নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকাল ০৫:৫৭:৫৯
ফ্যাসিস্ট রাজনীতির পতন ঘটিয়ে তারেক রহমান শান্তির দূত হয়ে এসেছেন: ড. মোশাররফ
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি বলেছেন, শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন ঘটিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এদেশে শান্তির দূত হয়ে এসেছেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ভয়ের রাজনীতির বিপরীতে তিনি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার রাজনীতি চালু করেন। দেশের মানুষ তা সাদরে গ্রহণ করেছেন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাস ষ্টেশন সংলগ্ন পেন্নাই ঈদগাহে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালীপূর্ব বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির প্রথম জাতীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন স্মৃতিচারণ করে বলেন, ১৯৭৮ সালের এই দিনে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠার স্বার্থে বিএনপির প্রতিষ্ঠা ছিল সময়োপযোগী এবং ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। তৎকালীন সরকার অভিশপ্ত একদলীয় 'বাকশাল' প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের বাক ও ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করেছিল। শহীদ জিয়া রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসে প্রথমেই রাজনৈতিক দলের নিষেধাজ্ঞা তুলে দেন, দেশে গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠা করেন।
বিএনপির গৌরবময় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে আমি স্বাধীনতার মহান ঘোষক ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়াকে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি।
বিএনপির এই বর্ষীয়ান নেতা বলেন, জাতীয় সমৃদ্ধির জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলা অপরিহার্য। সর্বাত্মক গণঅভ্যুত্থানের পর সব দেশেই অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হয়। আমাদেরও সে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হয়েছে। সেই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে জনগণ সুফল পেতে শুরু করেছে। তিনি সামাজিক অপরাধ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি গ্রহণ করেছেন।
ড.মোশাররফ বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সূচিত সুস্থ ধারার রাজনীতিকে জনগণ বিপুল সমর্থন জানাচ্ছে। দেশকে এগিয়ে নিতে প্রতিহিংসার রাজনীতির পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নতুন ধারার উন্নয়নের রাজনীতিতে সামিল হওয়ার জন্য তিনি (ড. মোশাররফ) জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার দু:শাসন, জুলুম নিপীড়ন চালিয়ে গণতন্ত্র,অর্থনীতিসহ রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্র ধ্বংস করে পালিয়ে গেছে। খন্দকার মোশাররফ দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্বে দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, সবাইকে নিয়ে তিনি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠন করতে সক্ষম হবেন।
কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব আবুল হাশেমের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মো.সেলিম ভুঁইয়া এমপি এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রীম কোর্টের এডভোকেট ড.খন্দকার মারুফ হোসেন।
বিশেষ অতিথি ড.খন্দকার মারুফ হোসেন বলেন, গত ৬ মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রের প্রচুর জনগুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি একটি উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার নতুন স্বপ্ন নিয়ে কাজ করছেন। টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও সমৃদ্ধ দেশ গড়তে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে একসাথে কাজ করার জন্য ড.খন্দকার মারুফ সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।
কুমিল্লা উত্তর জেলা দাউদকান্দি, মেঘনা ও তিতাস উপজেলা এবং দাউদকান্দি পৌর বিএনপির নেতাকর্মী, সমর্থকবৃন্দ, সর্বস্তরের বিপুলসংখ্যক জনতা সমাবেশ ও বর্ণাঢ্য র্যালীতে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করেছেন। উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি নেতা এম.এ লতিফ ভূইয়া, নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকার, ভিপি জাহাঙ্গীর আলম, আলহাজ্ব জসিম উদ্দিন আহমেদ,পিটার চৌধুরী,রমিজউদ্দিন লন্ডনী,সালাহউদ্দিন সরকার,দিলারা শিরীন, কাউসার আলম সরকার, আবদুস সাত্তার, এনামুল হক সফর তালুকদার, মো.কামাল হোসেন, আহাম্মদ হোসেন তালুকদার, আরিফ মাহামুদ, ভিপি শাহাবুদ্দিন ভুইয়া, শাহ আলম সরকার, শরীফ চৌধুরী,রোমান খন্দকার প্রমুখ।
ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে সকাল ১১টায় দাউদকান্দি বাজারে উপজেলা ও পৌর বিএনপির নির্মাণাধীন ৪তলা বিশিষ্ট অফিস ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ড.খন্দকার মারুফ হোসেন। এই সময় স্থানীয় দাউদকান্দি উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।