দক্ষিণ কোরিয়ায় ইসলাম গ্রহণের পর আরবি ভাষা শেখা এবং পবিত্র কোরআন সম্পূর্ণ মুখস্থ করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কারাম কিম। তাকে সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্থকারী প্রথম কোরিয়ান মুসলমান হিসেবে পরিচিত করা হয়।ইসলাম গ্রহণের পর কোরআনকে হৃদয়ে ধারণ করার সংকল্প নেন কারাম কিম। আরবি ভাষা তার মাতৃভাষা না হওয়ায় হিফজের পথটি ছিল অত্যন্ত কঠিন। তবে দৃঢ় ইচ্ছা, অধ্যবসায় ও নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে তিনি পুরো কোরআন মুখস্থ করেন।কারাম কিম বলেন, হিফজ করা মোটেও সহজ ছিল না। একটি পৃষ্ঠা মুখস্থ করার আগে তিনি সেটি কয়েক ডজনবার পড়তেন। এরপর কোরআনের দিকে না তাকিয়ে বারবার তিলাওয়াত করতেন। একটি পৃষ্ঠা সম্পূর্ণ আয়ত্ত করতে কখনো কখনো আট ঘণ্টারও বেশি সময় ব্যয় করেছেন তিনি।দীর্ঘ প্রায় এক যুগ ধরে সিউল সেন্ট্রাল মসজিদের তাকে নিয়মিত কোরআন মুখস্থ করতে দেখা গেছে। গভীর রাতে মসজিদে এসে সূর্যোদয় পর্যন্ত কোরআন নিয়ে অধ্যবসায়ের সঙ্গে সময় কাটাতেন তিনি।শুধু সিউল নয়, পবিত্র মদিনার মসজিদে নববীতেও একইভাবে কোরআন তিলাওয়াত ও মুখস্থ করার কাজে সময় দিয়েছেন কারাম কিম।অবশেষে দীর্ঘ সাধনা ও অধ্যবসায়ের পর সম্পূর্ণ কোরআনের হাফেজ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন তিনি। দক্ষিণ কোরিয়ার মতো অমুসলিম-প্রধান দেশে একজন কোরিয়ান নাগরিকের কোরআন হিফজের এই যাত্রা মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যেও বিশেষ আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।কারাম কিমের এই গল্প শুধু কোরআন মুখস্থ করার গল্প নয়—এটি ভাষার বাধা অতিক্রম করে বিশ্বাস, অধ্যবসায় ও আত্মনিবেদনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
১ সপ্তাহ আগে
ব্যস্ততা, দুশ্চিন্তা, ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তাসহ জীবনের নানা চাপ মানসিক প্রশান্তি কেড়ে নিতে পারে। একজন মুমিনের জন্য এমতাবস্তায় নামাজ হতে পারে আল্লাহর স্মরণে ফিরে যাওয়া, নিজের মনের কথা তার কাছে তুলে ধরা এবং ধৈর্য ও আত্মিক শক্তি অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।জীবনের নানা সময়ে মানুষের মনে দুঃখ, কষ্ট ও হতাশা জমে থাকে। কখনো প্রিয় মানুষের আচরণে মন ভেঙে যায়, কখনো আবার নির্দিষ্ট কোনো কারণ ছাড়াই অস্থিরতা অনুভূত হয়। এসব পরিস্থিতিতে কেউ প্রিয়জনের সঙ্গে কথা বলে স্বস্তি খোঁজেন, কেউ একাকিত্ব বেছে নেন, আবার কেউ নিজেকে নানা কাজে ব্যস্ত রাখেন। তবে ইসলামের দৃষ্টিতে আল্লাহর স্মরণ ও ইবাদত মানুষের আত্মিক প্রশান্তি লাভের গুরুত্বপূর্ণ উপায়।পবিত্র কোরআনের ‘সূরা আর-রাদের ২৮ নম্বর আয়াতে’ আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘জেনে রেখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ প্রশান্তি লাভ করে।’ এ আয়াতে আল্লাহর স্মরণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। নামাজের মাধ্যমে একজন মুসলমান আল্লাহর সামনে দাঁড়ান, তার কাছে সাহায্য চান এবং নিজের দুর্বলতা ও অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন।এই আয়াত আমাদের মনে করিয়ে দেয়, অন্তরের প্রশান্তি লাভের জন্য আল্লাহর স্মরণ কতটা গুরুত্বপূর্ণ। নামাজের মাধ্যমে একজন মানুষ তার রবের সামনে দাঁড়ান, নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন এবং তার কাছে সাহায্য চান।