ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) আওতাধীন আধা সামরিক বাহিনী বাসিজ ফোর্সের কমান্ডার গোলামরেজা সোলাইমানিকে হত্যার দাবি করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী।গতকাল সোমবার রাতে এক হামলায় সোলাইমানি নিহত হন বলে দাবি করা হয়।ইসরাইলি বাহিনীর দাবি, সোলাইমানির এই মৃত্যু ইরানের ‘কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল’ বা সামরিক নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর জন্য একটি ‘বড় ধাক্কা’।রাশিয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন মোজতবা খামেনিরাশিয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন মোজতবা খামেনিএকই সঙ্গে ইরানি কমান্ডারদের বিরুদ্ধে ‘শক্তি প্রয়োগ অব্যাহত’ রাখার অঙ্গীকারও করেছে ইসরাইল।তবে এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ইরান এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো ধরনের সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।তার পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরাইল।হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ছয় দেশ সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্তর আরব আমিরাত, ওমানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ শুরু করে ইরান, যা এখনো চলছে। সূত্র: আলজাজিরা
১৭ মার্চ ২০২৬ বিকাল ০৪:৫৪:৫৪
আমিরাতের প্রধান সমুদ্রবন্দরের কাছে তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধান সমুদ্রবন্দর ফুজাইরাহ-এর কাছে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার জাহাজে হামলা করা হয়েছে।১৭ মার্চ মঙ্গলবার ভোরের দিকে এ হামলা ঘটেছে বলে ব্রিটিশ সংস্থা ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন (ইউকেএমটো) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ফুজাইরাহ ওমান উপসাগরের তীরবর্তী বন্দর। ট্যাংকার জাহাজটি ওমান উপসাগরের যে এলাকায় হামলার শিকার হয়েছে, সেটি ফুজাইরা থেকে ২৩ নটিক্যাল মাইল দূরে এবং সেটি নোঙ্গর করা অবস্থায় ছিলো।ইউকেএমটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাহাজটিতে বিস্ফোরক কোনো বস্তু আঘাত হেনেছে। সেটি ড্রোন, না ক্ষেপণাস্ত্র না-কি অন্যকিছু— তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এই হামলায় জাহাজটির বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, কোনো নিহত কিংবা আহতের ঘটনাও ঘটেনি।হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত ফুজাইরা সমুদ্রবন্দর আমিরাতের জ্বলানি বাণিজ্যর একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। আমিরাতের অধিকাংশ জ্বালানি তেলে এই বন্দর দিয়েই বহির্বিশ্বে যায়। তবে ইরানে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই বন্দরটি বন্ধ আছে।
১৭ মার্চ ২০২৬ সকাল ১১:০০:০৩
ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সহায়তার আহ্বান প্রত্যাখ্যান জার্মানির
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক সহায়তার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস৷ ১৬ মার্চ সোমবার বার্লিনে এ বিষয়ে কথা বলার সময় তিনি জানতে চান ‘‘হরমুজ প্রণালিতে থাকা মুষ্টিমেয় ইউরোপীয় ফ্রিগেট থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন কী আশা করেন, যা শক্তিশালী মার্কিন নৌবাহিনী একা করতে পারে না?’’তারপর জার্মানির দিক থেকে সহায়তার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, জার্মানির পক্ষ থেকে ‘কোনো সামরিক অংশগ্রহণ থাকবে না৷ হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন করতে প্রস্তুত বার্লিন৷জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘এটা আমাদের যুদ্ধ নয়৷ আমরা এটা শুরু করিনি৷”এর আগে জার্মান সরকারের মুখপাত্র স্টেফান কর্নেলিয়াস বলেন, ইরান যুদ্ধের সঙ্গে ন্যাটোর কোনো সম্পর্ক নেই এবং জার্মানি হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে সামরিক কোনো উদ্যোগে অংশগ্রহণ করবে না৷ স্টেফান কর্নেলিয়াস বলেন, ‘‘এই যুদ্ধের সঙ্গে ন্যাটোর কোনো সম্পর্ক নেই। এটি ন্যাটোর যুদ্ধ নয়৷ ন্যাটো তার নিজের সদস্যদের অঞ্চল রক্ষা করার জন্য সেখানে ছিল এবং বর্তমান (ঘটনার) ক্ষেত্রে সেখানে মোতায়েনের কোনো আদেশ ছিল না।
১৭ মার্চ ২০২৬ সকাল ১০:০৩:৪০
দুবাইয়ের আকাশে বিমান চলাচল ফের স্বাভাবিক
