নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৫ মে ২০২৬ রাত ০৯:৪৮:১০
এসএসপি নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে আবু আবিদ
আসন্ন সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদ (এসএসপি) কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন ২০২৬-কে সামনে রেখে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন মোহনা টেলিভিশনের চীফ এডিটর (প্ল্যানিং, অনলাইন ও কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স) মুহাম্মদ আবু আবিদ।
মঙ্গলবার (৫ মে) নিজের ফেসবুক বার্তায় তিনি জানান, এই নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সাংবাদিকদের ঐক্য, অধিকার ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, “হার-জিত আল্লাহর ইচ্ছায় নির্ধারিত। তবে আমার কাছে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো দেশের প্রায় ৮ হাজার সাংবাদিকের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাওয়া।”
সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় এই প্রার্থী তার মূল স্লোগান হিসেবে বেছে নিয়েছেন—“সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিকার নয়, প্রতিরোধই হোক আমাদের মূল লক্ষ্য।”
জানা যায়, আগামী ১৪ মে (বৃহস্পতিবার) জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এসএসপি নির্বাচন ২০২৬।
ফেসবুক বার্তায় ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা সবাই উপস্থিত থেকে ভোট দিন। যার যোগ্যতা আছে, তাকেই নির্বাচিত করুন। তবে ভোট প্রদানে অবশ্যই অংশগ্রহণ করবেন।”
আরও জানা যায়, এই নির্বাচনে ভোটার নম্বর ১৬৬ নিয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আবু আবিদ।
কে এই মুহাম্মদ আবু আবিদ?
চট্টগ্রামের হালিশহরে জন্ম নেওয়া মুহাম্মদ আবু আবিদের শেকড় পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায়। শৈশব থেকেই তিনি সংস্কৃতি ও সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নাট্যচর্চা, কবিতা আবৃত্তি ও বিতর্ক প্রতিযোগিতায় তার ছিল নিয়মিত অংশগ্রহণ এবং একাধিক পুরস্কার অর্জনের নজির।
প্রায় এক দশকের সাংবাদিকতা জীবনে তিনি জাতীয় ও আঞ্চলিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি মোহনা টিভির চীফ এডিটর (প্ল্যানিং, অনলাইন ও কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি জাতীয় দৈনিক “আলোকিত প্রতিদিন”-এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ও অনলাইন প্রধান হিসেবেও যুক্ত আছেন।
সাংবাদিক সংগঠনের ক্ষেত্রেও তার সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। তিনি টেলিভিশন রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ট্র্যাব)-এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন ক্রাইম রিপোর্টার্স সোসাইটি (ডিএমসিআরএস)-এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক মুখপাত্র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
সাংবাদিকতার ক্যারিয়ারে অপরাধ, দুর্নীতি ও সামাজিক অসঙ্গতির বিরুদ্ধে তার অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তাকে পেশাগত অঙ্গনে সাহসী সাংবাদিক হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে।
এদিকে ২০১৯ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “দূর্বার তারুণ্য ফাউন্ডেশন”। অল্প সময়ের মধ্যেই সংগঠনটি দেশব্যাপী পরিচিতি লাভ করে। এর অন্যতম আলোচিত উদ্যোগ “আমরা মালি” তরুণদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এছাড়াও ফাউন্ডেশনটি বিভিন্ন মানবিক ও সৃজনশীল কর্মসূচি পরিচালনা করেছে, যেমন—“ফ্রি ঈদ শপিং”, “সবার জন্য চাল-ডাল”, “শীতে উষ্ণ খাবার”, “অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগ ‘আমরা মানুষ’”, “অন্যরকম ভালোবাসা দিবস”, “পিঠা উৎসব” এবং “ভিন্নধর্মী নববর্ষ আয়োজন”।
এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি তরুণদের নিয়ে সামাজিক পরিবর্তনের এক ভিন্নধর্মী আন্দোলন গড়ে তোলেন। তার নেতৃত্বে ফাউন্ডেশনটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একাধিক সম্মাননাও অর্জন করেছে।