বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও গণভোটের পাশাপাশি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কার নিয়ে সিঙ্গাপুরের কূটনীতিকদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত সিঙ্গাপুরের অনাবাসিক হাইকমিশনার ডেরেক লোহের সঙ্গে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, দুর্নীতি প্রতিরোধ, শিল্প-বাণিজ্যের উন্নয়ন, গণতন্ত্রের অগ্রগতি, গণভোট এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্কারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনার বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার, সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণ এবং উভয় দেশের উন্নয়ন উদ্যোগে নতুন সম্ভাবনা তৈরির আশাবাদ ব্যক্ত করেন।বৈঠকে সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ফিলিপ অং এবং দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া ও সাব-সাহারান আফ্রিকা বিভাগের কান্ট্রি অফিসার ম্রিথিনি টিজি গ্রিথারান।অন্যদিকে, বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর।
১৬ ঘন্টা আগে
এক মাসের বেশি সময় কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান।আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।পরে রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের বাসভবনে যান তিনি। সেখানে তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান দলের নেতারা।এ সময় আখতারুজ্জামানের কারাবাস, গ্রেপ্তার ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন জামায়াত আমির।তিনি বলেন, সংসদেও তাঁরা বসন্তের কোকিলদের কথা বলেছেন। যারা বসন্তকালে কুহু কুহু করতে এসেছে, বসন্ত পার হলে তাদের আর দেখা যাবে না। গ্রীষ্ম কিংবা বর্ষাকালে তাদের খুঁজে পাওয়া যাবে না। বিরোধী দলের চরিত্রহনন না করে সরকারের উচিত নিজেদের ব্যর্থতা দূর করা। অতীতের মতো প্রতিবাদী কণ্ঠ দমিয়ে রাখার চেষ্টা করলে তা সফল হবে না। জনগণ আর ফ্যাসিবাদ মেনে নেবে না।আখতারুজ্জামানের মামলার প্রসঙ্গ তুলে জামায়াত আমির বলেন, তিনি কারও গায়ে হাত দেননি। অথচ তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা ও কর্মকর্তার গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে, নিম্ন আদালতে জামিন দেওয়া হয়নি। হাইকোর্টে জামিন পাওয়ার পরও রাষ্ট্রপক্ষ চেম্বার আদালতে বিষয়টি নিয়ে গেছে। এসব ঘটনাকে লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, আখতারুজ্জামানকে চোখ বেঁধে নেওয়া হয়েছে, মাথায় হেলমেট ও বুকে সেফটি ভেস্ট পরানো হয়েছে। এত কিছুর পরও তাঁকে নিম্ন আদালত থেকে জামিন দেওয়া হয়নি। এক মাস কারাগারে রেখে প্রতিবাদী কণ্ঠ স্তব্ধ করার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু তাঁকে আটকে রাখা যায়নি। তিনি বলেন, জেল তো অনেক খেটেছেন, প্রতিবাদও করেছেন; কিন্তু সব সময় সঙ্গে সঙ্গে ফল পাওয়া যায়নি। আখতারুজ্জামান এক মাসের কারাবাসের বিনিময়ে বিমানবন্দরের অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সুফল পেয়েছেন।এ সময় আখতারুজ্জামানও কারাগারে থাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। রিমান্ডে নেওয়ার পর চোখ বেঁধে তাঁকে জামায়াত সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়েছে কেন, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। জিজ্ঞাসাবাদের ধরন এবং ডিবি পুলিশের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, বিমানবন্দরের একটি ঘটনার মামলায় গ্রেপ্তারের পর তাঁকে যেভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, তার সঙ্গে মামলার অভিযোগের সম্পর্ক কী।এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে তিনি জামায়াত আমিরের সঙ্গে আলোচনা ও তাঁর নির্দেশনা নেওয়ার কথা জানান।
১৮ ঘন্টা আগে
বিমানবন্দরে সরকারি কাজে বাধা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে করা মামলায় জামিন পেয়ে কারামুক্ত হয়েছেন জামায়াত নেতা ও সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। মঙ্গলবার সকালে আখতারুজ্জামানের মুক্তির পর তাকে একনজর দেখতে এবং শুভেচ্ছা জানাতে কারাফটকে জড়ো হন জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।কারাগার থেকে বেরিয়ে আসার পর নেতারা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এ সময় কারাফটকে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর তার মুক্তিতে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়।তবে কারামুক্তির সময় উপস্থিত নেতাদের বক্তব্য কিংবা আখতারুজ্জামানের পক্ষ থেকে দেওয়া কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার বিস্তারিত জানা যায়নি।গত ১ অক্টোবর সকালে মদিনা থেকে জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন প্রতিনিধি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। লাগেজ সংগ্রহের সময় ট্রলির সংকট ও জমজমের পানি পেতে দেরি হওয়া নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের বাক্বিতণ্ডা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা ও এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে আখতারুজ্জামানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজীব।পরদিন ২ অক্টোবর বিকালে রাজধানীর সেনানিবাস এলাকার বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রিমান্ড শেষে ৪ অক্টোবর ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে দায়রা আদালতেও জামিন আবেদন নাকচ হলে তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।
২০ ঘন্টা আগে
মাত্র ২৯ দিনের ব্যবধানে দুই দফায় তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়ানোর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।এক যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, মানুষের আয় ও ক্রয়ক্ষমতার সংকট এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির মধ্যে মাত্র ২৯ দিনে দুই দফায় এলপিজির দাম বাড়ানো কোনোভাবেই জনস্বার্থসম্মত নয়। ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণের ফলে সরাসরি চাপে পড়বে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। রান্নার খরচ বাড়ার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসা, হোটেল-রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন খাতের ব্যয়ও বাড়বে। শেষ পর্যন্ত এই বাড়তি ব্যয়ের বোঝা বহন করতে হবে সাধারণ ভোক্তাদেরই।নেতৃদ্বয় বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে বারবার জ্বালানির দাম বাড়ানো হলেও দেশের মানুষের আয়, ক্রয়ক্ষমতা ও জীবনযাত্রার বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না। রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে থাকার কথা জনগণের স্বার্থ,অথচ মূল্যবৃদ্ধির প্রতিটি সিদ্ধান্তের দায় সাধারণ মানুষের ওপর চাপানো হচ্ছে। জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার পরিবর্তে তাদের জীবনযাত্রাকে আরও ব্যয়বহুল করে তোলা কোনো দায়িত্বশীল অর্থনৈতিক নীতি হতে পারে না।তাঁরা আরও বলেন, জ্বালানি খাতের মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কার্যকর বাজার তদারকি নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে তার প্রভাব পড়বে, কিন্তু দাম কমলে তার সুফলও জনগণকে দিতে হবে। একতরফাভাবে মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে জনগণকে জিম্মি করে রাখার সুযোগ নেই।এবি পার্টির নেতৃদ্বয় অবিলম্বে এলপিজির মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিকতা জনসমক্ষে প্রকাশ, মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত, বাজারে কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত মুনাফা প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এলপিজির দাম পুনর্নির্ধারণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তাঁরা বলেন, জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তার রাজনৈতিক ও সামাজিক দায় সরকারকেই বহন করতে হবে।
২১ ঘন্টা আগে