নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ০৬:১৫:৪৩
এনটিআরসিএর মাধ্যমেই হবে বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগ
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগে আগের নিয়মই বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ফলে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে সনদ অর্জনের পাশাপাশি নিয়োগের সুপারিশও করবে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)।
একই সঙ্গে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে এর আগে নেওয়া বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক সভায় সভাপতিত্ব করেন।
সভায় এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান আলিফ রুদাবা, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব হেলালুজ্জামান সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় অংশ নেওয়া মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা ও নিয়োগের সুপারিশ আগের নিয়মেই হবে। এ-সংক্রান্ত আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে। শিগগির এ বিষয়ে পরিপত্র জারি করা হবে।
এর আগে গত ৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, এখন থেকে এনটিআরসিএ এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করতে পারবে না। প্রতিষ্ঠানগুলোর ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের কথা বলা হয়েছিল।
ওই সভার কার্যবিবরণী পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছিল, ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫’ অনুযায়ী এনটিআরসিএ কেবল নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের কাজ করবে। ২০১৫ সালের পরিপত্র অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক নিয়োগে আর সুপারিশ করবে না।
এছাড়া, ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৯ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীকে তাদের পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বউদ্যোগে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়েও কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়।
শিক্ষক নিয়োগের ওই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পর বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ঢাকা, জগন্নাথ, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন।
তবে বিতর্কের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছিলেন, ৩ আগস্টের সভায় আলোচনা ও রেজুলেশন হলেও সেটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছিল না। বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং এবং পরে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের কথা ছিল।