মোঃ শাহপরান, কসবা আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৬ দুপুর ১২:৪০:৪৬
ঈদকে সামনে রেখে কসবা সীমান্তে ভারতীয় গরুর চোরাচালান বৃদ্ধি, দুশ্চিন্তায় দেশীয় খামারিরা
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্ত এলাকায় আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে ভারতীয় গরুর চোরাচালান। সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা দিয়ে প্রতিদিনই অবৈধভাবে বিপুল সংখ্যক ভারতীয় গরু বাংলাদেশে প্রবেশ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে একদিকে যেমন সীমান্ত এলাকায় চোরাকারবারিদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে দেশীয় খামারিরা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানায়, কসবার বায়েক, পুটিয়া, খাদলা, গোপীনাথপুরসহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালানের রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এসব পথে গরু পাচারের তৎপরতা আরও বেড়ে গেছে। সীমান্তের দুর্গম টিলা, ও কাঁটাতারের ফাঁক ব্যবহার করে রাতের আঁধারে কিংবা ভোরবেলায় গরু বাংলাদেশে আনা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে কাঁটাতারের বেড়া কেটে অথবা মই ব্যবহার করেও সীমান্ত অতিক্রম করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই এই চোরাচালান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সীমান্তসংলগ্ন এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছেন বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। তারা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ভারতীয় গরু দেশের বিভিন্ন হাটবাজারে সরবরাহ করছে।
বিজিবি মাঝে মধ্যে চোরাইপথে আসা গরুর চালান আটক করলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নানা কৌশলে গরু ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অনেক সময় আটক গরুকে দেশীয় গরু দাবি করে তদবির করা হয় এবং পরে ভূয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়।
এদিকে ভারতীয় গরুর অবাধ প্রবেশে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় খামারিরা। কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে সারা বছর ধরে গরু লালন-পালন করলেও এখন ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা।
খামারিদের অভিযোগ, ভারতীয় গরু কম দামে বাজারে বিক্রি হওয়ায় দেশীয় গরুর চাহিদা কমে যাচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে অনেকেই খামার বন্ধ করার কথা ভাবছেন।
কসবা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তারেক মাহমুদ বলেন, “প্রতিবছর ঈদের আগে ভারতীয় গরুর অবৈধ প্রবেশ বাড়ে। এতে দেশীয় খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং তারা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হন। দীর্ঘমেয়াদে এটি স্থানীয় খামার শিল্পের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।”
চোরাচালান প্রতিরোধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছামিউল ইসলাম। তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকায় চেকপোস্ট বৃদ্ধি ও টহল জোরদার করা হয়েছে। একইসঙ্গে মাদক ও চোরাচালান ঠেকাতে বিজিবি, পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করছে।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা জানান, ঈদকে সামনে রেখে সীমান্ত এলাকায় পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন তল্লাশি করা হচ্ছে এবং চোরাকারবারিদের শনাক্তে নিয়মিত অভিযান চলছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, সীমান্ত এলাকায় আরও কঠোর নজরদারি, নিয়মিত অভিযান এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে ভারতীয় গরুর চোরাচালান বন্ধ করা কঠিন হবে। একই সঙ্গে দেশীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।