জ্যোতির্বিজ্ঞানের গণনা অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) আগামী ২০ মার্চ ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। শারজাহ একাডেমি ফর অ্যাস্ট্রোনমি, স্পেস সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজির পক্ষ থেকে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। একাডেমির পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানিয়েছে, তাদের হিসাব অনুযায়ী ১৪৪৭ হিজরির রমজান মাস এবার ৩০ দিনে পূর্ণ হতে পারে। সেই হিসেবে শাওয়াল মাসের প্রথম দিন অর্থাৎ ঈদুল ফিতরের শুরু হবে শুক্রবার। খবর গালফ নিউজেরজ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানান, ১৮ মার্চ বুধবার (রমজানের ২৯তম দিন) চিরাচরিত নিয়মে চাঁদ দেখার রাতে পশ্চিম দিগন্তে সূর্যাস্তের আগে চাঁদ ডুবে যাবে। ফলে ওই সন্ধ্যায় নতুন চাঁদ দেখা সম্ভব না। এর অর্থ হলো, ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) রমজানের ৩০তম দিন পূর্ণ হবে।পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) আমিরাত সময় ভোর ৪টা ২৪ মিনিটে নতুন চাঁদের জন্ম হবে। ওইদিন সূর্যাস্তের সময় চাঁদের বয়স হবে ১৪ ঘণ্টা ৬ মিনিট। দিগন্ত থেকে এর উচ্চতা হবে ৬ ডিগ্রি এবং সূর্যাস্তের পর প্রায় ২৯ মিনিট পর্যন্ত এটি আকাশে অবস্থান করবে।চাঁদের এই অবস্থান সত্ত্বেও একাডেমি জানিয়েছে, আরব আমিরাত থেকে স্থানীয়ভাবে চাঁদ দেখা অত্যন্ত কঠিন হতে পারে। সাধারণ দূরবীক্ষণ যন্ত্র বা টেলিস্কোপ দিয়েও এটি দেখা দুষ্কর হবে। আধুনিক প্রযুক্তি বা ইমেজ স্ট্যাকিং পদ্ধতির মাধ্যমে হয়তো এর ছবি ধরা সম্ভব হতে পারে। তবে খালি চোখে চাঁদ দেখার কোনো সম্ভাবনা নেই।পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে আমিরাতের আরও পশ্চিমে অবস্থিত কিছু আরব ও ইসলামি দেশে চাঁদ দেখার পরিস্থিতি তুলনামূলক অনুকূল হতে পারে।এই গাণিতিক হিসাবের ভিত্তিতে একাডেমি উপসংহারে পৌঁছেছে, আরব আমিরাতসহ অধিকাংশ মুসলিম দেশে ২০ মার্চ (শুক্রবার) শাওয়াল মাসের শুরু এবং ঈদুল ফিতর হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তবে যেসব দেশ কঠোরভাবে খালি চোখে বা টেলিস্কোপে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে, স্থানীয় পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে তাদের সেখানে ২১ মার্চ (শনিবার) ঈদ হতে পারে।
৭ মার্চ ২০২৬ রাত ০৯:১৪:৩৫
বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী, সপ্তাহের ব্যবধানে বাড়ল ৩০ শতাংশ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম গত এক সপ্তাহে নজিরবিহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৮.৫ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৩ মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে, যা গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।এর ফলে যুদ্ধ শুরুর এক সপ্তাহেই তেলের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেল। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্বল তথ্যের কারণে শেয়ারবাজারেও পতন দেখা দিয়েছে।টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধ এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে তেহরানের পাল্টা হামলার ফলে বিশ্বের জ্বালানি ও পরিবহন খাত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। হামলার ফলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, ব্রেন্ট নর্থ সি ক্রুড তেলের দাম আজ ৮.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২.৬৯ ডলারে পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ ছাড়া যুদ্ধ থামবে না বলে ঘোষণা করার পর এক সপ্তাহেই তেলের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেল।যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তেল চুক্তি ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ১২ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা এক সপ্তাহে তেলের দাম বৃদ্ধির ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড।হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে এই পথে সামুদ্রিক যান চলাচল প্রায় পুরোপুরি বন্ধ।এদিকে দক্ষিণ ও উত্তর ইরাকের তেলক্ষেত্রগুলোতে হামলার খবর পাওয়া গেছে, যার ফলে একটি মার্কিন-পরিচালিত তেলক্ষেত্রে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধারণক্ষমতার অভাবে কুয়েতও তেল উৎপাদন কমাতে শুরু করেছে।দীর্ঘ সময় ধরে জ্বালানির উচ্চমূল্য বজায় থাকলে পুনরায় বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং প্রবৃদ্ধির জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার কমানোর সক্ষমতাও সীমিত হয়ে পড়বে।
৭ মার্চ ২০২৬ বিকাল ০৩:০৯:১২
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনীর ‘অপেক্ষায়’ আইআরজিসি!
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা দিতে মার্কিন নৌবাহিনী প্রস্তুত বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সতর্ক করে বলেছে, সেখানে তারা মার্কিন বাহিনীর জন্য ‘অপেক্ষা’ করছে।সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্য ও তেলবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ইরান বলছে, প্রণালিটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার পরিকল্পনা নেই তাদের। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কোনো জাহাজকে তারা ছাড় দেবে না। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা দিতে যদি যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনী মোতায়েন করে, তবে তারা সেখানে মার্কিন বাহিনীর জন্য ‘অপেক্ষা’ করছে। আইআরজিসির মুখপাত্র আলি মোহাম্মদ নাইনি বলেন, ‘আমরা তাদের উপস্থিতির জন্য অপেক্ষা করছি।’ এর আগে মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ঘোষণা দেন পরিস্থিতি অনুকূল হলেই হরমুজ প্রণাণি দিয়ে জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা দিতে মার্কিন নৌবাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাতে নাইনি আরও বলেন, ‘কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে আমেরিকানদের ১৯৮৭ সালে মার্কিন সুপারট্যাংকার ব্রিজেটন-এ আগুন লাগার ঘটনা এবং সম্প্রতি লক্ষ্যবস্তু হওয়া তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর কথা মনে রাখা উচিত।’ ১৯৮৭ সালে পারস্য উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর নিরাপত্তা বহরের সঙ্গে চলার সময় ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের পেতে রাখা মাইনে আঘাত পেয়ে ব্রিজেটন ট্যাংকারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। শনিবার (৭ মার্চ) আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, চলমান যুদ্ধের কারণে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে গেছে। যে কোনো জাহাজ চাইলে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পারে, তবে তার নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেই বহন করবে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ‘যদি ইসরাইল বা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করে, আমরা সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করব।’ সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল, আল জাজিরা
৭ মার্চ ২০২৬ বিকাল ০৩:০৪:৩২
টর্নেডোর আঘাতে বিধ্বস্ত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ মিশিগান, নিহত ৪
শক্তিশালী টর্নেডো ও ঝড়ের আঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ মিশিগানে অন্তত ৪ জন নিহত হয়েছেন। ঝড়ের তীব্রতায় অনেক বাড়িঘর ও বড় বড় স্থাপনা পুরোপুরি মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে আঘাত হানে। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, টর্নেডোর আঘাতে ব্রাঞ্চ কাউন্টিতে ৩ জন এবং ক্যাস কাউন্টিতে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া অন্তত ১২ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, থ্রি রিভারস ও ইউনিয়ন সিটি এলাকায় শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ভবনের ছাদ উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে। রাস্তার ধারের বৈদ্যুতিক খুঁটি, গাছ ও সাইনবোর্ড উপড়ে পড়ে যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ক্যাস কাউন্টি কর্তৃপক্ষের মতে, অনেক জায়গায় বাড়িঘরের শুধু ধ্বংসাবশেষ পড়ে আছে।জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা টর্নেডো সতর্কতা জারি করার কিছুক্ষণের মধ্যেই এই দুর্যোগ শুরু হয়। ঝড়ের কারণে কয়েক শত বাসিন্দা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন অনেকে। বর্তমানে স্থানীয় উদ্ধারকারীদল ও প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে এবং বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে।মিশিগানের গভর্নর গ্রেচেন হুইটমার জানিয়েছেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি ‘রাজ্য জরুরি অপারেশন সেন্টার’ চালু করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
৭ মার্চ ২০২৬ দুপুর ০২:৩৩:১০
সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও পাকিস্তান সেনাপ্রধানের জরুরি বৈঠক
ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান আল সৌদ এবং পাকিস্তানের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আসিম মুনির এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হয়েছেন।শনিবার (৭ মার্চ) সকালে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এক লাইভ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বৈঠকে মূলত ‘সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ইরানের সাম্প্রতিক আগ্রাসন’ এবং এর প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তির কাঠামোর আওতায় এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করেছে যে, ইরান উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিচক্ষণতার পরিচয় দেবে এবং যেকোনো ধরনের ভুল হিসাব-নিকাশ থেকে বিরত থাকবে।গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং যেকোনো বহিঃশত্রুর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধ গড়ে তোলা।পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ইতিপূর্বে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, এই চুক্তির আইনি ও কৌশলগত বাধ্যবাধকতার কারণে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে পাকিস্তানকে জড়াতে হতে পারে। এমন এক সময়ে এই আলোচনা হচ্ছে যখন কাতারের রাজধানীতে ইসরায়েলি হামলার পর পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই অম্ল-মধুর। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে সীমান্ত অঞ্চলে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে ইসলামাবাদ কি শেষ পর্যন্ত নিরপেক্ষ থেকে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখবে, নাকি সামরিকভাবে এই সংঘাতের অংশীদার হবে—তা নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক মহলে নানা জল্পনা চলছে।
৭ মার্চ ২০২৬ দুপুর ০২:২৬:২৭
প্রতিবেশী দেশগুলোতে ইরান আর হামলা চালাবে না
প্রতিবেশী দেশগুলোতে আর হামলা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। শনিবার (৭ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে যদি ইরানের ওপর হামলা না হয়, তাহলে সেসব দেশে আর আক্রমণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরানের অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ।
৭ মার্চ ২০২৬ দুপুর ০২:১৯:৩৩
মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে : জাতিসংঘ মহাসচিব
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান ‘বেআইনি হামলার’ তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৬ মার্চ) তিনি সতর্ক করে বলেন, সংঘাত বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি যে কোনো সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি বাহিনী। ইরানও এর জবাবে ইসরাইল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।ওয়াশিংটন জানায়, তেহরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি ঠেকাতেই এই অভিযান। তবে এই হামলায় দেশটির সরকার কার্যত নেতৃত্বহীন হয়ে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি করছেন।এদিকে গুতেরেস বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য ও এর বাইরে চলমান সব বেআইনি হামলা ওই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জন্য চরম দুর্ভোগ ও ক্ষতির কারণ হচ্ছে। এটি বিশ্ব অর্থনীতি, বিশেষ করে অসহায় মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে।’জাতিসংঘ মহাসচিব আরও বলেন, ‘পরিস্থিতি সবার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এখন লড়াই থামানোর এবং গুরুত্বের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করার সময়।’জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার শুক্রবার বলেন, ‘আমরা দেখছি যে এই যুদ্ধে ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি ডলার অর্থাৎ রেকর্ড পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। অথচ রাজনীতিবিদরা অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ করা সহায়তা তহবিল কাটছাঁট করার বড়াই করছেন।’ফ্লেচার বলেন, আমরা প্রযুক্তি ও বিচারহীনভাবে মানুষ হত্যার এক ভয়াবহ সমন্বয় দেখছি। মানুষের ধ্বংসাত্মক প্রবৃত্তি ও বেপরোয়া যুদ্ধ ঠেকাতে যে সব আইন ও ব্যবস্থা রয়েছে, সেগুলোর ওপর এখন লাগাতার আঘাত করা হচ্ছে।
৭ মার্চ ২০২৬ দুপুর ০২:১৭:১১
ইরানের ওপর এযাবৎকালের ‘বৃহত্তম বোমাবর্ষণ’ হবে আজ রাতে
ইরানের ওপর শনিবার (৭ মার্চ) রাতে এযাবৎকালের ‘বৃহত্তম
বোমাবর্ষণ কর্মসূচি’
পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। মার্কিন সংবাদমাধ্যম
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারের বরাতে এ তথ্য দিয়েছে আল জাজিরা।স্কট বেসেন্ট জানান, মার্কিন এ হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র
উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানাগুলোর ‘সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে’। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা এগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে অকার্যকর
করে দিচ্ছি।
এ সময় বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির
চেষ্টার’ অভিযোগ আনেন। এ প্রসঙ্গে
তিনি হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি উল্লেখ করেন।
