ক্ষমতায় গেলে আমাদের সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে: জামায়াত আমির
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করতে পারলে তাদের গঠিত সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান।বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি এ কথা জানান।জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের সরকার হবে জনগণের নিকট দায়বদ্ধ। যুগ যুগ ধরে এ দেশে জবাবদিহিতা ছাড়াই দেশ শাসন করা হয়েছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে পর্দার আড়াল থেকে। ক্ষমতাসীনদের দুর্নীতির পাহাড়কে গোপন করা হয়েছে চুপিসারে।’তিনি আরও বলেন, ‘আল্লাহর ইচ্ছায় ও জনগণের ভালোবাসায় আমরা যদি সেবা করার সুযোগ পাই, আমাদের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের সম্পদের হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ করতে বাধ্য থাকবেন। তাদেরকে নিয়মিত জনগণের মুখোমুখি হতে হবে এবং প্রতিটি সিদ্ধান্তের জন্য জবাবদিহি করতে হবে।’দায়িত্বের স্বচ্ছতার বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের সরকার চলবে স্বচ্ছতা এবং ডিজিটাল রেকর্ড ব্যবস্থার মাধ্যমে, যেখানে প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। সরকারি কাজ, ব্যয় এবং সেবা প্রদানের প্রতিটি ধাপ নাগরিকরা সরাসরি (রিয়েল-টাইম) পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। জনগণের থেকে লুকিয়ে রাখার এই সংস্কৃতির চিরস্থায়ী অবসান ঘটবে, ইনশাআল্লাহ।’
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকাল ০৪:১১:৩০
নির্বাচনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতায় থাকার দাবি যারা করছেন তারা অসৎ: উপ-প্রেস সচিব
নির্বাচনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতায় থাকার দাবিকে
উড়িয়ে দিয়ে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেছেন, নির্বাচনের
পরও অন্তর্বর্তী সরকার আরও ১৮০ কার্যদিবস ক্ষমতায় থাকবে এমন দাবি বা প্রচারণা যারা
চালাচ্ছেন, তাদের উদ্দেশ্য অসৎ।তিনি বলেন, এই গোষ্ঠীটি কিছুদিন আগেও নির্বাচন নিয়ে জনগণের
মধ্যে সংশয় ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছে। বরং নির্বাচনের পর যত দ্রুত সম্ভব
নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে।৪ ফেব্রুয়ারি বুধবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে
দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এ পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব ওই স্ট্যাটাসে সাম্প্রতিক
সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে ছড়িয়ে পড়া কিছু প্রচারণাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত
ও বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করেছেন।তিনি আরও লিখেন, এখন যখন স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে যে নির্বাচন
যথাসময়েই অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তখন ওই মহল নতুন করে ষড়যন্ত্রতত্ত্ব সামনে আনছে। এসব অপপ্রচার
মূলত নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করারই একটি কৌশল।তিনি লিখেন, দুঃখজনক হলেও লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে এই ধরনের
অসৎ প্রচারণায় অনেক উচ্চশিক্ষিত মানুষও বিভ্রান্ত হচ্ছেন। তবে, বাস্তবতা হলো এ ধরনের
বিভ্রান্তির কোনো ভিত্তি নেই এবং এতে বিভ্রান্ত হওয়ারও সুযোগ নেই।
তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর যতদ্রুত
সম্ভব নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে সরকারের দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে। অন্তর্বর্তী
সরকারের দায়িত্ব কেবল একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন নিশ্চিত করা,
এর বাইরে কোনো রাজনৈতিক বা ক্ষমতাকেন্দ্রিক লক্ষ্য এই সরকারের নেই।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) আইডি হ্যাক করার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় তিনি সুষ্ঠু বিচার এবং আইনের বাস্তব প্রয়োগ দেখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান ন্যায়বিচার চেয়েছেন।জামায়াত আমির লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমার ভেরিফাইড এক্স আইডি (টুইটার), যেখান থেকে হ্যাক হয়েছিল, সেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হয়েছে।’ন্যায়বিচার চেয়ে ডা. শফিকুর রহমান লেখেন, ‘আমি আশা করি, এখন ন্যায়বিচারটাও পাব- এবং তা খুবই প্রয়োজন। দেশে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আসন্ন নির্বাচনকে সুষ্ঠু করার পক্ষে এ ধরনের আইনি উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। শাস্তি নিশ্চিত হলে অনেকেই সাবধান হয়ে যাবে।’আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আশা করি, এখান থেকে অনেকেরই শিক্ষা হবে। অপেক্ষায় রইলাম—আইনের বাস্তব প্রয়োগ দেখার জন্য। অতি অল্প সময়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ধন্যবাদ।’এর আগে, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিনগত মধ্যরাতে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন অডিটোরিয়ামের পূর্বপাশের সরকারি কোয়ার্টারে অভিযান চালিয়ে রাষ্ট্রপতি দফতরের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রামার মো. ছরওয়ার আলমকে আটক করা হয়। পাশাপাশি জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকে ব্যবহৃত ডিভাইসও উদ্ধার করেছে ডিবি।এরও আগে, গত ৩১ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে একটি আপত্তিকর পোস্ট দেওয়া হয়। বঙ্গভবনের ই-মেইল ব্যবহার করে আইডিটি হ্যাক করা হয় বলে জানা যায়।যদিও বিএনপি এবং দলটির অঙ্গসংগঠন ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, জামায়াত আমির স্বয়ং পোস্টটি দিয়ে অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার নাটক করছেন। এছাড়া বিভিন্ন মহল থেকেও শুরু হয় তুমুল সমালোচনা। এ ঘটনায় গত ১ ফেব্রুয়ারি ভোরে জামায়াতের পক্ষ থেকে রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।পরবর্তীতে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঘটনার তদন্তের অগ্রগতি জানতে বঙ্গভবনে যান জামায়াতের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। তারা প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা আলোচনা করেন এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট প্রকাশের দাবি জানান।