নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ০৬:২৩:২৬
বাংলাদেশি পণ্য আমদানি বাড়াতে ইন্দোনেশিয়াকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত লিস্তিওয়াতি সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।
সাক্ষাতে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন তারা। এর মধ্যে ছিল বাণিজ্য ও ব্যবসা, জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন, পর্যটন, সাংস্কৃতিক বিনিময়, জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ, কনস্যুলার বিষয়, উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময় এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে সহযোগিতা।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ইন্দোনেশিয়াকে বাংলাদেশি পণ্য ও সেবার আমদানি বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আরও গভীর ও বহুমুখী করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ককে ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির পর্যায়ে উন্নীত করতে বাংলাদেশের প্রস্তুতির কথা জানান তিনি।
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ইন্দোনেশিয়ার ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করারও অনুরোধ করেন হুমায়ুন কবির। পর্যটন, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়াতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জবাবে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ থেকে ইন্দোনেশিয়ায় রপ্তানি বহুমুখীকরণে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এ ক্ষেত্রে ওষুধসহ বিভিন্ন বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়েও তিনি সমর্থন জানান।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রদূত লিস্তিওয়াতিও এ প্রস্তাবকে সমর্থন করেন। তিনি প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, উত্তম চর্চা ভাগাভাগি এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ ছাড়া বাংলাদেশকে আসিয়ানের খাতভিত্তিক সংলাপ অংশীদার এবং আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে যোগদানের আকাঙ্ক্ষায় ইন্দোনেশিয়ার সমর্থন চান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
রাষ্ট্রদূত লিস্তিওয়াতি এসব গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে বাংলাদেশের প্রতি ইন্দোনেশিয়ার অব্যাহত সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাতে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন উভয় পক্ষ।