আইনি জট কাটলেও পদোন্নতির অপেক্ষায় সহকারী শিক্ষকরা
রুহুল আমিন কিবরিয়া, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৩ অক্টোবর ২০২৬ দুপুর ১২:১১:১৫
বগুড়ায় ৮১৬ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক
বগুড়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিনের। জেলার ১ হাজার ৬০৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৮১৬টিতেই নেই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক। ফলে এসব বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত বা চলতি দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে প্রশাসনিক কার্যক্রম।
দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা কাটিয়ে গত ২ জুলাই আপিল বিভাগের রায়ের পর প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির পথ খুলেছে। তবে পদোন্নতির আগে সহকারী শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের কাজ চলছে। এর অংশ হিসেবে শুরু হয়েছে শিক্ষকদের তথ্যের ডিজিটাল যাচাই-বাছাই।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সফটওয়্যারের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষকদের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা হচ্ছে। জন্মতারিখ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, নিয়োগপত্র, চাকরিতে যোগদানের তারিখ, মোট চাকরিকাল ও কর্মসম্পাদনসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি নিয়োগপত্র, সার্ভিস বুকসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্রও পরীক্ষা করা হচ্ছে।
যাচাই-বাছাই শেষে উপজেলা পর্যায় থেকে তথ্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে পাঠানো হবে। পরে জেলা পর্যায়ের প্রক্রিয়া শেষে জ্যেষ্ঠতার তালিকা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানোর কথা রয়েছে।
বগুড়ার ১৩ উপজেলার মধ্যে প্রধান শিক্ষক পদে শূন্যতার দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে গাবতলী। উপজেলাটিতে ১০৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। ধুনটে ১০৩টি, সারিয়াকান্দিতে ৯৮টি এবং শেরপুরে ৭৩টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে।
প্রধান শিক্ষক না থাকায় এসব বিদ্যালয়ের অনেকগুলোতে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে একই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ সামলাতে হচ্ছে তাঁদের।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রধান শিক্ষক পদে দ্রুত পদোন্নতি হলে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আসতে পারে। তবে শুধু প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বা পদোন্নতি দিলেই সংকট পুরোপুরি কাটবে না। সহকারী শিক্ষক পদেও শূন্যতা থাকায় অনেক বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রমে চাপ রয়েছে। ফলে দুটি স্তরেই শূন্য পদ পূরণ করা প্রয়োজন।
জাতীয় পর্যায়েও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে দীর্ঘদিন ধরে শূন্যতা রয়েছে। আপিল বিভাগের রায়ের পর পদোন্নতির আইনি বাধা দূর হওয়ায় এখন জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের কাজ শেষ করে পদোন্নতির প্রজ্ঞাপনের অপেক্ষায় রয়েছেন শিক্ষকরা।
বগুড়ার ৮১৬টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সংকট কবে কাটবে, তা এখন নির্ভর করছে ডিজিটাল জ্যেষ্ঠতা যাচাই ও পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার ওপর। শিক্ষকদের অপেক্ষা—কবে শেষ হবে যাচাই-বাছাই, আর কবে জারি হবে পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন।