ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৪ মে ২০২৬ রাত ০৮:০১:১৯
মধ্যরাতে স্ত্রীর কাছে আকুতি- “আয়েশা, আমাকে বাঁচাও”
“আয়েশা, আমাকে বাঁচাও। জাকির আমাকে এখনই মেরে ফেলবে”—মধ্যরাতে স্ত্রীর মোবাইল ফোনে এ কথাগুলোই ছিল হানিফ মিয়ার শেষ আকুতি। এর কয়েক ঘণ্টা পরই ব্রহ্মপুত্র নদসংলগ্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় তাঁর মরদেহ। হৃদয়বিদারক এ ঘটনা ঘটেছে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নে।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফরিদপুর ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদসংলগ্ন একটি স্থান থেকে হানিফ মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত হানিফ মিয়া ফরিদপুর ইউনিয়নের আনন্দবাজার এলাকার ইব্রাহিম মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় কাঠ ব্যবসায়ী ছিলেন।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রতিবেশী লসকর মিয়ার ছেলে জাকির হোসেন বিশেষ কাজের কথা বলে হানিফ মিয়াকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর রাত সাড়ে ১২টার দিকে হানিফ মিয়া তাঁর স্ত্রী আয়েশার মোবাইলে ফোন করে বলেন, “আয়েশা, আমাকে বাঁচাও। জাকির ও তার সঙ্গে কয়েকজন আমাকে মেরে ফেলবে।”
এ খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত লসকর মিয়ার বাড়িতে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তারা বাড়ির গেট বন্ধ দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের নিয়ে আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে লসকর মিয়ার বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ ফুট দূরের একটি পতিত জমিতে হানিফ মিয়ার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত জাকির হোসেন ও তার সহযোগীরা পলাতক রয়েছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, জাকির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তিনি ফরিদপুর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদক বিক্রি ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন। স্থানীয়দের ধারণা, মাদকসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।