ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৬ রাত ০৭:৫৫:১৭
গ্লোবাল এটমিক কুইজে সাফল্য, রাশিয়া যাচ্ছেন ঈশ্বরদীর দুই মেধাবী শিক্ষার্থী
গত বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ‘গ্লোবাল এটমিক কুইজ’-এর অনূর্ধ্ব-১৬ ক্যাটাগরিতে বিশ্বসেরাদের মধ্যে শীর্ষ তিনে স্থান করে নেয় মাত্র ১২ বছর বয়সী সিদ্ধা কর্মকার। এই অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে আগামী ২৩ জুন রাশিয়ার উদ্দেশে রওনা হবে সে।
সফরে সিদ্ধার সঙ্গে সুপারভাইজার হিসেবে থাকবেন তার বড় ভাই দুর্জয় কর্মকার। তিনি ১৮-২৫ বছর বয়সী ক্যাটাগরিতে বিশ্বব্যাপী শীর্ষ ১০০ জনের মধ্যে স্থান অর্জন করেছেন।
সিদ্ধা কর্মকার ঈশ্বরদী পৌর এলাকার নূরমহল্লা এলাকার বাসিন্দা সমর কর্মকারের মেয়ে। সে ঈশ্বরদীর আর.এ.আর.এস. হাই স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অন্যদিকে দুর্জয় কর্মকার পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী এবং পাবিপ্রবি প্রেসক্লাবের সাবেক সদস্যসচিব।
আগামী ২৬ জুন রাশিয়ার ঐতিহাসিক বিজ্ঞান নগরী ওবনিন্সকে অনুষ্ঠিতব্য ‘৪র্থ ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ নিউক্লিয়ার ফোরাম ওবনিন্সক নিউ’-এ বাংলাদেশ থেকে অংশ নেবেন এই দুই ভাই-বোন।
উল্লেখ্য, ১৯৫৪ সালের ২৬ জুন রাশিয়ার ওবনিন্সক শহরেই বিশ্বের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক ঘটনার ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ কর্মসূচির অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের ফোরাম।
ফোরামে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানী, গবেষক, নীতিনির্ধারক এবং তরুণ নেতৃত্বের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ পাবে সিদ্ধা কর্মকার। পাশাপাশি পারমাণবিক শক্তির ভবিষ্যৎ, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক বিভিন্ন প্যানেল আলোচনা, বৈজ্ঞানিক সেমিনার ও কর্মশালায় অংশ নেবে সে।
আট দিনের সফরে ওবনিন্সকের ফোরাম শেষে তারা রাশিয়ার রাজধানী মস্কোও সফর করবেন। এ সময় রেড স্কয়ার, ক্রেমলিন, সেন্ট বেসিলস ক্যাথেড্রাল এবং ‘অ্যাটম’ প্যাভিলিয়নসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক স্থাপনা পরিদর্শনের কথা রয়েছে। আগামী ৩০ জুন তাদের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে সিদ্ধা কর্মকার বলেন, “আন্তর্জাতিক এই বড় মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। গ্লোবাল এটমিক কুইজে অংশ নেওয়ার সময় এমন সাফল্য পাব, তা ভাবিনি। বিশ্বসেরাদের মধ্যে স্থান পাওয়া যেমন গর্বের, তেমনি রাশিয়ার ঐতিহাসিক বিজ্ঞান নগরী ওবনিন্সকে যাওয়ার সুযোগ আমার জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি।”
সফরের সফল সমাপ্তি ও নিরাপদ যাত্রার জন্য সিদ্ধা ও দুর্জয় কর্মকার তাদের পরিবারসহ দেশবাসীর কাছে দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করেছেন।