নামাজ পড়লেই জীবনের সব সমস্যা সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়ে যাবে, এমন নয়। দুঃখ, কষ্ট কিংবা কঠিন পরিস্থিতি মানুষের জীবনেরই অংশ। তবে নামাজ মানুষকে সেই পরিস্থিতির মধ্যেও ধৈর্য ধারণ করতে, আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে এবং নিজের মনকে সামলে নিতে সাহায্য করতে পারে।নামাজে সিজদা করার সময় একজন মানুষ নিজের মনের কথাগুলো আল্লাহর কাছে তুলে ধরতে পারেন। মানুষের কাছে যে কষ্টের কথা বলা যায় না, আল্লাহর কাছে তা প্রকাশ করার জন্য বিশেষ কোনো শব্দের প্রয়োজন হয় না। আন্তরিকভাবে দোয়া করা, ক্ষমা চাওয়া এবং সাহায্য প্রার্থনা করাও ইবাদতের অংশ।রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি হাদিসেও নামাজের মাধ্যমে প্রশান্তি লাভের বিষয়টি উঠে এসেছে। তিনি হজরত বিলাল (রা.)-কে বলেছিলেন, “হে বিলাল, নামাজের ইকামত দাও, এর মাধ্যমে আমাদের প্রশান্তি দাও।” —সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪৯৮৫।অনেক সময় নামাজে দাঁড়িয়েও মন স্থির থাকে না। কখনো পুরোনো কোনো কষ্ট মনে পড়ে, কখনো ভবিষ্যতের চিন্তা এসে ভিড় করে। তখন কেউ কেউ ভাবেন, মনোযোগ দিতে পারছি না, তাই হয়তো নামাজে প্রশান্তিও পাচ্ছি না।কিন্তু মন অস্থির হওয়া মানেই নামাজ ছেড়ে দেওয়া নয়। বরং ধীরে ধীরে মনোযোগ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা উচিত। কোরআনের আয়াতগুলোর অর্থ বোঝার চেষ্টা করা, তাড়াহুড়া না করে রুকু-সিজদা করা এবং নামাজের পর কিছুক্ষণ দোয়া ও জিকিরে সময় দেওয়া যেতে পারে। মন বারবার অন্যদিকে চলে গেলেও হতাশ না হয়ে আবার নামাজের দিকে মন ফেরানোই গুরুত্বপূর্ণ।জীবনের সব প্রশ্নের উত্তর সব সময় সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যায় না। সব কষ্টের সমাধানও এক দিনে আসে না। কিন্তু একজন মানুষ যখন আল্লাহর কাছে নিজের দুর্বলতা স্বীকার করেন, তার কাছে সাহায্য চান এবং ধৈর্য ধরে চেষ্টা চালিয়ে যান, তখন তিনি কঠিন সময় মোকাবিলা করার শক্তি খুঁজে পেতে পারেন।নামাজ শুধু একটি দৈনন্দিন দায়িত্ব নয়, এটি আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করারও একটি মাধ্যম। তাই মন ভালো থাকুক কিংবা অস্থির থাকুক, সুখের সময় হোক কিংবা দুঃখের—নামাজের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি।মনে রাখতে হবে, অস্থির মন নিয়ে আল্লাহর সামনে দাঁড়াতেও কোনো বাধা নেই। বরং সেই অস্থিরতা নিয়েই তার কাছে ফিরে যাওয়া হতে পারে প্রশান্তির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
১ সপ্তাহ আগে
আজ বিজয়া দশমী। চণ্ডিপাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে দশমী পূজার আনুষ্ঠানিকতা। পাঁচ দিনের শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ দিনের এ আয়োজনে শেষ হবে সনাতন ধর্মের সর্ববৃহৎ দুর্গাৎসব।বুধবার (২১ অক্টোবর) দেশের প্রতিটি মণ্ডপে সকালে চণ্ডিপাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দশমীর পূজার আনুষ্ঠানিকতা। এরপর অপরাজিতা পূজা, দশোপচারে দেবীর আরাধনা, গণেশসহ অন্যান্য দেবদেবীর পূজা, আরতি ও পুষ্পাঞ্জলির মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলে সমাপনপর্ব। পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে দর্পণ ও ঘট বিসর্জনের পর শুরু হয় দেবীবরণের আয়োজন। এ সময় বিবাহিত নারীরা একে একে দেবী দুর্গার চরণে সিঁদুর নিবেদন করেন এবং মিষ্টিমুখ করিয়ে তাঁকে বিদায় জানান। এরপর একে অপরের কপালে ও মুখে সিঁদুর মাখিয়ে উদ্যাপন করেন সিঁদুর খেলা।