ফকিরআতিয়ার রহমান, রামপাল (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৬ রাত ০৬:৩৭:১৯
ছয় মাস পর সুন্দরবনে ফিরল সেই বাঘিনী, অবমুক্ত করলেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী
চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের শরকির খালের অদূরে হরিণ শিকারিদের পাতা ছিটকা ফাঁদে প্রায় ৯ ফুট দীর্ঘ ও ৯০ কেজি ওজনের এই বাঘিনীটি আটকা পড়ে। পরদিন ৪ জানুয়ারি মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে খুলনার বন্যপ্রাণী পুনর্বাসন কেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের পর রোববার (১২ জুলাই) বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম উপস্থিত থেকে বাঘিনীটিকে সুন্দরবনে অবমুক্ত করেন।
বাঘিনীটিকে অবমুক্ত করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, “এই বাঘ বনের প্রাণী, তাকে বনেই মানায়। সে তার প্রাকৃতিক আবাসস্থল সুন্দরবনে ফিরে গেছে। বন বিভাগের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। গত ছয় মাস আগে বাঘটির পায়ে যে গুরুতর আঘাত লেগেছিল, তা তারা সফলভাবে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে তুলেছেন। আপনারা জানেন, হরিণ শিকারিদের পাতা ফাঁদে বাঘটি আটকা পড়েছিল। সেখান থেকে বের হওয়ার জন্য সে অনেক লাফালাফি করায় তার চামড়া ছিঁড়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। দীর্ঘ ছয় মাস নানা ধরনের চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের পর বিশেষজ্ঞ দল নিশ্চিত হয়েছে যে, বাঘিনীটি আবার স্বাভাবিকভাবে শিকার করতে সক্ষম। সেই সক্ষমতা বিবেচনা করেই আজ তাকে সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়েছে।”
বাঘিনীটিকে অবমুক্ত করার সময় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রধান বন সংরক্ষক (সিসিএফ) মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী, খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ, সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোহাম্মদ রেজাউল করিম চৌধুরী, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল এবং বাঘিনীটির চিকিৎসায় গঠিত বিশেষজ্ঞ মেডিকেল দলের প্রধান ভেটেরিনারি সার্জন ড. আনিসুর রহমান।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বনের গভীরে অবমুক্ত করার পর বাঘিনীটির গতিবিধি ও নিরাপত্তার ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য প্রায় ৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে প্রাথমিকভাবে ২০টি অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা ট্র্যাপ স্থাপন করা হচ্ছে। এছাড়া বাঘিনীটি অবমুক্ত হওয়ার পর আগামী এক বছর তার চলাচল ও আচরণ পর্যবেক্ষণের জন্য বন বিভাগের পক্ষ থেকে চারটি বিশেষ পর্যবেক্ষণ দল গঠন করা হয়েছে।