ড্রোন হামলায় বন্ধ হওয়ার কয়েকঘন্টা পর ফের স্বাভাবিক হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আকাশপথে বিমান চলাচল। দেশটির জেনারেল সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (জিসিএএ) জানিয়েছে এ তথ্য।জিসিএএর বরাতে গালফ নিউজ ও খালিজ টাইমস জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ায় আগে জারি করা অস্থায়ী সতর্কতামূলক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে দেশের পুরো আকাশসীমায় বিমান চলাচল এখন স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। সোমবার আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতির মধ্যে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে হঠাৎ আকাশপথ বন্ধ করে দেয় ইউএই। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় বিমান চলাচল চালু করা হয়।মঙ্গলবার দিনের শুরুতেই কর্তৃপক্ষ জানায়, দ্রুত পরিবর্তিত আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ফ্লাইট ও বিমানকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে সাময়িকভাবে আকাশপথ বন্ধ করা হয়েছে। এর আগে, ড্রোন হামলার জেরে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে আগুন ধরে যায়। এর ফলে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব ধরনের ফ্লাইট স্থগিত করে জিসিএএ। পরে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে সীমিত পরিসরে ফ্লাইট চালু করে এমিরেটস। একই সময়ে আবুধাবি থেকে সীমিত ফ্লাইট পরিচালনা অব্যাহত রাখে ইতিহাদ এয়ারওয়েজ।পরবর্তীতে পুরো পরিস্থিতি পর্যালোচনা শেষে আকাশপথ স্বাভাবিক হওয়ার ঘোষণা দেয় জিসিএএ। সংস্থাটি জানায়, নিরাপত্তা ও অপারেশনাল ঝুঁকির সার্বিক মূল্যায়ন এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর সঙ্গে পূর্ণ সমন্বয়ের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।জিসিএএ জোর দিয়ে বলেছে, আকাশপথের নিরাপত্তা ও আরব আমিরাতের সার্বভৌমত্ব রক্ষা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ চালু রয়েছে বলেও জানানো হয়। সাম্প্রতিক এই অস্থিরতায় যাত্রী ও এয়ারলাইনগুলোর সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের কারিগরি ও অপারেশনাল টিম প্রস্তুত রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়ে সঠিক তথ্য পেতে জনগণকে কেবল সরকারি ও নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
১৭ মার্চ ২০২৬ সকাল ০৯:৪৪:২৯
হরমুজ প্রণালি উদ্ধারে ট্রাম্পের আহ্বান
ইরান-আমেরিকা যুদ্ধে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী অচল হয়ে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ আহ্বানে মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়ার প্রত্যাশা করেছিলো ট্রাম্প। কিন্তু তা হয়নি।সিএনএন এর এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, মিত্র দেশগুলো যদি হরমুজ প্রণালী নিরাপদ করতে এগিয়ে না আসে, তাহলে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ খুব খারাপ হতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান কাজা কালাস জানান, হরমুজ প্রণালী খোলা রাখা ইউরোপের স্বার্থে হলেও এটি ন্যাটোর কার্যক্রমের আওতায় পড়ে না। জার্মানির পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, এই সংঘাতের সঙ্গে ন্যাটোর কোনো সম্পর্ক নেই এবং এটিকে “ন্যাটোর যুদ্ধ” হিসেবে দেখা হচ্ছে না। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার জানিয়েছেন, তারা মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি কার্যকর যৌথ পরিকল্পনা তৈরির চেষ্টা করছেন, যাতে দ্রুত নৌ চলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি কমানো যায়। চীনকে আহ্বান জানালেও, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র সরাসরি কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি। বরং তারা সব পক্ষকে সামরিক উত্তেজনা না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সংসদে জানিয়েছেন, আপাতত হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়াও এ অঞ্চলে কোনো জাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে না বলে জানিয়েছে। পরবর্তীতে ট্রাম্প দাবি করেন, অনেক দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে তিনি নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি। তার ভাষায়, কিছু দেশ খুবই উৎসাহী হলেও কিছু দেশ প্রত্যাশিত আগ্রহ দেখাচ্ছে না যা তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। হরমুজ প্রণালী বিশ্ব তেল পরিবহনের অন্যতম প্রধান রুট। এই পথ বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।
১৭ মার্চ ২০২৬ সকাল ০৯:২৯:২৭
ইরানের পাল্টা হামলায় নিহত ১৩ মার্কিন সেনা, আহত ২০০
