জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর খিলগাঁও এলাকায় জাহিদ হোসেন রাব্বী নামে বিএনপির কর্মী নিহতের ঘটনায় শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ১২৫ জনের নামে ঢাকার একটি আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রৌনক জাহান তাকির আদালতে গত মঙ্গলবার নিহত রাব্বীর মামা ও খিলগাঁও থানার ঝিলপাড় ইউনিটের যুবদলের সদস্য নাঈম কলিমুল্লাহ সরকার মামলার আবেদন করেন।বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারি মো. রিপন মিয়া মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।তিনি বলেন, ‘আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে আগামী ২ নভেম্বর মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।বাকি আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও হাসিনা সরকারের সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, প্রসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, শাজাহান খান, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ড. আব্দুর রাজ্জাক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সাবেক পরিবেশ ও বন মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবীর নানক, হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেনন।সাবেক অর্থমন্ত্রী লোটাস কামাল, সাবেক তিন প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, মোহাম্মদ. এ আরাফাত, জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক তিন সিটি মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, আতিকুর রহমান ও জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক এমপি মাহবুব-উল-আলম হানিফ, শেখ হেলাল, আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মির্জা আযম, মুজিবুর রহমান চৌধুরী ওরফে নিক্সন চৌধুরী, নূর মোহাম্মদ, সাইফুজ্জামান শেখর, নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন, নজরুল ইসলাম বাবু, ডা. হাবিব এ মিল্লাত।এছাড়াও সচিবদের মধ্যে রয়েছেন—সাবেক মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, সাবেক মন্ত্রীপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত সচিব হারুন অর রশীদ বিশ্বাস, সাবেক যুগ্ম সচিব ধনঞ্জয় কুমার দাস ও আবুল ফজল মীর বাদল, সাবেক অতিরিক্ত সচিব শায়লা ফারজানা শিউলি।আইনশৃঙ্খলার বাহিনীর মধ্যে সাবেক চার আইজিপি- এ কে এম শহীদুল হক, বেনজীর আহম্মেদ, জাবেদ পাটোয়ারী, চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, এনটিএমসির সাবেক ডিজি জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া ও হাবিবুর রহমান, ডিবির সাবেক প্রধান হারুন-অর-রশীদ, সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ইসলাম, আব্দুল কাহার আকন্দ।মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রাব্বী বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি একজন ফটোগ্রাফার ও গ্রাফিক্স ডিজাইনার। তিনি নিয়মিত আন্দোলনে অংশ নিতেন।জুলাই আন্দোলনের শেষ দিন অর্থাৎ ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট খিলগাঁওয়ের তালতলা এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেন রাব্বী। দুপুর ২ টার দিকে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। তাকে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
১ দিন আগে
গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে বিশিষ্ট সমাজ সেবক আলোচিত নাসির উদ্দীন পালোয়ান হত্যা মামলার এজহারভুক্ত পলাতক আসামি শিহাব উদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মহানগরীর জরুন বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন কোনাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইফতেখার হোসেন। গ্রেফতারকৃত হলেন,লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা থানার দক্ষিণ ঘড্ডিমারী এলাকার এরশাদের ছেলে। তিনি বাবা মায়ের সাথে মহানগরীর জরুন এলাকায় সোলায়মানের বাসায় ভাড়া থাকতেন। জানা যায় ২০২৫ সালের ২৭ মে রাত ১১ টার সময় নাসির উদ্দীন পালোয়ানের উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নাসির উদ্দীন পালোয়ানকে কুপিয়ে মাথা ১৮ খন্ড করে। এসময় একই পরিবারের আরও ৬ জন গুরুতর আহত হন। দীর্ঘ প্রায় ৩৫ দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যু বরণ করেন। পরে নিহতের ছেলে মোঃ শাহ আলম পালোয়ান বাদী হয়ে কোনাবাড়ী থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১৫ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এস আই) হেলাল উদ্দিন জানান,কিছু আসামি আদালত থেকে জামিনে আছেন এবং কিছু আসামি পলাতক রয়েছেন। তিনি জানান,পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন কোনাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইফতেখার হোসেন জানান,আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ দুপুরে তাকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
