নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০২৬ রাত ১০:০৬:৩৭
স্পেনের প্রবাসীদের পাসপোর্ট ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্সে হয়রানি বন্ধের দাবি
এনসিপি ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, স্পেনে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা পাসপোর্ট নবায়ন, নতুন পাসপোর্ট ইস্যু এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট প্রাপ্তির ক্ষেত্রে নানাবিধ প্রশাসনিক জটিলতা, দীর্ঘসূত্রিতা এবং হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বর্তমান সময়ে স্পেন সরকারের ঘোষিত বৈধকরণ কর্মসূচির আওতায় বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশির জন্য একটি ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু অত্যাবশ্যকীয় কাগজপত্র প্রাপ্তিতে জটিলতা এই সুযোগকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে।
আমরা মনে করি, প্রবাসীদের এই সংকট কেবল ব্যক্তিগত নয়; এটি জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বৈধতা অর্জনের মাধ্যমে প্রবাসীদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহের অদক্ষতা, সমন্বয়হীনতা এবং কিছু ক্ষেত্রে দুর্নীতির কারণে বহু প্রবাসী এই গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন।
এনসিপি ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স নিম্নোক্ত দাবিসমূহ অবিলম্বে বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সমূহের প্রতি জোর আহ্বান জানাচ্ছে—
১. স্পেনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে জরুরি ভিত্তিতে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু করে দ্রুত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পাসপোর্ট ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।
২. প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় দ্রুত পাসপোর্ট নবায়ন ও নতুন পাসপোর্ট ইস্যু কার্যক্রম চালু করতে হবে।
৩. পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রদানে অযথা হয়রানি, বিলম্ব ও অনিয়ম বন্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
৪. প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে হবে।
৫. দালাল ও প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
আমরা জোর দিয়ে বলতে চাই, সময় অত্যন্ত সীমিত। দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশি এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন, যা ব্যক্তি, পরিবার এবং রাষ্ট্র—তিন ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এনসিপি ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স বিশ্বাস করে, সরকার প্রবাসীদের এই ন্যায্য দাবির প্রতি সংবেদনশীলতা প্রদর্শন করবে এবং জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। একটি সময়োপযোগী ও মানবিক সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে সক্ষম হবে।