কোনাবাড়ী (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৯ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ১১:১৩:৪৬
গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে কেয়া গ্রুপের চার প্রতিষ্ঠানে টানা লে-অফ ঘোষণা
গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী জরুন এলাকায় অবস্থিত কেয়া গ্রুপের চার প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘমেয়াদী লে- অফ ঘোষণা করায় চরম আর্থিক সংকট ও অনিশ্চয়তায় মধ্যে পড়েছেন শ্রমিক কর্মচারীরা।
ব্যাংকিং জটিলতা এবং গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণ দেখিয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষ গত ৬ জুন থেকে টানা চার মাস লে-অফ ঘোষণা করে আসছে।
কেয়া কসমেটিকস লিঃ (নীট কম্পোজিট ডিভিশন) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্বাক্ষরিত নোটিশে উল্লেখ করা হয় বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী গত ৬ জুন থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত ধারা-১২ অনুযায়ী কারখানাটি "লে-অফ" ঘোষণা করা হয়েছিল।
কিন্তু এখন পর্যন্ত উপরোক্ত পরিস্থিতির কোন উন্নতি না হওয়ায় যে সকল শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাগণের চাকুরী বহাল রয়েছে তাদের "লে-অফ" নোটিশের সময়সীমা ৯ অক্টোবর থেকে ১৬
অক্টোবর পর্যন্ত বর্ধিত করা হলো। লে-অফ চলাকালীন শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণকে আইন অনুযায়ী প্রাপ্য সুবিধা প্রদান করা হবে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই আদেশ কার্যকর থাকবে।
এছাড়াও যে সকল শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাগণ নিম্নোক্ত সেকশন বা বিভাগ গুলোতে কাজ করছেন, যেমন- হেড অফিস (ফাইনান্স এন্ড একাউন্ট, কমার্শিয়াল, মার্চেন্ডাইজিং, কোর প্ল্যানিং, সেলস্ এবং মার্কেটিং, ইন্টারনাল অডিট, কমপ্লায়েন্স, পে-রোল এবং এডমিন শাখা), মেডিকেল, নার্সারি, ওয়ার্কশপ, সিভিল, কার্পেন্টার, প্লাম্বার, পেইন্টার, ফটোগ্রাফার, পিয়ন, ইছরকান্দি প্রজেক্ট, নিরাপত্তা শাখা, এন্টি ফায়ার, ইটিপি, স্পিনিং ডিভিশনে কর্মরত মেকানিক্যাল সেকশন (যারা মেশিন সেটাপের সাথে সম্পৃক্ত) এবং নার্সারিতে কর্মরত বধির শ্রমিকগণের জন্য (লিষ্ট অনুযায়ী) সাধারণ কর্মদিবস হিসাবে উল্লেখিত সেকশন গুলো পূর্বের ন্যায় চলমান থাকবে।
লে-অফ সংক্রান্ত শর্তাবলীঃ
বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর ধারা ১৬ অনুযায়ী সে সকল শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ ৩ (তিন) মাসের অধিক সময় ধরে মালিকের অধীনে নিরবিচ্ছিন্নভাবে কর্মরত রয়েছে তাহলে সাপ্তাহিক ছুটির দিন ব্যতীত তাহার লে-অফের সকল দিনের জন্য ধারা ১৬ অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগকে যথাসময়ে পুনরায় কাজে যোগদানের বিষয়ে নোটিশের মাধ্যমে অবহিত করা হবে।
ভুক্তভোগী শ্রমিকদের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে কারখানা বন্ধ থাকায় এমনিতেই তাদের জমানো টাকা শেষ হয়ে গেছে এবং ধারদেনা করে সংসার চালাতে হচ্ছে। এরই মধ্যে গত মাসে প্রায় ৬ শতাধিক শ্রমিক ছাঁটাই করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। চাকরি হারানোর ফলে পরিবার পরিজন নিয়ে কিভাবে চলবেন এবং বকেয়া বেতন ভাতা আদৌ পাবেন কিনা তা নিয়ে গভীর শঙ্কায় রয়েছেন তারা।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন কোনাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইফতেখার হোসেন জানান, এ বিষয়ে জানা নেই। খোঁজ নিয়ে জানাচ্ছি।