ইমন মাহমুদ লিটন, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৬ রাত ০৯:৩১:১০
ভৈরবে ভবানীপুরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ৪০, ভাঙচুর-লুটপাট
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোলাইমানপুর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একই বংশের মধু মুন্সি বাড়ি ও দিল মোহাম্মদের বাড়ির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে ফেসবুকে পক্ষপাতমূলক স্ট্যাটাস দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৌদি আরবে থাকা ফরহাদ ও আনোয়ারের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে ফরহাদ দেশে ফিরলে গত ৭ ও ৮ মে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় প্রায় ৩০ জন আহত হন।
এরপর ১৩ মে স্থানীয়ভাবে বিরোধ মীমাংসা হলেও উত্তেজনা থেকেই যায়। অভিযোগ রয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে ফেসবুক লাইভে গালাগালিকে কেন্দ্র করে বাদশা মেম্বার গ্রুপ ও মেরাজ মেম্বার গ্রুপের মধ্যে ফের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। শুক্রবার রাতে বাজার এলাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও মারামারির ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করলেও শনিবার সকালে তা আবারও সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে উভয় পক্ষের লোকজন টেঁটা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে হৃদয় (৩০), নৌরিন বেগম (৩২), পারভেজ মিয়া (৩০), সুবর্ণা বেগম (২৪), দুধ মিয়া (৩০), সাগর মিয়া (৩০), জনি মিয়া (২২), হাসান মিয়া (১৭), নাইম ইসলাম (২৪), জীবন মিয়া (২০), অপু মিয়া (২২), বাবুল মিয়া (৫০), হৃদয় মিয়া (২৫), ইমরান মিয়া (২৬)সহ অন্তত ৪০ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে পারভেজ মিয়া ও সুবর্ণা বেগমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া বাদশা মেম্বার গ্রুপের পাবেল (২২) ও বিজয় (১৯) গুরুতর আহত হওয়ায় তাদেরও ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আহতরা ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
মেরাজ মেম্বার দাবি করেন, “আমাদের বংশের ঝগড়া মিটমাট হলেও বাদশা মেম্বার প্রতিপক্ষকে উসকানি দিয়ে যাচ্ছিলেন। শুক্রবার রাতে আমাদের লোকজনের ওপর হামলা চালানো হয়। শনিবার সকালে আতর মিয়ার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।”
অন্যদিকে বাদশা মেম্বার বলেন, “ফেসবুকে আমাকে জড়িয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা হয়। প্রতিবাদ করতে গেলে আমাদের লোকজনের ওপর হামলা চালানো হয়। আমাদের পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।”
ভৈরব থানার এসআই পাবেল মোল্লা জানান, শুক্রবার রাত ও শনিবার সকালে দুই দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তিনি আরও জানান, “দুই পক্ষের বিরুদ্ধেই মামলা হয়েছে। শনিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া এ ঘটনায় একাধিক আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। নতুন সংঘর্ষের ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”