৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার উন্নয়নেও জলাবদ্ধতার অভিশাপ, সামান্য বৃষ্টিতেই ডুবছে বগুড়া শহর
বগুড়া শহরের উন্নয়নে গত প্রায় ১৭ বছরে ড্রেনেজ, সড়ক, ফুটপাত ও বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় হলেও সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার পুরোনো চিত্র ফিরে এসেছে। কয়েক ঘণ্টার মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিতেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।শহরের সাতমাথা, ইসলামপুর, স্টেশন রোড, পার্ক রোড, মালগ্রাম, গালাপট্টি, চেলোপাড়া, বনানী, ঠনঠনিয়া, উপশহরসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতেও পানি ঢুকে পড়ে। এতে ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও পথচারীরা ভোগান্তিতে পড়েন।স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছর একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হলেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায় না। বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও কেন জলাবদ্ধতা কমছে না—এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, সংকীর্ণ ও অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশনের পথ দখল হয়ে যাওয়াই জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ। শুধু নতুন ড্রেন নির্মাণ নয়, বিদ্যমান ড্রেনের সংস্কার, সংযোগ উন্নয়ন এবং সমন্বিত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি কাজের গুণগত মান, জবাবদিহি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিশ্চিত না হলে প্রতিবছর বর্ষা এলেই বগুড়াবাসীকে একই দুর্ভোগ পোহাতে হবে।বগুড়াবাসীর প্রত্যাশা, কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন যেন কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবে জলাবদ্ধতামুক্ত, বাসযোগ্য একটি আধুনিক শহর গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।