সিঁদুর খেলার এই আয়োজনে দেবীর কাছে সংসারের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন নারীরা। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবীর চরণে নিবেদিত সিঁদুর ঘরে সংরক্ষণ করলে সংসারে মঙ্গল ও সমৃদ্ধি আসে। তাই দেবীর আশীর্বাদ নিয়ে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করার প্রত্যাশা নিয়ে বিজয়া দশমী উদ্যাপন করছেন ভক্তরা।ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিদায়ের সুরে শেষ হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাবেন ভক্তরা। সেই সঙ্গে আগামী বছর আবারও দেবীর আগমনের অপেক্ষায় থাকবেন তাঁরা।
১ সপ্তাহ আগে
আজ মহাঅষ্টমী। অষ্টমীর বিশেষ আকর্ষণ কুমারী পূজা। কুমারী বালিকার মধ্যে বিশুদ্ধ নারীর রূপ কল্পনা করে তাকে দেবী জ্ঞানে পূজা করেন ভক্তরা। রামকৃষ্ণ মিশনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ পূজা।হিন্দুশাস্ত্র অনুসারে, সাধারণত ১ থেকে ১৬ বছরের অজাতপুষ্প সুলক্ষণা ব্রাহ্মণ বা অন্য গোত্রের অবিবাহিত কুমারী নারীকে দেবী জ্ঞানে পূজা করা হয়। শ্রীরাম কৃষ্ণের কথামতে, কুমারী পূজার বিষয়ে বলা হয়েছে, শুদ্ধাত্মা কুমারীতে ভগবতীর রূপ বেশি প্রকাশ পায় এবং মাতৃরূপ উপলব্ধি করাই কুমারী পূজার উদ্দেশ্য।শাস্ত্রমতে, এক বছর বয়সী কন্যাকে সন্ধ্যা, দুইয়ে সরস্বতী, তিনে ত্রিধামূর্তি, চারে কলিকা, পাঁচে সুভাগা, ছয়ে উমা, সাতে মালনী, আটে কুজ্বিকা, নয়ে কালসন্দর্ভা, দশে অপরাজিতা, এগারোয় রুদ্রানী, বারোয় ভৈরবী, তেরোয় মহালক্ষ্মী, চোদ্দতে পীঠ নায়িকা, পনেরোতে ক্ষেত্রজ্ঞা এবং ষোলো বছরে তাকে অন্নদা নামে অভিহিত করা হয়।নির্বাচিত কুমারীকে মহাষ্টমীর দিন ভোরে গোসল করিয়ে নতুন কাপড় পরানো হয়। তাকে সাজিয়ে কপালে সিঁদুর, পায়ে আলতা ও হাতে ফুল দেওয়া হয়। কুমারীকে সুসজ্জিত আসনে বসিয়ে ষোড়শোপাচারে (ষোলো উপাদান) দেবীজ্ঞানে পূজা করা হয়। এ সময় চারদিকে শঙ্খধ্বনি, ঢাকের বোল, উলুধ্বনি আর দেবী স্তুতিতে মুখর হয়ে ওঠে।কুমারী পূজার তাৎপর্য প্রসঙ্গে পুরোহিতরা বলেন, অনেক চিন্তাশীল মানুষ অনুভব করছেন, আধুনিক পৃথিবীতে সামাজিক, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক সংকট নিরসন করে অগ্রগামী হতে হলে মাতৃজাতির প্রতি যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শন করা উচিত। জগতের অনেক স্থানে নারীকে সম্মান দেওয়া হয় পত্নীরূপে বা সহকারিণীরূপে। কিন্তু নারীর সবচেয়ে মহিমময় রূপ তার মাতৃরূপ। তাই এই মহাষ্টমী তিথিতে আমরা জগতের সব মাতৃজাতিকে উদ্দেশ্য করে কুমারী মাতাকে প্রণাম জানাই। তার মাধ্যমে আদ্যাশক্তিকে আমাদের প্রণাম নিবেদন করি।মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মহানবমী এবং বুধবার (২১ অক্টোবর) দশমীর মাধ্যমে বিদায় নেবেন দেবী দুর্গা। দশমীর দিন বিকেল ৩টার পর থেকে প্রতিমা বিসর্জনের কথা বলা হয়েছে। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতৃত্বে পলাশীর মোড় থেকে বিজয়া শোভাযাত্রা বের হয়ে সদরঘাটের ওয়াইজ ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন হবে।
২ সপ্তাহ আগে