রুহুল আমিন কিবরিয়া, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬ দুপুর ১২:১৮:৩৩
যমুনার ভয়াল থাবায় শহড়াবাড়ি স্পারের আরও ৬৫ মিটার বিলীন, আতঙ্কে ঘরবাড়ি সরাচ্ছেন নদীপাড়ের মানুষ
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে উল্টো বেড়েছে নদীভাঙনের তীব্রতা। প্রবল স্রোতের আঘাতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রক্ষায় নির্মিত শহড়াবাড়ি স্পারের আরও প্রায় ৬৫ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন এখন ধেয়ে আসছে জনবসতির দিকে। বসতভিটা হারানোর শঙ্কায় নদীপাড়ের মানুষ ঘরবাড়ি খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে শুরু করেছেন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের শহড়াবাড়ি এলাকায় এ ভাঙনের ঘটনা ঘটে।
এর আগে গত ১২ জুলাই একই স্পারের অগ্রভাগের প্রায় ৫০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছিল। নতুন করে আরও ৬৫ মিটার ভেঙে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ভাঙন অব্যাহত থাকলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধও হুমকির মুখে পড়তে পারে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত চার দিন ধরে যমুনা নদীর পানি ধীরে ধীরে কমছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পানি ১৫ সেন্টিমিটার নেমে বর্তমানে বিপদসীমার ৮৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি কমার সঙ্গে নদীতে তীব্র স্রোত ও ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হওয়ায় স্পারের ওপর প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়েছে, যার ফলে ভাঙন দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে।
গত দুই মাস ধরে প্রতিনিয়ত নদীপাড় ধসে পড়ার শব্দে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কেউ ঘরের টিন খুলছেন, কেউ বাঁশ-কাঠ নামাচ্ছেন, আবার কেউ ট্রলি ও ভ্যানে প্রয়োজনীয় মালামাল তুলে নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশে ছুটছেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে গড়ে তোলা বসতভিটা, স্মৃতি আর জীবনের সঞ্চয় ছেড়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের পথে পা বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছরই যমুনার ভাঙনে সর্বস্ব হারাতে হয় নদীপাড়ের মানুষকে। স্থায়ীভাবে নদীভাঙন রোধের আশ্বাস মিললেও কার্যকর উদ্যোগের অভাবে প্রতি বর্ষায় নতুন করে শুরু হয় দুর্ভোগ। নদী কেড়ে নেয় ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, গাছপালা ও জীবিকার শেষ সম্বল।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, একই গতিতে ভাঙন চলতে থাকলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধও ঝুঁকির মুখে পড়বে। বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি হাজারো মানুষ নতুন করে দুর্ভোগে পড়বেন।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মালেক বলেন, "শহড়াবাড়ি স্পারের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে বালুভর্তি জিওব্যাগ ও জিওটিউব ফেলে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন ঠেকানোর কাজ চলছে।"