নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ জুন ২০২৬ রাত ০৬:২৭:৪৫
ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্বে নাবিকদের দাবার ঘুঁটি বানানো যাবে না: জাতিসংঘ মহাসচিব
ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্বে নাবিকদের কখনো শিকার বা দাবার ঘুঁটি বানানো যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। ২৫ জুন আন্তর্জাতিক নাবিক দিবস উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বাণীতে আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, বিশ্বের খাদ্য, ওষুধ থেকে শুরু করে জ্বালানি পর্যন্ত প্রায় ৯০ শতাংশ পণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সমুদ্রপথে পরিবাহিত হয়। মূলত এই জাহাজ এবং নাবিকেরাই পুরো বিশ্বকে সচল ও ভাসিয়ে রাখছেন। কিন্তু যখন বিভিন্ন দেশের মধ্যে সংঘাত বা দ্বন্দ্ব তৈরি হয়, তখন নাবিকেরা প্রায়শই সেই পারস্পরিক লড়াইয়ের মাঝে পড়ে যান। সম্প্রতি হরমুজ প্রণালীতে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার কারণে হাজার হাজার নাবিক আটকা পড়েছেন, যারা তাদের নিজ বাড়ি থেকে বহু দূরে থেকে পুরো বিশ্বের খাদ্য ও জ্বালানির জোগান সচল রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, চলতি বছরের আন্তর্জাতিক নাবিক দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে "ক্যারিয়িং ওয়ার্ল্ড ট্রেড। ক্যারিয়িং দ্য রিস্কস।" (বিশ্ব বাণিজ্য বহন করছে, ঝুঁকিও বহন করছে)। এই প্রতিপাদ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, সমুদ্রচারী বা নাবিকদের কখনোই ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্বের শিকার কিংবা দাবার ঘুঁটি বানানো যাবে না। শ্রমমান সমুন্নত রাখা, আন্তর্জাতিক আইনকে শ্রদ্ধা জানানো এবং সর্বত্র নাবিকদের ক্ষতি থেকে নিরাপদ রাখা নিশ্চিত করার মাধ্যমে তাদের পাশে দাঁড়ানো ও রক্ষা করার দায়িত্ব সরকার এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প খাতের।
জাতিসংঘের মহাসচিব বলেন, স্থলভাগে বসবাসকারী মানুষরা প্রায়শই নৌ-বাণিজ্যের গুরুত্বের ব্যাপারে অসচেতন বা অন্ধ থাকেন, যাকে "সীব্লাইন্ড" বলা যায়। কোনো সংকট বা বিপর্যয় আঘাত হানার আগ পর্যন্ত তারা নৌ-পরিবহনের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য অবদান সম্পর্কে জানতে পারেন না। এই আন্তর্জাতিক নাবিক দিবসে আসুন আমরা নাবিকদের সাহস ও দক্ষতাকে সম্মান জানাই এবং সব ধরনের প্রতিকূলতা ও ঝড়-ঝাপটা মোকাবিলায় তাদের পাশে এসে দাঁড়াই।