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এ সময় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০০ জন, যাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।স্থানীয় সময় সোমবার (১৬ মার্চ) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স আনুষ্ঠানিকভাবে এই হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।আহতদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে হকিন্স জানান, আক্রান্তদের মধ্যে ১৮০ জন সেনাসদস্য চিকিৎসা শেষে ইতিমধ্যে নিজ নিজ দায়িত্বে ফিরে এসেছেন। জখম হওয়া সেনাদের শরীরে অগ্নিদগ্ধ হওয়া, বিস্ফোরণের টুকরোর আঘাত এবং আঘাতজনিত মস্তিষ্কের ক্ষতির মতো সমস্যা পরিলক্ষিত হয়েছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে বিভিন্ন ফ্রন্টে আক্রান্ত হয়ে তারা হতাহত হন।মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, এই হতাহতের প্রধান কারণ ইরানের ‘একমুখী’ ড্রোন হামলা। গত সপ্তাহে মার্কিন বাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন জানিয়েছিলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বেশিরভাগ সেনার ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির জন্য এই ধরনের ড্রোন দায়ী। ড্রোনের নির্ভুল আঘাত ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা মার্কিন শিবিরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর জবাবে ইরানও ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে পরিচিত কয়েকটি উপসাগরীয় দেশে পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে। দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে পুরো মধ্যপ্রাচ্য বর্তমানে এক ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।উভয় পক্ষের এই সরাসরি সংঘাতে আন্তর্জাতিক মহলে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই লড়াই আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
১৭ মার্চ ২০২৬ সকাল ০৯:১১:৪৬
কাবুলের হাসপাতালে পাকিস্তানি হামলায় নিহত ৪০০: তালেবান
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি মাদকাসক্তি চিকিৎসা কেন্দ্রে পাকিস্তানের বিমান হামলায় অন্তত ৪০০ জন নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে তালেবান সরকার। তবে পাকিস্তান এ অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।তালেবান সরকারের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত জানান, স্থানীয় সময় ১৬ মার্চ সোমবার রাত ৯টার দিকে কাবুলের ওমর অ্যাডিকশন ট্রিটমেন্ট হাসপাতাল লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়। হামদুল্লাহ ফিতরাতের বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, প্রায় ২ হাজার শয্যার এই হাসপাতালের বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। এ পর্যন্ত ৪০০ জন নিহত এবং প্রায় ২৫০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। উদ্ধারকারীরা এখনও ঘটনাস্থলে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ উদ্ধারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, দমকলকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন। হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষী ওমিদ স্টানিকজাই জানান, হামলার আগে আকাশে যুদ্ধবিমান টহল দিতে দেখা যায়। পরে বোমা হামলায় হাসপাতালটিতে আগুন ধরে যায়।স্টানিকজাই দাবি করেন, নিহত ও আহত সবাই বেসামরিক নাগরিক। তালেবান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ এ ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং বলেছেন, পাকিস্তান আবারও আফগানিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে।অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মুখপাত্র মুশাররফ জাইদি বলেন, পাকিস্তান কাবুলে কোনো হাসপাতাল লক্ষ্য করে হামলা চালায়নি। পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের হামলা ছিল কাবুল ও নানগারহার প্রদেশে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনায়, যাতে কোনো বেসামরিক ক্ষতি না হয় সে বিষয়ে সতর্কতা নেওয়া হয়েছিল।এদিকে দুই দেশের সীমান্তে চলমান সংঘর্ষ আরও তীব্র হয়েছে। আফগান কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক গোলাগুলিতে চারজন নিহত ও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।জাতিসংঘ জানিয়েছে, সংঘাতের কারণে আফগানিস্তানে ২০ হাজারের বেশি পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং তাদের জন্য জরুরি খাদ্য সহায়তা দেওয়া শুরু হয়েছে।
১৭ মার্চ ২০২৬ সকাল ০৯:০৭:১৯
মার্কিন রণতরীকে সহায়তাকারীদেরও নিশানার হুঁশিয়ারি ইরানের
