নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৬ দুপুর ১২:৫৬:৪৭
তাইওয়ানকে স্বাধীনতার ঘোষণা না দিতে ট্রাম্পের সতর্কবার্তা
চীনের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাইওয়ানকে আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণা না করার সতর্কবার্তা দিয়েছেন। শুক্রবার (১৫ মে) চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিতীয় দিনের বৈঠক শেষে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, তাইওয়ানকে সতর্ক করে ট্রাম্প বলেন, আমি চাই না কেউ স্বাধীনতার ঘোষণা দিক। তবে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
চীন সবসময় তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে এসেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র সবসময় তাইওয়ানের পক্ষে ছিল। ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সতর্কবার্তা যেন চীনের হয়েই তাইওয়ানকে সতর্ক করা।
বেইজিং দীর্ঘদিন ধরেই তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের হুমকিও দিয়ে রেখেছে। অন্যদিকে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই-চিন-তে আগেই বলেছেন, তাইওয়ান নিজেকে সার্বভৌম রাষ্ট্র মনে করে, তাই আলাদা করে স্বাধীনতা ঘোষণার প্রয়োজন নেই।
বৈঠক প্রসঙ্গে ট্রাম্প জানান, তিনি এবং শি জিনপিং তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে বিস্তর আলোচনা করেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে সামরিকভাবে রক্ষা করবে কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি।
চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, বৈঠকে শি জিনপিং ট্রাম্পকে বলেন, তাইওয়ান প্রশ্নটি চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি ভুলভাবে পরিচালিত হলে দুই দেশ সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাইওয়ানকে ঘিরে সামরিক মহড়া বাড়িয়েছে চীন। এদিকে গত বছর তাইওয়ানের জন্য ১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির প্যাকেজ ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র, যা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বেইজিং।
ট্রাম্প বলেন, অস্ত্র বিক্রির চুক্তি এগোবে কি না সে বিষয়ে তিনি শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবেন। পাশাপাশি তিনি ইঙ্গিত দেন, তাইওয়ানের বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গেও তার আলোচনা করতে হতে পারে।
তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিন-চিয়া-লুং বলেছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্র-চীন বৈঠকের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছে। তিনি অভিযোগ করেন, চীনের সামরিক তৎপরতাই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা বাড়াচ্ছে।