গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে এক কেজি গাঁজাসহ স্বামী-স্ত্রীকে আটক করেছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। সোমবার (৪ মে) বিকেলে উপজেলার কামারদহ ইউনিয়নের মোহাব্ববপুর (তুলসিপাড়া) গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।গ্রেফতারকৃতরা হলেন- উপজেলার কামারদহ ইউনিয়নের মোহাব্ববপুর (তুলসিপাড়া) গ্রামের হাবিজার রহমানের ছেলে নুরুন্নবী (২৮) ও তার স্ত্রী আপেলা বেগম (২০)।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিকেলে আপেলা বেগমের বাড়িতে অভিযান চালায় ডিএনসির একটি দল। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে নুরুন্নবী ও তার স্ত্রী পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী শয়নকক্ষের খাটের নিচ থেকে এক কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।উদ্ধারকৃত গাজার আনুমানিক বাজার মুল্য ৫০ হাজার টাকা।গাইবান্ধা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক (ওসি) মোস্তফা জামান জানান, এই মাদক উদ্ধারের ঘটনায় তিনি নিজে বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় আটক দম্পতির বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
১৫ ঘন্টা আগে
ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার বাঘবেড় ইউনিয়নের দিঘীরপাড় খাঁ বাড়ির বাসিন্দা এবং স্থানীয় ধান ব্যবসায়ী দুলাল মিয়াকে দুর্বৃত্তরা গলা কেটে হত্যা করে ফেলে রেখে গেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধোবাউড়া উপজেলার বাঘবেড় ইউনিয়নে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। ঘাতকরা তাকে জবাই করে ফারুক হাজী সাহেবের ফিশারির পাড়ে ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয়রা মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়।নিহত দুলাল মিয়া দিঘীরপাড় এলাকার খাঁ বাড়ির বাসিন্দা এবং পেশায় একজন ধান ব্যবসায়ী ছিলেন। স্থানীয়দের মতে, তিনি অত্যন্ত নম্র ও ভালো মনের মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার এই অকাল ও নৃশংস মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের মাতম চলছে।খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা জড়িত বা কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।একজন সৎ ও কর্মঠ মানুষকে এভাবে হারিয়ে ফেলা সমাজের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। আমরা নিহতের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং এই জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানন এলাকাবাসী।
১ দিন আগে
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ১১ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এ মামলায় আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো।৩ মে রোববার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন শুনানি শেষে অভিযোগ গঠনের এ আদেশ আদেশ দেন। একইসঙ্গে আগামী ১৩ মে সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছেন। এদিন দুদকের পক্ষে মীর আহমেদ আলী সালাম আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন। তবে আসামি পলাতক থাকায় তার পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী সোহানুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।দুদকের উপ-পরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর এ মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে গত বছরের ৩০ নভেম্বর বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে চার্জশিট জমা দেন হাফিজুল ইসলাম।চার্জশিটে বলা হয়েছে, বেনজীর আহমেদ তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর সম্পদ ও ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দেন। তবে তদন্তে তার নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়। এতে মোট ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের প্রমাণ মিলেছে। বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে পাওয়া গেছে ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকা। ব্যয় বাদে নিট সঞ্চয় দাঁড়ায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। ফলে বেনজীর আহমেদ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার সম্পদ অর্জন করেন।এতে আরও বলা হয়েছে, বেনজীর আহমেদ এসব অর্থের অবৈধ উৎস, প্রকৃতি ও মালিকানা গোপন করে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যৌথ মূলধনী প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ, স্থানান্তর ও রূপান্তর করেছেন।
২ দিন আগে
মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে ফজরের নামাজ চলাকালীন মসজিদের ভেতরে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। হাফিজ মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হত্যা করা হয়েছে। উপজেলার পশ্চিম লইয়ারকুল জামে মসজিদে রোববার ৩ মে ফজরের নামাজের সময় এই ঘটনা ঘটে। নিহত হাফিজ মিয়া লইয়ারকুল এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় আটক জসিম মিয়ার বাড়িও একই এলাকায়।পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, উপজেলার পশ্চিম লইয়ারকুল গ্রামের বাসিন্দা হাফিজ উল্লা (৮০) এলাকায় টং দোকান দিয়ে ব্যবসা করতেন। একই এলাকার শওকত আলীর ছেলে জসিম মিয়া (৩২) প্রায়ই দোকানে গিয়ে বাকিতে জিনিসপত্র নেয়ার চেষ্টা করতো। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে গতকাল শনিবার কথাকাটাকাটি হয়। রোববার ৫টার সময় ফজরের নামায আদায় করতে প্রতিদিনের মতো লইয়ারকুল জামে মসজিদে যান হাফিজ উল্লা। ইমাম ছুটিতে থাকায় তিনি নিজেই আযান দেন। হাফিজ উল্লাসহ দুইজন নামাযে দাঁড়িয়ে এক রাকাত নামায শেষে দ্বিতীয় রাকাতের রুকুতে যান। এসময় জসিম মিয়া পেছন থেকে হাফিজ উল্লাকে বলপয়েন্ট কলম দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে। এতে মসজিদের ভিতরেই তিনি লুটিয়ে পড়েন। সাথে থাকা অন্য মুসল্লির হাল্লাচিৎকারে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে তা অবশ্য জানাতে পারেননি স্থানীয়রা। তবে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ধর্মীয় স্থানে এমন সহিংস ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে।ঘটনার খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল থানার এসআই সজিব চৌধুরীর নেতৃত্বে দ্রুত অভিযান পরিচালিত হয়। পুলিশ অভিযুক্ত জসিম মিয়াকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, নিহত ও অভিযুক্ত ব্যক্তি উভয়ই একই এলাকার বাসিন্দা।শ্রীমঙ্গল থানার ওসি জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছি। অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা প্রধান আসামি জসিম মিয়াকে গ্রেফতার করেছি পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
২ দিন আগে