লোহিত সাগরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ডকে সহায়তাকারীদেরও নিশানার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় কমান্ডের এক মুখপাত্র এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।সোমবার (১৬ মার্চ) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।ইরান জানিয়েছে, লোহিত সাগরে মোতায়েন থাকা মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ডকে সহায়তা প্রদানকারী সব ধরনের লজিস্টিক ও সেবা স্থাপনা তাদের সশস্ত্র বাহিনীর সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।ওই মুখপাত্র বলেন, লোহিত সাগরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী মোতায়েনকে ইরান নিজেদের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে। ওই রণতরী বহরকে সহায়তা দেওয়া লোহিত সাগর অঞ্চলের লজিস্টিক ও সেবা কেন্দ্রগুলো ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে।এদিকে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্যান্য দেশকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এখন পর্যন্ত কোনো দেশ এ প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি।আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশকে ওই অঞ্চলে জাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানান। তার মতে, এতে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেন, ট্রাম্প যেসব দেশের কথা উল্লেখ করেছেন তাদের কয়েকটির সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, হরমুজ প্রণালি আবার চালু করতে চীন গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে পারে।তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি। চীনের দূতাবাসের এক মুখপাত্র বলেছেন, জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা সবার দায়িত্ব এবং পরিস্থিতি শান্ত করতে চীন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখবে।বর্তমানে ইরানের সামরিক বাহিনী কার্যত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ছাড়া অন্য দেশের জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
১৬ মার্চ ২০২৬ রাত ০৭:৫৫:৫৩
বিশ্ববাজারে আবারও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল নেতৃত্বাধীন যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহে গড়ানোর মধ্যে বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। রবিবার (১৫ মার্চ) সন্ধ্যায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ২০২২ সালের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।আন্তর্জাতিক বাজারের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৬ দশমিক ১২ ডলারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে হয়েছে প্রায় ১০১ দশমিক ৫৩ ডলার।বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন করা হয়।এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি প্রণালিটি দ্রুত তেলবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন দেশকে সমন্বিতভাবে উদ্যোগ নিতে হবে। তবে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে ইঙ্গিত দিয়েছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তেলবাহী জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বের করে আনতে নৌবাহিনী মোতায়েনের প্রস্তুতি চলছে, তবে তা সম্পন্ন হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।এরই মধ্যে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান হরমুজ প্রণালীতে মাইন পেতে রেখেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র সম্পৃক্ত তেল ও গ্যাস স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর কয়েকটি তেলবাহী জাহাজও হামলার শিকার হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা খারগ দ্বীপে এ বিমান হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ওয়াশিংটন জানিয়েছে, আপাতত ইরানের পুরো তেল উৎপাদন ব্যবস্থা ধ্বংস করা তাদের লক্ষ্য নয়।বর্ধিত জ্বালানি দামের চাপ মোকাবিলায় নিজস্ব উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যে মেক্সিকো উপসাগরে BP-এর নতুন তেল প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে বন্ধ থাকা তেল রিগ ও পাইপলাইন পুনরায় চালুর নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।এদিকে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ)-এর সদস্য দেশগুলো জরুরি ভিত্তিতে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এই তেল মূলত মার্চের শেষ দিক থেকে বাজারে সরবরাহ শুরু হবে বলে জানা গেছে। যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। আমেরিকান অটোমোবাইল এসোসিয়েশন (এএএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় দাম ২৪ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৩ দশমিক ৭০ ডলারে পৌঁছেছে।বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার প্রভাব শুধু তেলের বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এই পথ দিয়ে বিশ্বজুড়ে সার পরিবহনও হয়ে থাকে। ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি দুগ্ধজাত পণ্য, ফল, সবজি ও মাছের মতো দ্রুত নষ্ট হওয়া খাদ্যপণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারেও মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
ইরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক হামলা সোমবার (১৬ মার্চ) পর্যন্ত টানা ১৭ দিনে গড়িয়েছে। এরই মধ্যে হামলার নেপথ্য নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম।চলতি মাসের শুরুতে প্রভাবশালী মার্কিন দৈনিক দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এবং বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানে হামলা শুরুর পেছনে ইসরায়েল ও সৌদি আরবের চাপ ছিল। দেশ দুইটির প্রভাবেই এই হামলা শুরু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রকাশ্যে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইরানে হামলার বদলে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নেন। তিনি বলেছিলেন, তেহরানে হামলা চালানোর জন্য সৌদি আরবের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলোচনায় তিনি ভিন্ন অবস্থান নেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সেখানে তিনি ট্রাম্পকে সতর্ক করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নেয়, তবে পরিস্থিতির পরিণতি খারাপ হতে পারে।এদিকে রবিবার (১৫ মার্চ) প্রকাশিত নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে নতুন তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হামলা অব্যাহত রাখতে ট্রাম্পকে আহ্বান জানিয়েছেন সৌদি যুবরাজ। প্রতিবেদনে বলা হয়, হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে ট্রাম্প নিয়মিতভাবে আরব নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, বিশেষ করে সৌদি যুবরাজের সঙ্গে। হোয়াইট হাউসের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এসব আলোচনায় সৌদি যুবরাজ ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।মার্কিন কর্মকর্তারা আরও জানান, ওয়াশিংটন বর্তমানে সৌদি আরবের প্রয়াত রাজা আবদুল্লাহর একটি পুরোনো বার্তাও বারবার শুনছে। সেই পরামর্শে বলা হয়েছিল,শত্রুর মূল উৎস বা নেতৃত্বকে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করে দিতে হবে।
১৬ মার্চ ২০২৬ দুপুর ০১:২৩:০৯
একদিনেই সৌদি আরবে ৬০টির বেশি ড্রোন ভূপাতিত
সৌদি আরবে ১৫ মার্চ রোববার দিনগত মধ্যরাত থেকে দেশটির
আকাশসীমায় আসা ৬০টির বেশি ড্রোন তারা সফলভাবে ধ্বংস করেছে বলে জানিয়েছে সৌদি আরবের
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। ১৬ মার্চ সোমবার ভোরে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সোশ্যাল
মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত একাধিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত
করা হয়েছে। বিবৃতিতে জানানো হয়, দেশের পূর্ব অঞ্চলে মোট ৬১টি ড্রোন
শনাক্ত করার পর সেগুলো ভূপাতিত করা হয়েছে।ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের
প্রভাবে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এই আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যেই
সৌদি আরব একের পর এক ড্রোন হামলার শিকার হচ্ছে। তবে এই ড্রোনগুলো ঠিক কোত্থেকে বা কোন
গোষ্ঠী ছুঁড়েছে, সে বিষয়ে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত
কিছু জানানো হয়নি।এর আগে বাহরাইন, কুয়েত এবং কাতারও তাদের আকাশসীমায় আসা
বিভিন্ন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার খবর জানিয়েছিল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের
বিরুদ্ধে নতুন করে বিমান হামলা শুরু করার পর থেকেই ইরান পাল্টা আঘাত হেনে আসছে। ইরান
কেবল ইসরায়েলি ভূখণ্ডই নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকেও
ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,
যতক্ষণ পর্যন্ত বিদেশি আগ্রাসন বন্ধ না হবে, ততক্ষণ তাদের ‘প্রতিশোধমূলক’ অভিযান চলতেই থাকবে।
১৬ মার্চ ২০২৬ দুপুর ১২:২৯:০৪
নেতানিয়াহুকে ‘খুঁজে বের করে হত্যার’ অঙ্গীকার ইরানের বিপ্লবী গার্ডের
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে খুঁজে বের করে হত্যার অঙ্গীকার করেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। রোববার আইআরজিসির এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়ে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মাঝে রোববার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে লক্ষ্যবস্তু করার অঙ্গীকার করেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। আইআরজিসির পরিচালিত সংবাদমাধ্যম সেপাহ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘‘যদি এই শিশু হত্যাকারী অপরাধী বেঁচে থাকেন, তাহলে আমরা সম্পূর্ণ শক্তি দিয়ে তাড়া করে তাকে হত্যা করব।’’ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর অবস্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্নের মাঝে আইআরজিসি ওই বিবৃতি দিয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে নেতানিয়াহুকে জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছে না বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে জানানো হচ্ছে।