রামপাল (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ০৭:৩৯:৩০
সুন্দরবন খুলতেই আত্মসমর্পণ করলো ৫২ জলদস্যু, অস্ত্র জমা দেওয়ার ঘোষণা
সুন্দরবন পর্যটক ও বনজীবীদের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার ঠিক আগের দিন আবারও একযোগে ৪ জলদস্যু বাহিনীর ৫২ সদস্যের আত্মসমর্পণে সুন্দরবনের নিরাপত্তায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) সুন্দরবনে সক্রিয় চার জলদস্যু বাহিনীর ৫২ সদস্য র্যাব-৬-এর কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।
আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন, আনারুল বাহিনীর ১৩ জন, আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫ জন এবং আফতাব বাহিনীর ৮ জন রয়েছেন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) খুলনা সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি বলা হয়, সুন্দরবন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। এ বনকে ঘিরে জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালসহ হাজার হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে জলদস্যু ও বনদস্যুদের অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় এবং নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে সুন্দরবনে প্রবেশকারী বনজীবীদের নিরাপত্তা ছিল বড় উদ্বেগের বিষয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান এবং সরকারের পুনর্বাসন উদ্যোগের ফলে এর আগে সুন্দরবনের বিভিন্ন দস্যু বাহিনীর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্য আত্মসমর্পণ করেছিলেন। এতে সুন্দরবনে দস্যুতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন কিছু দস্যুচক্রের তৎপরতা এবং পূর্বে আত্মসমর্পণকারী কয়েকজনের পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার তথ্য পাওয়া যায়। পাশাপাশি জেলে ও বনজীবীদের অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি এবং অন্যান্য অপরাধের ঘটনাও সামনে আসে।
এ পরিস্থিতিতে সুন্দরবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি ও আভিযানিক তৎপরতা বাড়ায়। তাদের দাবি, ধারাবাহিক অভিযান ও নজরদারির পাশাপাশি সুন্দরবনের প্রতিকূল পরিবেশ এবং দস্যু জীবনের অনিশ্চয়তায় বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আগ্রহ তৈরি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় চার বাহিনীর ৫২ সদস্য আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, একই সঙ্গে চারটি জলদস্যু বাহিনীর এত বিপুলসংখ্যক সদস্যের আত্মসমর্পণ সুন্দরবনের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এতে দস্যু বাহিনীগুলোর সাংগঠনিক সক্ষমতা দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি অপহরণ ও মুক্তিপণের মতো অপরাধ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের জন্যও এ আত্মসমর্পণ স্বস্তির বার্তা বলে মনে করছে তারা। নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত হলে বনজীবীরা নির্বিঘ্নে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন। একই সঙ্গে পর্যটন এবং সুন্দরবনকেন্দ্রিক স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
র্যাব জানিয়েছে, সুন্দরবনকে জলদস্যু ও বনদস্যুমুক্ত রাখা এবং বননির্ভর মানুষের জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। জলদস্যুতা, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়সহ সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রতিরোধে সুন্দরবনে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আত্মসমর্পণকারীদের বিষয়ে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরে তাদের যথাসময়ে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে।