নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ০৮:০১:২২
প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলাচ্ছে ইন্টারসিটি ভ্রমণ, সেবা নিয়ে 'কারবুক'
কারবুক কর্তৃপক্ষের দাবি, ইন্টারসিটি কার রেন্টালের ক্ষেত্রে কমিশনমুক্ত সেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের ব্যবসায়িক মডেলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ‘জিরো কমিশন’ ব্যবস্থা। এ ব্যবস্থায় চালকদের কাছ থেকে ট্রিপের ভাড়ার ওপর কোনো কমিশন নেওয়া হয় না বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
কারবুকের মাধ্যমে সেডান, হাইয়েস, নোহা, কোস্টার ভ্যান ও ট্যুরিস্ট বাসসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন ভাড়া নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। শুধু এক শহর থেকে অন্য শহরে যাতায়াত নয়, ইনসাইড সিটি, ওয়ান ওয়ে, রাউন্ড ওয়ে, বিমানবন্দর পিকআপ-ড্রপঅফ এবং ঘণ্টাভিত্তিক গাড়ি বুকিংয়ের সুবিধাও রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
সেবাটির মাধ্যমে যাত্রীরা ভ্রমণের আগে অনলাইনে গাড়ি নির্বাচন করে বুকিং সম্পন্ন করতে পারেন। এতে যাত্রার সময় গাড়ি খোঁজা, ভাড়া নিয়ে দরদাম করা কিংবা তাৎক্ষণিকভাবে গাড়ির ব্যবস্থা করার মতো কিছু প্রচলিত ভোগান্তি কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে কারবুক কর্তৃপক্ষ।
সাধারণ পরিবহনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও বিলাসবহুল ভ্রমণের জন্যও বিভিন্ন মডেলের গাড়ি রাখার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ব্যবহারকারীদের চাহিদা অনুযায়ী বিএমডব্লিউ, মার্সিডিজ, টয়োটা হ্যারিয়ারসহ বিভিন্ন মডেলের গাড়ি বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
কারবুকের তথ্য অনুযায়ী, সেবাটি বর্তমানে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্যবহারকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী গাড়ির পাশাপাশি চালক নির্বাচন করার সুযোগও পান বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ‘জিরো কমিশন’ ব্যবস্থার কারণে চালকরা একটি ট্রিপ থেকে অর্জিত ভাড়ার পুরোটা পাওয়ার সুযোগ পান। এতে চালকদের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের কাজের ক্ষেত্রে আর্থিক চাপ কমতে পারে বলে মনে করছে কারবুক।
কারবুকের প্রতিষ্ঠাতা মোঃ সাগর বলেন, দেশের ইন্টারসিটি ভ্রমণব্যবস্থাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করার লক্ষ্যেই এই প্ল্যাটফরম চালু করা হয়েছে। যাত্রী ও চালকের মধ্যে সরাসরি সংযোগ তৈরি করে উভয়ের জন্য একটি কার্যকর পরিবহনসেবা গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তির মাধ্যমে গাড়ি ভাড়া নেওয়ার প্রক্রিয়াকে সহজ করার পাশাপাশি চালকদের জন্যও আয়ের একটি কার্যকর সুযোগ তৈরি করতে চান তারা।
কারবুক কর্তৃপক্ষের মতে, চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ থাকলে দীর্ঘপথে গাড়ি চালানোর সময় ক্লান্তি কমতে পারে। এর ফলে চালক ও যাত্রী—উভয়ের জন্য নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ভ্রমণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
প্রযুক্তিনির্ভর পরিবহনসেবার বিস্তারের মাধ্যমে দেশের ইন্টারসিটি যাতায়াতে একটি বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে কারবুক। প্রতিষ্ঠানটির ভাষায়, ‘বাংলাদেশের ইন্টারসিটি ভ্রমণে স্বাধীনতার নতুন পথচলা’ তৈরি করাই তাদের উদ্দেশ্য।