গত ১২ মার্চ নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের প্রকাশিত একটি ভিডিও নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জল্পনা তৈরি হয়েছে। ভিডিওতে তার হাতের আঙুলগুলো এমনভাবে দেখা গেছে যেন এক হাতে ছয়টি আঙুল রয়েছে। তবে ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে সম্পাদনা করা হয়েছে কি না; তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। যদিও পরবর্তীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ভিডিওতে নেতানিয়াহুর হাতের আঙুল পাঁচটিই রয়েছে। সেখানে ক্যামেরা ও লাইটের ফোকাসের কারণে হাতের আঙুল ছয়টি মনে হয়েছে।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মাঝে বিমান হামলা শুরু হওয়ার পর সেটি ছিল ৭৬ বছর বয়সী নেতানিয়াহুর প্রথম সংবাদ সম্মেলনের ভিডিও। সেই ভিডিওতে তিনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে হত্যার পরোক্ষ হুমকি দিয়েছিলেন এবং ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক অভিযানের পক্ষে সাফাই গেয়েছিলেন।হিব্রু ভাষায় দেওয়া সেই ভাষণে নেতানিয়াহু বলেছিলেন, ‘‘আমি আমাদের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর বিস্তারিত বিবরণ দেব না। আমরা ইরানি শাসনব্যবস্থাকে উৎখাতের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করছি। তবে আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না, ইরানের জনগণই এই শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করবে কি না। কারণ একটি শাসনব্যবস্থা দেশের ভেতর থেকেই উৎখাত হয়।’’মার্কিন রক্ষণশীল রাজনৈতিক ভাষ্যকার ক্যান্ডেস ওয়েনসসহ অনেকেই প্রশ্ন তুলে বলেছেন, ‘‘বিবি (নেতানিয়াহুর ডাকনাম) কোথায়?’’ শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেছেন, ‘‘নেতানিয়াহুর অফিস তার ভুয়া এআই ভিডিও কেন প্রকাশ এবং ডিলিট করছে? আর কেন হোয়াইট হাউসে ব্যাপক আতঙ্ক বিরাজ করছে?’’নেতানিয়াহুর মৃত্যুর খবর নাকচএদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর তার মৃত্যুর খবর অস্বীকার করে বলেছে, তিনি নিরাপদ আছেন। ‘‘নেতানিয়াহুকে হত্যা করা হয়েছে’’, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন দাবির বিষয়ে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সিকে তার দপ্তর বলেছে, ‘‘এসব ভুয়া খবর। প্রধানমন্ত্রী সুস্থ আছেন।’’তবে নেতানিয়াহুর দপ্তর বা তার সহকারীরা এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিষয়ে কোনও বিবৃতি দেয়নি। কিছু ব্যবহারকারী বলছেন, নেতানিয়াহুর ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহুকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া যাচ্ছে না। এক্সে প্রায় ২ লাখ ৮৪ হাজার ফলোয়ার রয়েছে এবং ব্যাপক সক্রিয় ছিলেন তিনি। গত ৯ মার্চের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনও পোস্ট করেননি তিনি।সূত্র: এএফপি।
১৫ মার্চ ২০২৬ বিকাল ০৪:০০:৫১
সৌদি-আমিরাতে হামলা চালিয়েছে ইরান
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী। তবে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন লক্ষ্যে আঘাত হানার আগেই রিয়াদের আকাশে ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।রোববার সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রিয়াদ মহানগর এলাকায় চারটি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সৌদি আরব ক্রমাগত ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হচ্ছে। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো, মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থান, সামরিক স্থাপনা এবং জনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোকে বেছে নেওয়া হয়েছে।ইরানের সামরিক বাহিনীর এসব হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত অন্তত দু’জন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন।এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা বিমান ঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান।ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বলেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা বিমান ঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন সৈন্যদের লক্ষ্য করে ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও অজ্ঞাত সংখ্যক ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে।ইসরায়েলে ২৪ ঘণ্টায় শতাধিক মানুষ আহতইরানের সামরিক বাহিনীর হামলায় ইসরায়েলে গত ২৪ ঘণ্টায় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। রোববার ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।