নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ মে ২০২৬ সকাল ১০:২১:০১
প্রকাশ হলো ট্রাম্পের সর্বশেষ স্বাস্থ্য প্রতিবেদন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সর্বশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে ৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্পের ওজন বাড়ার তথ্য সামনে এলেও তিনি ‘চমৎকার স্বাস্থ্য’ লাভ করেছেন বলে জানানো হয়েছে। তবে, প্রতিবেদনে প্রেসিডেন্টের ঘাড়ে সম্প্রতি হওয়া একটি চর্মরোগের বিষয়ের কোনো উল্লেখ করা হয়নি। খবর ইন্ডিপেন্ডেন্টের।
ট্রাম্পের বর্তমান ওজন ২৩৮ পাউন্ড, যা ২০২৫ সালের এপ্রিলে করা শেষ শারীরিক পরীক্ষার ওজনের চেয়ে প্রায় ১৪ পাউন্ড বেশি। হোয়াইট হাউসের চিকিৎসক ড. শন বারবারাবেলা ট্রাম্পকে আরও বেশি শারীরিক কার্যকলাপ এবং খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে ওজন কমানোর উপদেশ দিয়েছেন। তবে তিনি দাবি করেছেন, ট্রাম্প ‘সম্পূর্ণ সুস্থ’ এবং তাঁর ‘হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, স্নায়ুতন্ত্র ও সার্বিক শারীরিক কার্যক্ষমতা শক্তিশালী’।
ট্রাম্পের জ্ঞানীয় কার্যক্ষমতা ও শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে জনগণের চলমান উদ্বেগ সত্ত্বেও এই মূল্যায়নে একটি আশাব্যঞ্জক চিত্রই তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে ট্রাম্পের ‘ক্রনিক ভেনাস ইনসাফিসিয়েন্সি’ (যার ফলে পা ফোলা থাকে) এবং হৃদরোগজনিত সমস্যা প্রতিরোধের জন্য নিয়মিত কম ডোজের ‘অ্যাসপিরিন’ থেরাপির (যার ফলে হাতে কালশিটে দাগ পড়ে) কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু গত মার্চ মাসে ট্রাম্পের ঘাড়ে যে ত্বকের ফুসকুড়ি দেখা দিয়েছিল, সে সম্পর্কে কোনো উল্লেখ ছিল না। ড. বারবাবেলা পূর্বে এটিকে একটি ‘খুব সাধারণ ক্রিমের’ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বললেও এবারের প্রতিবেদনে এই চর্মরোগ বা ক্রিমের বিষয়ে কিছু লেখা হয়নি।
সাম্প্রতিক এই চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য বাদ পড়ার বিষয়টি ট্রাম্পের স্বাস্থ্য সমস্যাকে জনসমক্ষে ছোট করে দেখানোর ইতিহাসকে আবারও সামনে এনেছে। এর আগে ২০২৪ সালের নির্বাচনি প্রচারণার সময় ট্রাম্প তাঁর মেডিকেল রেকর্ড প্রকাশ করতে অস্বীকার করেছিলেন। ২০১৫ সালে তাঁর প্রাক্তন চিকিৎসক ড. হ্যারল্ড বর্নস্টেইন ট্রাম্পকে ‘এযাবৎকালের সবচেয়ে স্বাস্থ্যবান ব্যক্তি’ ঘোষণা করে চিঠি দিলেও পরে স্বীকার করেন, চিঠিটি ট্রাম্প নিজেই লিখিয়েছিলেন। ২০২০ সালে ট্রাম্প কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে তাঁর তৎকালীন চিকিৎসক শন কনলিও ট্রাম্পের অসুস্থতার মাত্রা নিয়ে পুরোপুরি স্বচ্ছ না থেকে একটি ‘আশাব্যঞ্জক’ বর্ণনা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে স্বীকার করেন।
হাতে ঘন ঘন কালশিটে দাগ ঢাকতে ট্রাম্পের মেকআপ বা ব্যান্ড-এইড ব্যবহার এবং মন্ত্রিসভার বৈঠক ও ওভাল অফিসের সংবাদ সম্মেলনে তাঁর ঘুমিয়ে পড়ার অভিযোগ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। যদিও ট্রাম্পের দাবি, তিনি কেবল একঘেয়েমি থেকে চোখ বন্ধ করেন।
তবে ওয়াশিংটন পোস্ট/এবিসি নিউজ/ইপসোস-এর একটি সাম্প্রতিক জরিপ বলছে- ৫৯ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন না যে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য ট্রাম্পের প্রয়োজনীয় মানসিক তীক্ষ্ণতা রয়েছে। এছাড়া ৫৫ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন না যে তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের জন্য শারীরিকভাবে যথেষ্ট সুস্থ।