মেহেদী হাসান অন্তর, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৬ দুপুর ১২:৫৭:০৫
আন্তজেলা সিরিয়াল অপরাধী ‘সাইকো কিলার’ মোরশেদকে আটক
দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্ক ছড়ানো এক ভয়ংকর আন্তজেলা সিরিয়াল অপরাধী ও কিলার গোলাম মোরশেদ ওরফে মোরশেদ আলম (২৭)-কে গ্রেফতার করেছে নওগাঁ জেলা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার বিশ্লেষণ ও ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে অবশেষে তার অবস্থান শনাক্ত করে গাজীপুর থেকে তাকে আটক করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত ৮ টায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানায়, গত ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ রাত থেকে ১৮ জানুয়ারি ভোরের মধ্যে নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার নানাইচ ও জাহানপুর গ্রামে প্রথম এই ভয়াবহ ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। কুখ্যাত এই অপরাধী দেয়াল টপকে বাড়িতে ঢুকে হাসান আলীর কলেজ পড়ুয়া মেয়ে উম্মে হাবিবার ঘরে প্রবেশ করে টিউবওয়েলের হাতল দিয়ে মাথায় আঘাত করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকাকালে উম্মে হাবিবার মৃত্যু হয়। একই রাতে আরও দুটি বাড়িতে ঢুকে একই কায়দায় হামলা চালায় সে।
এরপর ৭ ফেব্রুয়ারি একই উপজেলার জাহানপুর গ্রামে শাহিন ইসলামের বাড়িতে ঢুকে তার স্ত্রী সুলতানা বেগমকে আঘাত করে এবং একই রাতে আরও তিনটি বাড়িতে হামলা চালায়। এতে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে ৭ মে বদলগাছী উপজেলার দূর্গাপুর, ঘোয়ালভিটা ও নয়নশহর এলাকায় রাতভর তিনটি বাড়িতে ঢুকে তিন নারী—শাহানাজ (২২), নাসরিন (১৩) ও বাকপ্রতিবন্ধী বৃষ্টি (২০)-কে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। একই ধরনের ঘটনা ৪ জুন পত্নীতলা উপজেলার শিমুলিয়া ও নান্দাশ গ্রামেও ঘটে, যেখানে রোজি আক্তার (৩৭), আলতা বানু (৪৫) ও তার মেয়ে আসমা খাতুন (২২) গুরুতর আহত হন।
একই ধাঁচের অপরাধ জয়পুরহাট ও দিনাজপুর জেলাতেও ঘটেছে বলে তথ্য পায় পুলিশ। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নওগাঁ পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জয়ব্রত পালের নেতৃত্বে ডিবি ও সাইবার ইউনিটের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়।
তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে অপরাধের ধরন বিশ্লেষণ করে একপর্যায়ে একমাত্র সন্দেহভাজন হিসেবে গোলাম মোরশেদকে শনাক্ত করা হয়। পরে ১০ জুন ভোরে গাজীপুর মেট্রোপলিটনের বাসন থানার শরিফপুর কোনাপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে মোরশেদ স্বীকার করেছে, প্রায় ছয় মাস আগে চুরি করতে গিয়ে উম্মে হাবিবাকে আঘাত করে, যা পরে তার মৃত্যুর কারণ হয়। এছাড়া ধামইরহাট, বদলগাছী ও পত্নীতলায় অন্তত ৮টি বাড়িতে ঢুকে নারীদের ওপর একইভাবে হামলা চালানোর কথাও সে স্বীকার করেছে। আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে সে।
পুলিশ সুপার আরোও বলেন, সিরিয়াল অপরাধী মোরশেদ আলম বিভিন্ন জেলায় অন্তত ১৭ থেকে ১৮ জন মেয়ে ভিকটিমের ওপর হামলা চালিয়েছে। জয়পুরহাট ও দিনাজপুরের কয়েকটি ঘটনার সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সব মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হবে।
এ ঘটনায় নওগাঁর বিভিন্ন থানায় হত্যা মামলাসহ অন্তত চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া দিনাজপুরে অনুরূপ পাঁচটি ও জয়পুরহাটে একটি ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এসময় পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ যেকোনো অপরাধের বিরুদ্ধে তারা সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং অপরাধ নির্মূলে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।