আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১৮ জুন ২০২৬ রাত ০৯:২২:২৮
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি: সব পক্ষকে প্রতিশ্রুতি রক্ষার আহ্বান চীনের
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সই হওয়া ঐতিহাসিক প্রাথমিক শান্তি চুক্তির পর বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মোড় নিয়েছে। এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‘শান্তির আলো’ দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। তবে একই সঙ্গে চুক্তিতে অংশ নেওয়া সমস্ত পক্ষকে তাদের নিজ নিজ প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি মেনে চলার জোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে এক জরুরি ফোনালাপে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই প্রতিক্রিয়া জানান। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এই যুগান্তকারী কূটনৈতিক চুক্তি প্রকাশ্যে আসার পরপরই ইরানের পক্ষ থেকে এই ফোনালাপের অনুরোধ করা হয়েছিল।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে যেকোনো সংকটের সমাধানে সংলাপ এবং কৌশলগত আলোচনাই একমাত্র সঠিক পথ। ওয়াং ই জোর দিয়ে বলেন, "এখন প্রধান অগ্রাধিকার হলো সব পক্ষকে আন্তরিকভাবে তাদের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে এবং বাইরের যেকোনো ধরনের উসকানি বা বাধা প্রতিহত করতে হবে।" একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ দূর করতে কৌশলগত হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বিষয়টি সঠিকভাবে সমাধানের তাগিদ দেন তিনি।
ফোনালাপে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কয়েক মাস ধরে চলা নিবিড় আলোচনার পর অর্জিত ১৪ দফার এই শান্তি স্মারকের অগ্রগতি সম্পর্কে চীনকে অবহিত করেন। আরাগচি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, এই প্রাথমিক চুক্তিটি সব ভূ-রাজনৈতিক ফ্রন্টে কার্যকর করতে হবে, যার মধ্যে লেবাননের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও লেবাননের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের পর মধ্যপ্রাচ্যে যে বিধ্বংসী যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, এই স্মারক চুক্তির মাধ্যমে তা স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় লেবানন সীমান্তসহ সব সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুতা অবসান, ইরানের ওপর থেকে বড় ধরনের আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ নিয়ন্ত্রণকারী গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলো অবিলম্বে খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
সুইজারল্যান্ডে পূর্বনির্ধারিত আনুষ্ঠানিক সইয়ের আগেই, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ নেতারা আকস্মিকভাবে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর করার ঘোষণা দেন। এই চুক্তির মাধ্যমে বেইজিং মধ্যপ্রাচ্যে নিজের দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি ও বাণিজ্য স্বার্থ সুরক্ষার পাশাপাশি একজন প্রধান কূটনৈতিক অংশীদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করল।