জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সড়ক অবরোধ
বগুড়া জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ০৮:৪৯:৩৬
বগুড়ায় চোর সন্দেহে যুবককে নির্যাতন, পায়ের রগ কাটার অভিযোগ; হাসপাতালে মৃত্যু
বগুড়ায় চোর সন্দেহে শামিম হোসেন (৩৫) নামে এক যুবককে আটক করে মারধর ও নির্যাতনের পর পায়ের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ভোরে বগুড়া সদর উপজেলার নিশিন্দারা ইউনিয়নের বারপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শামিম হোসেন সদর উপজেলার নামুজা ইউনিয়নের চৌমুহনী এলাকার আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে।
নিহত স্বজনদের অভিযোগ, শামিম তার এক নিকটাত্মীয়ের জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে সোমবার বিকেলে বারপুর এলাকায় যান। রাতে তিনি সেখানে অবস্থান করেন। ভোররাতে এলাকায় হাঁটাহাঁটির সময় তাঁকে চোর সন্দেহে নিশিন্দারা ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এ বি এম শাফিসহ কয়েকজন তাকে আটক করে। আটকের পর শামিমকে মারধর ও নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে তার পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ফেলে রাখা হয়।
এ ঘটনায় ইউপি সদস্য এ বি এম শাফিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন নিহত স্বজনেরা। তবে অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য শফি বলেন, তিনি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়ে বাড়িতে অবস্থান করছেন। ভোররাতে এলাকার এক যুবক তাকে ফোন করে চোর সন্দেহে একজনকে আটকের কথা জানান। তখন তিনি ওই যুবককে ইউনিয়ন পরিষদে আটকে রাখার পরামর্শ দেন।
এদিকে শামিমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয়রা জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে নিশিন্দারা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে বগুড়া-নামুজা সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে পুলিশের আশ্বাসে প্রায় এক ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী বলেন, চোর সন্দেহে এক যুবককে মারধর করে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনায় কারা জড়িত, তা আরও স্পষ্ট হবে।