৭ মার্চ ২০২৬ দুপুর ০১:৪৪:৪৫
ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে নিহত ২১৭
ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২১৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ৭৯৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা।লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবার ভোর থেকে দেশটিতে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে ১২৩ জন নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেছিল লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।ইসরায়েল বিমান হামলা শুরু করার পর থেকে লেবাননে প্রায় এক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। হাজার হাজার সিরীয় শরণার্থী সীমান্ত পেরিয়ে নিজ দেশে ফিরে গেছেন বলেও জানিয়েছে তারা।শুক্রবার (৬ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে ‘বড় মানবিক জরুরি অবস্থা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ইউএনএইচসিআর।গত সোমবার ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে রকেট হামলা চালানোর পর ইসরায়েলের সেনাবাহিনী লেবাননে বিমান হামলা শুরু করে।এদিকে, লেবাননের প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সহায়তার আবেদন জানিয়ে বলেছেন, লেবানন এখন এক বিপজ্জনক মুহূর্তের মুখোমুখি এবং পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর, যেখানে একটি মানবিক বিপর্যয় আসন্ন।তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।অন্যদিকে, হিজবুল্লাহ অনমনীয় অবস্থানে রয়েছে। তারা লেবাননের সীমান্ত বরাবর ভেতরে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় এই সংঘাত কেবল বৃদ্ধি পেতেই দেখা যাচ্ছে।
৭ মার্চ ২০২৬ দুপুর ১২:২৪:৫৩
উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ রাডার ধ্বংস
উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক
রাডার ধ্বংস করেছে ইরান। এটি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ
অংশ ছিল। রাডারটির মূল্য প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার।মার্কিন এক কর্মকর্তা জানান, ইরানের হামলায় জর্ডানের মুয়াফফাক
সালতি বিমান ঘাঁটিতে মোতায়েন করা এএন/টিপিওয়াই-২ রাডারটি ধ্বংস হয়। যুদ্ধ শুরুর প্রথম
দিকেই এই হামলা চালায় ইরান।স্যাটেলাইট ছবির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আরটিএক্স কর্পোরেশনের
তৈরি এএন/টিপিওয়াই-২ রাডার এবং এর সহায়ক সরঞ্জাম সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে। এই রাডারটি
যুক্তরাষ্ট্রের থাড (THAAD) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ব্যবহৃত
হয়ে থাকে।থিঙ্ক ট্যাংক ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিসের তথ্য
অনুযায়ী, জর্ডানে ইরানের দুটি হামলার খবর পাওয়া গেছে।একটি হামলা হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি এবং আরেকটি ৩ মার্চ। দুটি
হামলাই প্রতিহত করা হয়েছে বলে দাবি করা হলেও রাডার ধ্বংসের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায়
আসে।ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিসের সেন্টার অন মিলিটারি
অ্যান্ড পলিটিক্যাল পাওয়ারের উপপরিচালক রায়ান ব্রোবস্ট বলেন, হামলাটি সফল হয়ে থাকলে
এটি ইরানের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সামরিক সাফল্যগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।থাড বা টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স ব্যবস্থা
মূলত আকাশের উচ্চ স্তরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।এটি স্বল্প পাল্লার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্যাট্রিয়টের
তুলনায় জটিল হুমকি মোকাবিলায় বেশি কার্যকর।রাডারটি অকার্যকর হয়ে যাওয়ায় এখন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধের
দায়িত্ব অনেকটাই প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করছে। তবে পিএসি-৩ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের
মজুত ইতোমধ্যে কমে আসছে বলে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা।বিশ্বজুড়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের আটটি থাড ব্যবস্থা
মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া ও গুয়ামেও এ ব্যবস্থা রয়েছে। একটি থাড ব্যাটারির
দাম প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে রাডারের মূল্যই প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার।সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের
ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ টম কারাকো বলেন, এই ধরনের রাডার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
কৌশলগত সম্পদ এবং এর ক্ষতি বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।এদিকে যুদ্ধের শুরুতে কাতারে মোতায়েন করা আরেকটি মার্কিন
রাডারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গবেষণা সংস্থা জেমস মার্টিন সেন্টার ফর ননপ্রোলিফারেশন স্টাডিজ
জানায়, ইরানের হামলায় এএন/এফপিএস-১৩২ নামের দূরপাল্লার সতর্কতা রাডারটি ক্ষতিগ্রস্ত
হয়।উপসাগরীয় অঞ্চলে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার
করে ইরানের পাল্টা হামলার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বাড়তি চাপের মুখে
পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, উন্নত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যেতে
পারে।
সূত্র: ব্লুমবার্গ
৭ মার্চ ২০২৬ সকাল ১০:৩১:২০
৮ মার্চ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের ৬ রুটের ফ্লাইট বাতিল
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং সেখানকার আকাশপথে তৈরি হওয়া নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের শিডিউল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ রুটে আগামী ৮ মার্চ পর্যন্ত নিজেদের সব ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করেছে রাষ্ট্রীয় এই সংস্থাটি। এর আগে, ৩ থেকে ৫ মার্চ পর্যন্ত রুটগুলোতে ফ্লাইট বন্ধ ছিল। এবার ৮ মার্চ পর্যন্ত তা বর্ধিত করা হয়েছে।শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুরে বিমানের পক্ষ থেকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলোকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। যাত্রীদেরকে তথ্যগুলো জানানোর অনুরোধ করে বিমান।বাতিল হওয়া রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে—সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, আবুধাবি ও শারজা, সৌদি আরবের দাম্মাম, কাতারের দোহা এবং কুয়েত।সংস্থাটি জানিয়েছে, পরিস্থিতির উন্নতি সাপেক্ষে যাত্রীদের বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর পরবর্তী শিডিউল বা সময়সূচি জানিয়ে দেওয়া হবে।জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা ও আকাশপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। আকাশপথ বন্ধ থাকার কারণে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট সূচি তছনছ হয়ে গেছে।পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই যুদ্ধপরিস্থিতির প্রভাবে ঢাকা থেকে শুক্রবার পর্যন্ত বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মোট ২৪৫টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।বিমানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আকাশপথের উত্তেজনা নিরসন ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই অনিশ্চয়তা কাটছে না। যাত্রীদের নিয়মিত বিমানের কল সেন্টার বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
৭ মার্চ ২০২৬ সকাল ১০:২৭:১২
হরমুজ প্রণালীতে ক্ষেত্রভেদে নিষেধাজ্ঞা: ইরান
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের ইউরোপীয় দেশগুলো এবং তাদের মিত্র-সমর্থকদের জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে বলে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।এর বাইরে থাকা দেশগুলো— অর্থাৎ যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মিত্র নয়, সেসব দেশের জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলে কোনো বাধা নেই।আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কিওমার্স হায়দারি গতকাল ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাদ্যম তাসনিম নিউজকে এ তথ্য জানিয়েছেন।আরব সাগর এবং পারস্য উপসাগরকে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ রুট। প্রতিদিন বিশ্বে যত তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে, সেসবের ২০ শতাংশই এই রুট ব্যবহার করে।হরমুজ প্রণালীকে ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’-ও বলা হয়, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এই পথ ব্যবহার করেই তাদের তেল রপ্তানি করে। হরমুজ না থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল অতি সহজে পশ্চিমা বিশ্বে সরবরাহ করা যেতো না।গত ২৮ তারিখ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালীতে চলাচলকারী বিভিন্ন জাহাজের ক্রুদের সতর্কবার্তা দেওয়া শুরু করে আইআরজিসি। কয়েকটি জাহাজে হামলাও চালানো হয়। ব্রিটিশ সংস্থা ইউকে মেরিটাইম অপারেশনের তথ্য অনুসারে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ১০টি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে।
৭ মার্চ ২০২৬ সকাল ১০:২৩:২০
তেহরানের প্রধান বিমানবন্দরে ব্যাপক বিস্ফোরণ
ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইরান পুরোপুরি আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত এই যুদ্ধ চলবে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন। বিবিসির লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের প্রধান বিমানবন্দরে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। মেহরাবাদ বিমানবন্দরের কাছে বিশাল বিস্ফোরণ হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। এটি তেহরানের প্রধান বাণিজ্যিক বিমানবন্দর। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের পর বিমানবন্দরে অনেক বিমান জ্বলছে। মেহরাবাদ বিমানবন্দরে কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে। তবে এই হামলায় হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেছে কিনা- সেই সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি।এর আগে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ার বার্তায় বলা হয়, তারা ইরানে নতুন করে ব্যাপক হামলা শুরু করছে।
৭ মার্চ ২০২৬ সকাল ০৯:৪৮:০৫
ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ চাইলেন ট্রাম্প
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরানকে ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ করতে হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ইরানে অব্যাহত হামলার মধ্যে আজ শুক্রবার (৬ মার্চ) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেছেন।পোস্টের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ট্রাম্প বলেছেন যে, ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে না, যদি না তারা নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে। তার কথায়, ‘তেহরান যদি শর্ত মেনে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আসে, তাহলে ইরানের অর্থনীতি পুনর্গঠনে সহায়তা করবে যুক্তরাষ্ট্র।’ তিনি আরও বলেন, ‘একজন মহান ও গ্রহণযোগ্য নেতা নির্বাচনের পর আমরা এবং আমাদের অনেক অসাধারণ ও অত্যন্ত সাহসী মিত্র-অংশীদাররা মিলে ইরানকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরিয়ে আনতে অক্লান্ত পরিশ্রম করব।’ পোস্টের শেষে নিজের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ স্লোগানের অনুকরণে ট্রাম্প নতুন একটি স্লোগান ব্যবহার করেন— ‘মেক ইরান গ্রেট এগেইন’। এদিকে যুদ্ধের সপ্তম দিন আজ শুক্রবার ইরানের বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে। এতে নতুন করে অনেক হতাহতের পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। আল জাজিরার প্রতিবেদন মতে, মার্কিন ও ইসরাইলি হামলায় ইরানে অন্তত ১ হাজার ৩৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফার্স নিউজ এজেন্সির আংশিক সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজধানী তেহরানের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত পারান্দ শহরে দুটি স্কুলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জবাবে ইরান পারস্য উপসাগরের দেশগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে চলেছে, যা সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে কাতার ও বাহরাইন পর্যন্ত ছড়িয়েছে। মার্কিন ঘাঁটির পাশাপাশি রাডার ব্যবস্থা লক্ষ্য করেও হামলার দাবি করেছে দেশটি। ইসরাইলি বিমানগুলো লেবাননের দক্ষিণ ও পূর্ব শহরগুলোতেও বোমা হামলা চালিয়েছে এবং রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ উপনগরগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এতে নতুন করে হতাহত হয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত সোমবার থেকে দেশজুড়ে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ২১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৭৯৮ জন আহত হয়েছে।
৬ মার্চ ২০২৬ রাত ১১:১৯:৫২
খামেনির বাঙ্কার ধ্বংসে অংশ নিয়েছিল ৫০টি যুদ্ধবিমান: ইসরায়েল
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার ধ্বংসের অভিযানে ৫০টি যুদ্ধবিমান অংশ নিয়েছিল বলে জানিয়েছে ইসরায়েল সেনাবাহিনী।ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আভিচাই আদরাইয়ের দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিমান বাহিনীর প্রায় ৫০টি যুদ্ধবিমান বাঙ্কারে অভিযান চালায়, যা খুবই সুরক্ষিত জায়গা হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। যেখান থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা যুদ্ধ সংক্রান্ত বিষয়গুলো পরিচালনা করতেন।আভিচাই আদরাই আরও জানান, ‘খামেনিকে হত্যার পরও, ইরানি শাসকগোষ্ঠীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই কমপ্লেক্সটি ব্যবহার অব্যাহত রেখেছিলেন।’ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আরও দাবি করেছে, এই ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারটি তেহরানের কেন্দ্রস্থলে একটি পুরো সড়ক জুড়ে বিস্তৃত ছিল এবং এখানে ইরানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠকের জন্য নির্ধারিত কক্ষ ছিল যা অনেকগুলো প্রবেশপথ দ্বারা যুক্ত। সূত্র: বিবিসি