২ দিন আগে
অনলাইন বেটিং (জুয়া) পরিচালনা এবং অবৈধভাবে অর্থ লেনদেন ও বিদেশে পাচারের সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের ধারাবাহিকতায় আরও ২ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। ২ সেপ্টেম্বর একই চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেফতারের পর মামলাটির তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও গোয়েন্দা সংবাদের ভিত্তিতে ১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার ঢাকার রামপুরা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।গ্রেফতারকৃতরা হলেন- চট্টগ্রামের পটিয়া কেলি শহরের সুজন দে’র ছেলে সজীব দে (৩৭)। তিনি বর্তমানে ঢাকার খিলক্ষেতের বাসিন্দা। অন্যজন ভোলার লালমোহনের মৃত মনতাজ মিয়ার ছেলে মোঃ মাসুদ রানা (৩০)। তার বর্তমান ঠিকানা পূর্ব রামপুরার জামতলা।সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সাইবার মনিটরিং সেলের নিয়মিত অনলাইন মনিটরিং ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেশে ও দেশের বাইরে অবস্থানকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের অনলাইন বেটিং ও জুয়া কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া যায়। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব বেটিং ওয়েবসাইটের বিজ্ঞাপন প্রচার করে সাধারণ মানুষকে অনলাইন জুয়ায় সম্পৃক্ত করা হতো।প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, চক্রটি ভুয়া বা অস্তিত্বহীন দোকানের তথ্য ব্যবহার করে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে দোকান না থাকা সত্ত্বেও ভুয়া MFS উদ্যোক্তা সিম/অ্যাকাউন্ট খুলে তা অনলাইন জুয়া কার্যক্রমে ব্যবহার করত। এসব অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে জুয়ায় অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করা হতো। পরবর্তীতে সংগৃহীত অবৈধ অর্থ বিভিন্ন মাধ্যমে দেশের বাইরে পাচার করা হতো বলে তথ্য পাওয়া গেছে।এ ঘটনায় সিআইডির পক্ষ থেকে পল্টন মডেল থানায় মামলা নং-৩৫, তারিখ-৩১/০৮/২০২৬ খ্রি., জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬-এর ১৫/১৬/১৭/১৮/১৯(১)/২২/২৩/২৪(১)/২৪(২)/২৫/২৭ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। গোয়েন্দা সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রি. বিকাল ৫:৩০ ঘটিকায় রামপুরার ৬৭, পূর্ব হাজীপাড়াস্থ এসএস কর্পোরেশন (নগদ হাউজ)-এ অভিযান পরিচালনা করে উল্লিখিত ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের নিকট থেকে ২টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।সিআইডি জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামিরা ভুয়া MFS অ্যাকাউন্ট খুলে তা অনলাইন জুয়া কার্যক্রমে ব্যবহার করতে সহযোগিতা এবং এর মাধ্যমে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার কথা স্বীকার করে। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অনলাইন বেটিং ও অবৈধ অর্থপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে সিআইডির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
২ দিন আগে
রাজধানীর উত্তরা লিবার্টি ক্লাবে অভিযান চালিয়ে বিপুলসংখ্যক মদ-বিয়ারসহ সহকারি ম্যানেজার ও কম্পিউটার অপারেটরকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১। এ সময় প্রায় ১৭ লাখ ৭৩ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের দেশি-বিদেশি মদ ও ক্যান বিয়ার জব্দ করা হয়।সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উত্তরা পশ্চিম থানার ১২ নম্বর সেক্টরের সোনারগাঁও জনপথ রোডের আজিজ স্কয়ারে অবস্থিত উত্তরা লিবার্টি ক্লাবের পঞ্চম তলায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ক্লাবের সহকারী ম্যানেজার মো. রাসেল (২৮) ও কম্পিউটার অপারেটর মো. নয়ন মিয়া (৩৮)।র্যাবের তথ্যমতে, অভিযানে ক্লাবের পঞ্চম তলার একটি কক্ষ থেকে মোট ৭৭৯টি বিদেশি বিয়ার ক্যান এবং দেশি-বিদেশি মদের বোতল জব্দ করা হয়। এসব মাদকদ্রব্যের পরিমাণ ৪৭০ দশমিক ৮৬ লিটার এবং আনুমানিক মূল্য ১৭ লাখ ৭৩ হাজার ৫০০ টাকা। অভিযানের সময় ক্লাবের সভাপতি, কর্মচারীসহ আরও কিছু ব্যক্তি র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব। গ্রেপ্তার দুইজন ও জব্দ করা মালামাল উত্তরা পশ্চিম থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন তারা।
৩ দিন আগে