এতে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের জেরে গত ২৪ ঘণ্টায় ১০৮ জন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।তবে ইসরায়েলিদের আহত হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণের বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি মন্ত্রণালয়। তাদের মধ্যে অনেকে সরাসরি ইরান থেকে ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা লেবানন থেকে আসা রকেটের আঘাতে আহত হয়েছেন। এছাড়া নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সময়ও অনেকে হুড়োহুড়িতে আহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আজ সকাল পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ১৯৫ জন মানুষকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৮১ জন বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।সূত্র: আল জাজিরা, এএফপি।
১৫ মার্চ ২০২৬ বিকাল ০৩:৫৩:৩৩
মোজতবা খামেনি সুস্থ আছেন ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করছেন: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ‘সুস্থ আছেন’ এবং ‘পরিস্থিতি পুরো নিয়ন্ত্রণ করছেন’ বলে জানিয়েছেন দেশিটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।রোববার (১৫ মার্চ) ইরানি গণমাধ্যম অ্যালারাবি আলজাদিদকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান তিনি।উল্লেখ্য, গত ০৮ মার্চ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ইরানের এই সর্বোচ্চ নেতা এখনো জনসমক্ষে উপস্থিত হননি।গত ১২ মার্চ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া তার প্রথম ভাষণ পাঠ করেছিলেন একজন উপস্থাপক।তিনি বলেছেন, ইরান ‘ন্যায্যভাবে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাতে পারে এমন যে কোনো আঞ্চলিক উদ্যোগকে’ স্বাগত জানান।হরমুজ প্রণালী ‘যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের জাহাজ বাদে সবার জন্য উন্মুক্ত।’আরাঘচি বলেছেন, ‘যুদ্ধ শেষ করার জন্য এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনও উদ্যোগ আলোচনার টেবিলে নেই’।এর আগে, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির জীবিত থাকার বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে জানিয়েছেন, তিনি তেল চান; সারা বিশ্বের জন্যই তেল চান।স্থানীয় সময় শনিবার এনবিসি নিউজকে দেওয়া ফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি জানি না তিনি বেঁচে আছেন কি না। এখনো পর্যন্ত কেউ তাকে দেখাতে পারেনি। আমি শুনেছি তিনি বেঁচে নেই। যদি বেঁচে থাকেন, তবে তার দেশের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হলো আত্মসমর্পণ।’ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের পরই মোজতবা খামেনি সুস্থ থাকার কথা জানালেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
১৫ মার্চ ২০২৬ বিকাল ০৩:৪৯:১৩
মোজতবা খামেনির বেঁচে থাকা নিয়ে ‘সংশয়’ ট্রাম্পের
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিরবেঁচে
থাকা নিয়ে সংশয় দেখছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।১৫ মার্চ রোববার সিএনএনের লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,
শনিবার এনবিসি নিউজকে ৩০ মিনিট টেলিফোনে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তখনই
ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডারের অবস্থা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ক্ষমতা
গ্রহণের পর থেকে মোজতবা খামেনিকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি।মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, মোজতবা আদৌ বেঁচে আছেন কি না,
আমি জানি না। এখন পর্যন্ত কেউ তার উপস্থিতির প্রমাণ দিতে পারেনি।সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, তিনি শুনছেন ইরানের
নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা বেঁচে নেই। ট্রাম্প বলেন, মোজতবা যদি বেঁচে থাকেন, তবে নিজের
দেশের স্বার্থে তার একটি অত্যন্ত বুদ্ধিমানের কাজ করা উচিত। আর তা হলো আত্মসমর্পণ করা।
তবে সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প অবশ্য মোজতবা খামেনির মৃত্যুর খবরকে একটি ‘গুজব’ হিসেবেও আখ্যায়িত করেন।
ইরানের ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে তিনি নির্দিষ্ট কাউকে সমর্থন
করেন কি না—এমন
প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প কারও নাম উল্লেখ করেননি। তিনি শুধু বলেন, আমাদের কাছে এমন কিছু
মানুষ আছেন, যারা ওই দেশের ভবিষ্যতের জন্য দুর্দান্ত নেতা হতে পারেন।
টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও বলেছেন, ‘একটি চুক্তি
করতে চায় ইরান। কিন্তু আমি এখনই তা করতে চাই না, কারণ চুক্তির শর্তগুলো এখনো যথেষ্ট
ভালো নয়।’