্থানীয় সচেতন মহল ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা সরকারি জমি দখল, অবৈধ দোকান স্থাপন এবং চাঁদাবাজির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
২০ ঘন্টা আগে
তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও অটোগ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রোববার (২ আগষ্ট) দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ওপর নতুন করে আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে।মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দামে সাধারণ মানুষ এমনিতেই দিশেহারা। এর মধ্যে গৃহস্থালি ও যানবাহনে ব্যবহৃত এলপিজি এবং অটোগ্যাসের দাম বাড়ানোয় ভোক্তাদের ব্যয় আরও বেড়ে যাবে। তিনি এ সিদ্ধান্তকে ‘জনবিরোধী’ উল্লেখ করে এর নিন্দা জানান।তিনি বলেন, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম দফায় দফায় বাড়ানোর ফলে নিত্যপণ্যের দামও বেড়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের আয় না বাড়লেও ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৭০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৫৯৮ টাকা নির্ধারণ করেছে, যা আগে ছিল ১ হাজার ৫২৮ টাকা। একই সঙ্গে অটোগ্যাসের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি লিটার ৭৩ টাকা ৬৭ পয়সা।গোলাম পরওয়ার বলেন, গ্যাসের এই মূল্যবৃদ্ধি দেশের উৎপাদন খাতসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি দেশের চাহিদা পূরণে প্রয়োজনীয় এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি এলপিজির বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করে জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান।
১ দিন আগে
সিলেটের জৈন্তাপুরে জুলাই পদযাত্রা শেষে ফেরার পথে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িবহরে আবারও হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীরা গাড়ির কাঁচ ভাঙচুর করে।এতে ভাঙা কাঁচে আহত হন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং তার সঙ্গে থাকা আরও একজন; দুজনেরই হাত থেকে রক্তপাত হয়।এর আগে হবিগঞ্জে প্রথমবার ও দ্বিতীয়বার ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ এনসিপি নেতাদের উপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদেরবিরুদ্ধে অভিযোগ করেন নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী।
৩ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর শিল্প উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, বিএনপি যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে তার সব বাস্তবায়ন করবে।শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে নজরুল বর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে নাটোর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা পরিষদ আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ আশ্বাস দেন।প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম জাগরণের কবি। তিনি সব সময়ই প্রাসঙ্গিক। আমরা কাজী নজরুলের সাহিত্য থেকে ন্যায়-অন্যায় বোধ শিখছি। ১৯৪৭, ১৯৭১ এমনকি ২০২৪-এর আন্দোলনে নজরুলের গানেই জাতি জেগে উঠেছে। তিনি শুধু বিদ্রোহী কবিই নন, প্রেমের কবি, আধ্যাত্মিকতার কবি। সকলের কবি। শুধু শহর নয়, প্রতিটি গ্রাম-গঞ্জে নজরুলের আদর্শ ছড়িয়ে দিতে হবে। এজন্যই প্রধানমন্ত্রী নজরুল বর্ষ ঘোষণা করেছেন। রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিরোধী দল গঠনমূলক সমালোচনা করবে এটাই স্বাভাবিক, কিন্তু মিথ্যা প্রচারণা চালাবেন না। বিএনপি যা যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে তার সব বাস্তবায়ন করবে। ইতোমধ্যে খাল কাটা ও সব কার্ড দেয়া শুরু হয়েছে।তিনি বলেন, বিরোধী দল বুঝতে পারে না বিএনপি সরকার কী পরিবর্তন করেছে। বিএনপির সরকার ক্ষমতায় আসায় গত কয়েক মাস ধরে গুম হচ্ছে না, বিচারবিহীন হত্যাকাণ্ড হচ্ছে না, শেয়ার বাজার কেলেংকারি হচ্ছে না, এটাই পরিবর্তন। আগে পাটের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় কৃষক আত্মহত্যা করত। এখন কৃষক পাটসহ অন্যান্য শস্যের ন্যায্য দাম পাচ্ছে। বিএনপি যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে তার সব বাস্তবায়ন করবে জানিয়ে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ইতোমধ্যে কৃষকদের কৃষি ঋণ মওকুফ করা হয়েছে। সারা দেশে খাল খনন করা হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ অন্যান্য কার্ড প্রবর্তন করা হচ্ছে। দেশের বন্ধ কলকারখানা চালু করার চিন্তাভাবনা শুরু করেছে সরকার।
৩ দিন আগে